• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৪০ | ফেব্রুয়ারি ২০০৮ | কবিতা
    Share
  • তিনটি কবিতা : রোহণ কুদ্দুস

    জাটিঙ্গা

    মাঝে মাঝে আগুন নাইতে বড়ো
    সাধ হয় পাক খেতে খেতে নেমে
    আসবো আর এলাচমাত্রিক গলায়
    `আলিফ-লাম-মীম প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত'
    মাধ্যাকর্ষণ হে মৌলা তুমি ভারহীন করো
    আমার নিউরোন এবং যাবতীয় গুস্তাখি

    দ্রাঘিমা নির্ণয়াক সভাতে বিশেষ অতিথি
    পানপাত্র উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তে বিনা প্যারাসুটে
    লাফিয়ে পড়ি নীচে আগুন জ্বেলে কারা পাখি
    ডাকে ত্বরণাতীত বেগ

    পায়ে বাঁধা স্মরণট্যাগটা মেলাতে পারে না তারা
    তখন তো কাব্যায়ত্ত সহজ ছিলাম, এখন জাটিঙ্গা


    তুমি জল দাওনি ব'লে

    তিনু আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকতো

    মহরমের মাঠে কেনা ফোল্ডিং কুমির
    রথের মেলার জল বেলুন আর পাতা সেপাই
    নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো আমাদের
    ওর মা নতু কাকীমা শেষ পর্যন্ত
    আমাকেই দিয়ে দিতেন আর তিনু কাঁদতো
    পা ছড়িয়ে

    তিনু আজও আমাদের প্রতিবেশী

    ও আজ জলভাগ নিয়ে ঝগড়া করেছে
    চৌকাঠে এসে ঠেকেছে গুজব বিবাদ
    আগুন আর রক্ত আমি অখনও ঘুমোতে পারিনি
    মাঝরাতে খুলে বসেছি শৈশবের ড্রয়িংবুক
    আমার নদী নেই তাই একগুঁয়ে নীল মোম
    ঘষে চলেছি

    কাল সকালে তিনুকে গিয়ে বলবো
    `এই নে তোর কাবেরী,
    পুরোটাই তোকে দিয়ে দিলা যা:...'



    একক লন্ড্রি

    পাশের কোটর থেকে আমার ডেনিমে
    বুক ভরে চেয়ে রয় রেশমী কাঁচুলি
    স্পৃষ্ট বৃন্তের রঙে ব্যতিক্রমী লাল

    অন্তিম মোচড়ে সে কুয়াশা বোতাম
    ঘষে চলে কাচের জানালায় ঝরে পড়ে
    সীত্কারসূচক ক্ষীণ -- তমসে উত্তুঙ্গ স্বেদ

    নক্ষত্রবিন্যাসে অমিল তবু হামাম হাজামতখানা
    পেরিয়ে মহানিষ্ক্রমণের পথে আর এক পলায়নকারী

    (পরবাস-৪০, ফেব্রুয়ারি, ২০০৮)

  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)