• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৫২ | অক্টোবর ২০১২ | গল্প
    Share
  • সাক্ষী সাইপ্রেস : নিবেদিতা দত্ত


    ‘সুটাপা ডেকো আমি কেমন বাংলা বলতে পারছি------কনসিডরিং দ্যাট আই’ভ স্টার্টেড ওনলি ফিফটিন ডেজ ব্যাক, ডোন্ট ইউ থিংক ইটস্‌ মার্ভেলস----?’ এই বলে র‍্যাল্‌ফ ফ্রিসবি খেলতে খেলতে ধুপ করে সুতপার পাশে এসে বসল। ইউ, সি, বার্কলে লাইব্রেরির সামনে ওভ্যাল মাঠে তখন ফ্রিসবি লোফালুফি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা মত্ত। জুলাইয়ের গরম দুপুরে কেউ কেউ টি শার্টটা খুলে ঘুরিয়ে নিচ্ছে ওই গোল হয়ে ঘোরার সাথেই। সুতপা মনে মনে ফুট কাটল ‘গড় করি বাবা তোমার বাংলা বলাকে’। মুখে সেই বাংলারই প্রশংসা করলে ‘ও স্যুওর----ইউর প্রগেস্‌ ইজ রিয়েলি আমেজিং!’ কিন্তু পরক্ষণেই র‍্যাল্‌ফের অকপট খুশির চাহনিতে চোখ রাখতেই সু কেমন যেন লজ্জায় কুঁকড়ে গেল নিজের এই ছোট্ট দুমুখীতায়। সত্যিই তো ও নিজে কি পনের দিনে অক্ষর চিনে এতটাও বলতে পারত অন্য কোনও ভাষায়?

    র‍্যাল্‌ফের সুটাপা ডাকে ওর চমক ভাঙল। ক্যাম্পানিল ঘড়িঘরের দিকে হাত তুলে ও যেন কিছু বলছিল, সুতপা ঠিক খেয়াল করতে পারল না। কয়েকবার এই সুটাপা ডাক সুতপাতে শুধরেছে সু, কিন্তু ফল দীর্ঘস্থায়ী না হওয়াতে সুতপা উপস্থিত ‘সুটাপা’ হয়েই আছে যতদিন ও ইউ, সি,তে পেপার পড়তে এসেছে সিভিল এঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে। তবে শুধু পেপার পড়লেই তো আর ওর যাতায়াতের খরচ উঠবে না তাই সামার প্রজেক্টে ও কিছু কাজও করবে এখানে। আর মনের কোণে একটা ইচ্ছে তো ওর আছেই--গল্পের বইয়ে পড়া সেই আদি ‘লোন সাইপ্রেস’কে একবারটি দেখে আসা--তার জন্যও বাড়তি খানিক ডলারের প্রয়োজন তো ছিলই।

    বাড়ি খোঁজা নিয়ে বিশেষ ভাবতে হয়নি সুতপাকে। র‍্যাল্‌ফের পরিচিত টম আর মেলিসা ওদের ওয়ালনাট স্ট্রীটের অ্যাপার্টমেন্টে ওকে একটা এ্যকোমোডেশন দিয়েছে মাস খানেকের জন্য। ঘর দেখে সু উচ্ছাস চেপে রাখতে পারেনি। সাবেকি উত্তর কোলকাতার মেয়ে ও, জানলা খুলেই নীচে সব্জি বাজার আর মুখোমুখি পড়শীর জানলা ছাড়া কিছুই চোখে পড়েনি কোনোদিন। রেন্ট একটু বেশি হওয়াতে মনটা খচ্‌খচ্‌ করছিল। কিন্তু ঘরটার পশ্চিমের ওয়াল টু ওয়াল কাচঘেরা গরাদবিহীন জানলা দিয়ে দুবেলা বে দেখতে পাওয়া ও স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। র‍্যাল্‌ফের কাছে সু সত্যিই ভারি কৃতজ্ঞ। কিন্তু শুধু শুকনো থ্যাঙ্কস্‌ জানাতে কেমন যেন বাধো বাধো ঠেকছিল। সুতপা ভাবছিল ওকে একদিন চায়ে বললে কেমন হয়! চায়ের সাথে অল্প একটু বাংলার বেগুনি ফুলুরি ওর ভাল লাগতেও পারে।------ শুধু কি বাড়ি খোঁজা, প্রথম কদিন সেফ-ওয়েতে দরকারি কিছু শপিং, সি, ভি, এস, ফার্মেসী থেকে ছোট কোনো ওষুধ কেনা, পথঘাট চেনা--সবেতেই সুতপা র‍্যাল্‌ফকে পাশে পেয়েছে। বার্কলের এক সিনিয়র প্রফেসর একথা সেকথার ফাঁকে সুকে বলেছিলেন ‘সুটাপা ইউ উইল ফাইন্ড র‍্যালফ্‌ ভেরি সিনসিয়র অ্যাণ্ড হেল্পফুল’। তা সে-কথা পুরোটাই যে সত্যি, সুতপা এ কদিনেই বুঝেছে। স্কটল্যান্ডের ছেলে র‍্যাল্‌ফ, বছর চারেক হোলো এ্যাস্ট্রোফিজিক্সে গবেষণা করছে ইউ, সি,তে। ওর স্বভাবে গবেষকের ভাবুকতার ফাঁকে ছেলেবেলার সহজপনা অনায়াসে উঁকি মারে। এখানে আসা ওব্দি র‍্যাল্‌ফ সুতপার কাছে বাংলা শেখার জন্য পেড়াপিড়ি করেছে। কোলকাতায় কোন পাড়ায় ওর বাড়ি, ওর স্কুল, ওর ছেলেবেলা----সব ব্যাপারেই ওর আগ্রহ। নিজের কথাও বলে গেছে অজস্র। ছেলেটা এমনিতেই ফুলঝুরির মত কথা বলে এক নাগাড়ে। আর সুতপা, ঠোঁটে আলতো হাসি মেখে মাথা হেলিয়ে ওর কথা শোনে।

    পথ-ঘাট, বাজার-দোকান দেখে বেড়ানোয় সুতপার ভারি নেশা, তাই নিয়েই একদিন সু ওর রুমমেট জিয়ার সাথে গল্প করছিল। তা শুনে ওকে নিয়ে জিয়া এক উইকএন্ডে বার্কলে বোওলে ফল সব্জি কিনতে গিয়েছিল। সম্ভার দেখে বেশ হকচকিয়েই গিয়েছিল সুতপা। সেরা সব পণ্য যেন রাজার বাড়ি বিকোতে এসেছে। পথে বার্ট স্টেশন, সিনেমা হল সবই চিনিয়েছে জিয়া। এদেশে যিনি গান গেয়ে ভিক্ষা করেন, তিনিও কত আলাদা। ফেরার সময় কালো টাইট স্যুট পরা এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে সু দেখেছে বার্ট স্টেশনের কাছে বড় ইলেক্‌ট্রিক গীটার বাজিয়ে মাইক্রোফোন হাতে গান করছেন ঠিক আন্ডারগ্রাউণ্ডে ঢোকার মুখে। গলার স্বরে কি দৃঢ়তা, কি মাধুর্য! খানিকটা এমনই ও দেখেছে লোক্যাল ট্রেন গুলোতে যখন ও চুঁচুড়াতে মামারবাড়ি যেত দিম্মার সাথে দেখা করতে। কাঠের বাক্সে মিউজিক্‌ সিস্টে্ম গুছিয়ে ওঁরা নানান চলতি গান করেন। তাঁদের স্বরও মন্দ না তবে হাবেভাবে এত আভিজাত্য নেই বোধহয়।

    এত কিছুর মাঝে ‘ওয়েক আপ সিড’ মুভিটাও দ্যাখা হয়ে গেছে সু আর র‍্যাল্‌ফের। ও নাকি ইণ্ডিয়ান মুভিজের ভারি ফ্যান। সত্যি বলতে কি র‍্যাল্‌ফের রকম সকম সুতপা বেশ উপভোগ করে। কিন্তু কারো সহজতাকে অযথা কাজে লাগাতে চায় না সু। তাই কাছাকাছি শ্যাট্যুক আভেনিউএর ফুটপাথগুলোয় বেশ কবারই একা একা বেড়িয়েছে ও। র‍্যাল্‌ফ বলছিল এ জায়গাটার অন্য আর এক ঘরোয়া নামও আছে ‘গোরমে ঘেটো’। বাংলা করলে যার মানে হ’তে পারে খাদ্যরসিকের আড্ডা। ওখানেই এক ফ্রেঞ্চ রেস্তোরাঁয় যেদিন ওরা খেতে গিয়েছিল সেদিন শখ করে শাড়িই পরেছিল সুতপা। গেরুয়া, সবুজ, আর সাদায় মেশানো টাঙাইল ঢাকাই, তবে র‍্যাল্‌ফের চোখে চাপা মুগ্ধতা দেখে ওর মনে হয়েছিল না পরলেই হ’ত, সালোয়ার কুর্তা তো ছিলোই। সু বরাবরই এমন, নিজের দিকে নজর টানতে চায় না পারতপক্ষে। সে যাই হোক এদিক ওদিক খুঁটিয়ে দেখতে তো সুতপা ভালোবাসেই, তার ওপর ও তো আদতে একজন সিভিল এঞ্জিনীয়র--এই শ্যাট্যুকের রোড মিডিয়ানগুলোয় অল্পবয়সীদের স্ন্যাক্স আর কফি গ্লাস নিয়ে আয়েস করাটা ওর নতুনই লাগছিল। মনে হচ্ছিল কোলকাতার মিডিয়ানগুলোকে কোথাও কোথাও এমন করা যায় কিনা। কিন্তু সু তো এও জানে তার জন্য অনেক কিছুই পাল্টাতে হয়। তবে বড় কথা এ ভাবে কদিন ঘুরে ঘুরে দেখে বেড়ানোটা সুতপার বেশ অন্যরকম অন্যরকম লাগছিল আর বেশিরভাগ সময় র‍্যাল্‌ফকে সঙ্গে পেয়ে ওতো ভুলতেই বসেছিল এতকাল ওর এমন বন্ধু ছিল না।

    নতুন জায়গা চিনতে না চিনতেই সুতপার পেপার পড়ার দিনও প্রায় এসে গেল। ইউনিভারসিটির ঠিক বাইরের এক কাফেতে চা খেতে খেতে সুতপা ওর পেপারের সিনপ্‌সিস্‌টা র‍্যাল্‌ফকে বলছিল ছোট করে, আর র‍্যাল্‌ফ কফি গ্লাস হাতে মন দিয়ে শুনছিল। পরদিনই পেপারটা পড়ার ছিল, তাই সু ওকেও আসতে জানিয়ে রাখল। বিষয়বস্তুটা কোথাও ঠিক পরিষ্কার না বুঝতে পারলে র‍্যাল্‌ফ মাঝে মাঝে কিছু প্রশ্ন করছিল। তবে ওর তো একটা বড় গুণ আছেই, ভারি তত্ত্ব কথার মাঝেও হাল্কা আলোচনা ও করেই ফেলে। সেইভাবেই পেপারের বিষয়বস্তু শুনতে শুনতে ও বলে উঠেছিল ‘সুটাপা ইউ মাস্‌ন্ট মিস দ্য সেভেনটিন মাইল ড্রাইভ’। সুতপা পড়ার আলোচনার মাঝে হকচকিয়ে থম্‌কে গিয়েছিল। ওর মনের কথা কেমন করে র‍্যাল্‌ফের মুখে এল! টেলিপ্যাথি নাকি? আবার পাল্টা ভাবল ‘যাঃ তাই কি করে হয়, ‘লোন সাইপ্রেস’কে দেখা,----সে তো কেবল ওর মনেরই ইচ্ছে’।

    এ কদিনেই সুতপা দেখেছে র‍্যাল্‌ফ খুব ভেবে কোনো কাজ করে না। তাই পেপারটা পরদিন পড়া হ’তেই উইকএণ্ডে ঝপাং করে ওরা ‘সেভেন্টিন মাইল’এর জন্য বেরিয়ে পড়ল। রেণ্ট-আ-কার স্কীমে র‍্যাল্‌ফই একটা গাড়ি নিল আর ড্রাইভ ও-ই করবে ঠিক হ’ল। সুতপা ড্রাইভিং কিছুটা জানলেও লাইসেন্স না থাকায় ওর গাড়ি চালানো সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া এদেশে তো ড্রাইভিং একেবারেই অন্য ব্যাপার! তবে সু আগেই বলে নিয়েছিল যা কিছু খরচ ওরা ভাগ করে নেবে।

    বরাবরই গাড়িতে বসলে সুতপার মন যেন ডানা মেলে দেয়। ও মুগ্ধ হয়ে চারদিক দেখছিল আর মনের মাঝে একটা কথাই তোলপাড় করছিল। দেশটা এত সুন্দর ভাবে রেখেছে এরা। যা পেয়েছে তা নিজেদের কারিগরিতে আরো মোহময় করে তুলেছে। আর নিজের না হ’লেই যে সেই সুন্দরকে ভেঙে ফেলতে হবে, ঈর্ষা করতে হবে এমনটা সু-এর কোনোদিনই মনে হয় না। বরং তাকে রক্ষা করার ভার সুতপা মনে মনে নিজের ওপরই নিয়ে নেয়।

    ম্যাপ দেখে ড্রাইভ করে যাওয়াটা খুব ঝঞ্ঝাটের মনে হচ্ছিল না। হাইওয়ে ছেড়ে বন আর সমুদ্র্ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়া। পপি হিলস, হাকলবেরি হিল-এ খানিক থেমে থেমে ওরা এগোচ্ছিল। ধোঁয়া ধোঁয়া সমুদ্র, সাদা বেলাভূমিতে অতিকায় গাঢ় ছাই-রঙা গোলচে পাথরের মত সী লায়ন শুয়ে রোদ খাচ্ছিল। সুতপার ভালো লাগছিল সাইপ্রেস বন, যেখানে নাকি মন্টেরে বের প্রাচীনতম সব সাইপ্রেস গাছ আছে। তবে ওর মন অস্থির হচ্ছিল সেই ‘লোন সাইপ্রেস’এর জন্য যিনি আড়াইশো বছর ধরে একা দাঁড়িয়ে কত কথকতা দেখে গ্যাছেন নীরবে।

    র‍্যাল্‌ফ এখানে আগে বার দুয়েক ঘুরে গেছে, সেইজন্যই বোধহয় ওদের যাওয়াটা আরও সহজ ছিল। ড্রাইভ করতে করতে র‍্যাল্‌ফ অনর্গল বলে যাচ্ছিল ওর ভালো লাগার কথা। প্রথমবার ও ইউনিভার্সিটির কজন কো-রিসার্চারদের সাথে এসেছিল, পরেরবার একা। এবার সুটাপা থাকায়, কেন যেন ওর আরো ভালো লাগছিল।

    দু হাতে উড়ন্ত চুলগুলো সামলে সুতপা সেই ‘লোন সাইপ্রেস’এর দিকে মন চোখ এক করে তাকিয়েছিল। হঠাৎই, কিংবা হঠাৎ না, সুতপা বোধহয় এমন একটা কিছু ঘটলে ঘটতেও পারে বুঝতে পারছিল, মেয়েদের একটা তৃতীয় মন যেন আঁচ করতেই পারে; তাই ও চমকালো বললে মিথ্যেই বলা হয় যখন র‍্যাল্‌ফ ওর সদ্য শেখা বাংলা আর ইংরাজি মিলিয়ে বলে উঠল ‘সু তোমার মোবাইলটা দাও, আমার নাম্বারটা তুলে দিই---মে আই--? তুমি আমাকে ভুলবে না তো?’----- সুতপা মোবাইলটা এগিয়ে দেবার সময় স্ক্রীনে ভেসে এল দেড় বছরের তুপুর ছবি। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই র‍্যাল্‌ফ বলে উঠল ‘ও-ও হোয়াট আ লাভিং কিড! হু ইজ শী?’----সুতপা যেন নিজের সমস্ত দৃঢ়তা দম নেওয়ার সাথে বুকের ভিতর টেনে নিয়ে বলল ‘আমার মেয়ে----আই এ্যাম আ সিঙ্গল মাদার’।----দুটি মানুষের চুপ করে থাকার ক্ষণিক ফাঁকটা অতিকায় সী লায়নদের ঘড়ঘড়ে ওঙ্ক ওঙ্ক ডাক আর জলের হাল্কা ছল্‌ছল্‌ শব্দে ভরে গেল। মূহূর্তটা কাটার পরই সুতপা শুনল র‍্যাল্‌ফ বলছে ‘সু উইল ইউ অ্যালাও মি টু শেয়ার দিস রেস্‌পন্সিবিলি্টি অফ ইয়োরস্‌?’---- নীচু স্বরে, খানিকটা স্বগোতক্তির মতোই সুতপা বলে উঠল ‘সে কথা বলার বা শোনার সময় এখনও আসেনি বোধহয়’।----সাক্ষী রইলেন সেই ‘লোন সাইপ্রেস’।

    ফেরার পথে ওদের কথার স্রোতে যেন ভাঁটা এসে গিয়েছিল, যে যার চিন্তার খোলসে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছিল। শেষে র‍্যাল্‌ফই বাঁধ ভেঙে কথায় ফিরে এল। সুতপার আর দুদিন বাদেই ফিরে যাওয়ার ছিল কোলকাতা। সেই খেই ধরেই ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট কটায় জেনে ও বলল ‘আমি তোমাকে স্যানফ্রান্‌সিস্‌কো এয়ারপোর্টে ড্রপ করে আসব। ইউ নিড্‌ন্ট টেক আ পাবলিক ক্যাব। ইউর ফ্লাইট ইজ অ্লমোস্ট অ্যাট মিড্‌নাইট’। না চাইতেই কাউকে সঙ্গে পাওয়ায় সুতপা স্বস্তিতে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল।

    বাকি দুদিন যেন কোথা দিয়ে কেটে গেল। অল্প হলেও খানিকটা শপিং করেই ফেলল সুতপা। তার মধ্যে বেশিরভাগই তুপুর জামা আর খেলনা, বাবির অল্প ডার্ক চকোলেট নাগেটস্‌ আর মার জন্য ডলার শপে হঠাৎই চোখে পড়া ভারি সুন্দর কটা এম্ব্রয়ডারি করা কিচেন টাওয়েল---এই করতে পেরেই সু খুশি, ও তো বরাবরই জানে পেপার পড়তে আসার ডলারে এর বেশি হয় না। যা হাতে রয়েছে তাও তো অনেকটাই ভেবেচিন্তে খরচ করারই সুফল।

    মলে খানিক ঘোরার পর সু খেয়াল করল র‍্যাল্‌ফ পাশে নেই। ভাবল নিশ্চয় নিজের কিছু কিনতে গ্যাছে। কিন্তু একটু পরেই ও উদয় হ’ল সফ্‌ট টয়েজ্‌ সেল্‌ফের পিছন থেকে, হাতে ক্ষুদে একটা সাদা টেডি যার কোলে হার্ট শেপের কুশনের মাঝে লাল দিয়ে লেখা ‘হাই’। টেডিটা সুতপাকে দিয়ে র‍্যাল্‌ফ বলল ‘ফর টুপু---ডু এ্যালাউ মি’। অগত্যা সু আর কথা বাড়ায় নি।

    যাবার দিন প্লেনে বসে হোস্টেসের ‘কাইণ্ডলি সুইচ অফ ইওর মোবাইলস এ্যান্ড ল্যাপ টপ্‌স’এর আগেই চিরদিনের অভ্যাসবশে সুতপা বাবিকে জানিয়ে দিল ‘আমি ঠিকঠাক বসে গেছি, চিন্তা কোরো না, মা তুপুকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে ডেকো না, পরে জানিয়ে দিও’। তারপর নতুন এক তাগিদে র‍্যাল্‌ফকে মেসেজ পাঠালে ‘আই এ্যাম সেফ্‌লি সিটেড, কল ইউ আগেন ফ্রম কোলকাতা’।----কোন এক অতীন্দ্রিয় তরঙ্গ বেয়ে বার্তা গেল----মৃদু হেসে সাক্ষী রইলেন বহুদূর সমুদ্রতটের সেই ‘লোন সাইপ্রেস’।



    অলংকরণ (Artwork) : অলংকরণঃ অনন্যা দাশ
  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)