• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৯৪ | এপ্রিল ২০২৪ | গল্প
    Share
  • তুলাইয়ের চরে : অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

    তুলাইয়ের চরের হাতিঘাসের বন দুলছিল। কান পাতলে একটা গোঁ-গোঁ আওয়াজ শোনা যায় নদীর বুক থেকে। বাথানওয়ালারা থাকলে নদীর সেই ভাষার হদিশ দিতে পারত এখন, সুদর্শন ভাবছিল।

         বন্ধুর বাড়ি হ'তে রে মন আইছি অনেকদিন গো আমি।
         যাব কবে মরি ভেবে দেহ হল হীন।
         বন্ধু যখন আসবে নিতে তার সনে ভাই যাব চলে
         থাকবে না আর এই মহলে সবাই বাসে ঘিন।।

    কত বছর আগে মুরশিদের থেকে পাওয়া গান। গুনগুন করতে করতে সে ভাবছিল নিজের কথা, লালমণির কথা, নিজেদের কথা। গত তিরিশ বছরে অন্তত পঁচিশটা জয়দেব একসঙ্গে সেরেছে তারা। মাস তিনেক আগেও বাথানওয়ালারা আসা যাওয়ার পথে ফকিরনি মায়ের কুঁড়ের উঠোনে বসে লাল চা আর ভিক্ষালব্ধ মুড়ি দু'গাল ফেলে তবে গরু-মহিষের ল্যাজে মোচড় দিত। অবশ্য ঘরে থাকলে তবেই। ও'বেলার অন্ন কোথা হতে আসবে জানা নেই, তবুও অতিথ-সেবা করতে পারলে এতই খুশি হত লালমণি। সুদর্শনেরও ভালই লাগে, কিন্তু সেসব জোগান কোথা থেকে হত আজও অজানা তার।

    তখনও নদীর ডগোমগো ভরা-যৌবন। পারের ঘাসবনে শুখার মরশুমের লালচে রং ধরেনি। বাথানওয়ালাদের গবাদি পশুর খোরাকি বাবদ খরচের অনেকটাই বেঁচে যেত তুলাইয়ের চরে এলে। এপার ওপার দুদিকেই ঘাস, ওপারে ঘাসবনের পরে বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গল, তারপরেই বর্ডার। কাঁটাতার, অন্যদেশ। অন্যদেশের নীল পাহাড়চূড়া। তবে শোনা কথা, সুদর্শন অতদূর যায়নি এখনও।

    বর্ডার আছে বলে জিপ, বন্দুক, সেপাই-সান্ত্রী। তারাও দু-দণ্ড দাঁড়িয়ে যেত বৈকি ফকিরনি মায়ের ডেরায়। চা-পাতার বেশির ভাগটাই তাদের জোগান বলে মনে হয়। কুঁড়ের সামনের ভূঁয়ের চুলায় চা ফুটত। শীতের সকালে সেই উনোন ঘিরে আতিক, মনোহর, শ্যামসুন্দর...জলপাইরঙের পোশাকে...দৃশ্যটা চক্ষু বুজলেই দেখতে পায় সে।

    কুঁড়েঘর বললে কুঁড়েঘরকেই হ্যাটা করা আসলে। শুকনো গাছের ডালে তুলাইয়ের গর্ভের কাদামাটির থেপলা দিয়ে দেওয়াল। বাঁখারির মাচায় কালো প্লাস্টিক পেতে ছাউনির ব্যবস্থা।

    কিন্তু লালমণি এখন সেই উঠোনেরই একটি কোণে মাটির গোরে বিশ্রামরত। তিনদিনের ঘুসঘুসে জ্বর, মাথা দুহাতে ধরে কোনোক্রমে বসে বলে, চালে ডালে দুটো ফুটিয়ে নেন গো ফকির, আর ধপ করে শুয়ে পড়ে। জ্বরের তাড়সে খেয়ালই নাই যে ঘরে একদানা চাল নাই। মাধুকরীতে না গেলে ফকির-ফকিরনি খায় কী!

    ভাগ্যে বিকালে বাথানওয়ালা শুকদেব এসে হাজির। তার কোঁচড়ের মুড়ি চেয়ে-চিন্তে নিয়ে সুদর্শন সসঙ্কোচে একগাল দিল ফকিরনিকে। সেই তার শেষ খাওয়া। সুজ্জিঠাকুর পাটে বসার পরেই ফকিরনি অজানার পথে পাড়ি দিল। একাই। শুকদেবের সাথে তার আর-জন্মের টান ছিল মনে হয়, পরের দিন সকাল না-হতেই শুকদেবের লোকজনও হাজির। সবাই মিলে গোরে মাটি দিল ফকিরনির। তাদেরই উঠোনের প্রান্তে হিজল গাছটির তলায়।

    কদিন আগেই ফকিরনির একমাত্র সম্বল পোঁটলাটির বিলি-ব্যবস্থা করে এসেছে। তার শেষ ইচ্ছে রাখতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছে সুদর্শন। সবটা যে পেরেছে হয়েছে তা নয়। কদিন আগে বেরিয়ে পড়লেই হত। তা হোক, এখন আবার পথ মাপলেই হয়। তুলাইয়ের চরের বসত আপাতত উঠল। একবার লালমণির গোরটা দেখে নেয় সে, ভেবেছিল একটা গাছ পুঁতে দেবে জায়গামত, কিন্তু হিজলের ছায়ায় গাছ হবেই বা কী করে!

    আর তুলাইতে বর্ষাকালে যা ভাঙন হয়...কে জানে আগামী বর্ষাতেই তাদের পাঁচ-সাত বছরের বসবাসের কোন চিহ্ন তুলাইয়ের চরে পড়ে থাকবে কি না।

    আগে জানলে শিবনাথ লোকটাকে তার মালিকের ঘরে ঢুকতেই দিত না। এরকম হেঁজিপেঁজি লোকের সাথে ঝিনাইপোতার নাম-করা কারবারি হরেকৃষ্ণ সাহুর দেখা করার কথাও না। চালের আড়ত, তেজারতি ব্যবসা, এপার-ওপারের চালানের কমিশন...সব মিলিয়ে একটা মান্যমান লোক এই দিকের গাঁ-গঞ্জে।

    ঘরে ঢুকে মিনমিন করে কী বলেছিল শিবনাথ শোনে নি। বাইরে ছিল। শুনলো, যখন তার মালিক বাঘের মত গর্জন করে উঠলো, কী, আমার সঙ্গে ইয়ার্কি! দৌড়ে এল শিবনাথ। ততক্ষণে রাগের বশে হরেকৃষ্ণ টুঁটি চিপে ধরেছিল বুড়ো মানুষটার। তারপর শিবনাথকে দেখে সামলে নিল।

    দেয়ালে একজোড়া মালা দেওয়া ছবি দেখিয়ে বলল, ভাল করে দেখে রাখ। পিতা ঈশ্বর মড়িরাম সাহু, তস্য পিতামহ ধনিরাম সাহু। তিন পুরুষের ব্যবসা আমাদের। ফের যদি উল্টোসিধে গাইতে দেখেছি তো উল্টো করে ঝুলিয়ে জলবিছুটি দেওয়াব। ভিকিরির বাচ্চা কোথাকার! বেরো এখান থেকে।

    ফকির হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। সত্যিই তার জীবিকা ভিক্ষে হলেও তাকে এমনতরো সম্বোধন এদানি কেউই করে না আজ কত বচ্ছর। তার ভিক্ষায় কোনো অশ্রদ্ধা নেই, বাথানের মানুষজন, আশেপাশের পাঁচটা গাঁয়ের লোক তাদের ফকিরবাবা, মা বলে জানে...তার চোখে জলই এসে পড়েছিল। যাই হোক, তার কাজ হয়েছে, এবার বেরিয়ে পড়লেই হয়। ও হ্যাঁ, একবার লালমণিকেও জানিয়ে দিতে হবে শুধু।

    সন্ধেবেলা আড়তে তালা দিতে এসে শিবনাথ একটা ময়লা গামছার পুঁটলি পেল। সকালের ভিখিরিমার্কা লোকটা যে বেঞ্চিতে বসে ছিল, সেখানেই মেঝেতে পড়ে ছিল। অনেকদিনের বিশ্বস্ত লোক, হরেকৃষ্ণ-গিন্নি ভামিনীর হাতে আড়তের চাবির সঙ্গে সেইটে তুলে দিল। এদিকে হরেকৃষ্ণ মামলার তদ্বির করতে সেদিনই সদরে চলে গিয়েছে। সবাই হরেকৃষ্ণকে বাঘের মত ভয় পায়, না জিজ্ঞেস করে পুঁটুলি খোলার দুঃসাহস কারো নেই।

    পরের দিন সন্ধ্যায় সদর থেকে তেতে-পুড়ে ফিরে ইঁদারার ঘড়া ঘড়া জল ঢেলে চান করল হরেকৃষ্ণ। ভামিনী বার বার বলছিল, ওগো, এই অবেলায় নেয়ো না, সান্নিপাতিক হবে। হরেকৃষ্ণ কানে তুলছিল না। আসলে একটা স্মৃতি তাকে উন্মনা করে দিচ্ছিল বার বার। কুয়োতলায় রোদে একটি শিশুকে কে যেন তেল-হলুদ মাখিয়ে দিতে দিতে গান করছে। কবেকার আবছা ছবি, কিন্তু টেনে রেখেছে।

    চানের শেষে ঘরে উঠে দেওয়ালে উনকোটি ঠাকুরদেবতার ক্যালেন্ডার ছবিতে, পিতৃ-পিতামহের ছবিতে, মায়ের ছবিতে প্রণাম ঠুকে আধশোওয়া হয়ে যখন সে সবে ভামিনীর এনে দেওয়া একবাটি গরম দুধে চুমুক দিয়েছে তখন তার ছোট ছেলেটা একটা কী জিনিষ বাড়িয়ে ধরে বলে, বল দেখি, এইঠি কী? সে তড়াক করে উঠে বসে, হাতে নিয়ে দেখে একটা কাজললতা, মনে হয় রুপোর, কিন্তু কালো হয়ে গিয়েছে। তার পাতার মত এক পাশে "গুল্লু" লেখা আছে, পড়া যায়।

    --কোনঠিরে পেলি?

    তার মুখ-চোখ দেখে ভামিনী ভয় পেল, পুঁটুলির মুখ খুলে রুপোর জিনিষটা দেখেই সে তাড়াতাড়ি আবার গিঁট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। যে কাজ করতে সে নিজে সাহস করেনি, হতচ্ছাড়া ছেলে সে কাজ সেরে রেখেছ। খাবি এবার ঠ্যাঙানি!

    আশ্চর্য, সেসবের কিছুই হল না। সব বৃত্তান্ত শুনে অদ্ভুত মুখের ভাব হল হরেকৃষ্ণর। ভামিনী তাকে পুঁটুলিটা এনে দিলে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল সবার মুখের উপর।

    সারা রাত গুম মেরে থাকল। এ নিশ্চয়ই সেই ভিখিরিটার কাজ। কোথথিকা জ্যান আসছিল! ওলাগুড়ি? তুলাইয়ের চরের বাথান?

    সকাল থেকে বৃষ্টি বাদলা। তার মধ্যেই রাধাকান্ত পুরুতকে ডাকিয়ে আনিয়ে কী ফুসমন্তর নিল ভগবানই জানেন, শিবনাথকে ডেকে বলল, তোর ভটভটিতে মোক ওলাগুড়িত্ ছাড়ি দে, একবার ঘুরে আসি। ভামিনীর কান্নাকাটিতে কাজ হল না। ওলাগুড়ি পৌঁছে দেখে শহরে রিক্সায় মাইক নিয়ে ঘোষণা হচ্ছে, সাঙ্ঘাতিক ঝড় আসছে নাকি, সঙ্গে বন্যার সম্ভাবনা, সবাইকে সাবধান থাকতে বলছে সরকারি অফিসাররা। বর্ডারের কাছে তুলাইয়ের উপর বাঁধে চিড় দেখা গেছে।

    আগের সীজনের বন্যায় এই হিজল গাছই তিনদিন আশ্রয় দিয়েছিল ফকির-ফকিরনিকে। সেবার আর্মির চপার তুলাইয়ের জলেও অনেক খাবারের প্যাকেট ফেলেছিল। শহরে তো বটেই। তা ছাড়া বন্যাত্রাণের পলিথিন শীট দিয়ে তাদের ঘরের ছাউনির ব্যবস্থা হয়েছিল দিব্য।

    কিন্তু এবার ফকিরের মন বলছে, অনেক হল, রমতা সাধুর মত বেরিয়ে পড়াই কর্তব্য। জঙ্গলটা পেরলেই পাহাড়ি বর্ডার, তা সাধুর আবার দেশ থাকে নাকি! হ্যাঁ, জঙ্গলে হুড়ার আছে, বাঘ তো আছেই, হাতিও। কিন্তু দিনমানে পেরিয়ে গেলে কি একান্তই বিপদ এড়ানো যাবে না? তা ছাড়া এই শরীরটা কি এতই জরুরী।

    এখানে আসার আগে ছিল তারা ছিল অজয়ের পাড়ে, জিলা বীরভুঁই... সে এক মশা-ম্যালোয়ারির আড়ত। তবু ভালই ছিল, বালির লরীর লোকজন এসে বিরক্ত করার আগে পর্যন্ত।

    তখন ফকিরনিই এই জায়গার নাম করলে। সাধাসিধে মানুষজন, ছোট গঞ্জ-শহর। এখন সে-ই নেই, নোঙর তুলতে আর কতক্ষণ।

    কেবল একটাই পিছুটান থেকে যায়, যদি সে আসে? যদি সে এসে বলে, কটাদিন আগে খবর দিলে না ফকির, যদি একবার নিজের চোখে অন্তত...গোরটা দেখতে চায়...এই হিজলগাছ ছাড়া তো আর নিশানা নেই। সাত-পাঁচ ভেবে তার আর বেরিয়ে পড়া হয়নি।

    শহর থেকে সাবধান করে গেছে। চর ছেড়ে যেতে বলেছে। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। গেলবারেও তুলাই চর ভাসিয়ে নিয়েছিল রাত্রিবেলায়। উপায়-অন্তর না দেখে সে গিয়ে সেই হিজলেরই একটা উঁচু ডালে গিয়ে বসলো, একমাত্র গামছাটি দিয়ে নিজেকে ডালের সঙ্গে বেঁধে নিল। তারপর অপেক্ষা। যে আগে আসে তার।

    সেই রাতে নয়, পরের দিন সাত সকালে জল এল। প্রথমে তুলাইয়ের দুই চরে ধাক্কা খেতে খেতে শাদা ফেনার মুকুট মাথায় দিয়ে নাচতে দিতে লাগল। তারপর জল বাড়তে বাড়তে হিজলের গোড়া ছুঁল। তারপর মোটা গুঁড়ির মাঝবরাবর জলধারা উন্মত্তের মত পাক খেতে লাগল।

    কাঠকুটো ভেসে আসতে লাগল। নিশ্চয়ই কোথাও পাড়ে ভাঙন ধরেছে। কোন বাথানওয়ালার সর্বনাশ করে কটা গরু-মহিষ। অবলা জন্তুগুলির আর্তরব আর জলের শব্দ ছাড়া কিচ্ছুটি নেই আর চরাচরে।

    কিন্তু দিগন্তে কালো ফুটকির মত ওটা কি? কে?

    ওলাগুড়ির দিক থেকেই আসছে। আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে বিন্দুটা, মানুষের অবয়ব নিচ্ছে। রিলিফ পার্টির কেউ। প্রায় আঠারো ঘন্টার উপর হয়ে গেল কিছু পেটে পড়েনি। ফকিরের পেটে মোচড় দিল একবার। হে উপরোলা...

    তারপর দেখল একটি লোক এসে তুলাইয়ের প্রসারিত সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে। এত দূরে, ভাল ঠাহর হয় না, তবু তার যেন গায়ে কোরা ধুতি-চাদর মনে হয়। ফকিরের অবসন্ন গলার চিৎকার আওয়াজ অতদুর পৌঁছয় না। গামছাটা খুলে নাড়াতে থাকে ফকির। গাছের ডাল বর্ষণে পিছল, বেশি জোরে নড়াচড়া করা বিপদের। ইস্, একটা লাঠি যদি সঙ্গে থাকত।

    ওলাগুড়ি বাজারে তাকে ছেড়ে শিবনাথ ফিরে গেল। তাকে এক রকম জোর করেই ফেরত পাঠাল হরেকৃষ্ণ। এখন আর লোকবল দিয়ে কী হবে। একলা গিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া আর কী করার আছে। বাপ-ঠাকুরদার ওপর একটা জান্তব রাগ পোড়াচ্ছিল তাকে, আর সেই চিতায় চন্দনকাঠের মত জ্বলছিল শোক। ফকির যদি কটা দিন আগেও আসত।

    ছোটবেলায় এই তুলাইয়ের চরে বন্ধুদের সঙ্গে ফিস্টি করতে এসেছে অনেকবার। কিন্তু সেই শীতকালের চরকে এখন এই খ্যাপা নদীর বেশে আর চেনা যায় না। এখানে ফকিরকে কোথায় খুঁজে পাবে সে।

    একটা হিজল গাছ দেখা যায় বটে। কিন্তু চারধারে তার নদীর খ্যাপামি চলছে। কোমর-সমান জলে নামা যায় বটে, কিন্তু ওই স্রোতে কি দাঁড়ানো যাবে! তাছাড়া বড় ভুল হয়ে গেছে, অশৌচের পোশাকের গেঁজেতে কম্বলের আসনের মধ্যে চিঠিটাও নিয়ে এসেছিল। চিঠির বয়ান অবশ্য মুখস্থ হয়ে গেছে এতক্ষণে।

    "স্নেহের বাবা গুল্লু,

    তুমি বাটিস্থ গুরুজনদের নিকট কি জানি কী শুনিয়া থাকিবে। আমি কিন্তু মরি নাই, তোমারে ফেলিয়াও আসি নাই। ভাগ্যদোষে আমার স্বামীর ঘর করা হয় নাই।

    আমি গরিবের মেয়ে। তাই বলিয়া উহারা আমার পিতাকে শেষ দেখা দেখিতেও যাইতে দিবে না, অভিমানে ঘর ছাড়িলাম। তোমারেও সঙ্গে লইতাম, কিন্তু তাহা উহারা হইতে দিল কই!

    যাহা হউক, তাহাতে হয়ত সবারই ভাল হইয়াছে। তবে পারিলে একবার আসিও, কতদিন আর বাঁচিব জানি না, তোমাকে দেখিয়া নিশ্চিন্তে মরিব। না পারিলেও ক্ষতি নাই। ভাল থাকিও।

    ইতি,
    তোমার হতভাগিনী মা
    রাসমণি দাসী"

    ফকির কিছুতেই বুঝতে পারছিল না, মানুষটা যখন বিশক্রোশ পথ উজিয়ে আসতে পারে টানে পড়ে, এই শেষ পথটুকুর জন্য তার এত দোনোমোনো কেন! হাতের গামছাটা সে প্রাণপণে নেড়ে যেতে থাকে।



    অলংকরণ (Artwork) : অনন্যা দাশ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)