• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | ভ্রমণকাহিনি, প্রকৃতি, বাকিসব
    Share
  • বাঙালের নাম ভিয়েতনাম : সুনন্দন চক্রবর্তী


    ওয়ার্ডসওয়ার্থের কৃষকরমণী

    বন্যেরা বনে সুন্দর, বাঙালেরা উদ্বাস্তু কলোনিতে। ছেলেবেলায় আমাদের অন্ততঃ তাই ধারণা ছিল। আমরা যারা বিজয়গড়, আজাদগড়, সমাজগড়, নিস্বঃ কলোনিতে থাকতাম তাদের যাদবপুরের ওপারে গেলেই নিজেদের কেমন অসুন্দর লাগত। সবাই কেমন বই-এর ভাষায় কথা বলে, কেউ দড়িবাঁধা প্যান্ট পরে না, কেউ মাথায় সর্ষের তেল মাখে না, ওদিকের মেয়েরা কি যেন গন্ধ মাখে যা বসন্তমালতী-র থেকেও সুরভিত। মোটকথা উদ্বাস্তু কলোনির বাইরের কলকাতাকে আমাদের মোটেই অভয়ারণ্য মনে হত না। তাও সাড়ে চুয়াত্তর এ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মালপো প্রার্থনা স্মরণীয় করে তুলে এইটুকু প্রতিষ্ঠা করতে পারলেন যে বাঙালরা ভীতিপ্রদ নয়, হাস্যকর অদ্ভুত মাত্র। এবং কোন সুচিত্রা সেন আমাদের দিকে অপাঙ্গে তাকাবেন না জেনেও আমরা ঘটিকুলশ্রেষ্ঠ উত্তম কুমার কে বরণ করে নিলাম। বিজয়গড় কলেজের এক ছাত্র সেখানকার ডাকসাইটে ইংরেজির অধ্যাপককে বলেছিল, আপনি, স্যার, যা ইংরেজি পড়ান না, এক্কেরে উত্তমকুমার। তো আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম তখন সব দেশের মধ্যে উত্তমকুমার ভিয়েতনাম।

    সেই আরাধ্য দেশে যাওয়ার প্রস্তাব পেলাম একদল শখের আলোকচিত্রিদের কাছ থেকে। বেড়ানো গৌণ, ছবি তোলাই উদ্দেশ্য। এঁদের বেশিরভাগ ভারতের পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিকের বাসিন্দা। বঙ্গসন্তান আমরা দুজন, আমি আর আমার দীর্ঘদিনের সুহৃদ সৌমেন্দু। সে আবার আমার ক্যামেরাবাজির গুরুও বটে। ভিয়েতনাম যাওয়ার সব চেয়ে ভালো উড়ান কলকাতা থেকে। বিমানবন্দরে সব সহযাত্রীরা ঈর্ষা প্রকাশ করলেন আমাদের সৌভাগ্যে। সৌমেন্দু উত্তম রসগোল্লা খাইয়ে তাঁদের দুঃখ উপশম করলো।

    আরও পূবের দিকে তাই ভিয়েতনাম আমাদের সময় থেকে ঘন্টা দেড়েক এগিয়ে। আমরা হা নয় বিমানবন্দরে যখন নামলাম সেখানে তখন নিঝুমরাত। দুটি বাস আমাদের নিয়ে গেল একটা ছোট্ট হোটেলে। দু তিন ঘন্টা ঘুমের পরেই আমাদের দিতে হবে লম্বা পাড়ি, উত্তরে সা পা-র উদ্দেশ্যে।

    ভোরবেলা আমরা তেরোজন উঠলাম একটা নিচু ছাদওয়ালা মিনিবাস-এ। পরের সাতদিন আমরা একটা বড় সময় কাটাব এই বাসে নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করে আর আমাদের ভ্রমণ-আয়োজক ত্রা-ত্রন-ডুং ওরফে রকি-র কথা শুনে। রকি অস্ট্রেলিয়ায় অনেকদিন থেকেছে। ইংরেজি বলে ঝরঝরে। সে নিজেও দক্ষ আলোকচিত্রি। চমৎকার মানুষ। খুঁটিনাটির দিকে তার নজর। প্রথমেই সব্বাইকে দেওয়া হল একটা ছোট্ট জলের বোতল, কাঁচের। সারথি আর রকি-র মাঝখানে রয়েছে একটা বিশাল জলের ড্রাম। কাঁচের বোতলের জল ফুরিয়ে গেলেই রকি আবার সেখান থেকে ভরতি করে দিচ্ছে। প্লাস্টিক জঞ্জাল না বাড়ানোর এই পদ্ধতি আমাদের মনে ধরলো।

    পথ চলেছে সাঁইসাঁই করে উত্তরে। খুব ভিড় নেই। আমেরিকানরা তো শুনি টন টন বোমা ফেলেছিল। যুদ্ধের সব ক্ষতই তো দেখছি এরা বেমালুম সারিয়ে ফেলেছে। ছোটনাগপুর-এর মত খর্বাকৃতি পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে রাস্তা। তবে আরও সবুজ।

    আমাদের পাশের আসনে বসে আছেন মহারাষ্ট্র থেকে আসা এক টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষা। তাঁর নাম দুর্গেশনন্দিনী। বললেন ওঁর বাবা-র প্রিয় লেখক ছিলেন বঙ্কিম। অতীত গৌরবে আমরা দুই বঙ্গ সন্তান পুলকিত হলাম। আমাদের সামনের আসনে বসেছে সুরেশ ভিল্লা, বাড়ি তার গুজরাট। মুখে তার সবসময় অনাবিল হাসি। আর কাউকে সে গম্ভীর হতে দিচ্ছে না। আমরা দুজন বাদে সবাই প্রায় ঘোর নিরামিষাশী। তাঁরা বস্তা ভরতি করে এনেছেন নানা ভাজাভুজি, শুকনো খাবার এবং অকাতরে বিলোচ্ছেন। আমরা একটু কিন্তু কিন্তু করলে সামনের দিকে বসা মুম্বাই থেকে আসা ডাক্তার দম্পতি মিস্টার অ্যান্ড মিসেস বড়ে আশ্বাস দিচ্ছেন ওষুধও তাঁরা এনেছেন যথেষ্ট। এই প্রাথমিক আলাপ পরিচয় হতে হতেই বাস থামল রাস্তার পাশের এক সুবিশাল রেস্তোরাঁয়। নানা রকমের ফল, মিষ্টি রুটি, কফি ইত্যাদি দিয়ে প্রাতঃরাশ সারা হল। ওয়াশরুম, রকি যেমনটি আশ্বাস দিয়েছিল, পরিচ্ছন্ন।

    আধো ঘুমে পৌঁছে গেলাম সা পা। ছবি অভিযানের মুখড়া। ছিমছাম ছোট্ট পাহাড়ি শহর সা পা, অনেকটা সিমলা গোছের। তবে অত উঁচু নয়, অত ঠান্ডাও নেই। শহরের মাঝখানে একটা বড় লেক। আমাদের হোটেল লেকের কাছেই। একটু হেঁটে একটা মোড় ঘুরলেই একটা নিরিবিলি চার্চ। তার ছায়ায় বসে হাস্যময়ী মেয়েরা হস্তশিল্পের টুকিটাকি বিক্রি করছে। রাত্তিরবেলা আরও সুন্দরী সা পা। কিন্তু রকি আমাদের নিয়ে যেতে চায় পাহাড়ি গ্রামের গহিনে।


    আগুন উস্কোনোর যন্ত্র নিয়ে ভিয়েতনামী তরুণী

    আমাদের সভ্যতার একটা সংকট আমরা আধুনিক বস্তুসভ্যতার সুবিধাগুলো ছাড়া বাঁচতে পারি না কিন্তু উপকথার গ্রামজীবনের রোম্যান্স আমাদের টানে। শহুরে বাবুরা যখন নির্জনতার খোঁজে নগর ছেড়ে বেরোয় তাঁদের মনে মনে একটা আবদার থাকে গল্পে পড়া পল্লীজীবন চেখে দেখার। এখন তাই চল হয়েছে সেখানকার মানুষেরা খানিকটা সাজগোজ করে পুরনো চালচলনের অভিনয় করে দেখান। ওঁদের কিছু উপার্জন হয়, বাবুরাও প্রীত হন। উপরন্তু আরেক রকমের পর্যটনের এখন চল হয়েছে। কেউ একপাল শখের ফোটোগ্রাফারদের জড়ো করে একটা কোন প্রাচীন প্রথাবদ্ধ সমাজে উপস্থিত হয়ে তাঁদের নানা ভঙ্গিমার ছবি তোলে। আমরা কিছুটা সেই গোত্রে। তাই বিকেলবেলায় যে গ্রামটিতে গেলাম সেখানে মানুষজন তাঁদের প্রথামত পোষাক (যা তাঁরা দৈনন্দিন জীবনে সাধারণত ব্যাবহার করেন না) পরে তৈরি। বিশেষত দুই তরুণী যখন লম্বা লম্বা চোং-এ ফুঁ দিয়ে আগুন উস্কে ভুট্টা ছাড়াতে বসল শাটারের ঝড় উঠল। ছেলেবেলায় টাইপস্কুলের পরীক্ষার সময় এইরকম আওয়াজ হত। আমার ছেলে টাইপস্কুল কী জানে না। কোনদিন হয়তো অভিনেতারা তাকে টাইপস্কুলের রোম্যান্স পুনর্নিমাণ করে দেখাবে।


    ভিয়েতনামে গ্রামের মেয়েরা পুরোনো পোষাকে সেজেছে

    পরদিন ভোরবেলা আমরা রওয়ানা দিলাম ফ্যানসিপান পাহাড়ের দিকে। সম্ভবত ভিয়েতনাম-এর সর্বোচ্চ বিদু। কেবল কার এ পনেরো মিনিট আমাদের পৌঁছে দিল চূড়ার কাছাকছি। মেঘলা করে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমার বুদ্ধিমান সহযাত্রীরা প্রায় সবাই এখানে কফিটফি খেয়ে সময় কাটানো ঠিক করলেন। আমরা দুচার বাঙাল প্রায় শ দুই সিঁড়ি ভেঙে মাথায় উঠলাম। তলায় মেঘ আর কুয়াশার মধ্যে দিয়ে আবছা দেখা গেল এক সুবিশাল বুদ্ধমূর্তি। হোটেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে আমরা গেলাম ভুট্টাঘর বলে প্রসিদ্ধ এক গ্রামীণ বাড়িতে। একটা জীর্ণ ঢেঁকিঘর গোছের রয়েছে। একটা নড়বড়ে মই দিয়ে তার ওপরের ঘরটাতে উঠে দেখা গেল তার তিনটি দেওয়াল বোঝাই করা সারি সারি ভুট্টা। মেঝেতেও ইতস্ততঃ ভুট্টা ছড়িয়ে আছে। তার মধ্যে বড় উঁচু শেলাইকল চালাচ্ছেন এক উজ্জ্বল পোষাকের তরুণী। মেঝেতে তাঁর নিতান্ত শিশুপুত্র ভুট্টা নিয়ে খেলায় ব্যস্ত। বিকেলের আলো গোটা ঘরটাকে একটা সোনালি আলোয় মুড়ে রেখেছে। বুঝলাম কেন প্রথাগত পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা থেকে অন্য পথে রকি নিয়ে এসেছে আমাদের।

    ভুট্টাঘর

    সেইজন্যেই যখন রকি বলল পরের দিন আমাদের উঠতে হবে রাত থাকতে আপত্তি করলাম না। অন্ধকার থাকতেই বাস আমাদের নিয়ে এল এক পাহাড়ের পাদদেশে। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত বাইকবাহিনী। কারণ এবার যে সর্পিল, সরু রাস্তায় যেতে হবে বাস সেখানে অচল। কৃশ, খর্বাকৃতি এক কিশোরের দুবলা পাতলা বাইকের পিছনে সিন্দবাদের সেই বুড়োর মত আমি চেপে পড়লাম। মিনিট পনেরোর এক পড়িমরি যাত্রাশেষে আধো অন্ধকারের মধ্যে নিচে নেমে যাওয়া এক পথের দিকে তর্জনি নির্দেশ করে চালক বুঝিয়ে দিল কোথায় যেতে হবে।


    চক্রাকার চাষের ধাপ

    ভারী ক্যামেরা ব্যাগ আর ট্রাইপড হাতে নিয়ে দুরুদুরু বক্ষে সেই আলপথ ধরে দু পা নেমেছি কি নামিনি দেখি রাস্তার ওপর দিয়ে নদী বইছে। তারপর ঠাহর করে দেখলাম তা নয়। ক্ষেত থেকে ক্ষেতে প্রবল জলসেচন চলছে। দুগগা বলে জলটুকু পেরিয়ে গেলাম। আলো আঁধারির মধ্যে সবাই সরু সরু আলপথের মধ্যে সুবিধেমত জায়গায় ট্রাইপড লাগিয়ে ফেললাম। প্রথম আলোর ঠিক আগে আর পরে ছবি তুলতে গেলে – আপনারা তো জানেন – শাটার স্পিড এত কমে যায় যে ক্যামেরা স্থির রাখতে গেলে ট্রাইপড আবশ্যিক। তাজমহল দেখতে যেমন হাজার হাজার পর্যটক আসেন এই আলপথও তেমনি বহু দর্শনার্থীর পদধূলিধন্য। অপূর্ব গোলাকার কতগুলো ধাপ এই ছোট্ট উপত্যকাকে বিশ্ববন্দিত করে তুলেছে।


    ঝুড়ি বোনে যে

    সা পা-র পালা চুকিয়ে আমরা এবার হা নয়-এ ফিরে এলাম। যাকে হা নয়-এর ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার বলা হয় আমাদের হোটেল তার প্রান্তসীমায়। এখানেও আমাদের কপালে পর্যটকদের মানচিত্র অধরা। একবেলা অবশ্য রাখা হয়েছিল নিন বিন গুহাজালিকা দেখার জন্যে। কিন্তু সে নিতান্ত এক যুদ্ধবিরতি। প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে আদার-পাঁদার ঘুরে ছবি তোলা চলছেই। এভাবেই আমরা পৌঁছে গেলাম এক সয়া সস তৈরির কারখানায়, এক পাপিয়ামাশে মুখোশ প্রস্তুতকারকের বাড়িতে, এক কঞ্চি থেকে ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করার কারখানায়, এক বোধি পত্র তৈরির আস্তানায় এবং এক ধূপকাঠি তৈরির কারখানায়।

    ধূপকাঠি কারখানায়

    বোধি পত্র মানে বুদ্ধ যে গাছের তলায় সাধনা করেছিলেন তেমনি গাছের পাতা শুকিয়ে (আর খুব সম্ভবতঃ কোন রাসায়নিক প্রয়োগে) সেগুলোকে স্বচ্ছ করে ফেলে নানা রঙে রঞ্জিত করা হয়। পবিত্র স্মারক হিশেবে সেগুলো বেশ বিক্রি হয়। যাঁর বাড়িতে ঝুড়ি বোনা দেখলাম তিনি শুনলাম চাচা হো-র গেরিলা বাহিনীতে ছিলেন। রকি বলল বিভিন্ন উৎসবে মুখোশের চল কমে এসেছে। আমরা যাঁর ছবি তুললাম তিনি সম্ভবতঃ হা নয়-এর শেষ মুখোশ প্রস্তুতকারক।

    মুখোশের শিল্পী

    আমাদের ফেরার দিন এগিয়ে এলো। এইদিন ভোরে আমরা যাবো শাপলাজলার ছবি তুলতে। একটা বেশ লম্বা বাসযাত্রায় আমরা হা নয় থেকে বেশ খানিক দূরে এক জনপদের সামনে এসে দাঁড়ালাম। এক খুব প্রগলভ আর দুটি মিতবাক তরুণী বাসে উঠে এলো। রকি বলল আমাদের দুপুরের খাওয়াদাওয়া নৌকা ইত্যাদির ব্যবস্থাপক ঐ প্রগলভা। অন্য মেয়ে দুটি পেশাদার মডেল। তারা শাপলা বনে সেজেগুজে দাঁড়াবে আমাদের ছবি হবার জন্যে। বাস গিয়ে দাঁড়ালো এক খাঁড়ির মুখে। সেখান থেকে দাঁড় টানা নৌকায় অবশেষে আমরা পৌঁছলাম অপূর্ব এক শাপলা বনে। সে স্বতঃই সুন্দর। আমরা খোদার ওপর খোদকারি করে আবার প্রচুর ছবি তোলা হয়ে গেলে হোটেল অভিমুখে ফিরলাম।

    শাপলা বালিকা

    সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের ছুটি। আমি আর সৌমেন্দু ঠিক করলাম পায়ে হেঁটে একটু অঞ্চলটা ঘোরা যাক। এখানেও আমাদের হোটেলের পিছনেই এক মস্ত লেক। তার চারদিকের রাস্তা – রকি বলে দিয়েছিল – এখন কদিন পদাতিকদের জন্যেই উন্মুক্ত। সেখানে গিয়ে দেখি সবার দিব্যি ফুরফুরে ভাব। রাস্তার মাঝখানেই কোথাও বসেছে নাচগানের আসর, কোথাও পথনাটিকা চলছে, মাঝেমাঝেই অট্টহাস্যে ফেটে পড়ছে তার দর্শকেরা। রাস্তায় উল্কি করানোও চলছে আর রয়েছে হাজার খাবারের আর টুকিটাকি জিনিষপত্রের পসরা। বন্ধু পরিজনদের জন্যে এটাওটা কিনতে এক জায়গায় দাঁড়ালাম। মালকিন হাতের ইশারায় আমাদের অপেক্ষা করতে বলে ফোন করল। এক হাসিমুখ তরুণী হাজির হল। বোঝা গেল সে দোভাষী। দরদাম করে সামান্য কেনাকাটা সেরে আমরা ইতিউতি ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, দেখি ফুটপাথে সারি সারি খাবার ঠেলাগাড়ি। তাতে নানা কিসিমের মাছ মাংস শূল্যপক্ক হচ্ছে। রকমারি সসে মাখিয়ে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে খদ্দেরদের দিকে। দেখেই মুহ্যমান হয়ে সেই ফুটপাথেই বসে পড়ে খাবারের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করছি হঠাৎ কে দেখি এক পিছনের দোকান থেকে দুটো প্লাস্টিকের চেয়ার আমাদের জন্যে পেতে দিল। দেখি সেই সহাস্য দোভাষী। আমাদের শিক তৈরি হতে হতে আলাপ হল অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। বেশ কয়েকটা দোকানে সন্ধেবেলা দোভাষীর কাজ করে পড়ার খরচের খানিক মেটায়। আমাদের কিছু তত্ত্বতালাশ নিয়ে সে আমাদের কী খেতে হবে কী পান করতে হবে বিশদে বুঝিয়ে দিল। ফুটপাথের উল্টোদিকে যে পানশালাটি রয়েছে সেখানে পাওয়া যাবে সেই অমৃতসমান পানীয়। তারপর পানশালার দরজায় দাঁড়ানো যুবকটিকে দেখিয়ে আমায় বলল বেশ ভালো দেখতে কিনা? আমি হ্যাঁ বলাতে মেয়েটি জানাল একে দেখার জন্যেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে এখানে এসে দঁড়ায়। বললাম ওকে কি জানিয়েছো? না। তারপর আমরা কীভাবে ছেলেটিকে কাত করা যায় সে ব্যাপারে নানা সম্ভব-অসম্ভব প্যাচঁ-পয়জার আলোচনা করতে করতে চমৎকার আধঘন্টা কাটিয়ে দিলাম। আমাদের খাবারও তৈরি হয়ে গেল অন্য জায়গা থেকে দোভাষীর ডাকও এসে গেল। পরের বার হা নয় গেলে জানতে হবে কী হল।

    প্রতিচ্ছবি


    অলংকরণ (Artwork) : ছবিঃ লেখক
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)