• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | গল্প
    Share
  • কালু মোল্লার কথা : প্রসূন দত্ত

    হাওড়া জেলার এই গ্রামটা বেশ বড়সড়। এখান থেকে বড় রাস্তা ধরে কলকাতা দূরে নয়। ওই রাস্তার ধারেই নটু ঘোষের খাবারের দোকান। দোলের দিন বিকেলে ও বানায় ঘিপুয়া আর দইবড়া। ভিড় করে লোকে কেনে। ভোটের সময় হিংসার আগুন জ্বললে কালু মোল্লার মাথা ঠান্ডা করে নটু ঘোষের লস্যি। অমাবস্যার রাতে কালু মোল্লা কালোয়াতি গান ধরলে বাড়ির বারান্দায় কাঁঠাল-মাখা মুড়ির জামবাটি নিয়ে এসরাজে ধুন তোলে রনু মিত্তির। কালুকে সবাই ভয় পায়। মসজিদ নয়, ওর দৌড় নবান্ন অবধি। কাছেই ভাঙ্গা চার্চটায় থাকে বছর দশেকের মেয়ে সোফিয়া। ও কিন্ত কালুকে ভয় পায় না। বরং শাঁকচুন্নি সেজে অন্ধকারে ওকে ভয় দেখায়। এ সুযোগ আসেও বারবার। লোড শেডিং কি ব্রেকডাউনে লাইট গেলে গ্রামে অন্ধকার নামে। কালু মানুষকে নয়, ভূতকে ভয় পায়।

    অসিতবাবু এই গ্রামের অবিসংবাদী নেতা। কালু তার ডান হাত। কালুর জোরেই অসিতবাবুর দবদবা বোল বোলাও। এমনিতে গ্রামটা শান্ত। হিন্দু মুসলমান তো আছেই কয়েক ঘর ক্রিশ্চানও আছে। পুজো ঈদ বড়দিন সবই হয়। গন্ডগোলটা হয় ভোটের সময়। আশে পাশের গ্রাম থেকে বিপক্ষের লোকেরা এসে গোলমাল করলে কালু তার দলবল নিয়ে ওদের ঠান্ডা করে। বোমা পাইপগান সবই চলে। পুলিশ কেস হলে অসিতবাবু সামলান।

    এই অসিতবাবুর দৌলতে নবান্নের কাছে কবজা করা জায়গায় কালুর খাবারের দোকান। বিরিয়ানি, কাবাব ফিস ফ্রাই সবই রাখে। কালু বছর কয়েক দুবাইতে রাঁধুনি ছিল। রাঁধে চমৎকার। দোকান চলে রমরমা। অফিস টাইমের দোকান। সকাল এগারোটায় খোলে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় বন্ধ। নবান্ন বাংলা সরকারের মহাকরণ। উচ্চপদস্থ অফিসারদের কালুর খাবার ভাল লাগে। প্যাক করিয়ে বাড়িও নিয়ে যান। আগে কালু নিজেই রান্না করত এখন রাঁধুনি আছে। তবে কোয়ালিটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন কখনো ওঠে নি।

    এই গ্রামেও কালুর বাঁধা খদ্দের আছে। অসিতবাবু, নটু ঘোষ, রনু মিত্তির আর চার্চের ফাদার। তবে কলকাতার দোকান থেকে খাবার আসে। গ্রামে কালুর দোকান নেই। কালুর একটা বিশেষ খদ্দের কলকাতার নিউটাউনে থাকে। অবিবাহিতা নাম আয়না বোস। পেশায় বৈজ্ঞানিক আর সম্পর্কে রনু মিত্তিরের শালি। সাতান্ন বছরের এই অবিবাহিতা মহিলার গানের গলা চমৎকার। শীর্ণকায় এই মহিলার পায়ের কাছে বসে লম্বা চওড়া বিয়াল্লিশ বছরের কালু খামাজ বা মালকোশ শোনে। কালু আয়না বোসকে দিদি ডাকে। ওর জন্য নিজের বাড়িতেই স্পেশাল বিরিয়ানি আর শামি কাবাব বানায়। দিদিও ওকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের টিপস্ দেয়। তবে কখনোই বিনাপয়সায় খাবার নেয় না।

    হঠাৎ একটা বিপত্তি এল আর সব কিছু আমফানের তুফানের মত এলোমেলো হয়ে গেল। নির্বাচনের সময়। ছুটপুট ধর্ষণ খুন খারাবি লেগেই আছে। এই গ্রামেই কালুর লোকজনের ওপর পাশের গ্রামের বিরোধীরা হামলা করেছে। দুটো লোকের মাথা ফাটিয়ে রগচটা কালু নটু ঘোষের লস্যি খেয়ে শান্ত হয়েছে। পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছিল। যথারীতি এফআইআর হয় নি। অসিতবাবু সামলেছেন। তবে নবান্নের সামনে সেদিন যে ঘটনাটা ঘটল তাতে অসিতবাবুও বেকায়দায় পড়ে ছিলেন। দুপুর দুটো নাগাদ আচমকা দুটো বোমা ফাটিয়ে লাঠি বন্দুক নিয়ে বিরোধী পক্ষ হামলা করে বসল। লাঠি চার্জ করে আর টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে পুলিশ অবস্থা আয়ত্তে আনলেও কালুর অবস্থা হল ঢিলে। তলোয়ার হাতে কালুর ছবি সব টিভি চ্যানেলে। আসলে হাতে তলোয়ার এলোপাথাড়ি ঘোরালেও কালু কাউকে আঘাত করে নি। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। অবশ্য পরের দিন। গ্রামের মানুষের সামনে হাতকড়া পরিয়ে তার ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। অসিতবাবুর প্রভাব কোনো কাজে আসে নি। বাংলা হিন্দি আর ইংরিজি চ্যানেলগুলোয় তলোয়ার হাতে কালুর উন্মত্ত ছবি আর তার ভিত্তিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা এই ভোটের সময় প্রশাসন মেনে নিতে পারে নি। ফলে আদালতের নির্দেশে কালুর সাজা সাতদিনের পুলিশ হেফাজত। মিডিয়াগুলোতে কালুর গডফাদার অসিতবাবুর নামও এসেছিল। তবে তিনি দুঁদে লোক। জানতেন কয়েকদিন পরেই মিডিয়ায় যথারীতি নতুন কোনো মুখরোচক খবর এলে কালুর ব্যাপারটা ঠান্ডা জিলিপি হয়ে যাবে। তাই ঝামেলা না বাড়িয়ে গণতন্ত্রে হিংসার স্থান নেই আর আইন তার নিজের পথে চলবে গোছের বিবৃতি দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করেছিলেন। অবশ্য তিনি জানতেন কালুকে ছাড়া তিনি অচল। তাই পুলিশের ওপর মহলে জানাশোনা কাজে লাগিয়ে এইটুকু নিশ্চিত করেছিলেন যে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কালুর ওপর যেন দুর্ব্যবহার না হয়। হয়ও নি।

    আয়না বোসের কলেজ সহপাঠী রাজ্যের হোম সেক্রেটারি। শোনা যায় কলেজে আর তার পরেও এদের রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল। সত্যি মিথ্যে যাই হোক আয়না বোসের অনুরোধ হোম সেক্রেটারি রেখেছিলেন। কালুর বিরুদ্ধে পুলিশ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তলোয়ার ঘুরিয়ে ভয় দেখানোর মামুলি চার্জ দিয়েছিল। তবে সেটা সত্যিও বটে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় কালু বলেছিল কপালে গুলি লেগে তার এক পরিচিত লোককে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে সে নিজেকে সামলাতে পারে নি। মাথায় রক্ত উঠেছিল। তাই উন্মাদের মত তলোয়ার ঘুরিয়ে ছিল। অশ্রাব্য গালিগালাজ করে ছিল। তবে কোনোরকম মারপিট করে নি। কালু যে দাঙ্গা করেছে পুলিশি তদন্তে তা প্রমাণিত হয় নি। হেফাজত শেষে তার বেল পেতে অসুবিধে হয় নি।

    গ্রামে ফিরে কালু যেন চুপসে যাওয়া বেলুন। যে লোকটার দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, তাকে কিনা পরতে হল পুলিশের হাতকড়া! তার ওপর টিভিতে সেই তলোয়ার হাতে ছবি। লজ্জা আর অপমানের জ্বালায় ম্যাদামারা কালু তো আয়না বোসের সামনে ঝরঝর করে কেঁদেই ফেলল। তার ওপর শুরু হল নতুন উপসর্গ। রাতে কালুর ঘুম আসে না। স্বপ্নে রোজই গুলি-খেয়ে-মরা লোকটাকে দেখে। সে নাকি নিহারি বা কোর্মা খেতে চায়। ভূতকে কালুর বড় ভয়। ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। ঘুমাতে পারে না। রনু মিত্তিরের কয়েক জন ডাক্তার বন্ধু আছে। তাদেরই একজন কালুকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন। তাতে বিশেষ যে কাজ হয়েছে তা নয়। ভূত এখনো ভয় দেখায়। মরার আগে ছিল ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। সে নাকি জোরালো আলো জ্বালিয়ে কালুর ঘুম ভাঙ্গিয়ে ভয় দেখায়।

    মাঝে মাঝে আয়নার পুরনো বন্ধু সালমা হোয়াটসঅ্যাপ করে আয়নাকে। মেয়েটা একটা নার্স। এখন ওমানের একটা হাসপাতালে কাজ করে। বছর দশেক আগে আয়নার সঙ্গে তার আলাপ হয় কেরালায়। আয়না গিয়েছিল রিসার্চের কাজে। সেখানে একই বাড়িতে ভাড়া থাকত দুজনেই। একতলাটা ভাড়া নিয়েছিল আয়না। আর দোতলায় চিলেকোঠার ঘরে থাকত সালমা। সালমার রান্নার হাত চমৎকার। আয়নাকে প্রায়ই মালয়ালি ফিস কারি খাওয়াত। আয়নাও তাকে খাওয়াত মাছের বাঙালি রান্না। অসুখবিসুখে সে আয়নার দেখাশোনা করত। কেরালা আসার আগে সালমা থাকত মুম্বাইতে। সেখানে তার বয়ফ্রেন্ড বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রেগন্যান্ট করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বাচ্চার জন্ম দিয়ে এক অনাথ আশ্রমে তাকে রেখে মুম্বাই ছেড়ে কেরালা চলে আসে। আয়না চলে আসার বছর কয়েক পরে সালমা চাকরি নিয়ে ওমান চলে যায়।

    সেদিন রাত প্রায় নটা নাগাদ সালমার হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজটা আয়নাকে হতচকিত করে দিয়েছিল। সে কলকাতায় এসেছে। কালুর তলোয়ার ঘোরানো ছবি ভাইরাল হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সেইটা ফরোয়ার্ড করে সালমা আয়নাকে জানিয়েছে যে এই লোকটাই তার নিরুদ্দেশ বয়ফ্রেন্ড।

    সেই দিনটা ছিল শনিবার। অমাবস্যা। প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ হল লোডশেডিং। গ্রামে অন্ধকার।‌ কালুর বাড়ির আশপাশে কয়েক জনের ইনভার্টার থাকলেও বেশিরভাগেরই সম্বল টিমটিমে হারিকেন। কালুর অবশ্য ইনভার্টার আছে। ঘরের মধ্যে আলো জ্বেলে দোতলার বারান্দায় তার আবছা আলোয় ঝিমোচ্ছিল কালু। আজকে দুপুরে দোকান থেকে ফিরে একটা ভাতঘুম দেবার চেষ্টা করেছিল। ঘুমটা জমে নি। গুলিতে মরা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ভূত এসেছিল স্বপ্নে। এবার তার অভিযোগ ছিল কালুই নাকি তলোয়ার চালিয়ে ওকে মেরেছে। নিহারি খেয়ে পয়সা দেয় নি বলে। তারপর ঘুম ভেঙে যায়। কালু নটু ঘোষের দোকানে গিয়ে চা সিঙাড়া খেয়ে পাওয়ার কাটের আগেই নিজের বাড়ি ফিরে আসে। কালু তার এই রোজকার উদ্ভট স্বপ্নের কথা আগে রনু মিত্তিরকে বলত। সে ভূতে বিশ্বাস করে না। হেসে উড়িয়ে দিত। তাই আজকাল নটু ঘোষকে বলে। গ্রামের মসজিদের মৌলবিকেও বলেছে। তাতে কালুর ঝামেলা আরও বেড়েছে কেননা ব্যাপারটা পাঁচ কান হয়েছে। অনেকেই অযাচিত উপদেশ দিয়েছে। এমনকি একজন আজমেরের দরগায় চাদর চড়াতেও পরামর্শ দিয়েছে।

    বারান্দায় ঝিমোতে ঝিমোতে কালু শুনেছিল মেয়েলি গলায় বিদঘুটে হাসির আওয়াজ। এই আওয়াজ আগেও শুনেছে কালু। কাঁপা হাতে টর্চ ফেলতেই দেখেছিল শাঁকচুন্নি। নাকি গলায় হাঁউমাউ করে ভেংচি কেটে ভয় দেখাচ্ছিল। আসলে সে দেখেছিল সোফিয়াকে। ফাদার চার্চে ছিলেন না। মেয়েটার ভয়ডর নেই। অন্ধকারে খোলা চুলে সাদা গাউন আর দাঁত বের করা মুখোশ পরে কালুকে ভয় দেখাতে এসেছিল। ফোনের স্পিকারে বাজিয়েছিল হাসির আওয়াজ। অন্ধকারে এই কাজটা সে আগেও করেছে। ভয় পেয়ে কালুকে দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতে দেখলে সে আনন্দ পায়।‌ কিন্তু এবার ঘটনাটা ঘটল অন্যরকম। চর্চটা কালুর হাত থেকে মাটিতে পড়তেই লোডশেডিং শেষ। বিদ্যুতের আলোয় সোফিয়া দেখল কালু বুকে হাত চেপে চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে। ভয় পেয়ে সোফিয়া শাঁকচুন্নির সাজগোজ হাতের থলিটায় ভরে দৌড়ে চার্চে এল। দেখল ফাদার তখনও আসেন নি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে তক্ষুনি রনু মিত্তিরকে ফোন করে সব জানাল। রনু মিত্তিরই নটু ঘোষ, অসিতবাবু আর চার্চের ফাদারকে ফোনে ঘটনাটা জানাল। নটু ঘোষ গ্রামেই ছিল। সে লোকজন জুটিয়ে কালুকে গ্রামের হাসপাতালে নিয়ে এল। কিন্তু তার আগেই কালু মারা গিয়েছিল। হঠাৎ হার্ট এ্যাটাক। ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেটে তাই লিখলেন। ফাদার ফিরে এসে সোফিয়াকে বকাঝকা করলেন। তার কান্না তো থামতেই চায় না। রাতে এল তার জ্বর আর সঙ্গে ভুল বকা। ফাদার রিস্ক নিলেন না। হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেন।

    পরের দিন গ্রামের গোরস্থানে কালুকে কবর দেওয়া হল। কালুর কোনো আত্মীয়স্বজনের কথা কেউই জানত না। কেউ থাকলেও তাদের কথা কালু বলে নি। তবে আয়না বোস সালমাকে নিয়ে এসেছিল। সালমা আসতে চায় নি। গোরস্থানে চার্চের ফাদারকে দেখে চমকে উঠেছিল সালমা। মুম্বাইতে অনাথ আশ্রমে এনার হাতেই সদ্যজাত মেয়েকে সে বুকে পাথর বেঁধে তুলে দিয়েছিল। সেই মেয়েই আজকের সোফিয়া। ফাদারের সঙ্গে হাসপাতালে এসে সোফিয়াকে দেখেছিল সালমা। জ্বর কমেছে। কিন্তু ঘুমোচ্ছে সে। এতদিনেও মেয়েকে ভুলতে পারে নি সালমা। প্রায় রোজই লুকিয়ে চোখের জল ফেলত সে। আজ হাসপাতালে সোফিয়াকে দেখে নিজেকে সংযত রেখেছিল ফাদারের অনুনয় মেনে।

    সালমা পরে আয়নাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছিল। হাসপাতালে নয়। রনু মিত্তিরের বাড়িতে। আয়নার চোখেও ছিল জলের ধারা। আয়নার বোন রনু মিত্তিরের বউ। দুই বোন মিলে কোনোরকমে সালমাকে শান্ত করল। চার্চের ফাদার এসে বললেন সোফিয়া নিশ্চিত সালমার মেয়ে। তবে আইনগতভাবে মাতৃত্ব প্রমাণ করতে হলে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। রনু মিত্তির সায় দিয়ে বলল ওর স্কুলের বন্ধু প্রফেসর চক্রবর্তী এব্যাপারে সাহায্য করবেন।

    ডিএনএ টেস্ট অবশ্য হয় নি। রাজি হন নি চার্চের ফাদার। সোফিয়া যে সালমার মেয়ে তিনি নিঃসন্দেহে জানতেন। তবে উনি আইনি পদ্ধতিতে সোফিয়াকে দত্তক নিয়েছিলেন। সোফিয়া জানত উনিই তার নিজের বাবা। মধ্যস্থতা করে আয়না সালমাকে বুঝিয়েছিল সোফিয়াকে ভুলে গিয়ে দূরে থাকতে। সালমা বুঝেছিল আসল জন্মদাতাদের পরিচয় জানলে সোফিয়া অনেক কষ্ট পাবে। তার ছোট জগৎটা এই মানসিক ধাক্কায় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। সালমা তাই আয়নার পরামর্শ মেনে নিয়েছিল।

    মাস কয়েক পরে অসিতবাবু লাখ খানেক টাকা গ্রামের মসজিদে দান করেছিলেন। টাকাটা দিয়েছিল আয়েশা। আব্বাসের বিধবা বউ। আব্বাস হল সেই ইলেক্ট্রসিয়ান যার আত্মা কালুকে ভয় দেখাত। সে ছিল কালুর বন্ধু। কালু তাকে দোকান লাগাতে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিল।



    অলংকরণ (Artwork) : রাহুল মজুমদার
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)