• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৪০ | ফেব্রুয়ারি ২০০৮ | গল্প
    Share
  • ডাইনি : ভবভূতি ভট্টাচার্য

    আড়াই-ঘন্টার প্রেজেন্টেশনটা শেষ হতেই এক মস্ত হাই তুলে বিজুদা বাঙলায় বললেন আমার দিকে ফিরে নিকুচি করেছে । এই পাওয়ার-পয়েন্ট বস্তুটি কে বা কাহার আবিষ্কার করেছিল, বল্‌ দেখি ? বিজুদা । শ্রী বিজন বিহারী সরকার । কোম্পানির সেজকর্তা । ইনফর্মেশন সিকিউরিটির প্রধান ।

    যদিও আপিসের বস্কে `দাদা' বলার চল নেই সাধারণত:, কিন্তু বিজুদা যে আমায় কলেজের সিনিয়রও বটেন । অবশ্য, আমি কলেজে পড়াকালে, ওঁনাকে পাইনি, তদ্দিনে উনি পাশ করে বেরিয়ে গেছেন । আমাদের বি. ই. কলেজ এলুমনি এসোসিয়েশনের দিল্লি চ্যাপটারের এক অনুষ্ঠানে অসীমদা আলাপ করিয়ে দিয়েছিল গতবছর : "হ্যাঁ রে, বিজুদার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তো ? তোদের কোম্পানির বস্‌ যে ! আমি তখন নতুন ঢুকেছি এ কোম্পানিতে ।

    সেই পরিচয় । পরে আমি সরকারি ওঁনার অধীনে কাজ করতে এসেছি । ব্যতিক্রমী মানুষ এই বিজন বিহারী সরকার । বলেন - "সব এই ছবি আর এযানিমেশন দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া ..... বুঝ্লি, মানুষের কল্পনাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে । বল্তো, শেষ কবে রামধনু দেখেছিস্‌ ? বৃষ্টি-শেষের মাঠের সোঁদাগন্ধ; তারপর মাথা তুলে দেখলি এক-আকাশ রামধনু ! এ অনুভূতির সমান কিছু হয় রে ?" বলেছি, "বিজুদা, আপনি তো শিল্পী । এঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছিলেন কেন ?" "শিল্পী ? শুনবি ? বাঁশী শুনবি নাকি একদিন ?"

    না, বাঁশিটা যদিও শোনা হয়নি এখনও, যত দেখেছি শ্রী বিজন বিহারী সরকারকে, ততই ভক্ত হয়ে পড়েছি ওঁনার ।

    "একদিন দিন না দাদা পায়ের ধুলো গরীবের বাড়িতে ।" বলেছিলুম । "তাহলে তো খালি পায়ে যেতে হয় ।" বিজুদার উত্তর ।

    হ্যাঁ, এসেছেন তারপর আমার বাড়ি । আমার গিন্নির হাতের শুক্তনি আর ধোঁকার ডালনার অঢেল প্রশংসা ! আমার ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে বলেছেন : "গুব্রে পোকা দেখেছ, অয়নবাবু ? এটা কী খেল্ছ কম্পিউটরে ?" "গেম্স্‌" । স্মার্ট জবাব আমার সুপুত্তুরের । "রাখো তোমার গেম্স্‌ । গপ্পো শুনেছ কখনও ? ভালো গল্প ?"

    "ভূতের ?" "হ্যাঁ, ভূতের গপ্পো ।" "তুমি বলবে আমাকে একটা ভূতের গল্প ? বলো ।" সটান কম্পিউটর শাট্‌-ডাউন করে দেয় ছেলে ।

    আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসেন বিজুদা - "দেখেছিস্‌, গল্পের কী অমোঘ আকর্ষণ ? বিশেষ ভূতের গল্পের ? ছেলেকে ভালো ভালো গল্প শোনা । একটা শিল্পীমন তৈরি হবে । তখন দেখবি এইসব ফায়ারিং গেম্স্‌-টেম্সের ধার মাড়াবে না ।

    "কে আর গল্প জানে, দাদা ? কে বলবে ? মা যদ্দিন ছিলেন, কিছু শুনিয়েছেন । পড়েছেন `টুনটুনির বই' ওর কানের কাছে ..... "

    "কী হল ? গল্প বললে না তো ?" শ্রীমান অধৈর্য । "হ্যাঁ, অয়নবাবু । শোনো, বলি গল্প । ভূতের গল্প ....." তারপর আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন : "প্রোভাইডেড তোমরা নিজ নিজ মোবাইল অফ্‌ করিয়া রাখিবে ।"

    ২ আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, বুঝলি । ষাটের দশকের কলকাতা । আমাদের বৌবাজারের সাবেক বাড়ির একান্নবর্তী পরিবার । বাবারা চারভাই, মা-জেঠি-কাকীরা, আমরা আট ভাইবোন, আর মাথার ওপরে দাদু । সব মিলিয়ে আঠেরো জন । কী ? আঠেরোজন শুনে হাসছিস ? সেকালে এমনটাই দস্তুর ছিল রে ! তার ওপরে লেগেছিল গ্রামের বাড়ি থেকে কারোর না কারোর এসে থাকা । ঠাকুমা সগ্গে গেছেন ।

    জেঠিমা-ই সংসারের কর্ত্রী । সেদিনের আনন্দের কথা তো, বাবু, তোমরা আজকের দিনে চিন্তাও করতে পারবে না । দোতলার এক মস্ত ঘরে আমাদের ভাইবোনেদের ঢালাও বিছানা । যে যেখানে পারলুম শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লুম রাতে ......

    থাক্‌ সে-সব কথা । বলতে শুরু করলে শেষ হবে না । যে ঘটনার কথা বলতে বসেছি, সেটা বলি : আমার ছোটকাকার বড় ছেলে পল্টু আমার পরমভক্ত । আমার চেয়ে বছর তিনেকের ছোট । ক্লাস ফোরে পড়ে । সেদিন রাতে শুতে এসে আমার কানের কাছে ফিস্ফিস্‌ করে বলল : "ছোড়দা, দেখছে, বুড়িটার পা-দুটো উল্টো !"

    পাশ থেকে মিনি শুনতে পেয়েছে । সে-ই ফুট্‌ কাটলো - "উল্টো মানে ? পা-দুটো পায়ের জায়গায়, নিচে নয় ? মাথার ওপরে ?" মিনির ব্যঙ্গহাসি ।

    "না, মানে পায়ের পাতা দুটো সামনের দিকে নয় । পেছনের দিকে !" পল্টু প্রাঞ্জল করে । "ধুর্‌ । এ রকম কি কোনো মানুষের হতে পারে ? তুই ভুল দেখেছিস্‌ ।" আমাকে কিছু বলার অবসর না দিয়ে মিনিই বলল পাশ থেকে ফের ।

    সমর্থন না পেয়ে চুপ্‌ করে গেল পল্টু । কিন্তু ওর মনের ধন্ধটা যে কাটেনি, বোঝা গেল । "তোর কথাটা ঠিক বুঝলুম না । ঠিক কী বলতে চাইছিস তুই ?" বললুম । পল্টু তা-ও চুপ্‌ করে থাকে । এবার ওর পেটে আমার আঙুলের খোঁচা । বলল : "মেজমাও বলছিল - ঐ অত্ত বাসন । তিনদিনের জমা । বিশ মিনিটে মেজে ফেলল ! এ কি কোনো মানুষের কাজ ? "তার মানে ? কী বলতে চাইছিস তুই ? বুড়িটা কি আসলে মানুষ নয় ? ভূত ?" হাসি আমি ।

    "উঁ-হ্‌ : এ'বার ও'পাশ থেকে বড়দার ধমকানি । নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটছে তার । ঠিকাচে । তুই এখন ঘুমিয়ে পড়্‌ । কাল সকালে আমি দেখব ব্যাপারটা ।" গম্ভীর গলায় সান্ত্বনা দিই আমার শিষ্যটিকে ।

    ঘুমটা প্রায় এসে গেছে । আবার পল্টু : "ছোড়দা, ডাইনিরা কি আ-জও আছে ?" তারপর প্রায় স্বগতোক্তির ঢঙে বলে : "সবচে চিন্তা ছোট্কুটাকে নিয়ে । ডাইনিরা কচি বাচ্চা পেলে আর কিছু চায় না । পল্টুর দুশ্চিন্তাটা আর যেতে চায় না । ছোট্কু তার নিজের ছোট বোন । এখনও দুধের । ছোটকাকীর সঙ্গে তার ঘরে শোয় ।

    "উঁ-হ্‌" : আমি কিছু বলবার আগেই ও'পাশ থেকে বড়দার জোর ধমক "তোরা এবার থামবি ?"

    ৩ ঘটনাটা এই : আমাদের কাজের ঝি নীরদা আজ তিনদিন হল কামাই করেছে না-বলে । মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে আমার মা-কাকীদের । অত বাসন এখন মাজবে কে ? প্রথম দু'দিন তোরঙ্গ থেকে পুরনো কাঁসার থালা বাটি বের ক'রে ক'রে চালানো হয়েছে । তারপর থেকে কলাপাতা । মা পাশের বাড়ির চাকর নন্দকে ডেকে অনুনয় ক'রে বলেছে - "দেখ্না বাবা । গলির মোড়ে কোনো মেয়ে-টেয়ে পাস কিনা । গোটা একটা টাকা দোব ।"

    "হ্যাঁ, তোমার জন্যে গলির মোড়ে ঠিকে ঝি ব'সে আছে কিনা ! কে মাজবে বাবা তোমাদের ঐ হাজার খাবার বাসন ?"

    এমন সময় ভর সন্ধ্যেবেলা এক অচেনা রোগা কালো বেঁটে বুড়ির আবির্ভাব । মাথায় শনের মত পাকা চুল । তোবড়ানো গাল । পরনে ময়লা একটা সাদা থান । কাঁধে এক ছোট পুঁটুলি । প্রথমে ভিখিরি ভেবে হটিয়ে দিতে যাচ্ছিল জ্যেঠি । মা বাধা দেবার আগেই সেই-বুড়িই নিজে থেকেই বলে উঠল : "মা, তোমাদের ঘরে কাজকম্ম আছে কিছু ? আমি বাসনমাজা, কাপড়কাচা, ঘর মোছা ..... ।"

    তাকে শেষ করতে না দিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ল মা - "হ্যাঁ গো, হ্যাঁ । এসো .. এসো ... ।" হাতে চাঁদ পাওয়া আর কাকে বলে ?

    এরপর সেই সাড়ে চারফুটি বুড়ি নিজে চৌবাচ্চা থেকে বালতি বালতি জল তুলে এনে ঐ বাসনের পাহাড় সাফ করেছে । সারা বাড়ি ঝাঁট-টাট দিয়ে পরিষ্কার করে আবার মা-কে জিজ্ঞেস করছে -"সাবানকাচার কিছু নেই ?"

    মা-কাকীরা মুখ তাকাতাকি করছে । একঘন্টা হয়নি বুড়ি ঢুকেছে, এরই মধ্যে ভোল বদলে গেছে বাড়ির । সব চক্চকে - মায়, মা-কাকীদের মুখ পর্যন্ত ।

    "সাবানকাচা কাল হবে'খন । এখন তুমি একটু বস দেখি । চা ঢাকা আছে ঐ কোনে । এই নাও রুটি ...."

    "কত টাকা নেবে জিজ্ঞেস করলে না তো ?" কাকী ঠারেঠোরে বলে মা-কে । "তুই থাম্‌ ।" মায়ের চাপা গলা । "আগে কার্যোদ্ধার হোক্‌ ।" "মা, এ বাড়িতে বাচ্চা কটি ? বেড়াল-টেড়াল আছে ?" এ আবার কী খাপছাড়া প্রশ্ন ? মা-রা মুখ তাকাতাকি করে পরস্পর । জবাব না দিয়ে এবার প্রশ্ন করে ছোটকাকী : "হ্যাঁ গো, তোমার বাড়ি কোথায় ? এ পাড়ায় আগে কখনও দেখিনি তো ?"

    "আমি যাবো মেদনিপুর । বোনের কাছে ।" "তা, বাড়ি কোথায় তোমার ?" "গেদে ।" ৪ এরপর বুড়িটা রয়ে গেল আমাদের বাড়িতে । সিঁড়ির নিচে তার শোবার ঠাঁই হল । .. গত দু'দিনে বুড়ি এতো মিশে গেছে যে নীরদা বলে এক ঝি গত দশবছর আমাদের বাড়ির কাজ করছে । এখন মনে হয়, সে আর না-এলেই ভালো । এমনকি কাকী এমনও বলে ফেলল -"দিদি, বুড়িটা চলে গেলে কেমন করে চলবে গো আমাদের ?" জেঠিমা ধম্কে ওঠেন : "তুই থাম্‌ । এযাদ্দিন আমাদের চলেনি বোধহয় ?" আবার এই জেঠিমাই বুড়ির প্রশংসায় পঞ্চমুখ যখন সে নিজে থেকে আজ রাতের রান্নার ভার নিল ।

    আসলে, আজ পাড়ায় দাসবাড়িতে অখন্ড হরিনামের আসর । বাড়িশুদ্ধু সকলের নেমতন্ন । দাসেদের সঙ্গে আবার আমাদের হলায়-গলায় ভাব । জেঠা-বাবা-কাকা দের বন্ধু ওদের বড়মেজ সেজ বাবুরা । ওদের মেজকর্তার ছেলে অক্ষয় আমার সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ে ।

    "হ্যাঁ গো, ওরা রাতে খেতেও বলেছে না কি ?" ছোটকাকী জিজ্ঞেস করেছিলেন । জেঠিমা ঝাঁজিয়ে ওঠেন - না, বলেনি । ওদের বাড়িতে কবে আবার রাতে খেতে বলে ? তাছাড়া, ঐ নিরিমিষি আর ফলে পাকুড় ... ঐ বাড়ির কারো মুখে রুচবেও না । তোমরা যাও । আমার আর শোনা হবে না গান ..."

    এরপরই জেঠিমার দু:খের অবসান করতে সেই বুড়ি নিজে থেকে রাতের রান্নার ভার নিতে চেয়েছে - "তোমরা যাও না, মা । আমি রেঁধে বেড়ে দেব খনি ।"

    এঁরা অবাক ! "তুমি ? পারবে তুমি একা এই বিশজনের রান্না ? আমরা চারজনে হিমসিম খেয়ে যাই !" মা বলেন ।

    "হ্যাঁ গো হ্যাঁ । এইতো বই এ ক'টা লোকের রান্না ! কী কী হবে বল ? রুটি না ভাত ? পেঁপের ডালনা ....."।

    আজ রাতে শুতে এসে দেখি পল্টু ভয়ে - উত্তেজনায় ঠক্ঠক্‌ ক'রে কাঁপছে ! আমি আজ সারা সন্ধ্যে দাসবাড়িতে ব্যস্ত ছিলুম অক্ষয়ের সঙ্গে - ওর কোন্‌ মামা বিলেত থেকে এক মেকানো এনে দিয়েছে, তাই নিয়ে । পল্টুর দিকে নজর দিতে পারিনি । শুতে এসে দেখি পল্টু সোজা বসে আছে ।

    "কী হল রে ? ঘুমুবি না ?" উত্তর না দিয়ে পল্টু আমাকে খোঁচা দিয়ে ঘরের বাইরে ইঙ্গিত করে । এখানে কথা বললে অন্যদের ঘুমের ব্যাঘাত হবে । এখন সারা পাড়া কারেন্ট নেই । বড় `ফিউজ' - টিউজ হয়েছে বোধহয় কোথাও । হ্যাঁ, আমাদের কালে `লোডশেডিং' ছিল না । কখনও আলো-টালো নিবে গেলে আমরা বলতুম `ফিউজ' হয়েছে । ঘরে ঘরে এখন তাই টিম্টিমে হারিকেন জ্বলছে ।

    বাইরের বারান্দায় এসে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল পল্টু । "ছোড়দা, ঐ বুড়িটা সত্যিই ডাইনি ! আমি নিজের চোখে দেখেছি !"

    "কী বলছিস্‌ তুই পাগলের মত ? কী দেখেছিস্‌ তুই ?" "ও বাড়িতে নীতি আমায় বলল `কোন্‌ দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল' কবিতাটা সুনির্মল বসুর লেখা । আমি বললুম `না, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' । যতীনদা-ও বলল সুনির্মল বসু । এই নিয়ে তক্কো । তুমি তখন অক্ষয়দার সঙ্গে তিনতলায় ছিলে । আমি দৌড়ে বাড়ি এসে আমার বইটা ওদের দেখাতে নিয়ে যেতে গিয়ে দেখি .... দেখি ....." ফের শিউরে উঠে কাঁদতে লাগল পল্টু ।

    "কী দেখলি রে ? বল্‌ ?" পল্টুর শিউরে ওঠাটা খাঁটি । দেখে আমিও ভয় পেয়েছি ।

    "ছোড়দা, দেখি ঐ বুড়িটা তার পা-দুটো উনুনের তলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে আর ওপরে ভাতের হাঁড়ি টগ্বগ্‌ করে ফুটছে । বাড়িতে দ্বিতীয় জনমনিষ্যি নেই । .... আমি সত্যি সত্যি সত্যি বলছি ছোড়দা । একটুও বানিয়ে বলছি না । আমি নিজের চোখে দেখেছি । আর আচমকা উঠোনে আমার পায়ের শব্দে বুড়িটা আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে ....." আবার ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলে পল্টু । আমি ওর দু'কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বললুম - "কী করল বল্‌ না ? ধরতে এসেছে তোকে ?"

    পল্টু কাঁপছে থরথর করে । কোনো মতে বলল - "না, ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালো । সে- দৃষ্টি যদি দেখতে, ছোড়দা ! দেখি কি, বুড়িটার মুখ ভর্তি রক্ত । লম্বা জিভ বের করে চাটছে । কষ বেয়ে গড়াচ্ছে রক্ত !"

    "রক্ত ?! রক্ত কোথ্থেকে এলো ?" "জানি না । তবে মুখ ভর্তি রক্ত আমি নিজের চোখে দেখেছি ।"

    আমি দুটো মিনিট ভাবতে সময় নিলুম । তারপর ধীর ভাবে বললুম - "পল্টু তোর এই ডাইনির উনুনে পা-ঢুকিয়ে দিয়ে ভাত ফোটানোর গল্পটা আমিও কোন্‌ একটা বইয়ে পড়েছি । আজকাল তোর গল্পের বই পড়াটা বড্ড বেশি হয়ে যাচ্ছে । সেইজন্যে তোর মাথার মধ্যে সর্বদা এ সব ঘোরে । তুই এখন ঘুমিয়ে পড় । কাল সকালে আমি ঠিক দেখব বিষয়টা ।" গলায় যতটা সম্ভব গাম্ভীর্য টেনে যদিও বললুম, পল্টুর ভয়ার্ত মুখটার কথা ভেবে নিজের মনেই শান্তি পাচ্ছিলুম না ।

    ৫ সকালে ঘুম ভাঙলো বাবার চীত্কারে । "আহা-হা, বেড়ালছানাটাকে এ'ভাবে মারলে কে গো ? এই কয়লার জায়গাটায় পড়ে আছে, সিঁড়ির তলায় ? এ' হে-হে, এ' কী কান্ড ?!"

    এবার সারা বাড়ির লোক ভেঙে পড়ল চৌবাচ্চার পাশটিতে । দেখতে । "আ-হা-হা, টুঁটিটা ছিঁড়ে নিয়েছে গো ! কেমন ফ্যাকাশে মেরে গেছে, দেখ ! পুরো রক্তটা শুষে খেয়েছে ।" সেজদির মনটা এমনিতেই একটু বেশি নরম ।

    "এ নিশ্চয়ই ভাম । তোমার মনে আছে, দাদা, আমাদের ছেলেবেলায় একবার খুব ভামের উপদ্রব হয়েছিল ?" বাবা বলেন । ঘাড় নাড়েন জেঠু ।

    "কী অলুক্ষুণে কান্ড মা গো ! ছেলেপুলে নিয়ে ঘর করি । বেস্পতিবার সক্কালবেলা ঘুমচক্ষু খুলে দেখি - এ কী কান্ড বাপু ? দেখলে গা-ঘিন্ঘিন্‌ করে । আজ বাইশ বছর বিয়ে হয়ে এ-বাড়িতে এসেছি, কৈ এমনটা তো আগে কখনও ......" জ্যেঠিমার গলা তিক্ষণ !

    আমার বুকটা ছাঁৎ করে উঠল ! মনে পড়ে গেল, পল্টু কাল রাতে কী দেখেছে । বুড়ির মুখে রক্ত ! চারিদিকে তাকিয়ে দেখলুম । পল্টু এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি । কিন্তু সেই বুড়িটা গেল কোথায় ? ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখি রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে । মুখে একটা হাল্কা হাসি । আজকের দিন হলে বর্ণনা করতুম "মিস্চিভাস স্মাইল" বলে । যেন বাড়িশুদ্ধু সকলের এই বিভ্রান্ত ভাবটা বেশ উপভোগ করছে !

    এবার আমার বুকটাও জোরে-জোরে ঢিপ্ঢিপ্‌ করতে শুরু করেছে ! সত্যিই কী ...... ? আজকের দিনে এমনটা সম্ভব ? ভূতপেত্নী ডাইনি - ও'সব তো লেখকের কল্পনা ! বাস্তবে, বিংশ-শতাব্দীর কলকাতা শহরে, লোকজনভর্তি আমাদের বাড়িতে একটা ডাইনি কোথা থেকে আসবে ? আসতে পারে কখনও ? এদিকে, মাস্টার মশাই এসে গেছেন । পড়তে বসতে হবে । কিন্তু, অঙ্ক আজ বারবার ভুল হয়ে যাচ্ছে । উঠোনে বাবার গলা শোনা গেল -"হ্যাঁ গো, সিঁড়ির তলাটা খালিই বা পড়ে আছে কেন ? কাল কয়লা দিয়ে যায়নি ?

    গল্পের খেই ভেঙে বিজুদা বলেন - এযাঁ ? কী বল্লি ? গ্যাস ? না বাপু । আমাদের ছোটবেলায় ঘরে ঘরে গ্যাস-সিলিন্ডারের চল ছিল না । মাস-কাবারি কয়লার ব্যবস্থা । হপ্তায় হপ্তায় মাথায় করে বস্তা এনে ঢেলে দিয়ে যেত । হ্যাঁ, যা বলছিলুম : "তাই তো; ছোট্ঠাকুরপো তুমি আজ আপিস যাবার পথে ফের একবার কলিমের দোকানে বলে যেও তো ! জেঠিমা বললেন ।

    আমি ভাবি - কারও একবারও মনে হল না যে, কয়লা আসেনি, তো কাল রাতের রান্নাটা হল কী করে ?!

    ৬ আজ ইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখি কেমন একটা থম্থমে ভাব । ছোটকাকী ঘরে বসে মেয়ে কোলে নিয়ে কাঁদছে । মেজদি-সেজদিও পাশে চুপ্চাপ্‌ বসে ।

    "কী হয়েছে ?" কেউ পাত্তাই দিল না আমার প্রশ্নের । মা খালি বলল - "সুজি রাখা আছে । খেয়ে নাও তোমরা ।" বিকেলে আজ আর আমাদের খেলতে যাওয়া হল না । ওপরের ঘরে আমাদের ভাই-বোনেদের বৈঠক । কী হয়েছে ? কী হতে পারে ? কারোর অসুখ-বিসুখ ? কেউ মারা গেছে, খবর এসেছে ?

    শেষে মেজদির পেট থেকে বেরোলো খবর । মেজদি আজ ইস্কুল যায়নি, বাড়ি ছিলো । ও দেখেছে স-ব । ঘটনাটা এই : বেলা এই এগারোটা-টেগারোটা নাগাদ - বাবাকাকারা আপিসে আর আমরা ইস্কুলে বেরিয়ে গেলে মা-জ্যেঠিমারা নিচের ঘরে গল্প-গুজব করছিল । বুড়ি এসে থেকে ঘরকন্নের অনেকটা কাজের ভারই নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ায় এঁনাদের একটু ফুরসৎ মিলেছে । ছোটকাকী একবার দোতলায় ঘরে এসেছে ছুঁচ-সুতো নিতে । ঘরে ঢুকে দেখে খাটের ওপরে ছুট্কি নেই ! চমকে উঠেছে ছোটকাকী । গেল কোথায় ছ'মাসের মেয়েটা ? খাটেই তো ঘুমোচ্ছিল । দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে দেখে ঐ কাজের বুড়িটা ছুট্কিকে কাঁথামুড়ে কোলে নিয়ে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে ।

    "ও কী ? তুমি আমার মেয়েকে নিয়েছ কেন ? কোথায় যাচ্ছ ?" ছোটকাকীর চীত্কারে চমকে ঘুরে তাকায় বুড়ি । তার মুখের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে ভয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিল ছোটকাকী । এ'তো সেই চেনা বুড়ির মুখ নয় । চোখদুটো টক্টকে লাল । আর ..... আর জবাব দিতে যেই মুখ খুলেছে - দেখা গেল বুড়ির মুখভর্তি চক্চকে ধারালো দাঁত । দু'পাশের চারটে দাঁত লম্বা । কুকুরের দাঁতের মত !

    ছোটকাকী এক প্রচন্ড চীত্কার করে বেহুঁশ হয়ে যায় । সকলে দৌড়ে যখন ওপরে এলো - ছুটকি তার বিছানায় শুয়ে কাঁদছে । ছোটকাকী বারান্দায় অজ্ঞান নিথর । সেই বুড়িই আবার এক পুরনো খবরের কাগজ দিয়ে তার মাথায় বাতাস করছে । কুঁজো থেকে খানিক জলও ঢেলেছে এরই মধ্যে ।

    ঘটনার পরম্পরা বুঝতে সকলের একটু সময় লেগেছিল । ছোটকাকীর জ্ঞান যদিও একটু পরেই ফিরে এসেছিল, বোধবুদ্ধি ফিরে পেতে আরো বেশ কয়েকঘন্টা । সেই থেকে সমানে কেঁদে চলেছে ছোটকাকী - "এটা একটা ডাইনি । আমার মেয়েকে খেতে যাচ্ছিল ।" এ'হেন পাগলের প্রলাপ বকার জন্য সকলের কাছে ধমক কম খায়নি সে । এমনকি তার কথা পরখ করতে বুড়িকে `হাঁ' করিয়ে দেখাও হয়েছে যে তার মুখে দাঁতের চিহ্নমাত্র নেই । তবু ছোটকাকীর এক কথা : "আমি নিজের চোখে দেখেছি । আমি আর এখানে থাকবো না । আমাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দাও ।"

    জেঠিমা অবশ্য বুড়িকে ধমকেছে : "বলা নেই, কওয়া নেই তুমি হঠাৎ কচিটাকে নিয়ে ছাদে কী করতে যাচ্ছিলে ?"

    "নিচে যা গরম ! দেখি বাচ্চাটা ঘামছে । ভাবলুম, ছাদে একটু হাওয়া খাইয়ে আনি ।" বুড়ির সাফাই ।

    দুপুরে এ বাড়িতে বেড়াতে এসে পাশের নন্দীগিন্নি অবশ্য ধম্কে গেছেন এঁদের : "চেনা নেই, শোনা নেই, কোথাকার এক বুড়িকে কী বলে একেবারে হেঁসেলে এনে তুললে তোমরা ? ওটাকে তাড়াও এখনই । কোন্‌ জাত কে জানে ।" ঠিক হয়েছে, বাবারা ফিরে এলে, সন্ধ্যেবেলা ফয়সালা হবে ।

    তাঁরা অবশ্য শুনে, হো হো হেসে, সব উড়িয়ে দিয়েছেন ফুত্কারে । ষন্ডা চাকর নয় যে গলায় ছুরি ধরে বলবে `কী আছে বের কর' । একটা থুড়্থুড়ে বুড়ি । কত কাজ করে দিচ্ছে তোমাদের । সইছে না ? আগে তোমাদের নীরদা-ঝি ফিরুক । তারপর ওটাকে তাড়িও ।

    পল্টু এর ফাঁকে পৌঁছেছে ছোটকাকীর পাশে " "মা, আমি জানি । তুমি যা বলেছ, ঠিক । " ছোটকাকী শুয়েছিল খাটে, মেয়ের পাশে । উঠে বসে ছেলেকে কোলে টেনে বলল - "কী রে ? কী জানিস তুই ? কী ঠিক বলেছি আমি ?"

    "মা, ঐ বুড়িটা সত্যিই ডাইনি ।" "কী ? কী বললি তুই ? তুই কী ক'রে জানলি ? চম্কে ওঠে ছোটকাকী । তারপর পল্টু সব খুলে বলেছে তার মা-কে - সে যা যা দেখেছে । শুনতে শুনতে শিউরে উঠেছে ছোটকাকী । তারপর ছেলের গলা জড়িয়ে ডুক্রে কেঁদে উঠেছে - "চল্‌, আমরা এ'বাড়ি থেকে পালাই । তোর বাবাকে বললুম । সে তো হেসেই উড়িয়ে দিলো । তুই তো এখন বড় হয়েছিস, বাবা । আমাকে নিয়ে যেতে পারবি না কালনায় ?"

    "কিন্তু, তাহলে ওটার কী ব্যবস্থা হবে ? দাঁড়াও, আমি ছোড়দাকে সব বলেছি....." গম্ভীর জবাব পল্টুর ।

    ৭ পরের দিন সকাল হতে হতে আনন্দের হৈ চৈ পড়ে গেল আমাদের সারা বাড়িতে । গ্রাম থেকে `সাধক-মা' এসেছেন । উনি এমনই হঠাৎ হঠাৎ এসে পড়েন বছরে দু'একবার । এবার যাচ্ছেন ওঁনার গুরুর আশ্রমে - কঙ্খল । একবেলা কাটিয়ে যাবেন আমাদের বাড়িতে ।

    এই `সাধক-মা' সম্বন্ধে বলি : ব্যাকরণ মানলে ওঁনাকে `সাধিকা-মা' বলা উচিত ছিল । কিন্তু সকলে ওঁকে `সাধক-মা' বলেই ডাকে । আমাদের বাপ-জ্যাঠারাও । দেখাদেখি আমরা ছোটরাও । উনি থাকেন আমাদের গ্রামের বাড়ির অনতিদূরে, গঙ্গায় তীরে এক পীঠে । অবশ্য সারা বছরই এখান-ওখান ক'রে বেড়ান । বয়স, দেখে মনে হয়, পঞ্চাশ ষাট । কিন্তু দাদুকেও নাম ধরে ডাকেন । দাদু একবার বলেছিলেন - তিনিও আশৈশব সাধক-মাকে অমন-ই রূপে দেখে এসেছেন । আশ্চর্য ! বাঙালী মহিলাদের তুলনায় দীর্ঘাঙ্গিনী । সাড়ে পাঁচফিটের ওপর লম্বা । লালপাড় সাদা গরদ পরেন সর্বদা । সিঁথিতে সিঁদুর ও কপালে মস্ত এক লাল টিপ । গলায় রুদ্রাক্ষ । আমার দাদু ও তাঁর দাদার শৈশবে একবার ভয়ানক কালাজ্বর থেকে তাঁদের নাকি বাঁচিয়েছিলেন এই সাধক-মা অন্তত:, এঁদের সকলের তা-ই বিশ্বাস । সেই থেকে এ বাড়িতে উনি পূজনীয়া । "কৈ রে ভূষণ । এখনও ঘুমোচ্ছিস নাকি ?" সঙ্গের সেবক দু'জন ঘোড়াগাড়ি থেকে পুঁটলি-প্যাঁটরা নামাচ্ছে । দরজায় দাঁড়িয়ে দরাজ গলায় হাঁক পাড়েন সাধক-মা । সবে তখন সকাল ছ'টা ।

    সাধক-মাকে আমরা ছোটরাও খুব ভালোবাসি, কারণ আমাদের সঙ্গে উনি গম্ভীর "গুরু-গুরু" ভাব কখনও করেন না । আমাদের ছোটদের সঙ্গেও অবাধে মেশেন ও নানা দেশ বেড়ানোর গল্প শোনান । একবার এসে আমাদের চারভাইকে গান শিখিয়ে গিয়েছিলেন : "সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান ।"

    কামাক্ষ্যা থেকে ফেরার পথে এসে একবার আমাকে একটা ছোট্ট গুলি উপহার দিয়েছিলেন । পাথর বা কাঁচের গুলি নয় । একটু নরম-নরম । কী অসাধারণ সুগন্ধ তাতে ! বলেছিলেন, "দেখিস, তোর যখন সত্তর বছর বয়স হবে তখনও এতে এমনই সুবাস থাকবে ।" আমার কাজ হল, প্রতিদিন সকালে একবার ঐ গুলিটা হাতে নিয়ে তার ঘ্রাণ নেওয়া । অপূর্ব । এই চারবছরে তার সুঘ্রাণ এতটুকু কমেনি ।

    সকলের প্রণামের হুড়োহুড়ি পড়ে গেল সাধক-মাকে । উনিও সকলের খবরাখবর নিতে থাকেন : বলাই-এর চাকরি হল কিনা, নীলিমা তোমার কাঁখের বেদনাটা কমল ? দেশে তোমাদের ঊইনি গাই তো আবারও বক্না বিইয়েছে ...... ইত্যাদি ইত্যাদি ।

    সাধক-মা কোন্‌ ঘরে থাকবেন, কোথায় শোবেন, তার জল্পনা হতে থাকল । কারণ উনি প্রতিবার এসে যে ঘরে ওঠেন তার ছাদটা ফেটেছে । সেখানে ওঁকে রাখা যায় না । "রোসো বাপু, রোসো । আমি তোমাদের এখানে থাকতে আসিনি । আমি যাবো গুরুজির কাছে । রাতের গাড়ি । তাই এব্লাটুকু থাকব । নেয়ে ধুয়ে আমার পুজোপাঠের একটু ঠাঁই করে দাও তো মায়া, তাহলেই হবে ।" জেঠিমাকে হুকুম দেন সাধক-মা । এঁরা জানেন, সাধক-মার কথায় নড়চড় হবার উপায় নেই । উনি যখন আজই রাতে চলে যাবার মন নিয়ে এসেছেন, যাবেনই । হঠাৎ বলেন সাধক-মা : "হ্যাঁরে প্রতাপ, তোদের এ বাড়ির কাছাকাছি শ্মশানঘাট তো নেই । তাহলে মড়াপোড়ার গন্ধ আসে কোথা থেকে রে ? আজ এসে থেকে পাচ্ছি । কৈ তোমরা কেউ পাচ্ছো না ?"

    ছোটকাকা আমতা আমতা করে বলেন - "কৈ, না তো মা, ...."। সকলে মুখ চায়াচায়ি করেন । কৈ কেউ তো মড়াপোড়ার গন্ধ পাচ্ছে না !

    স্নানের গামছা-গাড়ু হাতে নিয়ে উঠোনে নামলেন সাধক-মা । নেমেই ভীষণ চম্কে উঠলেন - "কে ? কে রে ওখানে শুয়ে ? ওটা কে ?" ওঁনার গলার স্বর বদলে এখন জলদ্গম্ভীর !

    এবার সারা বাড়ির নজর গেল । রান্নাঘরের সামনের দাওয়ায় মেঝেতে মাদুর পেতে সেই বুড়ি দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে আছে । গুটি-সুটি পাকিয়ে এতটুকু । যে ভোর পাঁচটা না-বাজতে উঠে, বাসন মেজে, ঘর ঝাঁট দিয়ে উনুন ধরিয়ে সব কাজ সারে, আজ যেন তার ঘুম থেকে ওঠারই বার হয়নি ।

    "কী গো বুড়ি, তুমি এখনও শুয়ে কেন ? উনুন ধরাও নি ?" মায়ের গলা । ও'দিক থেকে কোনো উত্তর নেই । মা এবার তারদিকে যেতে গেল । "যেওনা কাছে ।" ছোটকাকী যে এতো জোরে চীত্কার করে উঠবে কেউ ভাবেনি । সবার নজর গেল তার দিকে । "না, না, কেউ যাবে না ওর কাছে ।" এবার একটু আস্তে বলে ছোটকাকী : "ওটা ...... ওটা .... একটা ........।" তার বিনিদ্র চোখদুটি করমচার মত লাল !

    বারণ না শুনে বড়দা এবার দৌড়ে উঠোন পেরিয়ে বুড়িটার পাশে গিয়ে বসল । গা ঠেলে বলল - "কী হল গো তোমার ?" বুড়ি গোঁ গোঁ করে কী জবাব দিলো কেউ শুনতে পেল না । "এর গা তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ।" বড়দা ঘোষণা করে । "একে তুলে ঘরে শোয়াও । আমি হরিদাকে ডেকে আনছি ।" বড়দা বেরিয়ে গেল ।

    "সরো দেখি তোমরা ।" এবার সবাইকে ঠেলে নিজে এগিয়ে এলেন সাধক-মা । বুড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন : "কৈ দেখি ? আমার দিকে মুখ ফেরাও দেখি ।"

    দুর্গন্ধ ঢাকতে নাকে গামছটা চাপা দিয়েছেন উনি । যদিও অন্য কেউ কোনো দুর্গন্ধ পাচ্ছি না আমরা । বুড়িটা যেন শুনতেই পায়নি সাধক-মার কথা । শুয়েই রইল । যদিও তার শরীরের কাঁপুনি বেড়ে গেছে খুব । "তুমি কে ? কোথ্থেকে এসেছ ? আবার গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করেন সাধক-মা । "কদ্দিন এসেছে এ এখানে ?" এবার মুখ ঘুরিয়ে আমাদের শুধোন সাধক-মা । "এই, তিনচার দিন হল ।"

    "তি - ন, চা - র দিন ! বল কী তোমরা ? তি-ন, চা-র দিন এ আছে তোমাদের সঙ্গে ? এ ক'দিনে কারো কোনো অনিষ্ট হয়নি তো ? মায়া, ঘরে কুল-বিগ্রহের নিত্যপুজো ঠিক চলছে তো ? ঘাড় হেলান জেঠিমা ।

    এরপর বাজখাঁই গলা কাকে বলে শুনতে পেলুম আমরা - "কৈ ? তুই তো এখনও আমার দিকে মুখ ফেরালি না ?" অনেক কষ্টে বুড়ি এবার এ'পাশ ফিরল । ঘেমে গেছে । মুখটা আরও ছোট লাগছে । হাত দিয়ে চোখটা আড়াল করেছে, যেন তীব্র কোনো আলো এসে পড়ছে তার চোখে ।

    "সরা, হাতটা সরা - দেখি তোর মুখটা ।" বুড়ির হাতটা থর্থর করে কাঁপছে । কোনক্রমে নামাল হাতটা । চোখদুটো বোজা । দু'চোখ বেয়ে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ছে । হঠাৎ বুড়ির অসহায় মুখটা দেখে কেন জানি না, বড্ড মায়া হল আমার । বেচারি ! এ ভাব, অবশ্য বেশিক্ষণ রইল না । কারণ আবার সেই সাধক-মার প্রচন্ড হুমকি : "ও: তুই ?!" উনি কি বুড়িকে আগে থেকে চিনতেন না কি ?

    এইসময় বুড়ির চিঁ চিঁ স্বর শোনা গেল "আমি চলে যাব । আমি কালই চলে যাবো ।" "কাল ?" আবার হুঙ্কার দিলেন সাধক-মা । "না, আজই । এখনই .... ।" এবার মাদুর থেকে উঠতে গেল বুড়ি । পারল না । থরথর করে কাঁপছে । ধপ্‌ করে পড়ে গেল ফের মাদুরের ওপর ।

    স্নানকরা আর হল না সাধক-মা'র । এবাউট টার্ন হয়ে সোজা বাইরের ঘরে, দাদুর কাছে । আমাদের সকলকে ঘর থেকে বের, দরজা দিয়ে, দাদুর সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন । কিন্তু দাদু যেহেতু কানে কম শোনেন, বেশ জোরে জোরেই বারবার এক কথা বলতে হল সাধক-মা'কে । বাইরে দাঁড়িয়ে তার অনেকটাই কানে গেল আমাদের সকলের ।

    "ভূষণ, তোমার পদ্মর মা'কে মনে আছে ?" দু-তিনবার বলার পর দাদু শুনতে পেলেন । উত্তর দিলেন - "সেই আমাদের গ্রামের বাগদিদের মেয়ে পদ্ম ? যে গলায় দড়ি দিয়ে ...." "না, আত্মহত্যা করেনি । তার মা তাকে গলায় দড়ি দিয়ে মেরেছিল, তার এক করে ফেলা ভুল ঢাকতে ।" দাদু বলেন - "মা, সে তো আজ থেকে প্রায় ষাটসত্তর বছর পূর্বের ঘটনা, হঠাৎ আজ এতদিন পরে সে-কথা উঠল কেন ?" দাদু বেশ বিভ্রান্ত ।

    "সেই থেকে পদ্মর মা ফেরার হয়" - বলে চলেন সাধক-মা : "পুলিশ তার কোনো হদিশ পায়নি । কিন্তু আমি জেনেছিলুম, সে চাতরার শ্মশানঘাটে বসে শবসাধনা করছে মেয়ের বাঁপায়ের গোছের হাড়খানা দাঁতে কামড়ে । সে মরেনি আজও । ভেতরে গিয়ে দেখে এসো ।" শেষের দিকে সাধক-মা'র গলা ইস্পাত-কঠিন হয়ে ওঠে ।

    শুধু দাদু কেন, আমাদের সারা বাড়ির লোকের মাথা বন্বন্‌ করে ঘুরতে লেগেছে তখন !!!

    ৮ এবার সারা বাড়িতে কান্নাকাটি পড়ে গেল । স্নানপূজাপাট দূরে থাক্‌ সাধক-মা এবার এ বাড়িতে জলগ্রহনটুকুও না করে এখনই চলে যাবেন । ওঁনার স্থির-প্রতিজ্ঞ স্বভাবের কথা সকলে জানে । হাজার উপরোধেও সে শপথ গলল না । দাদুর ঘর থেকে বেরিয়ে উনি একটা কথাই বলেছেন : "তোমাদের কোনো ভয় নেই ।" তারপর মৌনী নিয়েছেন । প্যাঁটরা থেকে একখন্ড তিলকমাটি বের করে বুড়ি যেখানে তখনও শুয়ে আছে তার পাশে মেঝেতে কী সব আঁকিবুঁকি কাটতে লাগলেন । তারপর কোনো মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে বুড়িকে ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকারে এক গন্ডী কেটে দিলেন । তখন সেই বুড়ির অবস্থা যদি দেখতে ! সাধক-মা কাছে যেতেই সে উঠে পালাতে যাচ্ছিল । পারল না । উনি যতক্ষণ গন্ডী কাটছিলেন, সে বুড়ি এমন উছল-পাছল করছে যেন কেউ জলবিছুটি মারছে তাকে । সাধক-মা উঠে আসার আগে একবারই দু'জনের চোখাচোখি হয়েছিল । সাধক-মার স্থির গভীর দৃঢ় দৃষ্টির সামনে সে-বুড়ি যেন পিঁজরের বাঘের মত গজরাচ্ছে । মুখ দিয়ে অবিরত ফেনা কাটছে আর `গোঁ গোঁ' শদ ! দু'চোখে তার আগুন !

    এবার সাধক-মা হাতছানি দিয়ে জ্যেঠিমাকে কাছে ডেকে নিলেন । সংসারের কর্ত্রী । জ্যেঠিমার মাথায় তাঁর ডান হাত রেখে কড় গুনে গুনে জপ করতে লাগলেন । সঙ্গে অস্ফুট মন্ত্রের আবৃত্তি ।

    তারপর সাধক-মা'রা যখন ট্যাক্সিতে উঠছেন, ছোটকাকী ছোট্কু মেয়েটাকে কোলে নিয়ে দৌড়ে এসেছে : "মা আমার মেয়েটাকে একটু আশীর্বাদ করে যান ।"

    ট্যাকিকসতে উঠতে উঠতে হাল্কা হেসে সাধক-মা ছোট্কুর গাল টিপে একটু আদর করে দিলেন । ট্যাক্সি ছেড়ে দিল ।

    সাধক-মাকে রওয়ানা করিয়ে দিয়ে সকলে ঘরে ফিরে আসতে এবার ছোটকাকা তড়্পে উঠলেন - "ঐ ডাকিনীটাকে এখনই আমি বিদেয় করছি ।" তার রুদ্ররূপ দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলুম । শেষে কি খুনের দায়ে পড়তে হবে নাকি ? বুড়ি তখনও শুয়ে শুয়ে কোঁকাচ্ছে । সাধক-মা চলে যেতে কম্পনটা থেমেছে যদিও । ছোটকাকা সদর-দরজার বড় খিল খানা বাগিয়ে নিয়ে তেড়ে গেল - "এই, তুমি এক্ষুণি নিজে থেকে বেরোবে, না .....।"

    ঠিক এইসময়ে হরিদাকে নিয়ে বড়দার প্রবেশ । হরিদা এ'পাড়ারই বাসিন্দা । বড়দা-মেজদার গুরু । ক্যাম্পবেলে ডাক্তারি পড়ে । ফাইনাল ইয়ার । পাড়ায় লোকজন ছোটখাট জ্বরজারিতে এরই মধ্যে তাকে কল দিতে শুরু করেছে । প্রগতিশীল ছেলে । ওদের বাড়ির সকলে কম্যুনিস্ট পার্টি করে ।

    "কী হল ? তুমি আবার কাকে পিটতে যাচ্ছ, প্রতাপকা ?" হরিদা । থতমত খেয়ে হাতের খিলখানা রাখতে রাখতে আঙুল দিয়ে দেখায় ছোটকাকা বুড়ির দিকে ।

    "এই বুড়িটাকে ? পিটবে ? কেন ? কী হয়েছে ........ এ-ই পেশেন্ট, না ? একেই দেখাতে তো আমাকে ডেকে এনেছ, সতীশ ?" হরিদা মুখ ঘোরায় বড়দার দিকে । বড়দা অধোবদন ।

    হরিদা এবার দাওয়ায় বস্ল বুড়ির শয্যাপাশে । "কৈ দেখি তো মা, তোমার হাতখানা ।" বুড়ি এবার চিৎ হয়ে শুল । হরিদা পরমযত্নে তার বাঁ হাতখানা তুলে নিয়ে নাড়ি দেখতে লাগল । তারপর স্টেথো দিয়ে বুক-পিঠ পরীক্ষা করল অনেকক্ষণ ধরে । কান থেকে স্টেথো খুলতে খুলতে বলল : "সতীশ, ইনিই তোমাদের বাড়িতে কাজ করেন ? আগে দেখিনি তো কখনও ।" বলতে বলতে "হাঁ কর তো, মা" বলে ওষুধের ছোট শিশি থেকে একদাগ ঢেলে দেন বুড়ির গলায় । বুড়ির চোখে অসীম কৃতজ্ঞতা ! "মনে হচ্ছে নিউমোনিয়া । কিছু পরীক্ষা-টরীক্ষা করতে হবে । এখানে চিকিত্সা হতে পারে ? হাসপাতালে দিলে ভালো করতে, সতীশ ।" তাকিয়ে দেখি বুড়ির চোখে টল্টলে জল ।

    "ওটা একটা ডাইনি । ওটাকে পুড়িয়ে মারা উচিত ।" হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন ছোটকাকা । তাঁর রাগ এখনও পড়েনি ।

    যাবার জন্য পা বাড়িয়েছিলেন হরিদা । অবাক হয়ে থম্কে দাঁড়ালেন । অবিশ্বাসের গলায় বললেন : "কী বললেন ? ডাইনি ? আজকের যুগে ? এই কলকাতা শহরে ? আপনারা কোন্‌ শতাব্দীতে বাস করছেন ?"

    সকলের দিকে মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখেন হরিদা । এ বাড়ির সবাকার চোখেই সম্মতি ছোটকাকার পক্ষে !

    "তুমি জানো, আমার কচি বচ্চাটার ঘড় মট্কে রক্ত খাবার জন্য তাকে ছাদে নিয়ে যাচ্ছিল ? তোমার কাকীমা হাতে-নাতে ধরে ফেলেছেন তাই, নৈলে ...."। ছোটকাকা । "প্রতাপকা, স্পুট্নিকের নাম শুনেছেন তো? মানুষের তৈরি যান মহাকাশে গেছে । লাইকা একটা কুকুর, প্রথম প্রাণী, যে মহাকাশে চরে এসেছে । দু'দিন পরে দেখবেন সোভিয়েত রাশিয়া চাঁদেও মানুষ পাঠিয়ে দেবে । এটা বিজ্ঞানের যুগ, কাকা । এ'যুগে এসব `ডাইনি-টাইনি' বলবেন না । লোকে গায়ে থুতু দেবে ।" ঠোঁটকাটা বলে বদনাম আছে হরিদার । শেষের কথায় জ্বলে উঠলেন ছোটকাকা । "থামো তুমি । আমাদের গুরু-মা আজ এসে না পড়লে ...., এটাকে মেরে এখনই বিদেয় করছি আমি ।"

    জেঠু-বাবা কারোর আজ অফিসে যাওয়া হয়নি । ওঁনারাও সকলে উপস্থিত বাড়ির ভেতরের উঠোনটায় । তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন সব । দ্বিধাগ্রস্ত বটেন, তবে প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছোটভাইয়ের প্রতি আছে ।

    এবার জ্বলে উঠলেন হরিদা । ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রত্যয়ী গলায় বললেন - "জেঠামশায়, এই বৃদ্ধাকে গত চার-পাঁচদিন ধরে আপনার অমানুষিক খাটিয়ে নিয়েছেন, শুনলাম । তা-ও বিনা মজুরিতে । এখন ইনি অত্যন্ত অসুস্থ । তার দায় না নিয়ে আজগুবি অপবাদ দিয়ে এই অসুস্থাকে ফুটপাথে ফেলে দেবেন, না আগুনে পুড়িয়ে মারবেন ? সবার ওপরে, মানবিকতা ব'লে একটা কিছু আছে তো ?"

    বিষয়টা এখানেই থম্কে রইল । সাধক-মা'র প্রস্থানেই হোক্‌ বা হরিদার ওষুধের গুণে, দুপুর বেলাতেই দেখি বুড়ি এক পাহাড় এঁটো বাসন নিয়ে মাজতে বসেছে । তাতে আর কারো কোনো আপত্তি নেই ।

    ৯ আজ ডামাডোলে আমাদেরও কারো ইস্কুল যাওয়া হয়নি । বিকেলে পাড়ায় খেলার মাঠে আমার সহপাঠী শিশির বলল : "হ্যাঁ রে, তোদের বাড়িতে শুনলুম এক ডাইনি নাকি এসে উঠেছে ?" গলায় ব্যাঙ্গের সুর স্পষ্ট । এর মধ্যে খবরটা পাড়ায় চাউরে গেল কী করে, ভাবছি । ওকে হেসে উড়িয়ে দিলেও মনের মধ্যে আমার খচ্খচে ভাবটা রয়েই গেল । যা ঘটে চলেছে আমাদের বাড়িতে গত দু-তিন দিন ধরে, তার ব্যাখ্যা কী ? সত্যিই কি বুড়িটা ডাইনি ? `ডাইনি' মানে কী ? রক্ত-মাংসের জীব তো বটে । অশরীরি তো নয় । সাধক-মা'র অবস্থানকালে তাহলে তার ঐরকম আচরণের ব্যাখ্যা কী ? সত্যিই কি ও গত সত্তর বছর ধরে পিশাচসাধনা করেছে ? আমাদের বাড়িতে হঠাৎ এলো কেন ? আবার হরিদা-ও যা বলে গেলেন তা অস্বীকার করি কী করে ? আদতে, সে এক দুর্বল রোগা অসহায় বুড়িমানুষ তো বটে ..... । এরই মধ্যে আবার পল্টু খেলাটেলা ফেলে আমার পাশটিতে এসে বলল : "ছোড়দা, এ'কদিন বুড়িটাকে কিছু খেতে দেখেছ ? মা বলছিল, এ ক'দিনে একবারও বুড়িটা হিসিহাগু পর্যন্ত করতে যায়নি । কোনো মানুষ কি এভাবে চার-পাঁচ দিন ......." ।

    "তুই থাম্‌ তো । তুই-ই যত নষ্টের গোড়া । সারাদিন যত রাজ্যের ভূতের গল্পের বই পড়বি, আর ..... ।" হরিদার প্রভাব আমার ওপর যথেষ্ট পড়েছে । তার ওপর দুপুরে বড়দাও ধমকেছে - "তোরাই নাকি বুড়িটাকে `ডাইনি' বলে প্রথম আইডেন্টিফাই করিস্‌ ? এরপরে অঙ্কে সাত পাবি না তো কী ? ফের যদি শুনি, ..... গাঁট্টা মেরে তোমার ........." ইত্যাদি ইত্যাদি ।

    বাড়িতে মা-বাবারা থম্‌ ম্রেই রইলেন । বাবা কাকারা সন্ধ্যেয় পাড়ার তাসের আসরেও যাননি । বাইরের ঘরে দেখি পরামর্শ চলছে কী-সব । দাদু মধ্যমণি । আমাদের ছোটদের প্রবেশ নিষেধ তথায় । বুড়ি যে সারাদিন কিছু খায়নি, হুঁস নেই কারো ।

    পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো নীরদা-ঝি'র খ্যান্খ্যানে চীত্কারে - "বলি, সদর দরোজা হা-ট ক'রে খুলে ঘুমুচ্চো যে সব, চোরে এসে ....."। নীরদা ফিরে এসেছে । এবার সত্যিই মা-জেঠিমারা যেন হাতে চাঁদ পেলেন ।

    আর, বুড়িটা কখন চলে গেছে কেউ জানে না । আজ সাধক-মা'র দেওয়া সেই গুলিটা হাতে নিয়ে দেখি শক্ত পাথর ! আর কোনো গন্ধ নেই তাতে !

    (পরবাস-৪০, জানুয়ারি, ২০০৮)

  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)