• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | Jibanananda Das | Poem
    Share
  • Before Death / মৃত্যুর আগে : Jibanananda Das
    translated from Bengali to English by Clinton Seely



    We who've walked deserted fields of stubble on Paush evenings,
    Who've seen upon the fields' far edge soft river women spreading
    Fog flowers — they all, alas, like village girls of days long past;
    We who've seen in darkness the akanda shrub, the dhundul
    Filled with fireflies, seen the moon standing silent vigil at the head of
    Fields already harvested — not lusting for the crops grown there;

    We who've loved within that darkness the long winter's night,
    Who've heard wings flap above thatched roofs through enchanted night;
    The odor of an ancient owl — now lost again somewhere there in the dark —
    We who've grasped the wonderment of winter nights — replete with deep felt joy
    Of wings extended over fields — herons calling from ashvattha branches;
    We who've comprehended all this magic, esoteric lore of life;

    We who've watched wild geese outfly the hurt of hunters' shells
    And wing their way away into soft blue moonglow of the far horizon,
    Who've placed a loving hand on sheaves of paddy;
    We who've come home flush with yearning, like the evening crows;
    The smell of a baby's breath, grass, sunshine, a kingfisher, stars, and sky,
    We who were aware of these, as we came and went the whole year long;

    We who've seen green leaves turn yellow in the Aghran darkness,
    Bulbuli birds and light, playing through the lattice formed by hijal limbs,
    A field mouse rubbing chaff upon its silky fur on some wintry night,
    Waves twice daily forming, flowing in gray scents of husked rice
    Over eyes of solitary fish — a duck in evening's shadows at the pond's edge
    Senses sleep's sweet odors — the touch of female hands bears him away;

    A minaret-shaped cloud calls the golden hawk up to its window,
    Beneath a wicker vine a sparrow's eggs appear as if of porcelain,
    A river ever laves its banks with fragrances of gentle water,
    Straw roofing casts its shadow in dark night upon a moonlit courtyard,
    The scent of crickets — on greenish winds of Baishakh's farther fields,
    Thick juices ooze into the bosom of a blue-green custard apple, heavy with desire;

    We who've noticed red fruit lying underneath the banyan trees thick with leaves,
    The lonely fields, huddled together, staring at their faces reflected in the river,
    And, all the blue skies searching, discovering the depths of one that's even bluer,
    Who've observed on paths the gentle eyes that cast their umbra upon the earth;
    We who've seen the twilight stretch each day through rows of betel-nut palms,
    The dawn appear each day as simple and as green as shocks of fresh cut paddy;

    We who've understood, after days and months and seasons have transpired,
    That daughter of the earth who came to us and in the darkness spoke of
    Rivers; we who've comprehended that there is another light
    In fields, at ghats, on pathways: the grayness of an afternoon is in its body.
    As we let go our seeing hands, that light stays constant:
    Kankabati, she of earth, floats there and assumes a body of pale incense.

    Before death what more do we wish to understand? Do we not know
    Gray death's face awakes, arises, like a wall, at the head of all our prostrate
    Reddened cravings? Once within this world were dreams; there was gold
    That obtained tranquility, as if according to the dictates of some master of illusion.
    What more do we wish to understand? Have we not heard bird wings call
    After sunlight faded? Have we not watched the crows fly off through fog-filled fields?



    মৃত্যুর আগে

    আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে পউষ সন্ধ্যায়,
    দেখেছি মাঠের পারে নরম নদীর নারী ছড়াতেছে ফুল
    কুয়াশার; কবেকার পাড়াগাঁর মেয়েদের মতো যেন হায়
    তারা সব; আমরা দেখেছি যারা অন্ধকারে আকন্দ ধুন্দুল
    জোনাকিতে ভরে গেছে; যে-মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
    চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ—কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

    আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত রাত্রিটিরে ভালো,
    খড়ের চালের 'পরে শুনিয়াছি মুগ্ধরাতে ডানার সঞ্চার;
    পুরোনো পেঁচার ঘ্রাণ;—অন্ধকারে সে আবার কোথায় হারালো!
    বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ,—মাঠে-মাঠে ডানা ভাসাবার
    গভীর আহ্লাদে ভরা; অশ্বত্থের ডালে-ডালে ডাকিয়াছে বক;
    আমরা বুঝেছি যারা জীবনের এই সব নিভৃত কুহক;

    আমরা দেখেছি যারা বুনোহাঁস শিকারীর গুলির আঘাত
    এড়ায়ে উড়িয়া যায় দিগন্তের নম্র নীল জ্যোৎস্নার ভিতরে,
    আমরা রেখেছি যারা ভালোবেসে ধানের গুচ্ছের 'পরে হাত,
    সন্ধ্যার কাকের মতো আকাঙ্ক্ষায় আমরা ফিরেছি যারা ঘরে;
    শিশুর মুখের গন্ধ, ঘাস, রোদ, মাছরাঙা, নক্ষত্র, আকাশ
    আমরা পেয়েছি যারা ঘুরে ফিরে ইহাদের চিহ্ন বারোমাস;

    দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রাণের অন্ধকারে হয়েছে হলুদ,
    হিজলের জানালায় আলো আর বুলবুলি করিয়াছে খেলা,
    ইঁদুর শীতের রাতে রেশমের মতো রোমে মাখিয়াছে খুদ,
    চালের ধূসর গন্ধে তরঙ্গেরা রূপ হয়ে ঝরেছে দু'বেলা
    নির্জন মাছের চোখে;—পুকুরের পারে হাঁস সন্ধ্যার আঁধারে
    পেয়েছে ঘুনের ঘ্রাণ—মেয়েলি হাতের স্পর্শ ল'য়ে গেছে তারে;

    মিনারের মতো মেঘ সোনালি চিলেরে তার জানালায় ডাকে,
    বেতের লতার নিচে চড়ুয়ের ডিম যেন শক্ত হ'য়ে আছে,
    নরম জলের গন্ধ দিয়ে নদী বারবার তীরটিরে মাখে,
    খড়ের চালের ছায়া গাঢ় রাতে জ্যোৎস্নার উঠানে পড়িয়াছে;
    বাতাসে ঝিঁঝির গন্ধ—বৈশাখের প্রান্তরের সবুজ বাতাসে;
    নীলাভ নোনার বুকে ঘন রস গাঢ় আকাঙ্ক্ষায় নেমে আসে;

    আমরা দেখেছি যারা নিবিড় বটের নিচে লাল-লাল ফল
    পড়ে আছে; নির্জন মাঠের ভিড় মুখ দেখে নদীর ভিতরে;
    যত নীল আকাশেরা র'য়ে গেছে খুঁজে ফেরে আরো নীল আকাশের তল;
    পথে পথে দেখিয়াছি মৃদু চোখ ছায়া ফেলে পৃথিবীর প'রে;
    আমরা দেখেছি যারা শুপুরির সারি বেয়ে সন্ধ্যা আসে রোজ;
    প্রতিদিন ভোর আসে ধানের গুচ্ছের মতো সবুজ সহজ;

    আমরা বুঝেছি যারা বহু দিন মাস শেষ হ'লে পর
    পৃথিবীর সেই কন্যা কাছে এসে অন্ধকারে নদীদের কথা
    ক'য়ে গেছে;—আমরা বুঝেছি যারা পথ ঘাট মাঠের ভিতর
    আরো এক আলো আছেঃ দেহে তার বিকেলবেলার ধূসরতা;
    চোখের-দেখার হাত ছেড়ে দিয়ে সেই হাত হ'য়ে আছে স্থির;
    পৃথিবীর কঙ্কাবতী ভেসে গিয়ে সেইখানে পায় ম্লান ধূপের শরীর;

    আমরা মৃত্যুর আগে কি বুঝিতে চাই আর? জানিনা কি আহা,
    সব রাঙা কামনার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে
    ধূসর মৃত্যুর মুখ;—একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিল—সোনা ছিল যাহা
    নিরুত্তর শান্তি পায়;—যেন কোন মায়াবীর প্রয়োজনে লাগে।
    কি বুঝিতে চাই আর?... রৌদ্র নিভে গেলে পাখি-পাখালির ডাক
    শুনিনি কি? প্রান্তরের কুয়াশায় দেখিনি কি উড়ে গেছে কাক!
    Notes:
    মৃত্যুর আগে/"Before Death," published in the inaugural issue of Kavita (কবিতা), September, 1935. Kavita's editor, Buddhadeva Bose, sent a copy of this initial issue of his journal to Rabindranath Tagore, who commented apropos "Before Death" that "Jibanananda Das's poem, full of pictorial beauty, delighted me." The akanda and dhundul are plants; the ashvattha is a tree, one of the more frequently mentioned trees in Jibanananda's poetic repertoire; the bulbuli is a melodious songbird. Kankabati is a Bengali folktale maiden— here probably doubling as Jibanananda's named muse. Buddhadeva Bose, Jibanananda's earliest and most ardent supporter, would title one of his volumes of poetry Kankabati.
    Illustrated by Nilanjana Basu. Nilanjana has been illustrating regularly for Parabaas. She is curently based in California.

    Translation published in Parabaas: December, 2011
  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)