• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০১ | জানুয়ারি ২০২৬ | গল্প
    Share
  • শ্বেতবরণী : অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

    পুনঃ কাজ হারিয়ে রবীন্দ্র মালাকার ঠিক করল, আর না; অনেক হয়েছে, এবার সে পুরাতন কর্মস্থল চটকলেই ফিরে যাবে। কিন্তু সেখানে দ্বিতীয়তঃ প্রবেশ করতে গেলে কাকে ধরতে হবে, সে বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান না থাকায় সে গঙ্গার ধারে বসতে আরম্ভ করল। এখানে একটি ঘাট আছে। যেখানে পাট-শ্রমিকেরা মিল থেকে বেরিয়ে হাত-মুখ ধোয়, ঘষে ঘষে পায়ের প্লাসটিক জুতো পরিষ্কার করে। এখানে বসলে পুরানো, চেনাজানা কিছু শ্রমিকের সঙ্গে দেখা হবে; যারা তাকে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নাহোক, অস্থায়ী লেবার হিসেবে ঢুকিয়ে দিতে পারে। পাটকলে কাজ করতে রবীন্দ্রর খুব ভালো লাগে।

    বছর তিনেক আগে পাটকলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার খুলেছে মাস ছয় হল। নতুন করে পুরাতন কলের খোলার খবর রবীন্দ্র আগেই পেয়েছিল। কিন্তু সে আর কাজের জন্য ফেরত আসেনি কারণ সে ততদিনে একটি বিস্কুট কারখানায় কাজ করছে। বউ মরে গেছে, বড় ছেলে বউ নিয়ে আলাদা, থাকেও অন্যত্র। রবীন্দ্রর একা পেট, একলা ঘর; বিস্কুট কোম্পানি তাকে যা দিত তার বেশ চলে যেত। ফলে, পাটকল নতুন করে খুললেও সে আর ফিরতে মনস্থ করেনি। কিন্তু এখন তার চাকরি নেই। বিস্কুট কোম্পানি কিছু কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করলে রবীন্দ্রর চাকরি গেল।

    চাকরি গেলেও রবীন্দ্র ভাবিত ছিল না। এই বাজারে যার কোনো পিছুটান নেই, তার অসুবিধে নেই। এটা-সেটা কাজ করে ঠিকই চলে যাবে। কিন্তু রবীন্দ্র আবার সেই পুরাতন কারখানায় ফিরতে চাইছিল, সেই জুটমিলে, যেখানে সে সারাজীবন কাজ করে এসেছে।

    নদীর ধারে বসে থাকতে থাকতে তার আলাপ হয় এক মাঝির সঙ্গে। মাঝিটিকে বেশ লাগে তার। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে। অনেক দেশ-গাঁ-নদীর পর নদী ঘোরা আছে তার। তবে মাঝির সমস্যা একটাই। হাতে-পায়ে হাজা। সঙ্গে বিচিতে চুলকুনি। রবীন্দ্র বলে, ও নিয়ে ভেবুনি। আমি মলম এনে দেব, লাগাবে; ভালো হয়ে যাবে।

    মাঝি অবাক হয়ে বলে, তুমি পাবে কোথায়? পয়সা লাগবে তো!

    না, লাগবে না। মাথা নেড়ে রবীন্দ্র বলে। বলে, এক ডাক্তারের সঙ্গে আমার চেনাজানা আছে। সে হল চুলকুনির ডাক্তার। সে অনেক অষুধ স্যাম্পেল পায়। আমাকে দেয় মাঝে মাঝে। আমি তোমার জন্যে তার থেকে চেয়ে নেয়ে আসব।

    মাঝি বলল, তাই এনো। তবে বেশি দেরি কোরো না।

    না না, টাইমলি আসব। আবার এই ঘাটে তোমায় কবে পাব?

    আমি প্রায়ই আসি।

    বেশ। আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরব-ফিরব। দেখা হলেই তোমাকে দিয়ে দেব।

    কদিন পরে রবীন্দ্র তার কথামত এক বিকেলে মলম পকেটে নিয়ে হাজির হল গঙ্গার ঘাটে। চেনাজানা অনেকের সাথে দেখা হল। তারা সবাই চটকলের শ্রমিক। তারা বলে, এখন আর চটকলের সেইদিন নেই। এখন মালিক নিজে আর লোক নেয় না, কনটাকটরের মাধ্যমে নেয়। চটকলে কাজের আশা তুমি ভুলে যাও রবিন।

    তবুও রবীন্দ্র আসে। মাঝির মলম নিয়ে বসে থাকে। কাজের আশায় জুটমিলের শ্রমিকদের দেখে। আর এমনি করে অপেক্ষা করতে করতে তার দেখা হয়ে গেল একটি মেয়ের সঙ্গে। রবীন্দ্রর চোখে সুর্মা, কানে গোঁজা বিড়ি, মাথায় কাউবউ টুপি; পরনে মেরুন রঙের কডের প্যান্ট, লাল-নীল চেক জামা; মুখে গুটকা, ঠোঁট সব সময় রসস্থ; তাকে এমনি দেখে মেয়েটি যেন ফেঁসে গেল। মেয়েটি বলল, তুমি আমাকে রাখবে?

    মেয়েটির নাম শ্বেতবরণী দাস। বয়স তিরিশ। তাকে দেখেই মজে গেল রবীন্দ্র। আহা, ঢলঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণিটি বড় চমৎকার। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। মুখখানা ভারি সুন্দর। সিমপাতা রঙের একটা চুড়িদার পরনে। রবীন্দ্র রাজি হয়ে গেল। বলল, আমার একটিই ঘর, থাকতে পারবে?

    শ্বেতবরণী ঘাড় হেলায়। পারব।

    আমার মাটির ঘর, টালির চাল। তবে বড় উঠোন আছে। সেখানে নানা গাছপালা লাগাতে পারবে। আমার বউ লাগাত। লাউ, পালম, পুঁই।

    শ্বেতবরণী বলে, আমিও লাগাব।

    রবীন্দ্র বলে, বদলে তুমি কী চাও?

    শ্বেতবরণী বলে, আমার দুটি সন্তান। একজন সেভেনে অন্যজন ক্লাস থ্রিতে পড়ে। সরকারি ইস্কুলে। কিন্তু তা হলেও কিছু খরচা থাকে। ওরা মামাবাড়িতে থাকে। কিন্তু খরচা আমাকে দিতে হয়।

    রবীন্দ্র গদ্গদ হয়ে বলে, অসুবিধে নেই। ওদের খরচা আমার।

    শ্বেতবরণীকে নিয়ে রবীন্দ্র বেশ ছিল। ম্যাদামারা জীবনে একটা স্বাদ ফিরল। রবীন্দ্রর এখন পঞ্চান্ন, শ্বেতবরণী তিরিশ—তাতে কী? দিব্যি সব ঠিকঠাক চলে যাচ্ছিল। কিন্তু বাধ সাধল বড় ছেলে। মাস তিনেক পরে একদিন ঘরে এসে রবীন্দ্রকে সে বেধড়ক মারল। সে বেশ্যামাগীকে ঘরে নিয়ে রাখে। ঘরের বদনাম হচ্ছে। লোকে নানা অকথা কুকথা বলে বেড়ায়। হাসাহাসি করে। মার খেয়ে রবীন্দ্রর ঠোঁট ফেটে যায়, বাহারি জামা ছিঁড়ে যায়। সে বলে, একটা কথা শুনে রাখ বড়খোকা, এই বাড়ি এখনও আমার নামে। তুই খচড়ামো করলে এই বেশ্যার নামে আমি বাড়ি লিখে দিয়ে যাব, তুই কিছু করতে পারবি না।

    ছেলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা দিয়ে দেয়। বলে, পাড়ার লোক আমার পক্ষে।

    রবীন্দ্র হতবাক হয়ে যায়। ছেলের রুদ্রমূর্তির সামনে সে দাঁড়াতে পারে না। ঘর ছেড়ে সে এসে দাঁড়ায় নদীর ধারে। দেখে ঘাটের নিকটে এক নৌকা বাঁধা আছে। সে পায়ে পায়ে গিয়ে দেখে সেই মাঝিই। এতদিন পরে!

    মাঝি তাকে দেখে বলে, মলম কই আমার?

    পড়ে গেছে।

    পড়ল কী করে?

    পকেট ছিঁড়ে।

    ছিঁড়ল কে?

    বড় ছেলে।

    আর ছোট ছেলে?

    সে তো কবেই মারা গেছে এক্সিডেন্টে।

    তবে তো তুমি এক দুঃখী মানুষ। তা আসো দিকিনি নৌকার ভেতর।

    রবীন্দ্র নৌকায় উঠে পড়ে। ছিয়ের ভেতর একটা লন্ঠন জ্বলছে। মাঝি তরকারি কুটছে। আলু আর বেগুন। ওদিকে স্টোভে ভাত ফুটছে। সব দেখেশুনে রবীন্দ্রর ক্ষিদে পেয়ে গেল। ব্যাপারটা বুঝে মাঝি বলে, বোস। দু মুঠো আরো চাল ফেলে দিই। এই তরকারি আর কিছু কুচো মাছ রেখেছি, সেটার ঝাল-চচ্চড়ি করে নেব। কিন্তু তোমার কী ব্যাপার? গায়ে-হাতে কালসিটে, মুখ ফোলা, রক্ত কাটছে ঠোঁট বেয়ে, জামা ছেঁড়া। হল কী?

    রবীন্দ্র বলল, ওই যে চটকল দেখছ মাঝি, একদা আমি ওখানে কাজ করতাম।

    তা সে কাজ ছাড়লে কেন?

    ছাড়ব কেন? কল বন্ধ হল। তাই ছাড়লাম।

    আবার তো খুলেছে। হৈ-হৈ করে কত কাজ হচ্ছে।

    হ্যাঁ। কিন্তু আমি আর লাইন করতে পারলাম না যে ঢুকে যাব। নইলে চটকলে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে।

    হয়ত ওই গোটা চটকলকেই তুমি ভালোবাসো।

    যেমন তুমি ভালোবাসো এই নদীখানাকে।

    মাঝি ঘাড় নাড়ে। বলে, তা ঠিক বলেছ।

    তুমি কি নৌকায় শ্বেতবরণীকে ওপারে নিয়ে যেতে পারো মাঝি?

    কে শ্বেতবরণী?

    আছে আছে। বলে রবীন্দ্র দুলে নেয় খানিক। বলে, আছে একজন।

    শ্বেতবরণীর কথা আমি কী করে বলি?

    তবে সে গঙ্গার ধারে নৌকার আশায় বসে থাকে কেন?

    আচ্ছা, কোন শ্বেতবরণী? এমন নামে কাউকে আমি চিনিই না!

    আছে আছে। আবার দোলে রবীন্দ্র। রহস্য করে হাসে। বলে, সে হল শ্বেতবরণী দাস। সে আমাকে বলেছে তোমার নৌকায় সে নদী পার হয়। তোমার বিচিতে চুলকুনি।

    বিচিতে আমার চুলকায়, এটা ঠিক। তুমিও জানো।

    তব্বে! শ্বেতবরণীও জানে তা।

    জানি না কেমন করে এটা হয়! কে শ্বেতবরণী আর কে নয়, দেখে তো বোঝার উপায় নেই। আমার বিচির খবর সে কী করে পায়?

    তুমি বেশ্যাপাড়ায় গেছ মাঝি?

    যৌবনে গেছি।

    আচ্ছা বেশ্যাদের দেখে তোমার কী মনে হয়?

    তেমন কিছু নয়। দেশে-ঘরের মেয়ে যেমন, তেমন লাগে।

    তাই কী তুমি নদীতে শ্বেতবরণীদের পারাপার করো?

    আমি মাছ ধরি। কেউ যদি কখনও বলে, ওপারে আমার বাপের বাড়ি, পৌঁছে দেবে, দিই। তা সে বেশ্যা না ঘরের বউ তা জানব কি করে! কিন্তু তোমার ব্যাপারখানা কী খুলে বলো দেখি। আর মারপিটই করলেই বা কোথায়? আর একজন শ্বেতবরণীকেই বা পেলে কোথায়? আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না!

    তুমি এদ্দিন ছিলে কোথায় বললে নাতো, মাঝি!

    মাঝিদের আবার থাকা!

    কেন গো? তুমি তো দরের লোক।

    আমি মাছ ধরি মাছ ধরতে ধরতে কোথায় না কোথায় চলে যাই। নদীর মধ্যে কোথায় মাছ লাফায়, কোথায় পরি ওড়ে আবার কথাও মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি ভেসে আসে।

    বলো কী!

    কখনও নৌকা নিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রই জলেরই উপর; তখন কানে আসে মন্ত্র উচ্চারণ।

    আহা!

    কেমন যেন সব অলৌকিক বলে মনে হয়।

    হবারই কথা।

    সেইসব মন্ত্রের ঘোর, ধূপের গন্ধ আর ঈশ্বরের ছোঁয়াচ ছেড়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে সময় লাগে অনেক।

    সে তো লাগবেই!

    এইভাবে তাদের কথোপকথন চলতে থাকে। রবীন্দ্র বলে, শ্বেতবরণীর স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেলে সে সংসার চালাতে কাজ নেয় সুতোকলে। মাসে ছয় হাজার টাকা মাহিনা। কিন্তু এই বাজারে ওতে চলে কি?

    মাঝি বলে, তারপরে তোমার সঙ্গে দেখা হয়। তুমি তাকে রাখো।

    হ্যাঁ।

    আর এখন?

    একজন শ্বেতবরণীকে ভিটেতে তুলেছি বলে আমার ছেলে আমাকে মেরেধরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।

    মাঝি অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়। বলে, আর শ্বেতবরণী?

    সে রয়ে গেছে ঘরের ভেতরেই।

    হুম! এবার বুঝলুম আসল ব্যাপার।

    কী?

    কেন তোমার উপর তোমার ছেলের এত আক্রোশ।

    কেন?

    তোমাকে তাড়িয়েছে কিন্তু শ্বেতবরণীকে ও তাড়ায়নি। এর মানে বুঝতে পারছ?

    চমকে উঠে রবীন্দ্র তাকায় মাঝির দিকে। খসখসে গলায় বলে, কই নাতো!

    খুব সোজা। তোমাকে তাড়িয়ে সে শ্বেতবরণীর উপর নিজের দখল কায়েম করবে।

    মানে!

    মানে ওই—যা শুনলে।

    আর শ্বেতবরণী?

    যে তার ভরণপোষণ করবে সে তার। সে তুমি হও বা তোমার ছেলে। তার কোনো কিছুতেই কোনো যায় আসে না।

    গভীর এক শ্বাস ফেলে রবীন্দ্র স্থির হয়ে বসে থাকে। নদীর জল স্থির হয়ে বয়ে চলেছে। রাত নেমে আসছে নদীর বুকে। কালো হচ্ছে জল। আকাশ অনেক আগেই কালো হয়ে গেছে। যা আলো, তা আছে এই ছইয়ের ভেতর। এইটুকু আলোয় সব অন্ধকার দূর হয় না।

    মাঝি আবার ঢালে। বলে, জীবনের তুমি দেখলে কী হে রবীন্দ্র! জীবন বয়ে যাচ্ছে, এই নদীর মতন। তার কোন ঘাটে কে স্নান করল নদীর কি-বা এসে যায়! তুমি ঘাটও নও, নদীও নও; তুমি জীবন নদীতে বয়ে চলা এক কুটিমাত্র। আর হ্যাঁ, কেবল তুমি নও, আমিও তাই—নাও, খাও আরও এক পাত্তর।

    রবীন্দ্র ছিটকে উঠে পড়ে। বলে, আমি যাই।

    কোথা যাবে?

    যাব।

    ঢাললাম—খেয়ে যাও।

    সময় নেই।

    রান্না পেরায় হয়ে এল।

    হোক।

    খেয়ে জাল ফেলব। তারপরে ঘুমাব। জাল তুলব সেই রাত দু’টায়।

    জাল ফেলো। আমি আসছি।

    তুমি যদি আমার সঙ্গ দাও ত আর কোথাও কাজ খুঁজতে হবে নে।

    নৌকার মধ্যে উবু হয়ে লাফানোর জন্য প্রস্তুতি নেয় রবীন্দ্র। বলে, কেন? তোমার যে সাকরেদ ছিল?

    মাঝি বলে, সে ছেড়ে দিয়েছে।

    ছাড়ল কেন?

    আমার কাছে তার পোষাবে কেন? আমি কোনোদিন মাছ পাই কোনোদিন পাই না; কোনোদিন জাল ফেলি কোনোদিন ফেলি না; আবার কোনোদিন করি কী, নদীর মাথায় স্থির থেকে জলের রঙ দেখে মাছের গমনাগমন দেখি, কিন্তু জাল ফেলে তাদের তুলে আনি না।

    তুমি রাঁধো, আমি আসছি।

    এখন আবার যাচ্ছ কোথা? রবীন্দ্র লাল চোখে বলে, ছেলেকে এটা বোঝাতে যাব, তার বাপ আমি সে আমার নয়।

    নেশা হয়ে গেছে তোমার। যা করার কাল সকালে কোরো।

    না। রবীন্দ্র ছাড়বে না। কে কার বাপ, কে কার ছেলে? এই দুনিয়ায় কেউ কারো নয়। এতদিন যখন সে একা-একা পচে মরছিল ছেলে একদিনের জন্যেও খোঁজ নিতে এসেছে? আসেনি। তাই রবীন্দ্র যাবে। একটা গভীর বোঝাপড়া করার জন্যে।

    রবীন্দ্র লাফ দিয়ে নৌকা থেকে নামল। পা টলে গেল তার। থেবড়ে বসে পড়ল নদী খাদের নরম মাটিতে। থামলে হবে না। রবীন্দ্র উঠে দাঁড়াল। পাড়ে উঠে দাঁড়াতেই একরাশ অন্ধকার এসে ঘিরে ধরল তাকে। দুটি বাদুড় তাকে ছুঁয়ে উড়ে গেল, কেউ ধূপ দিয়েছে নদীর ধারে, তার গন্ধ এসে নাকে লাগল। কোথাও বৈদিক সুরে কোনো দেবতার পূজাপাঠ হচ্ছে। নদীর ওদিক থেকে ভেসে এল এক অদ্ভুত আলোর রেখা। আলো, না শ্বেতবরণীর গায়ের রঙ?

    আর কিছু ভাবল না রবীন্দ্র, দেখলও না। সে দৌড়তে থাকল অন্ধকার পেরিয়ে ঐ আলোর প্রতি।



    অলংকরণ (Artwork) : রাহুল মজুমদার
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments