• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | কবিতা
    Share
  • কবিতাগুচ্ছ : আজাদুর রহমান



    ফ্ল্যাশ ব্যাক

    লেন্সের চোখে তোমার মুখ
    ক্লোজ শটে মুহূর্ত কাঁপছে,
    ঠোঁটে ঝিরিঝিরি হাওয়া।
    নিরাক মাখা পথ,
    গুটিগুটি হাঁটছো,
    পাহাড়ে জমানো শীতের উল।
    ঘন কুয়াশার জট,
    সবুজ পাতার উপরে
    প্রজাপতি উড়ছে।
    হয়ত সেদিন বুধবার ছিল,
    নয় তো
    শিশিরভেজা শীতের সোমবার।
    কিছুতেই মনে পড়ছে না,
    পাতায় পাতায় স্মৃতির ফসিল,
    কান্না ভুলে যাচ্ছো তুমি।


    মানুষ কখনোই ভাল হবে না

    জীবন তোমাকে এমনিতেই
    ফুরিয়ে দেবে,
    তোমাকে কিছুই করতে হবে না,
    একদিন ঠিক থামিয়ে দেবে তোমাকে,

    আর একটা কথা, মানুষ কখনোই ভাল হবে না,
    হয় না।
    একপাশ থেকে ঠিক করতে করতে
    অন্যপাশে এসে দেখবে
    এ পাশের মানুষ ইতিমধ্যে খারাপ হয়ে গেছে।

    জীবন এরকমই
    একদিন তোমাকে ফুরিয়ে ফেলবে।
    মানুষ এরকমই
    এরা কখনোই ভালো হবে না।


    চাকু

    শান খেতে খেতে চাকু তার
    মালিককে জিজ্ঞাসা করে-
    আমাকে শান দিচ্ছ কেন!
    মালিক কিছু বলে না-
    সে শানাতেই থাকে।
    উত্তর না পেয়ে চাকু তখন
    মালিকের কথা ভাবে,
    খুনের কথা ভাবে।
    শান খেতে খেতে
    প্রশিক্ষণরত সৈনিক,
    কলম পেশা চাকুরে
    অধ্যায়নরত ছাত্র
    পোকা বাছা মাস্টার
    রাতজাগা পুলিশ
    সংগ্রামরত কর্মী
    হাত পাতা ভিক্ষুক
    অথবা অতলান্ত কৃষক
    - সকলেই তার মালিককে জিজ্ঞাসা করে
    কেন শানাচ্ছো আমাকে?
    মালিক শানাতেই থাকে
    কিছু বলে না!
    উত্তর না পেয়ে
    তারা মালিকের কথা ভাবে
    কাজের কথা ভাবে


    ঘুমিয়ে থাকি

    প্রচুর আবেগ নিয়ে কিছু চাইলে
    সে মানুষ মরে যায়--এই কথা ভেবে
    বাবার কবরে ঢুকে যাই,
    কোলের ভিতরে শুয়ে পড়ি, ঘুমিয়ে থাকি।

    হয়ত একদিন হাড় থেকে
    সাদা সাদা ফুলের গাছ হবে
    খুব সাদা সাদা ফুল
    যেন বালিতে ছুটতে থাকা
    ফর্সা ঘোড়ার দল।
    অন্ধকারের রোশনাইয়ের মত
    একদিন যেমন ফুটে ছিল
    জাপানের ধপধপে চেরি বাগান।

    ঘুমিয়ে থাকি, ঘুমিয়ে থাকি
    প্রচুর ইচ্ছে নিয়ে লাগানো গাছটা
    মরে যায়!

    ধ্যানবিন্দু

    পাহাড়ি নিরবতা এক নয়,
    পাখিদের কথাও থেমে থাকছে
    ফুলেদের
    গাছেদের
    স্টেশনে।
    আরও দূরে বুড়ো বট,
    গৌতমের স্তব্ধ গলা থেকে
    নুয়ে পড়েছে এক ফোঁটা
    ধ্যানবিন্দু।
    শুধু একটা চিঠির আশায়
    পৃথিবীর জানালাগুলো খুলে যাচ্ছে,
    যেন স্মৃতি বলে আর কোন শব্দ না থাকে।


    কাগজের চিঠি

    কলারে জমে যাওয়া ময়লার
    বেদনার মত, আমরা আর হাসি না।
    আমাদের গল্পগুলো
    দেয়ালে লেগে আছে,
    লেগে আছে অভিমান,
    ভালবেসে গড়াগড়ি
    স্মৃতির যাবতীয় রেলগাড়ি
    আরও যা যা
    গলা পর্যন্ত উঠে আসা
    ব্যর্থ অনুযোগ উষ্মাগুলো।

    কাগজের চিঠি কমে গেলে
    কতবার আমরা ফিরে যেতে চেয়ে,
    পারি নি।
    দেয়ালে দেয়ালে আটকে থাকা
    এত সব ভাঙা মন ফেলে শেষমেশ
    আমরা কোথাও যেতে পারি নি।


    হলুদ ফুল

    হলুদ কোন ফুলের কথা কি
    আপনার মনে পড়ে?
    সাদা নীল, ঘুম ঘুম ভাটবন!
    শিশিরের ভারে শীতার্ত নয়নতারা। অথবা
    সন্ধ্যামালতির মত ঘাসফুলের গভীরে
    বেগুনীর কথা বলে যে অধিক গোলাপী থাকে!
    মনে পড়ে!
    তপ্ত দুপুরে প্রজাপতিগুলো উড়ছে,
    বুক সমান ঝাঁউবনের ফাঁকে ফোকরে
    ঝিল মিল করছে ওদের বাহারি ডানা।
    একটা খলসে মাছ
    ঝিলিক দিয়ে পালিয়ে যায়
    জলের অরণ্যে,
    বুকের মধ্যে ছ্যাঁৎ করে ওঠে
    ওর ডোরাকাটা নীল মেরুন।
    মনে পড়ে!!
    একটু চেষ্টা করুন!
    দেখতে পাচ্ছেন কি ওদের!
    ছবি করতে পারছেন কি!
    হয়ত পারছেন !!
    হয়ত পারছেন না!
    না পারলে, বুঝবেন সেই চঞ্চল বালকটি
    অন্য কোথাও হারিয়ে গেছে,
    আর আপনার ভিতরে অন্য কেউ
    বসবাস করতে শুরু করেছে!



    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)