• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | কবিতা
    Share
  • গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা : গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল
    translated from Spanish to Bengali by স্বপন ভট্টাচার্য via English translations by Ursula K.Le Guin



    গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল নামে লিখতেন বটে কিন্তু তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল লুসিলা গোদোই আলকাইয়াগা। জন্মেছিলেন ৭ এপ্রিল ১৮৮৯-তে চিলে-র আন্দিজ পর্বতমালার এল্কি উপত্যকার এক ছোট শহর বিকুন্যিয়া’তে, যেটা চিলে-র রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে চারশো মাইল দূরে। বাস্ক এবং রেড ইন্ডিয়ান রক্ত এসে মিশেছিল তাঁর শরীরে পারিবারিক সূত্রে। লুসিলা-র বয়স যখন তিন তখন তাঁর বাবা পাকাপাকিভাবে পরিবার ত্যাগ করে চলে যান, কিন্তু বাবার সঙ্গে অচ্ছেদ্য আবেগসঞ্জাত সংযোগ ওই অল্প সান্নিধ্যের প্রভাবেই তৈরি হয়ে যায়। মানুষটা কবিতা লিখতেন, গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন। মিস্ত্রাল পরে বলেছেন বাবার কাছ থেকেই তিনি কবিতা পেয়েছেন,আর পেয়েছেন এক চিরভ্রামণিক মন। ‘চিলের গর্ভ’ বলে যিনি এখনও সে দেশে নন্দিত, সেই মিস্ত্রাল কিন্তু শিশুদের জন্য ছন্দলেখকের খোলসে আবদ্ধ ছিলেন অনেকদিন। সম্প্রতি তাঁর জার্নাল, তাঁর গোপন চিঠিপত্র ইত্যাদি সামনে আসার পর মিস্ত্রালকে এবং তাঁর কবিতাকে নতুন করে দেখার অবকাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম জীবনে শিক্ষিকা ছিলেন, পরে চিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে অনারারি কনসাল হিসেবে কাজ করেছেন এবং থেকেছেন স্পেন, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে একটা বাড়ি কিনেছিলেন নোবেল থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এবং সেখানেই মারা যান ১৯৫৭ তে প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সারে ভুগে। মিস্ত্রালের কবিতার মূল আধারই হল প্যাশন এবং আর্তি। গঠনে তা লিরিক্যাল এবং মিস্ত্রাল নিজেই বলেছেন সেই লিরিক হল লাতিন আমেরিকার কাব্যে অন্তর্লীন ‘লিরিসিজম অফ ফ্লেশ এন্ড ব্লাড’। তাঁর কবিতায় আর এক মুখ্য উপাদান হল প্রকৃতি। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান, মাটি,গাছ,জল, বাগান, খেত-খামার, খনি ও খনিজ - সবই অতি জীবন্ত হয়েও লাতিন আমেরিকান ম্যাজিকের চিহ্নগুলি ধারণ করেছে মিস্ত্রালের কবিতায়।

    শব্দ
    একটা শব্দ আমার গলায় আটকে রয়েছে
    এবং আমি সেটা বার করতে পারছি না, মুক্ত হতে পারছি না সেটা থেকে
    তার রক্ত যত জোরেই ধাক্কা দিয়ে যাক না কেন।
    যদি আমি এটা উগরে দিতে পারি কোনভাবে, ঘাস জ্বালিয়ে দেবে
    ভেড়াকে রক্তহীন করে ছাড়বে, পাখিকে ঝাঁপ আকাশ থেকে মাটিতে।

    আমাকে এটা জিভ থেকে ছেঁটে ফেলতেই হবে,
    একটা বীভার-এর গর্ত খুঁজে পাওয়া চাই
    অথবা এক টন চুনের তলায় সমাহিত করব,
    কেন না পাহারাহীন হলে, এর উড়ান হবে আত্মার মত।

    আমি যদিও আমার এই দশার কোন সংকেত রাখতে চাই না
    এটা আসে এবং যায় আমার রক্তধারায়,
    ওঠে এবং ডুবে যায় আমার পাগল নিশ্বাসের সাথে।
    আমার বাবা জোব হয়ত এটা উচ্চারণ করে থাকবেন, অগ্নুৎপাত
    আমি চাই না আমার করুন মুখকে এই স্বর দিতে
    এটা গড়িয়ে পড়তে পারে এবং কুড়িয়ে পেতে পারে সেসব মেয়েরা
    যারা নদীতে যায়, তাদের চুলে জড়িয়ে যেতে পারে,
    এবং করুণাঘন ঝোপঝাড়কে পোড়াতে এবং ধ্বস্ত করে দিতে পারে।

    আমি চাই ছড়িয়ে দিতে এমন নৃশংসতার বীজ
    যেটা একটি মাত্র রাতের পরিসরে সেটাকে কাবু করে মাড়িয়ে দেবে
    একটাও চূর্ণ-বিচূর্ণ সিলেব্‌লও ছাড় পাবে না।
    আমি এর থেকে সেই বিচ্ছিন্নতা চাই যেভাবে একটা অ্যাডার
    তার বিষদাঁতের আধখানা মুক্ত করে থাকে।

    এবং বাড়ি ফিরে, ভেতরে যাব আর ঘুমিয়ে পড়ব
    কেটে মুক্ত করব নিজেকে, বিচ্ছিন্ন ওটা থেকে-
    এবং জেগে উঠব দু’হাজার বছর পরে,
    নিদ্রায় আর বিস্মৃতিসঞ্জাত নতুন জন্মে,

    আর কোনদিন জানা হবে না যে আমার ঠোঁটে ছিল
    একটা শব্দ আয়োডিন আর অ্যালুমিনিয়ামের,
    স্মৃতিতেও আসবে না আর সেই দুর্ভাগা রাত:
    এক ভিন দেশে বাসাবাড়ি,
    অতর্কিত আক্রমণ, দরজায় ঠিকরে পড়া বাজ,
    আমার শরীর এখনও কাজ করছে কোন আত্মা ছাড়াই।

    Una palabra


    সম্পদ
    আমার রয়েছে একটা একরোখা খুশি
    এবং অন্য একটা খুশি হারিয়েছি যেটা,
    একটা গোলাপ হলে,
    আর একটি কাঁটা।
    যেটা চুরি হয়ে গেছে আমার থেকে
    এখনও সঙ্গে থেকে গেছে:
    আমার রয়েছে এক একরোখা খুশি
    এবং একটা খুশি হারিয়েছি যেটা,
    এবং আমি লালচে বেগুনির ধনে ধনী
    এবং নিঃসঙ্গতার।
    আহ্‌, কতটা আদরের ওই গোলাপ
    কতটা প্রিয় ওই কাঁটা!
    ডবল আউটলাইন যেমন হয়
    জোড়া ফলগুলোর
    আমারও রয়েছে এক একরোখা খুশি
    এবং একটা খুশি হারিয়েছি যেটা...

    Riqueza


    ভিনদেশী
    ফ্রান্সিস দে মিওমান্দ্রে-র জন্য

    “সে কথা বলে এক বর্বর সমুদ্রের গুনগুন স্বরে
    লবনাক্ত কে জানে কোন শ্যাওলা আর বালিতে,
    উপাসনা করে এক আকার এবং ওজনহীন ঈশ্বরের
    এবং এতটা পৌরাণিক, যেন মরতে বসেছে।
    আমাদের বাগানটা আজ আমাদেরই কাছে ভিনিদেশী মনে হয়
    ক্যাকটাস আর থাবা মেলা গুল্ম সে ফলিয়ে রেখেছে ।
    মরুভূমির নিশ্বাস মেখে বেড়ে উঠেছে সে,
    ভালবেসেছে যে উষ্ণ-শ্বেত কামনা দিয়ে
    তার কথা সে কখনও বলে না, কেননা যদি বলে
    তাহলে সেটা হবে অন্য আর এক তারার মানচিত্র।
    সে আমাদের মধ্যে থাকবে আশিটা বছর
    কিন্তু সব সময় মনে হবে সে বুঝি সদ্য পৌঁছেছে,
    হাঁপিয়ে পড়া গোঙানির জিভে কথা বলে
    এবং ছোট পশুরাই কেবল তা বুঝে উঠতে পারে:
    এবং আমাদের মধ্যেই মৃত্যু হবে তার
    কোন এক রাতে যখন তার যন্ত্রণা সীমাহীন
    বালিশ বলতে শুধু ভাগ্য সম্বল
    এক নীরব, ভিনদেশী মৃত্যু”

    La extranjera
    A Francis de Miomandre


  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)