


ও অপরূপ, আনন্দময়
কোথাও যা কিছু ছিল অকৃপণ, আভূমিপ্রণত, তার মুখে ধ্বংসের প্রথম আগুন
তুলে দিই আর গৃহস্থের সতত উদ্বেগ নশ্বর কায়ায় মিশিয়ে বলি, স্পর্শ কর, খা,
যেভাবে চিতাবহ্নি জ্বলে ওঠে, মৃত নাবিকের দেহে ঝুঁকে পড়ে সমুদ্রের প্রবীণ
দেবতা, সেভাবে প্রার্থনা করি – ও অপরূপ, আনন্দময় আমাদের অবিরত সঙ্গ
নাও, সুবচনে বাঁধো – অপ্রসর দিনগুলি উজ্জ্বল, অধিগত হোক, রক্তের উদ্বৃত্ত
শাসন দূর করো, সুবহ, নির্ভার হও, অধিকন্তু মর্মে রেখো বিশুদ্ধ ক্ষমার নির্যাস,
বিশেষত যখন দৃশ্যমান সমস্তই ভেঙে পড়ছে, ধ্বস্ত ঘরবাড়ি সাক্ষ্য দিচ্ছে সে
বদলের, দুমড়ে-মুচড়ে গেছে আমাদের পরিচিত নিখুঁত জ্যামিতি, অথচ তৃষ্ণা
পূর্ণ হয়ে উঠছে ক্রমে, তখন কায়ায় যত রৌদ্র ও সংবেদ, যতটুকু প্রকট বিরহ
তাকে জড়ো করি আর পায়ে পায়ে অন্য আগুন এলে তাকে বলি স্পর্শ কর, খা
স্তন্যদায়িনী
কবিতা যা হতে পারে বেদমুহূর্ত কিংবা অনুকৃতিময়
স্তন্যদায়িনী এক জননীর কথা যিনি কারুকৃতি ভুলে
আত্মঅভিঘাত রচনায় শুধু জাতকের মনোপন্থী হন
সাময়িক আয়নায় অভ্যস্ত যাপনে সে প্রায় অতর্কিত
অথচ একেকটি ক্ষুণ্ণ শব্দ, প্রতীতি বা বিচ্ছিন্ন ষড়জ
সূচিকার ভাষামুখে ব্যক্ত ও শ্রুতিমাত্র তার নাম ধরে
মানুষ শুধুই দেখে সমাদরণীয় কিছু ফুটে থাকা ফুল
আমরাও কদাচিৎ দেখি তার গরিমার মৃদুআলোকন
অথচ প্রতিটি জন্ম নয় অশরীরী কিংবা বৃথামনস্কাম
তবুও সিদ্ধ হয় সেই জল যাকে স্পর্শ সৌভাগ্যআখর
কবিতা তোমার থেকে
রক্তের ভিতরে এত যে আশ্চর্য ঋতু, এতসব বেহাত সঞ্চয় যেন সম্মোহন্
গড়ে তোলে আর কিছু অরক্ষিত সিঁড়ি আমাদের উত্তরের শূন্যে নিয়ে যায়,
আমরা সম্মতি রাখি আশরীর জলে, প্রাণবায়ু নিহিত উপায়ে ধরে রাখি যেন
এই অবতীর্ণ দ্বিধা আমাদের নয়, এইসব জলীয় ভূমিকা যেন দৃশ্যমান অন্য
বহু শিকড়ে, শিরায় বহমান – দুই চোখে তাই কত নিসর্গ এঁকেছি সুনিপুণ
যাদের প্রত্যক্ষ যোগ অগ্নিকে আশ্বস্ত করে, অথবা যে অনুমানে অতর্কিতে
সুপ্রচুর আয়ুর প্রসৃতি নিজস্ব দ্রাঘিমা থেকে সরে যায়, দূরতর মানুষে মূলত
আজও সেইসব অভিনব ক্ষমতা বহন ক’রে থাকে কিছু নিরাময়ে, কিছু বা
প্রদাহে; আর যেভাবে তারুণ্য ভেঙে পড়ে, যেভাবে ট্রামের গতি নিস্পন্দ,
নিথর হয়ে পড়ে চিরতরে, যেভাবে সিল্যুয়েটে ফুটে ওঠে আত্মীয়-সৎকার,
সেভাবে মৃত্যু থেকে জীবনে উন্নীত, সেভাবে জীবন থেকে শাশ্বত কবিতা
আহরণ।
কবিতা থেকে মিছিলে
অসময়ে হাওয়ার শাসনে নৃত্য দূরে সরে গেলে, বিবশ উন্মাদ একা অপ্রস্তুত
পড়ে থাকি, মনে হয় খুব সাধের মন্তাজ যেন নষ্ট হয়ে গেছে, চারিদিকে কুচি
কুচি ছড়ানো কাগজ; বড় ক্ষতি হয়ে গেছে, অথচ অভিমানে আবারও কণ্ঠা
ছুঁয়ে মেঘ সরে গেল তবু সাবলীল, রূপোলি মাছের চোখে নেমে এল শৈত্যের
বরফহতাশা, আমাদের ঘরে ঘরে সুপ্রচুর আয়ু নিয়ে এল সেই অনতিসংবাদ,
আর দৃশ্যেরা জন্মে শুধু ইতস্তত মিশে গেল লেন্সের নব-মূর্ততায়, ফটোগ্রাফে
নিরুত্তর মুখের আদলে স্পর্শহীন তবু রেখাকবলিত এক প্রত্যক্ষ ম্যাজিকে যা
অনুমানে মানুষের নিজস্ব দর্পণ থেকে নৃত্য সরে যায় ফলে, তখন সে সদসৎ
বিবিধ বিন্যাসে জুড়ে নিজেকে চেনায়, পরে সময়ের গ্রন্থি খুলে জাগরূক দূর
পথে হেঁটে ভিন্নতর রূপোলি পর্দায় জীবনের সতত বদল দেখে স্বস্থ ও প্রকৃত
নির্ঝর খুঁজে পায়, আর আমার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে ফের হাওয়ার শাসনে স্থির
নামভূমিকায়-জ্বরে-আরোগ্যে-সেবায় যেন উপদ্রুত মিছিলের প্রথম সারিতে