• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৩০ | মে ২০০৩ | রম্যরচনা
    Share
  • কথার কথা : সোডা জল

    গুলাব অন্দর থেকে ঘুরে এসে জানাল - নেহি মিলা । মেজোদাদু আক্ষেপ করলেন - কী অবস্থা । বাড়িতে একটা মাছ ধরার জাল পর্যন্ত নেই । সাদা হাতি ধরব কি মশারি দিয়ে ? বাগানে এসে ঘুরে যাচ্ছে দেখো ।

    অংকস্যার গেট থেকে বললেন - বাজারে খঁংউজে আসব ? হাতির দরটাও সেইসঙ্গে -

    মেজোদাদু ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন । তারপর লাঠি আর খুরপি হাতে এগোলেন । সঙ্গে সতর্ক গুলাব । গ্যাঞ্জাম আর গাংলু একটু দূর থেকে কাণ্ডটা দেখছিল । মা-দিদিমাও বেরিয়ে এসেছেন । ঝোপের সামনে গিয়ে মেজোদাদু থামলেন । গুলাব উল্টোদিকে গিয়ে দুহাত ছড়িয়ে দাঁড়াল । বেরোলেই পাকড়াবে । একটা কী হয় কী হয় ভাব । ঠিক এই সময় ঝোপের ভেতর থেকে মিচকে লাফ মেরে মেজোদাদুর কোলে এসে পড়ল । মা-দিদিমা মুখে আঁচল চাপা দিলেন । অংকস্যার হনহন ক'রে হাঁটা লাগিয়েছেন । মেজোদাদু আকাশের দিকে তাকাতে তাকাতে গম্ভীরভাবে হাঁকলেন - রিট্রিট ।


    রোববার । অংকস্যার এদিক-ওদিক তাকিয়ে বললেন - মিচকেকে দেখছি না ?

    মেজোদাদু জবাব না দিয়ে তড়িঘড়ি চেপে ধরলেন - ভাষা লোপাটের চ্যাপ্টারটা শেষ হয়নি মোহন । বড় চিন্তায় ফেলেছ ।

    গ্যাঞ্জাম অবশ্য চিন্তার লক্ষণ তেমন দেখেনি । এই সাতদিনে আরো কিছু নিরীহ প্রাণী মেজোদাদুর গর্ভে চালান হয়ে গেছে । সকালেও চোখ বুজে রাবড়ি সাবড়েছেন । কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে মেজোদাদু আগের দিনের কথা তুলতে দেবেন না ।

    - গাংলুটাকে নিয়েই চিন্তা - মেজোদাদু মরিয়া - ইংরেজি মিডিয়াম । ক-য়ে মূর্ধন্য ষ আর হ-য়ে ম গুলিয়ে ফেলবে না তো ?

    গাংলু তেড়েফঁংউড়ে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু দেখা গেল কংকাবতী খুব মন দিয়ে হ-য়ে ম লেখার চেষ্টা করছেন । কংকাবতী হাল ছেড়ে দেবার পর অংকস্যার বললেন - ভোলা অত সহজ নয় ঘোষবাবু । একটা গল্প বলি শুনুন । পণ্ডিত গোবিন্দ বল্লভ পন্থ ছিলেন আলমোড়ার লোক । পড়াশোনা বা কাজকর্মের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দি আর ইংরেজি ব্যবহার ক'রে এসেছেন । তা তিনি তাঁর স্টেনোকে ইংরেজিতে ডিক্টেশন দিচ্ছিলেন । এই সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান । আর জ্ঞান ফেরেনি । মৃত্যুশয্যায় অচেতন অবস্থায় তিনি কথা বলছিলেন - বোঝা গেল সেটা হিন্দিতে । তারপর ত্রক্রমেই যখন চেতনা আরো আচ্ছন্ন হয়ে এল, শোনা গেল পণ্ডিতজি যে ভাষায় কথা বলছেন সেটা হিন্দিও নয়, ইংরেজিও নয়, আলমোড়ার পাহাড়িয়া ভাষা । তাহলেই বুঝুন । গাংলু তো দস্তুরমত কবিতা লেখে ।

    - সে কি আর বাংলায় ? - মেজোদাদু হতাশ - অতুল প্রতিবিম্ব তলবে মেরামত শকুনের খেয়া - চিন্তা করব না বলছ ?

    গাংলু ঠোঁট কামড়াল । পত্রিকার নতুন কপিটা কি ক'রে মেজোদাদুর হাতে পড়ে গিয়েছিল । কবিতাগুলোয় চোখ বুলিয়ে মেজোদাদুর ধারণা হয়েছিল কোন ত্রক্রসওয়ার্ডের ক্লু । কিন্তু ত্রক্রসওয়ার্ডটা খঁংউজে না পেয়ে গাংলুকে চেপে ধরেন । তাতেই বিপত্তি । কী কুক্ষণে যে স্বনামে কবিতা লিখতে গিয়েছিল !

    অংকস্যার বললেন - মুশকিলটা হ'ল যে-ভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে তাতে যে কী আছে কেউ জানে না । অস্ট্রেলিয়ার একটা অঞ্চলে একবার লোকজনের চামড়ায় ঘা হ'তে শুরু করল । চিকিত্সাতে তেমন ফল হচ্ছিল না । তখন স্থানীয় আবোরিজিনাল উপজাতির কয়েকজন নার্সকে গাছগাছড়ার তৈরি একটা মলমের কথা বলে । সেই ওষুধটা ব্যবহার ক'রে সত্যি সত্যিই কাজ হয় । ভাষাটা হারিয়ে গেলে হয়তো সেই ওষুধের খবর পাওয়াই যেত না ।

    - কিন্তু এগুলোকে বাঁচানোর কোন উপায়ই কি নেই ? - গ্যাঞ্জাম উদগ্রীব ।

    - কে বাঁচাবে ? তবে ভাষাকে কবর খঁংউড়ে তুলে আনার নজিরও যে নেই তা নয় । হিব্রুর কথাই ধর । বহু বছর ধরে হিব্রু স্রেফ ধর্মের ভাষা, পণ্ডিতদের ভাষা হয়ে ছিল । মানুষ খুব একটা কাছে ঘেঁষত না । উনিশ শতকের শেষে Eliezer Ben-Yehuda র নেতৃত্বে একটা আন্দোলনের ফলে প্যালেস্টাইনে লোকে হিব্রুতে কথা বলতে শুরু করে । ইজরায়েল তৈরি হওয়ার পর ইস্কুলে হিব্রু পড়ানো শুরু হ'ল । এখন হিব্রু ইজরায়েলের সবচেয়ে চালু ভাষা ।

    আরেকটা ভাষা হ'ল Cornish । এককালে ইংল্যাণ্ডের দক্ষিণপশ্চিমে ভাষাটা চালু ছিল । কিন্তু সতেরশো সাতাত্তরে এই ভাষায় কথা বলার শেষ লোকটি মারা যায় । ভাষাটাও শেষ হয়ে যায় । কিন্তু বহুদিন পরে সেসব লোকের উত্তরপুরুষেরা একটা অদ্ভুত কাণ্ড করল । তারা পুরোনো Cornish লেখালিখি থেকে ভাষাটাকে উদ্ধার ক'রে আনল । শুধু তাই নয়, ভাষাটা যাতে বেঁচে থাকে সেজন্য তারা আবার তাদের ছেলেপুলেদের ভাষাটা বলতে শেখায় । ইংরেজির পাশাপাশি Cornish এও পথের নির্দেশ লেখা শুরু হ'ল । এইভাবে ভাষাটার পুনরুথ্থান বলতে পারিস ।

    এইসময় আখতার গজনভি এসে ঢুকলেন । গাংলু এগোতে গিয়েও পিছিয়ে এল । গজনভির চুল উস্কোখুস্কো, প্যান্টে মাটিফাটি লেগে কিমাকার অবস্থা । মেজোদাদু সস্নেহে জিজ্ঞেস করলেন - খঁংউড়ছিলেন বুঝি ?

    স্পেসশিপে উই ধরে গেছে - দাঁতে দাঁত চেপে গজনভির উত্তর - এদিকে আমার একটা ইউনিভার্সাল কনফারেন্সে যাওয়ার কথা ।

    - কবি সম্মেলন ? - গাংলুর কৌতূহল ।

    - স্পেসশিপও আছে নাকি একটা ? - গ্যাঞ্জাম আকাশ থেকে পড়ল ।

    - না তো কি রণপা চড়ে এখানে এলাম ? - গজনভি খাপ্পা - কাগজ টাগজ পড় না ? চাঁদে যাওয়ার গাড়িটা পাওয়া গেল কোথ্থেকে ?

    সত্যসাধন মিনমিন ক'রে বললেন - মানে নীল আর্মস্ট্রং যেটায় -

    - আর্মস্ট্রং না হাতি ! নাম থেকেই তো পরিষ্কার লোকটা কে ।

    প্রায় বোমা ফাটার মতো চমকাল সবাই । কেবল মেজোদাদু ফিসফিস ক'রে বললেন - যা ইচ্ছে ব'লে যাচ্ছে । খোঁড়াখঁংউড়ি আমরাও ছোটবেলায় করেছি, তবে এরকম বাড়াবাড়ি হয়নি । দুপুরের রোদ তো । পালসেটিলা এক ডোজ দিয়ে দেখব, মোহন ?

    সকলে দু'মিনিট মুখ চাওয়াচাওয়ি ক'রে থিতু হয়ে বসলেন । মিচকে এসে গজনভির পায়ের কাছে ঘুরঘুর করছে ।

    গাংলু সান্ত্বনা দিল - উই শ্যাল ওভারকাম । উই নিয়ে ভাববেন না আখতারদা ।

    কংকাবতী একটু ধাতস্থ হয়ে বললেন - সত্যিকারের স্পেসশিপ ? কী মজা ! চলুন না সবাই মিলে কুলু মানালি ঘুরে আসি । কলেজ খুলতে দেরি আছে । ড্রাইভার পাওয়া যাবে তো, গজনভিবাবু ?

    - গুড আইডিয়া - বললেন সত্যসাধন ।

    - কনফারেন্সটা কোথায় ? - গ্যাঞ্জামের প্রশ্ন ।

    - মার্কারিতে, মানে বুধে - গজনভির দীর্ঘশ্বাস - পরশু কনফারেন্স, এদিকে আজ দেখি এই অবস্থা । নীলু ব'সে ব'সে কেরোসিন ঢালছে ।

    - তার মানে মঙ্গলবার - গ্যাঞ্জামের স্বগতোক্তি ।

    - মঙ্গলে উষা, বুধে পা - বিড়বিড় করলেন অংকস্যার ।





    !--------------------
    ১০ ১১
    ১২
    ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭
    ১৮ ১৯
    ২০ ২১
    ২২
    ২৩ ২৪ ২৫ ২৬ ২৭
    ২৮
    -----------------------

    পাশাপাশি
    উপরনিচ
    (১) ভরতাম হায় বই (৫) অংক শুনে শুনে হবে কাপড় (৮) তৃতীয় সাতের (৯) দানব যদি উদার হয় (১১) মধু সমারোহ (১২) বিরক্ত বা রক্ত খেয়ে প্রথমবার (১৪) পূরবী হ্রস্ব হ'লে কদাকার (১৬) বেয়ান হয় প্রতিনিধি (১৮) সপরিবারে বানাও সীমা (২০) বহু ক্ষতি হ'ল, হিত নয় (২২) কে ছিল বল্কলে ? (২৪) চিঠি পেলেন, মাখন খেলেন (২৫) কোমরে একি মাত্রা যোগ ! (২৭) কম দাম মানে আচমকা বেগ (২৯) রেশমি নামে দড়ি (৩১) মাঠে মন দেওয়া দায় (৩৩) স্রেফ সনাতন খাসা নাচ (৩৫) তিলের পরে কাটে ধাতু (৩৭) কারবারে ব্যয় সবার (৩৯) রাম রাম বলো (৪১) চুড়োয় রাখবি বাবদ লেশ (৪৩) চির-সুরক্ষা চুরি চুরি ক'রে পেটুক (৪৪) মন্দিরে নামে খল সাপের কামড়ে তোমার মরণ (৪৫) মনের সাগরে ডোবে না সব স্বর, প্রথম স্বর হয় গুলজার (১) একমতে মরলে মিত (২) হা হা ক'রে করবি হিসাব (৩) ভাবনার দু'-আকারে মাচা তৈরী করো (৪) নহবতে হন্নে হবে তোমার (৫) পূজ্য নর অজ খেয়ে ভিন্ন মূর্তি (৬) "ধুত্‌" শুনে হঠাৎ কেড়ে নে কেবল (৭) অল্প কয়েক রকম বা (১০) অধিকার বা দিদি (১৩) বিয়ের মাছ, বাদাম-বনে আছি (১৫) পাখির গর্ত (১৭) দলে দেব জানোয়ার (১৯) সংগ্রাম মহাযুদ্ধ রণ (২১) অক্ষয় চিত্রে অচেনা অর্জুন (২৩) কি রকম মনে আরক (২৬) কখনো দিক পা (২৮) বিধেয় তর্ক আরব্য (৩০) মিশরে শিস দিলে হবে সকালের জলের মতন (৩১) মল মাখা নিরাকার কোমল কাপড় (৩২) মাথা নিচু ক'রে তিন শর (৩৪) গান ক'রে বর দাও নতুন রঙে (৩৬) খুলি থেকে স্বরচিহ্ন মুছে দেয় রেশমি সুতোয় (৩৮) লেখা পড়া শেখা রক্ষা যোগ করিস (৪০) রেখে দিই, খাবি ফোঁটা দিয়ে (৪২) সব শূন্য তরল



    (এবারের শব্দজব্দ তৈরি করেছেন অংশুমান গুহ)

    আগের বারের শব্দজব্দের উত্তর দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রুচিরা মজুমদার বসুমল্লিক । তাঁকে আমাদের অভিনন্দন (এবং পুরস্কারও পাঠানো হচ্ছে) । এবারেও প্রথম দুজন সঠিক উত্তরদাতাকে পুরস্কার দেওয়া হবে ।

    দয়া করে এবার থেকে ডাকযোগে উত্তর পাঠালেও ই-মেল (যদি থাকে, তো) জানাতে ভুলবেন না ।



    আগের বারের ত্রক্রসওয়ার্ডের উত্তর এখানে






  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)
  • কীভাবে লেখা পাঠাবেন তা জানতে এখানে ক্লিক করুন | "পরবাস"-এ প্রকাশিত রচনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রচনাকারের/রচনাকারদের। "পরবাস"-এ বেরোনো কোনো লেখার মধ্যে দিয়ে যে মত প্রকাশ করা হয়েছে তা লেখকের/লেখকদের নিজস্ব। তজ্জনিত কোন ক্ষয়ক্ষতির জন্য "পরবাস"-এর প্রকাশক ও সম্পাদকরা দায়ী নন। | Email: parabaas@parabaas.com | Sign up for Parabaas updates | © 1997-2024 Parabaas Inc. All rights reserved. | About Us