




দুহিতার প্রতি
সবাই বলে কৃষ্ণচূড়ো।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে -
লালটা গুলমোহর,
হলুদটা রাধাচূড়ো
আর বেগুনিটা জারুল।
লেকের চারপাশে
রঙিন জ্যৈষ্ঠ – আর,
ভালো করে খুঁজে দেখলে,
আমগাছে ধীরে ধীরে
পাকছে হিমসাগর।
সবুজ ছাউনির নিচে
সক্কালবেলা
যখন ভারহীন মনে
হেঁটে যাচ্ছি – তখন
কি একটা পড়ল
কাঁধে মাথায় কপালে।
একটা খয়েরী তরল উষ্ণতা
অকস্মাৎ ঢেকে দিল
চশমার ডান চোখটা।
বুঝতে সময় লাগল।
কয়েক সেকেণ্ড হয়তো।
কারণ
তুই বলেছিস
এসব তোর জীবনেই হয়।
আমার হয় না।
তুই বলেছিস আর
আমিও বিশ্বাস করেছি
একটু একটু।
হয়তো তাই ভালো লাগল
আকাস্মিক বিষ্ঠাবর্ষণ।
তুই তাহলে ভুল!
এ রকম আমারও হয়।
কোনো একটা পাখির
উপশম নেমে আসে
অনাহূত আকাশ থেকে।
আমাকে অলঙ্কৃত করে
জীবনের জরুরি জঞ্জাল।
আমি তো সহজ।
মাথা পেতে মেনে নিই
প্রকৃতি যা দেয়।
তুইও সহজ হবি একদিন।
হবি না?
সাইকেল দুর্ঘটনা
খুব জোরে দড়াম শব্দটা
তোমাকে এনেছিল বারান্দায়
আমায় তখন দেখলে
ঘোরের মধ্যে হাঁটছি
তুমি দেখলে রক্তস্রোত
আমার মুখ বেয়ে নামছে
তুমি দেখলে আমি
নিঃসঙ্গ শালিকের মতো
ফুটপাতে বসলাম
কিন্তু তুমি দেখতে পেলে না
তাকে
যখন তুমি ভেতরে গেলে
তোমার ফোনটা আনতে
আমি তখন তার কোলে
ক্লান্ত মাথা রেখেছি
তুমি দেখতে পেলে না
যে মৃত্যুর মধ্যেও
তার ভালোবাসার আলো
আমাকে ঘিরে রেখেছিল
তুমি জানলে না
যে মৃত বা জীবিত যাই হই
আমি বিপদমুক্ত
তুমি কি করে বুঝবে
জ্ঞান হারানোর আগে
স্মৃতির দীর্ঘ শিকল ভেঙে
আমার মুক্তির আস্বাদ