• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৩ | জানুয়ারি ২০২৪ | ভ্রমণকাহিনি, প্রকৃতি, বাকিসব
    Share
  • ঝরা পাতার পথে : ছন্দা চট্টোপাধ্যায় বিউট্রা


    এদেশে আসার পর একটা জিনিশ আমার প্রথম চোখে পড়েছিল --- হেমন্তকালে গাছে গাছে রঙিন পাতার বাহার। শীতের প্রারম্ভে পাতা ঝরে যাওয়ার আগে এই রঙের সমারোহ ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে দেখা যায় না। উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে কিছু গাছে রং বদলায় কিন্তু আমেরিকার মতো এমন ব্যাপক রং বদলানো আমি এই প্রথম দেখলাম।


    পাতা কেন ঝরে? আমার বিজ্ঞান-ট্রেনিং মনে প্রথমেই এই প্রশ্ন জাগে। এত লক্ষ লক্ষ গাছের অযুত কোটি পাতারা মাত্র কয়েকমাস বেঁচে থেকেই ঝরে ফুরিয়ে যায়। এতে এনার্জির অপচয় হয় না? এত শক্তিক্ষয়ে গাছেদের কী লাভ? বিবর্তনের হিসেবে এর প্রয়োজন কোথায়? মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আমি কিন্তু উত্তরটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।

    অবশ্য সব গাছের পাতা ঝরে না। এভারগ্রীন জাতীয় গাছগুলি-- পাইন, সিডার, ফার, গিংকো ইত্যাদি সারা বছর সবুজ থাকে। এসব গাছে ফুল হয় না, এদের সরু ছুঁচের মতো পাতায় একরকম রাসায়নিক রেজিন বা wax লাগানো থাকে যাতে প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ভারী বরফ সহজেই ঝরে পড়ে যায়। কিন্তু পত্রমোচী বা deciduous জাতীয় গাছগুলির পাতা চ্যাপটা--সূর্যের আলো থেকে ক্লোরোফিলের সাহায্যে এনার্জি আহরণের জন্য। বেশির ভাগ ফলফুলের গাছগুলি এই জাতীয়। সব ঘাস আর শস্যও এই দলে পড়ে। এরা বছরে একবার জন্মেই মরে যায় কিংবা আমেরিকা-ইউরোপের মতো নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় পাতা ঝরিয়ে দিব্যি অনেক বছর বেঁচে থাকে। এদের পাতাগুলো ঠান্ডায় জমে মরে যায়। মরা পাতা মাটিতে ঝরে গাছেদের খাবার রসদ জোগায়, অন্যান্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গদেরও বাঁচিয়ে রাখে।


    কিন্তু না ঝরলেই বা কী ক্ষতি? আর একসঙ্গে সব ঝরার কী দরকার? তার উত্তর পেয়েছিলাম একবছর। সেবার সেপ্টেম্বর মাসেই একটা উদ্ভট হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ফ্রন্ট ক্যানাডা থেকে নেমে এলো, তাপমাত্রা নিমেষে শূন্যের নীচে। বেচারা মেপল, ওক, কটনউড আর এল্‌ম গাছগুলিতে তখনো সজীব সবুজ পাতার ঘন ছাউনি। রং বদলানো শুরু হতে তখনো মাস খানেক দেরি। দেখতে দেখতে কয়েক মিনিটেই সব সবুজ শাদা হয়ে গেল। বাগানের লনে, গাছের পাতায় ভারী তিন-চার ইঞ্চি বরফের আস্তরণ। কী মজা! কী সুন্দর! আমরা সবাই নতুন বরফ নিয়ে খেলছি। কিন্তু বেশিক্ষণ নয়। অচিরেই শুনলাম ঝুপঝুপ, মড়মড় শব্দ। গাছের চ্যাপটা পাতার ওপর বরফ জমে এতো ভারী হয়েছে যে বড় বড় ডালপালা পাতা আর বরফ সুদ্ধু নুয়ে ভেঙে পড়তে লাগলো। কী দৃশ্য! এ যেন চোখের সামনে জ্যান্ত প্রাণীর হাত-পা কেটে ফেলা! সুন্দর সুন্দর গাছগুলোর কী করুণ অবস্থা!


    সারা রাত ধরে বরফ পড়লো। হাওয়া ছিলো না কিন্তু ঝুপঝাপ, মড়মড় শব্দে গাছ ভাঙছিল। আমরা প্রকৃতির সামনে একেবারেই নিরুপায়। আমাদের ভাগ্যি ভালো যে কোন বড়ো ডাল বাড়ির ছাদে পড়েনি। অনেকের বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছিলো। সকালে উঠে দেখি বাড়ির ছাদে, বাগানে, রাস্তাঘাটে ভাঙা ডাল পাতা আর বরফের স্তূপ। ন্যাড়া গাছগুলো অসহায় দাঁড়িয়ে। সে বছর অনেক গাছের এত ক্ষতি হয়েছিলো যে পুরো গাছই কেটে ফেলতে হয়েছিলো। তখনই বুঝলাম পাতা কেন ঝরে, কেন শুধু ঠান্ডার দেশেই ঝরে, কেন সব পাতার একসঙ্গে ঝরার দরকার, আর কেনই বা শীত শুরু হবার আগেই ঝরে ফেলার তাগিদ। না হলে চ্যাপটা পাতায় বরফের চাপে ডাল ভেঙে গাছেদেরই প্রাণসংশয়। তাই এত অপচয় সত্ত্বেও পাতা ঝরাতেই হয়।


    পাতা ঝরা উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, উত্তর ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতেই দেখা যায়। এই সব দেশেই প্রচুর বরফ পড়ে। দক্ষিণ গোলার্ধেও একই ব্যাপার দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে। মাঝামাঝি বিষুবরেখার আশেপাশের দেশে গাছের পাতা ঝরে একটু একটু করে সারা বছর ধরে। যখন পাতা বুড়ো হয়ে যায় বা মরে যায়। একসঙ্গে ঝরানোর দরকার পড়ে না। ভারতে অনেক জায়গায় শীতের শেষে পাতা ঝরে—‘চৈত্র দিনের ঝরা পাতার’ গান কে না শুনেছে?


    এ তো গেল ঝরানোর কথা। কিন্তু পাতার রং কেন বদলায়? কেনই বা শুধু হলুদ, কমলা বা লাল? নীল বা বেগুনি কেন নয়? এর জন্য আবার বিজ্ঞানের আশ্রয় নিতে হবে। হেমন্তকালে, শীতের প্রারম্ভে যখন দিন ছোট হয়ে আসে, সূর্যের প্রভাব কমে যায়, পাতার সবুজ ক্লোরোফিলও মরে যায়। তখনই পাতার আসল হলুদ রংটা বেরিয়ে আসে। তাই বেশিরভাগ গাছই হলুদ। তার সঙ্গে অবশ্য তামাটে বা কমলা রঙের ছোঁয়াও থাকতে পারে। কোন কোন গাছ আবার সবুজ থেকে রং না বদলিয়ে সোজাসুজি বাদামিতে চলে যায়।


    পাতা ঝরে পরার কাজে আরও একটি রাসায়নিক অবদান-- auxin নামক একটি হরমোন। পাতার বোঁটায় এর উৎপাদন ক্রমশ কমে আসে আর বোঁটাটা আলগা করে দেয় যাতে পাতাটি টুপ করে খসে পড়ে। সব গাছের পাতা একসঙ্গে পড়ে না। রং বদলে পাতা ঝরতে দুতিন সপ্তাহ লেগে যায়। কোন কোন গাছের--যেমন ওক গাছের সব পাতা ঝরতে কয়েক মাসও লেগে যায়।

    আমেরিকার উত্তর-পূর্ব নিউ-ইংল্যান্ড অঞ্চলে যেরকম রঙের ছটা দেখা যায় তা বোধহয় পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এদেশে অন্যান্য জায়গাতেও এরকম রং দেখা যায়--উত্তর মিশিগান অঞ্চলে, উত্তর মিসিসিপি নদীর আশেপাশে, কলোরাডোর রকি পাহাড়ে অ্যাস্পেন গাছের মাথায়, অ্যাপালাচিয়ান পাহাড়ের কোণে কানাচে। রংদার পাতার জন্য চাই সঠিক তাপমাত্রা, উচ্চতা ও বৃষ্টির পরিমাণ। এরই সম্পূর্ণ সমন্বয় হয়েছে নিউ-ইংল্যান্ড অঞ্চলে। অকটোবর-নভেম্বরে সেখানে খবরের কাগজে দৈনিক আবহাওয়ার সঙ্গেই পাতার রঙের খবরও দেওয়া হয়। কোনখানে, কোন জায়গায় আসছে সপ্তাহে কোন গাছের রং সবচেয়ে জোরদার হবে তার পূর্বাভাস। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাস বোঝাই টুরিস্টরা আসেন নিউ-ইংল্যান্ডের এই বার্ষিক শোভা দেখতে।

    হলুদ রঙটা তো বোঝা গেল, কিন্তু লাল রং? তার জন্য দায়ী anthocyanin নামক একটি পদার্থ যা carotene জাতীয় লাল রঙের সমগোত্র। গাছের পাতায় এই বস্তুটির উৎপাদনে লাল, কমলা, গোলাপি ইত্যাদি রঙের বাহার খোলে। উজ্জ্বল দিন ও ঠান্ডা রাত্রের সমন্বয়ে এইসব রংগুলি আরও ভালো দেখায়। কেন হলুদের জায়গায় লাল, তার সঠিক উত্তর জানা নেই। অনেকে মনে করেন, লাল রং একধরনের কীট প্রতিরোধক। এফিড জাতীয় পোকারা নাকি লালের চেয়ে হলদে রং বেশি পছন্দ করে। আরেকটা লক্ষণীয় ব্যাপার-- লাল রংটা আমেরিকা আর পূর্ব এশিয়ার দেশেই বেশি দেখা যায়। ইউরোপের গাছগুলো বেশির ভাগই হলুদ রঙের। এর ব্যাখ্যাও সঠিক জানা নেই। হয়তো স্থানীয় পোকামাকড়ের প্রভাব, বা আবহাওয়ার ভিন্নতা এর জন্য দায়ি। অনেকে মনে করেন ইউরোপের পর্বতমালা (পূর্ব-পশ্চিম) আর আমেরিকার পাহাড়গুলো (উত্তর-দক্ষিণ) হওয়াটাও কোনো ভাবে প্রভাবিত করেছে। আসল উত্তরটা অজানা।


    একবছর রোড ট্রিপ করে নিউ ইংল্যান্ড গেছিলাম গাছের শোভা দেখতে। ম্যাসাচুসেট রঙের বাহার সব গাছেই কিন্তু কয়েকটি বড়ো গাছ বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে -- মেপল, ওক, অ্যাস্পেন, ও ডগউড, ঝোপঝাড়ের মধ্যে চোখ ঝলসানো লাল রঙের বারনিং বুশ ও সিডাম, এবং লাল-বেগুনি রঙের নানারকম বেরি। নানা জাতীয় মেপল-এর রং উজ্জ্বল হলুদ থেকে টুকটুকে লাল এবং মাঝখানে হরেক শেডের কমলা, তামাটে, আগুনে রং, গোলাপি আর কালচে রক্তিম লাল। একটা উজ্জ্বল সোনালি হলুদ গাছ আপনার বাগান একেবারে আলো করে দেবে।


    ম্যাসাচুসেটস, উত্তর নিউ ইয়র্ক, ভারমন্ট হয়ে মেইন পর্যন্ত-- রাস্তার দু'ধারে মাইলের পর মাইল লাল, হলুদ, কমলা রঙের ঢেউ। যেদিকে তাকাই, সেদিকেই রং আর রং। সবুজ গাছ প্রায় দেখাই যায় না। ইচ্ছা তো প্রত্যেক বছর যাওয়ার। কিন্তু আমি থাকি দেশের এক্কেবারে মাঝখানে, বাড়ি থেকে বড্ড দূর হয়ে পড়ে। আমার মতো যারা মিডওয়েস্টে থাকেন, তাদের জন্য বাড়ির কাছেই আইওয়া, ইলিনয়, উইসকন্সিন রাজ্যে মিসিসিপি নদীর ধারে ধারে অনেক পার্ক আছে যেখানে রঙিন পাতার দৃশ্য নিউ ইংল্যান্ডকেও হার মানায়। এবার সেখানেই রোড ট্রিপ ঠিক করলাম। ম্যাপে দেখবেন পূর্ব আয়ওয়ায় মিসিসিপি ও ছোট ছোট শাখা নদীর আশে পাশে আট-দশটি স্টেট পার্ক দক্ষিণ থেকে উত্তরে এক সুতোয় গাঁথা মালার মতো ছড়ানো। এরা বেশ কাছাকাছি, দুই থেকে কুড়ি মাইলেরও কম দূরত্বে। সহজেই গাড়ি চালিয়ে যাওয়া যায়। এগুলি একেবারে ফ্রি--কোনো প্রবেশমূল্য বা মেম্বারশিপ-এর বালাই নেই, সারা বছর যথেচ্ছ হাইকিং, ক্যাম্পিং বা পিকনিক করতে পারেন। আমার এই স্টেট পার্কগুলো খুব ভালো লাগে, ন্যাশনাল পার্কের মতো বিরাট নয়, বেশ ঘরোয়া, কোন ভিড়ভাড়াক্কা নেই, আর কর্মচারীরাও খুব আলাপী। অবশ্য পাতাঝরার আগেই গ্রীষ্মের শেষে পার্কের অফিস বন্ধ থাকে সারা শীত পর্যন্ত। সঙ্গে সংলগ্ন বাথরুমও বন্ধ। তাই ঐ কর্মটির জন্য পার্কের বাইরে গ্যাস স্টেশন বা রেস্টুরেন্টের শরণ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।


    অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহটা ওইখানে গাছের সবথেকে উজ্জ্বল রঙের সময়। আমরা আয়ওয়া সিটি থেকে পুবমুখো চললাম। প্ল্যান দুদিনে আটটি পার্ক দেখা, মাঝপথে ডুবুক (Dubuque) শহরে একরাত কাটানো। সব পার্কগুলোই ছিমছাম, পরিষ্কার, ভিড়হীন, রঙিন গাছে ভরা। কোথাও তামাটে রঙের ওক, কোথাও মেপল গাছে সবুজের ওপর সদ্য লালের ছোপ পড়েছে--যেন আবির মাখানো। কোথাও বা সিডাম ঝোপ লাল টুকটুকে হয়ে আছে। রাস্তার দুই দিকেই রঙের ঢেউ। দক্ষিণ থেকে উত্তরে আটটি পার্কের কিছু বর্ণনা দিলাম।


    আয়ওয়া সিটির দুতিন মাইল উত্তরে প্রথম পার্ক ---#১-Lake McBride, লেকের শান্ত জলে রঙিন গাছের ঝিলিমিলি। পাশে পিকনিক বেঞ্চ, দুএকটা মাছ ধরার জায়গা। আর চারিদিকে সোনালি গাছের আলো। এই পার্ক থেকে উত্তরপূর্বে খুব কাছেই আরও দুটো ছোট ছোট পার্ক-- খটোমটো নাম কিন্তু দেখতে ভারী সুন্দর, যেন ম্যাজিক! #২--Wapsipinicon আর #৩--Maquoketa পার্ক। দুটোই ছোট শাখা নদীর পাশে পাশে । ম্যাকোকেটায় কয়েকটি গুহা আছে, সেগুলোও ইচ্ছে করলে দেখে আসতে পারেন। ঘন রঙিন পাতার ছাউনি, সুন্দর হাইকিং ট্রেল। তারপর পুব দিকে একটু এগিয়ে, মিসিসিপি নদীর পাড়ে #৪-- Bellevue পার্ক। পাশেই বিরাট নদী, দু-একটা মালবাহী নৌকো চলছে ধীরে ধীরে। উঁচু পাড় থেকে পুরো নদীর দৃশ্যটা দেখা যায়। এখানে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়েদের দেখলাম--রঙিন পাতা কুড়োচ্ছে, হ্যালোউইনের সময় বাড়ি সাজাবে বলে। এই পার্কের পাশেই ডুবুক শহরে আমরা একরাত কাটালাম।


    দ্বিতীয় দিন ডুবুক থেকে উত্তরে চললাম মিসিসিপির তীর ঘেঁষে। কয়েক মাইল অন্তর পর পর তিনটি পার্ক-- সব নদীর তীরে তীরে-- প্রথমটি #৫--Mines of Spain--এই নামটা কে বা কেন দিয়েছিল তা জানি না। এখানে অনেকগুলি রঙিন ঝরা পাতায় ঢাকা ট্রেল আছে আর আছে উঁচু উঁচু লাইম স্টোন টিলা যার ওপর চড়ে সারাপার্কে রঙের বন্যা দেখা যায়। দ্বিতীয় পার্কটিও খুব কাছেই --#৬-- Pike's Peak. এই নামে কলোরাডোয় বিখ্যাত রকি পাহাড়ের চূড়া ও জাতীয় পার্ক। একই জনের নামে এই ছোট্ট পার্কটিও। এখানে কিন্তু কোন পাহাড় নেই। এখান থেকে কয়েক মিনিট উত্তরে নদী ঘেঁষে #৭--Effigy Mound National Monument. এটা বেশ আকর্ষণপূর্ণ । এখানে ছোটোবড়ো মিলিয়ে প্রায় দুশো প্রাগৈতিহাসিক স্তূপ যা প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আমেরিকান- ইন্ডিয়ানদের দ্বারা তৈরি । কেউ সমাধিস্থ নেই। এগুলো শুধু প্রার্থনা বা অন্য সামাজিক কাজে ব্যবহার হতো। নদীর ওপাশে উইস্কন্সিন রাজ্যে এরকম আরও অনেক এফিজি মাউন্ড আছে। এতদূর নদী ধরে উত্তরে এসে আমরা এবার পশ্চিম মুখো হলাম। প্রায় আধ ঘণ্টা দূরে লাস্ট পার্ক #৮--Dunning Spring. এখানে নাকি একটা ছোট জলপ্রপাত আছে। কিন্তু এখানে এসে আমরা রাস্তা হারালাম। জিপিএস-ও জঙ্গলের মধ্যে কনেকশন হারাল। আমরা পাতার রং প্রচুর দেখলাম কিন্তু জলপ্রপাতটার দেখা পেলাম না। হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়িমুখো হলাম কারণ আকাশে মেঘ জমছিল। বড়ো পাতাওয়ালা গাছের ছায়া থেকে বেরিয়ে এবার পরিচিত খোলা শস্যের মাঠে এসে পড়লাম। দেখতে দেখতে বৃষ্টিও ঝাঁপিয়ে নামল। দুহাত দূরেও কিছুই দেখা যায় না, পথের পাশে রঙের শোভা তো দূরের কথা। তবু ভাগ্যি ভালো বৃষ্টিটা বাড়ি ফেরার পথেই হয়েছিলো। নইলে পার্ক আর রং দেখা একেবারেই পণ্ড হতো।

    বাড়ি ফিরে দেখি, আহা! আমার বাগানে সত্তর বছরের পুরনো গাছটা সোনার বর্ণ ধরেছে আর তার পাশেই আমার সদ্য পোঁতা বাচ্চা সুগার মেপল গাছটাও দুদিনেই টুকটুকে লাল হয়ে উঠেছে। যেন বলল, 'আমরাই বা কম কিসে? আমাদের ছেড়ে কোথায় গেছিলে পাতার রং দেখতে?'




    অলংকরণ (Artwork) : লেখক
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)