




১
বাড়ি বদলের সময় ছাদ-বাগানের গাছগুলো আনা হয়নি। পুরনো বাড়িতে অনিয়মিত পরিচর্যা হত, জল পড়ত না… অযত্নে অবহেলায় গাছগুলো যেন মুষড়ে ছিল। সময় করে নতুন বাড়িতে নিয়ে আসতেই দেখি তারা ফুলের ভারে নুয়ে এসেছে, জুঁই, বেলি, রক্তজবা… গাছেদের কি মন নেই? তাদের কি অভিমান হয় না?
২
বসন্তের শুরুতে রাধাচূড়া ফোটে, শেষে কৃষ্ণচূড়া। আকাশে মেঘ উঠলে অপরাজিতা। বর্ষার রাত্তিরে নিশিপদ্ম, শরতের সকালে শিউলি। প্রত্যেক গাছের ফুল ফোটাবার নির্দিষ্ট সময় আছে। যেন মানুষের ছেলেমেয়ে। জানে কখন ফুল ফোটাতে হয়।
৩
যৌবনে যারা গাছে চড়ত তাদের এখন চুলের মধ্যে শিমুলের আঁশ। হাঁটুতে বাত, ঝুঁকে পড়ে হাঁটে। গাছগুলো আরও মাথা চাড়া দিয়েছে, অবশ্য যারা কাটা পড়েনি, মাথা বাঁচাতে পেরেছে। যত দিন যায় বন্ধুদের সংখ্যা কমে আসে।
৪
একটি কামিনী চারার জন্য গাছ-বিক্রেতা ন্যায্য দামের চারগুণ দাম চাইল। তার ছেলে নার্সারির অন্য গাছগুলোয় জল দিচ্ছিল। খোঁজ নিয়ে জানলাম সে স্কুলে পড়ে, ক্লাস নাইনে। দরদামে আমি চিরকালই কাঁচা। গাছ-বিক্রেতাটি আমায় বেমালুম ঠকিয়ে দিল। গাছ কিনে ফেরার সময় দেখি কামিনী চারাটি ফিকফিক করে হাসছে।
৫
গাছেদের কাছে থাকলে মানুষ বদলে যায়। আমি একজনকে জানতাম যে সব ঝড়ঝাপটা সহ্য করেও সোজা দাঁড়িয়ে থাকত। আশপাশের মানুষদের আড়াল করে রাখত। অবিকল গাছের মতো। মানুষটা নিজেও খুব গাছপালা ভালবাসত। দিনরাত গাছের পরিচর্যা করত। তার বাগান ভরে চন্দ্রমল্লিকা ফুটত। আরও কত ফুল। আরও কত ফল। মানুষটা ছিল আমার বাবা।