




নিখিলবাবু পরম ঈশ্বরভক্ত। জীবনের সব ওঠাপড়ায় তিনি তাঁর ঈশ্বরকে স্মরণ করেন। অতএব ওই বিপদে তিনি অবশ্যই ঈশ্বরকে স্মরণ করেছিলেন। এবং ঈশ্বরের কাছে তাকে রক্ষা করার আকুল প্রার্থনা করেছিলেন। আর সেই কাতর আবেদন করতে করতে প্রাণপণে ছুটছিলেন সেই বিশাল বনভূমির উপর দিয়ে।
এরপর বহুকিছু ঘটে গেল।
ঈশ্বর অদৃশ্যে সবই দেখছিলেন। এইবার তিনি সামনে চোখ তুলে তাকালেন। যাকে দেখলেন সে — ‘নিয়তি’। নিয়তি নির্বিকার ভাবেই দাঁড়িয়েছিল ঈশ্বরের সামনে। ঈশ্বর তাকে বললেন— ‘এ কী হচ্ছে?’ নিয়তি নির্বিকারভাবেই দাঁড়িয়ে রইল।
ঈশ্বর বললেন— ‘আমার এই পরমভক্তের তো কোনো দোষ ছিল না। তাও তার এই দশা হল। কিন্তু কেন?’ নিয়তি নিরুত্তরেই দাঁড়িয়ে রইল। ঈশ্বর বললেন— ‘যখনই সে বিপদে পড়েছে তখনই সে আমায় স্মরণ করেছে। কিন্তু কপালের দোষে ওদের জন্য তাকে এভাবে পাকেচক্রে জড়িয়ে যেতে হল।’ এই কথা বলার পর ঈশ্বর একটু থামলেন।
নিয়তির দিক থেকে কোনো উত্তর এল না। এরপর ঈশ্বর খুব ধীরে এবং দৃঢ়ভাবে বললেন— ‘আমি কিন্তু এর একটা বিহিত চাই। এরজন্য আমি চাই ওদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে। আমি জানতে চাই আমার ভক্তের এমন দুর্দশার জন্য ওদের কে কতটা দায়ী। ওদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে আমার সামনে এই ব্যাপারে ওদের বক্তব্য পেশ করতে হবে।’ নিয়তি নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল— ‘তাই হবে।’
এরপর তাই হল। ঈশ্বরের আশ্চর্য ক্ষমতায় ওদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে তাঁর সামনে উপস্থিত হতে হল।
প্রথমে ঈশ্বরের সামনে এল সেই হাতিটি। সে এসেই বলল— ‘আমার কী দোষ? শুঁড়ে তুলে আছাড় মারা তো দূরের কথা, আমি তো ওই লোকটার শরীরটাও ছুঁইনি। আমি ওর অনেকটা পিছনে দাঁড়িয়েছিলাম। ওর থেকে অনেক দূরে। ও তো নিজেই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল আমায়। আর তারপরেই দৌড়তে লাগল। আমি ওর পিছুপিছু আসছিলাম তখন। ব্যস্। এইটুকুই। এরজন্যই আমি ওর এই দুর্দশার কারণ হলাম প্রভু?’ ঈশ্বর বললেন— ‘বুঝলাম।’
এরপর ঈশ্বরের সামনে এল সেই কুয়োটি। সেও বলল— ‘আমার কী দোষ? আমি তো যবে থেকে তৈরি হয়েছি, তবে থেকেই এখানে এইভাবে পড়ে আছি। আমার কি নিজের থেকে কোনো কিছু করার ক্ষমতা আছে? ওই লোকটা তো নিজেই দৌড়তে দৌড়তে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর পিছনে ফিরে দেখল আর নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার মধ্যে। ব্যস্ এইটুকুই। এর জন্য আমি ওর এই দুর্দশার কারণ হলাম প্রভু?’ ঈশ্বর বললেন— ‘বুঝলাম।’
এর পর ঈশ্বরের সামনে এল সেই বটগাছটি। সেও বলল— ‘আমার কী দোষ? আমি তো এই কুয়োর মধ্যেই জন্মেছি। এই কুয়োর মধ্যেই বেড়ে উঠেছি। এখানে এইভাবে গজিয়েছে আমার ডালপালা আর ঝুরিগুলো। সেগুলো এইভাবেই ঝুলছে কতকাল ধরে। ওই লোকটাই তো হঠাৎ আমায় ধরে ঝুলে পড়ল। আর ঝুলতে থাকল এইভাবে। ব্যস্। এইটুকুই। এরজন্য আমি ওর এই দুর্দশার কারণ হলাম প্রভু?’ ঈশ্বর বললেন— ‘বুঝলাম।’
এর পর ঈশ্বরের সামনে এল সেই কেউটে সাপটি। সেও বলল— ‘আমার কী দোষ? আমি ওই লোকটাকে ছোবল মারা তো দূরের কথা ওর ধারে-কাছেও যাইনি। আমি তো শুধু ওকে দেখছিলাম মাথা তুলে। আমি ছিলাম কুয়োর তলায় আর ও ঝুলছিল বটগাছটার ঝুরিটা ধরে। আমার থেকে অনেক দূরে। ব্যস্। এইটুকুই। এরজন্য আমি ওর দুর্দশার কারণ হলাম প্রভু?’ ঈশ্বর বললেন— ‘বুঝলাম।’
এর পর ঈশ্বরের সামনে এল সেই সাদা আর কালো রঙের ইঁদুর দুটি। তারা বলল— ‘আমাদের কী দোষ? আমরা তো ওই লোকটাকে দেখিইনি। আমরা নিজেদের মনে নিজেরা কাজ করি চিরকাল। আমরা কক্ষনো কোনোদিকে তাকাই না। আমাদের কাজ ওইভাবে গাছের গুঁড়িটা কাটা। ব্যস্। এইটুকুই। এর জন্য আমরা ওর দুর্দশার কারণ হলাম প্রভু?’ ঈশ্বর বললেন— ‘বুঝলাম।’
এর পর ঈশ্বরের সামনে এল সেই মৌচাকটি। সে যেই না কিছু বলতে যাবে সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বর তাকে ইশারায় থামিয়ে দিয়ে বললেন— ‘চুপ। আর কারো কোনো কথা হবে না।’
নিয়তি ঈশ্বরের সামনে আগের মতোই নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে রইল।
ঈশ্বর নিয়তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন— ‘এদের সবার কথা শুনলাম। এইবার এই বিষয়ে আমার অভিমত দিচ্ছি। যা ঘটেছে তা অত্যন্ত জটিল একটি ঘটনা। আমি চাই যে সমস্ত ঘটনাটি আবার নতুন করে শুরু হোক।’ এইবার নিয়তি মাথা নিচু করে খুব ধীরে উত্তর দিল— 'কালকে উল্টোপথে তো চালনা করা যায় না।’ ঈশ্বর খুব শান্ত গলায় বললেন— ‘তা আমি জানি। কিন্তু একটিবারের জন্য আমি চাই যে কাল পিছিয়ে যাক। সমস্ত ঘটনাটি আবার নতুন করে শুরু হোক।’ নিয়তি ঈশ্বরের কথায় নিরুত্তর রইল। ঈশ্বর বললেন তাহলে আবার ঘটনাটি শুরু হোক। নতুন করে। নিয়তি নিঃশব্দে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
এর পরেই দেখা গেল একটি বিরাট বনভূমি। চারিদিকে পাখি ডাকছে। ধূ-ধূ ঘন সবুজ মাঠের উপরে গাঢ় নীল আকাশ।
ঠিক একটু আগেই এখানে ঘটে গিয়েছে একটি ভয়াবহ ঘটনা। ঘটনাটি যা ঘটেছিলো তা সংক্ষেপে এইরকম—
একটি লোক আপনমনে হেঁটে যাচ্ছিল ওই ঘন সবুজ মাঠের ভিতর দিয়ে। হঠাৎ তার মনে হল কী যেন আসছে তার পিছন পিছন। সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেই আঁতকে উঠল। তার পিছু নিয়েছে একটা প্রকাণ্ড দাঁতাল হাতি! সঙ্গে সঙ্গে সে তার ঈষ্টদেবতাকে স্মরণ করল। আর তার পরেই প্রাণপণে সামনের দিকে দৌড়তে লাগল। হাতিটিও তার কান দুলিয়ে শুঁড় উঁচিয়ে ওই লোকটির পিছু পিছু দৌড়তে লাগল। লোকটিও তার ঈষ্টদেবতার নাম জপতে জপতে যেন প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড়তে লাগল। এছাড়া তখন তার আর কিছুই করার ছিল না।
এইভাবে দৌড়তে দৌড়তে একটুবাদেই সে দেখতে পেল সামনে একটা বিরাট কুয়ো। ততক্ষণে হাতিটা লোকটার আরও কাছে চলে এসেছে। তার লম্বা শুঁড়টা লোকটির পিঠটাকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। লোকটি ওই কুয়োটাতে উঁকি মেরে দেখল। কুয়োটা একদম শুকনো। কুয়োর নিচ থেকে একটা বটগাছ গজিয়েছে। লোকটা আবার তার ঈষ্টদেবতাকে স্মরণ করল। তারপর লোকটি ‘যা থাকে কপালে’ ভেবে কুয়োর মধ্যে ওই বটগাছটার দিকে ঝাঁপ দিল। আসলে লোকটি ভাবল— এইবার তো হাতির শুঁড়ে আছাড় খেয়ে মরতেই হবে। তারচেয়ে ওই কুয়োয় বটগাছটার উপরে ঝাঁপিয়ে যদি গাছটাকে ধরে বাঁচা যায়। তাই সে ওই কুয়োয় মরিয়া হয়েই লাফ দিল। লোকটি তার ঈষ্টদেবতার নাম নিয়ে বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টা করল। এছাড়া তখন তার আর কিছুই করার ছিল না।
এইভাবে লোকটি ওই কুয়োর মধ্যে বটগাছটার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর কোনোক্রমে ওই বটগাছটার একটা ঝুরিকে দুহাত আঁকড়ে ধরতে পারল। তারপর ওই ধুতিটা ধরে ঝুলতে লাগল। মনে মনে ভাবল— ‘খুব জোর বাঁচা গেছে ওই হাতিটার থেকে। এবার এই ঝুরিটা ধরে কুয়োর মধ্যে নেমে আসি।’ এই ভেবে লোকটা কুয়োর নিচের দিকে তাকাতেই তার শরীরটা যেন হঠাৎ হিম হয়ে গেল। সে দেখতে পেল কুয়োর নিচে ওই বটগাছটার গোড়ায় বিশাল ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে একটা প্রকাণ্ড কেউটে সাপ! লোকটি আবার তার ঈষ্টদেবতাকে স্মরণ করল। কিন্তু সে ওই কুয়োর নিচে নামতে আর সাহসই পেল না। সে ভাবল— ‘এইভাবে ওই সাপটার থেকে যতটা পারি দূরত্বে থাকি।’ লোকটি তার ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করে চোখ বন্ধ করে ঝুলে রইল। এছাড়া তখন তার আর কিছুই করার ছিল না।
এইভাবে লোকটা তো কোনোক্রমে ঝুলে রইল বটগাছটার ঝুরি ধরে। কিন্তু লোকটা বোধহয় দেখতে পেল না ওই বটগাছটার গোড়ায় যা ঘটেছিল। সেটা হল একটা অদ্ভুত ব্যাপার। দুটো ইঁদুর, একটা কালো রঙের আরেকটা সাদা, ওই বটগাছটার গোড়াটা ঘুরে ঘুরে এক নাগাড়ে কাটছিল। এইভাবে বটগাছটার গোড়াটা ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছিল। আর বটগাছটা খুব ধীরে ধীরে নুয়ে পড়ছিল। সমস্ত ব্যাপারটা ওইভাবে ঝুলতে থাকা লোকটার চোখেই পড়েনি।
এইসময় ওই কুয়োর মধ্যেই আরেকটা ব্যাপার ঘটেছিল। ওই বটগাছটার আরেকটা ডাল থেকে ঝুলছিল একটা বিরাট মৌচাক। সেই মৌচাকটা ফেটে গিয়েছিল। আর সেখান থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে মধু গড়িয়ে পড়ছিল। লোকটি ওইভাবে ঝুলতে ঝুলতে যেই ওই মৌচাকটার সামনে চলে এল, তখন তার মুখে এসে পড়ল ওই চুঁইয়ে পড়া মধুর ফোঁটা। আর লোকটা সেই মধুর ফোঁটাটা চেটে নিল। এছাড়া তখন তার আর কিছুই করার ছিল না।
আর এরপর... এরপর লোকটা ওইভাবে ঝুলতে লাগল... আর দুলতে থাকল... বটের ঝুরিটাকে প্রাণপণে দুহাতে আঁকড়ে ধরে... আর সেই প্রতিবার এসে ঠোক্কর খেতে লাগল ওই মৌচাকটার গায়ে... আর প্রতিবারই তার সেই ফাটা মৌচাক থেকে ওর মুখের উপর চুইয়ে পড়ছিল মধুর ফোঁটাগুলো... আর লোকটি... লোকটি তখন...
লোকটি তখন দেখতেই পায়নি যে ঈশ্বর এসে দাঁড়িয়েছেন তার মাথার পিছনে, ওই কুয়োর মধ্যে। তিনি সব দেখছিলেন। গোটা ব্যাপারটা। এইবার তিনি সামনে চোখ তুলে তাকালেন। দেখলেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আরেকজন। তিনি— ‘নিয়তি’। নিয়তি দাঁড়িয়ে আছে নির্বিকারভাবে। এই নিয়তি কিন্তু ঘটনাটির শুরু থেকেই ছিল সবার পিছনে। অদৃশ্যে।
ঈশ্বর তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন— ‘এ কী হচ্ছে?’ নিয়তি কোনো উত্তর দিল না। ঈশ্বর বললেন— ‘না। না। এ আমার পরমভক্ত। তাছাড়া এর তো কোনো দোষ নেই। আমি এর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছি না।’ নিয়তি নিরুত্তরেই দাঁড়িয়ে রইল।
ঈশ্বর বললেন— ‘আমি এর বিহিত চাই।’ নিয়তি নিরুত্তর হয়ে রইল। ঈশ্বর বললেন— ‘আমি চাই একটিবারের জন্য কাল পিছিয়ে যাক। সমস্ত ঘটনাটি আবার আবার নতুন করে শুরু হোক।’ নিয়তি নীরবে সম্মতি দিল।
তাই আবার শুরু হল ঘটনাটি। আবার দেখা গেল ওই লোকটিকে সেই বিরাট সবুজ প্রান্তরে আপনমনে হেঁটে যাচ্ছে। আর ঠিক তার পরমুহূর্তেই দেখা গেল তার পিছনে পিছনে আসছে একটা প্রকাণ্ড দাঁতাল হাতি। ঈশ্বর লোকটির অর্থাৎ তাঁর সেই পরমভক্তের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ঈশ্বর তাকে বলতে এসেছিলেন যে— ‘তুমি যেমন হেঁটে চলেছো তেমনই চলতে থাকো সামনের দিকে। অন্য কোনোদিকে তাকিয়ো না। অন্য কোনো কিছুর দিকে মন দিয়ো না।’ কিন্তু সেই লোকটি ঈশ্বরকে দেখতেই পেল না। ঈশ্বর তাঁর অত কাছে এসে দাঁড়িয়ে রইলেন কিন্তু ঈশ্বরের কোনো কথা তার মনে এল না। কোনো অনুভূতিই তার হল না।
ঈশ্বর দেখলেন যে লোকটি তার দিকে না তাকিয়ে হঠাৎ পিছন ফিরে তাকালো। আর পিছনে তাকিয়েই দেখতে পেল সেই হাতিটিকে। আর তারপরেই প্রাণপণে ছুটতে লাগল সামনের দিকে। তার ইষ্টদেবতার নাম জপতে জপতে।
ঈশ্বর হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। আর দেখলেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিয়তি। নিয়তি ঠিক আগের বারের মতোই ওই লোকটি আর হাতিটির পিছনে ছিল।
নিয়তি ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসল। নিয়তির মুখে ওই সামান্য হাসির রেখা দেখেই ঈশ্বর বুঝতে পারলেন এরপর কী কী হতে চলেছে। আর তখনই ঈশ্বর নিজেকে নিয়ে গেলেন সেই কুয়োর মধ্যে। সেই মধু চুঁইয়ে পড়া মৌচাকের পাশটিতে। আর তখনই ঈশ্বর দেখতে পেলেন তিনি যা অনুমান করেছিলেন হুবহু তেমনই ঘটেছে। তাঁর সেই পরমভক্ত ঠিক আগের মতোই যেন তার প্রাণ হাতে নিয়ে ঝুলছে বটগাছটার ঝুরিটা ধরে ওই মৌচাকটির সামনে।। অর্থাৎ প্রথমবার যা যা যেমনভাবে ঘটেছিল এবারেও ঠিক তাই ঘটিয়েছে তাঁর এই ভক্তটি।
ঈশ্বর আরও যে দেখলেন তাঁর সেই পরমভক্ত লোকটি ওইভাবে ঝুলতে ঝুলতে মৌচাকের দিকে চলে আসছে। আর এইভাবে সে মাঝেমাঝেই এসে পড়ছে ওই মৌচাকের থেকে ঝরতে থাকা মধুর নিচে। আর তখনই সে জিভ দিয়ে চেটে নিচ্ছে তার মুখে এসে পড়া মধুটাকে। ঠিক আগের মতোই।
এই লোকটিই নিখিলবাবু। ঈশ্বরের পরমভক্ত।
ঈশ্বর মুখ নিচু করে একদৃষ্টে নিখিলবাবুর দিকে মুখের দিকে তাকালেন।
নিখিলবাবু কিন্তু ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতে পারলেন না। ঈশ্বর যে তাঁর এত কাছে এসেছেন তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। তিনি ওইভাবে ঝুলতে থাকলেন আর মাঝে মাঝে ওই মৌচাকের মধুর স্বাদ নিতে থাকলেন। অর্থাৎ নিখিলবাবুর ঈশ্বর সাক্ষাৎ হল না।
ঈশ্বর কিছুক্ষণ মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন নিখিলবাবুর পাশটিতে। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর মুখটি তুললেন। তাঁর মুখে ফুটে উঠেছে এক গভীর বেদনা।
ঈশ্বর তখন দেখলেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিয়তি। মুখে ম্লান হাসি।