ISSN 1563-8685




চিঠিপত্র

Click below to read comments on other sections:

Translation Section
Rabindranath section
Buddhadeva Bose section
Satyajit section
Shakti section
Jibanananda section


Feedbacks on Shoili Pal's translation of Bibhutibhushan Bandyopadhyay's story: The Giver's Paradise (দাতার স্বর্গ)


চম্পাকলি আইয়ুব-এর স্মৃতিচারণা আমাদের রুমিদি

লেখাটির অপূর্ব বাঁধনের মন্ত্রবলে গোগ্রাসে সেটির আস্বাদ নিলাম। অনেক নতুন সুন্দর মানুষের সন্ধান পেলাম। মতানৈক্যের মাঝেই বন্ধুত্বের একতার ভাণ্ডারের নিদর্শন আজকের দিনকে যেন পথনির্দেশের বার্তা দেয়।

শশাঙ্ক (জুলাই ২০১৯; sasankai...@gmail...)


অজস্র স্মৃতি ফেরৎ নিয়ে এলো এই রচনাটি। লেখিকাকে ধন্যবাদ। 'চল নিরুপম তোমাকে গৌরীর কাছে নিয়ে যাই!' মনে পড়ে, যেন এই সেদিনের কথা--দময়ন্তীদি যেন স্মৃতির পাতা থেকে হঠাৎ আমার সামনে হাত নাড়েন! গৌরী মনে অবশ্যই শ্রীযুক্তা গৌরী আইয়ুব। আমরা যাই অতএব। পার্ক সার্কাস অঞ্চলের মিঠাই বলে বিখ্যাত দোকানটার কাছেই, একটা গলি: গৌরী আইয়ুবের ব্যবহারের স্নিগ্ধতা আমাকে ভুলিয়ে দ্যায় যে তাঁকে আমি আগে কখনো দেখিনি, পরেও নয়! স্মারক হিসেবে থেকে যায় স্বহস্তে লিখে আমাকে উপহার দেওয়া একখণ্ড 'পান্থজনের সখা', অনেক যত্নে যে বই আজও আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিদ্যমান।

এই যে আমার এত অজস্র কিছু জুড়ে ছিলেন দময়ন্তীদি, এই যে তিনি আজ হঠাৎ করে একদম নেই, এ যেন একটা নৃশংস প্রহসনের মতো অভিনীত হতে দেখি মাঝে মাঝে। এই যে সুদীর্ঘকালের পরিচিতি সত্ত্বেও কখনও আমি তাঁকে রুমিদি বলে ডাকিনি, কেন যেন মনে হয়েছে তাতে আমার চোখে তাঁর ধ্রুপদী মহার্ঘতা ক্ষুণ্ণ হবে! এই যে দৃশ্যান্তরে, পরবাসে প্রকাশিত আমার ব্রাসিল ভ্রমণকাহিনীটি প্রায় ভূতগ্রস্তের মতো লিখে আমি ছুটে যাচ্ছি তাঁর কাছে, তিনি মুগ্ধ হয়ে শুনছেন। এক তীব্র অভিমানে অনন্তকাল কবিতা লিখিনি আমি, তিনি আমায় ফিরিয়ে আনছেন কবিতার কাছে, সমর্পণ করছেন পরবাসে! আমার প্রতিটি লেখা তিনি শুধু পড়তেন না, কি যে অসম্ভব ভালোবাসতেন! তাঁর সেই অবিরল ভালোলাগার অভিজ্ঞানগুলি আমার স্মৃতিতে অটুট থাকে যেন, আমি তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার তাগিদ অনুভব করিনা।

বড় অনুযোগ করতেন যে ইদানীং সল্টলেকে তাঁর বাড়িতে আমি প্রায় আসিই না! শেষ দ্যাখা হয় তাঁর চলে যাওয়ার মাসখানেক আগে বুদ্ধদেব বসুর একটি স্মৃতি সভায়, বলেন, কাল তবে বাড়িতে এসো! আমি আসতে পারিনি।

তার পরে ঘুম থেকে উঠে একদিন রামি-দার, রামিন্দর সিং এর, হোয়াটসায়াপ বার্তা পাই। প্রায় যন্ত্রের মতো তাঁকে ফোন করি। বুঝতে পারি আমার চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। আমার কন্ঠস্বর রামি-দাকে বিচলিত করে। ওই তীক্ষ্ণধী মানুষটি বোঝেন যে আমি ভালো নেই! আমি ইমেল করি সমীর, অর্থাৎ পরবাস সম্পাদককে আর তাঁর সহোদরাপ্রতিম কেতকীদি, অর্থাৎ কেতকী কুশারী ডাইসনকে। আমার ফেসবুক পাতায় প্রায় দ্বিশতাব্দী প্রাচীন এক কণ্ঠস্বর যেন আপনা থেকেই বলে ওঠে: তুমি অনন্ত নব বসন্ত অন্তরে আমার!

রচনাটিতে একটি তথ্য হয়তো একটু অসম্পূর্ণ। নিয়ান, যে আজ তন্নিষ্ঠা রেয়া নামে স্বনামধন্য অধ্যাপিকা, সে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমে যায় কানপুরে হাইস্কুল শেষ করার পরে, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রী হিসেব, ও পরে ডক্টরেট করে ফিলাডেলফিয়ায় পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেইসব দিনগুলোরও তো কত মহার্ঘ স্মৃতি জড়িয়ে আছে আজও!

নিরুপম চক্রবর্তী (জুলাই ২০১৯; nchak...@gmail...)


ভাস্কর বসুর প্রবন্ধ পালামৌ ও প্রতিভার ‘গৃহিণীপনা’

বিশাল তথ্য আহরণ করে লেখা যে সুচিন্তিত প্রবন্ধখানা পড়লাম, এতেই 'গৃহিণীপনা'র সুন্দর উদাহরণ পাওয়া গেছে। 'পালামৌ' তো ঠিক ভ্রমণকাহিনী নয়, এ যেন বনেদি ঘরের বৈঠকখানার অম্বুরি তামাকের ধোঁয়ার সাথে মজলিশী আসরের জমাটি উপাখ্যান। সঞ্জীবচন্দ্র অজস্র জ্ঞানদান করলেও পালামৌ কাহিনীর আসল নির্যাসটুকু হল - 'মেজাজটাই তো আসল রাজা, আমি রাজা নই'। তাই ছদ্ম-গর্বে সরলভাবে তিনি স্বীকার করেন--লোকটি যে ভাবিয়াছে আমি বাঘ মারিলেও মারিতে পারি, ইহাতেই আমি কৃতার্থ হইলাম। অবাক করা তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা; যেভাবে লাতেহারে একশিলা পাহাড়ের গায়ে গাছটি দেখে তিনি বলেন - গাছটি কত রসিক, শুষ্ক পাথরের বুক থেকে রস আহরণ করে নেয়। পরে এই রসিক খ্যাতিটি তিনি বিধাতাকেই দেন - ঠিক যেন যেন ব্লেকের 'Tyger' কবিতায় বাঘ আর মেষের একত্র অস্তিত্বের কৃতিত্ব যেমন ঈশ্বরকে দেওয়া হয়। পালামৌ-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সঞ্জীবের স্বসৃষ্ট কিছু বিখ্যাত বাগধারা - 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে', 'এতগুলি যুবতী একত্রে হাসিলে হাইলন্ডের পল্টন ঠকে', 'বিদেশে বাঙালিমাত্রেই সজ্জন', তার সাথে সেই মজার সংযোজন - 'প্রতিবেশীরাই দুরাত্মা'। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় 'ভ্রান্ত-বিজ্ঞান' হলেও প্রতিধ্বনি নিয়ে তাঁর পরীক্ষাটুকুও মন্দ নয়, অনুকরণপ্রিয় উলঙ্গ শিশুর ভিক্ষা চাওয়ার দৃশ্যটিও অভিনব। তাহলে 'গৃহিণীপনা'র অভাব কোথায়? ভাস্কর একদম ঠিক ধরেছেন, পালামৌ ভ্রমণকাহিনী হিসেবে structured নয়, এটাই রবীন্দ্রনাথের চোখে পড়েছিল, আর তার কারণ, তখনও মুজতবা আলী সায়েবের জন্ম হয় নি!

পল্লব কে চ্যাটার্জী (জুলাই ২০১৯; chatter...@yahoo...)


ঈশিতা চক্রবর্তী-র গ্রন্থ আলোচনা জীবনযোদ্ধা না কি ভাঙা স্বপ্নের নায়িকা-- কোন জন সত্যি?

ঈশিতা চক্রবর্তীর এই লেখাটিতে স্বনামধন্য অভিনেত্রীর আত্মকথা বিশ্লেষিত হয়েছে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা ও এ সমাজে অভিনেত্রীদের জীবনের লড়াইকে অনুপুঙ্খ ভাবে দেখার মধ্যে। অত্যন্ত ঋজু, সংবেদনশীল লেখা।

বর্ণালী পাইন (জুলাই ২০১৯; barnali...@gmail...)


রূপোলী পর্দায় যাঁদের অভিনয় দেখে আমরা মোহিত হয়ে যাই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে কত দুঃখ লুকিয়ে আছে জানা গেল। নটী বিনোদিনী দাসীর জীবন কথা পড়লে যেমন চোখে জল আসে, এ ক্ষেত্রেও তাই হল। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যাযয়কে আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

মধুমিতা ব্যানার্জী (জুলাই ২০১৯; madhumitab...@gmail...)


খুব সুন্দর। মন ছুঁয়ে যায়।

সৌগত ভট্টাচার্য (জুলাই ২০১৯; b.saug...@gmail...)


অংকুর সাহা-র প্রবন্ধ মার্কেস অনুবাদের অভিজ্ঞতা -- গ্রেগোরি রাবাসা

রাবাসার মূল বইটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, তবে অংকুর সাহার অনুবাদ বেশ লাগল। ঝরঝরে অনুবাদ, একটানা পড়ে ফেলাই যায় আরাম-সে, কোথাও হোঁচট না খেয়ে। দারুণ কাজ। অংকুর সাহা আরও অনেক বইয়ের অনুবাদ করবেন আর পরবাসের পাতায় সেসব পড়ে ফেলব এভাবেই অনায়াসে বিনা হোঁচটে - এমন আশা নিয়ে বসে রইলাম।

সৌম্যেন ভট্টাচার্য (জুলাই ২০১৯; bookman...@yahoo...)


জয়দীপ মুখোপাধ্যায়-এর ধারাবাহিক স্মৃতিকথা সব কিছু সিনেমায়

অসাধারণ লাগল। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল সেই সময়ে চলে গেছি। এক শিল্পীর চোখে দেখা ও লেখা চিত্র পরিচালকের।

সৌমেন দত্ত (জুলাই ২০১৯; soumen...@yahoo...)


চম্পাকলি আইয়ুব-এর প্রবন্ধ প্রকৃতি বিজ্ঞানী রতনলাল ব্রহ্মচারী

ডঃ রতনলাল ব্রহ্মচারী সম্বন্ধে চম্পাকলি আইয়ুবের লেখাটি আমার অত্যন্ত ভালো লাগলো। লেখিকা সহজ ভাবে ডঃ ব্রহ্মচারীর বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ সাধারণ পাঠকের কাছে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেটা বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। লেখাটি আমাকে চকিতে প্রায় চল্লিশ দশক পিছনে নিয়ে চলে গিয়েছিল। আমি একবার ডঃ ব্রহ্মচারীর গবেষণা কাজের বক্তৃতা শুনেছিলাম, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর অডিটোরিয়ামে। তখন আমি সায়েন্স কলেজে এম.এস.সি ফিজিক্স-এর ছাত্র । ওই বক্তৃতা সম্বন্ধে দু চার লাইন লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না।

'elephant dung' এর উপর, আফ্রিকাতে গবেষণা করতে গিয়ে উনি নানারকম যে-সব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন সে বিষয়ে ছাত্রদলের কাছে এটি ছিল ওনার একটি popular lecture. উনি বেশ কিছু film তুলেছিলেন সেটাও projector-এর মাধ্যমে স্ক্রিনে দেখিয়েছিলেন বক্তৃতার সাথে। তখনকার সময়ে এই ধরনের উপস্থাপনা খুব সহজসাধ্য ছিলনা। বক্তৃতাটি ভীষণ আকর্ষণ করেছিল আমায়; সেই কারণেই চম্পাকলি আইয়ুবের লেখাটি উসকে দিয়েছিল আমার চল্লিশ বছর আগের স্মৃতিকে। আমার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল ওনার দেখানো 'bison migration'-এর ছবি; তার সঙ্গে ওনার প্রাণবন্ত বর্ণনা। "নিচে মানুষ-সমান সবুজ ঘাসের প্রান্তর, উপরে নীল আকাশ, মাঝে চলছে শত শত বাইসনের দল ঠাঁই বদল করতে, যেন ধূসর রঙের চলমান রেখা" -- এই রকমই সুন্দর বর্ণনা শুনেছিলাম সেদিন প্রকৃতি বিজ্ঞানীর মুখে। আরো অনেক আকর্ষণীয় তথ্য বলেছিলেন, তার মধ্যে Kenneth Kaunda ( যিনি পরে জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন) political কাজে রাতে জঙ্গল পার হতে গিয়ে সিংহের সামনে পড়ে, বুদ্ধির জোরে কিভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন সে গল্প‌ও ছিল। আফ্রিকার গভীর জঙ্গলে দূরের রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে পাছে হিংস্র জন্তুর (প্রধানতঃ সিংহ) হাতে যাতে না পড়তে হয় সেই জন্য কিছু দূর অন্তর ছোট ছোট আশ্রয় ঘর করা থাকতো। মানুষেরা দল বেঁধে এক আশ্রয় থেকে আর এক আশ্রয়ে দ্রুতপায়ে পার হয়ে শেষ গন্তব্যে পৌঁছতেন। মিঃ কাউন্ডা এইরকম দুটি আশ্রয়ের মাঝে এক সিংহের কবলে পড়েন একবার। ওনার হাতে সম্বল একটি ছাতা আর একটা টর্চ। সামনে দশ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে একটি পরিণত সিংহ। কি করবেন ভেবে না পেয়ে উনি হঠাৎ প্রচণ্ড চিৎকার করে লাফিয়ে উঠে ছাতাটা খুলে ধরলেন সিংহের সামনে। ফল পেলেন হাতে হাতে, সিংহটি ভয় পেয়ে উল্টো দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা বলার পিছনে ওনার উদ্দেশ্য ছিল যে যেকোনো বন্য জন্তুর সামনে যদি abruptly কোন change করা হয় তাহলে ওরা ভয় পেয়ে যায়। লাফিয়ে উঠে ছাতাটা হঠাৎ খুলে দিয়ে চিৎকার করাতে সেই কাজ হয়েছিল। কি অপূর্ব কথা বলার ভঙ্গি আর বর্ণনা যা আজও আমার মনে গেঁথে আছে। প্রায় চল্লিশ বছর আগে শোনা আর‌ও অনেক কথা, সব মনে নেই আজ। ওনাকে একবার‌ই দেখছি আমি, কিন্ত একটা বক্তৃতা যে মনে এমন দাগ কেটে দিতে পারে সেটা ডঃ ব্রহ্মচারীর সান্নিধ্যে না এলে অজানা থেকে যেত। উনি আমাদের মধ্যে নেই আজ, কিন্তু ওনার কাজ প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে এবং থাকবে, চম্পাকলি আইয়ুবের লেখাটি পড়ে তার কিছুটা অনুমান করতে পারলাম। ওনার সম্বন্ধে আরও তথ্য জানতে আগ্রহী রহিলাম। সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই ডঃ ব্রহ্মচারীর উদ্দেশ্যে।

সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় (জুলাই ২০১৯; supriyo...@gmail...)


কমলিকা সান্যাল-এর ছোটোদের গল্প চেতনের সুর

খুব মৌলিক রচনা। পড়ে বেশ আনন্দ পেলাম। ভবিষ্যতে এই লেখিকার লেখা আরও পাব আশা করি।

'গল্পের কাঙাল' (জুলাই ২০১৯; meetpar...@gmail...)


অতনু দে-র তিনটি গল্প অন্ধকারে; ঘুষ; দুই বুড়োর আখ্যান

Hilarious, pleasing with surprising twists in each. And the language! Makes me fall in love with my tongue again and again! Thanks for writing, mate!

Tapan Mozumdar (জুলাই ২০১৯; tapanmozumdar@gmail...)


অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়-এর গল্প অপরাহ্নে

লেখাটা দারুন লাগলো।

বিদ্যুৎ কে. মজুমদার (জুলাই ২০১৯; bidyut...@yahoo...)


যশোধরা রায়চৌধুরীর কবিতা অন্ধকার সিরিজ

সিরিজ নয়, আমি এটিকে একটি অখণ্ড কবিতা হিসেবে পাঠ করলাম। পাঠক হিসেবে এ কবিতা আমাকে অত্যন্ত তৃপ্ত করেছে। গাঢ় অন্ধকার থেকে মানব জন্মের ঘরে কখন এসেছি, না এলেই ভালো হত অনুভব করে, বলেছিলেন জীবনানন্দ, কিন্তু সে অন্ধকার ছিলো কবির অন্তরাত্মায়, সে বিষাদ ছিলো, জীববিজ্ঞানের পরিভাষায়, জেনোটাইপ। এই কবিতা তার অন্ধকার শোষণ করেছে প্রতিবেশ থেকে, ব্যক্তিগত অন্ধকার হয়ত আছেই, কিন্তু এই কবিতাটির তমিস্র অবয়বটি যা ধারণ করে আছে তা সেই বিষাদের ফেনোটাইপ। অজস্র ভয়াবহতা আজ রাহুগ্রাসে ঘিরে আছে তাঁর জন্ম চরাচর, এই কবিতা মনে হয় সেই অন্ধকারে, আগ্রাসী হওয়ায়, এক আতংকিত কবি মানসের অসহায় বিচরণের উপাখ্যানসম। হতেই পারে কবিতাটি আমি বুঝতে চেয়েছি আমার নিজস্ব জাগতিক বীক্ষণের সঙ্গে অন্বিত করে। তবু, এই বুঝতে পারাটা ভুল নয় বোধহয়; একটা কবিতা নানান ভাবে বোঝা যেতে পারে: শেষ কথা কে বলবে?

নিরুপম চক্রবর্তী (জুলাই ২০১৯; nchak...@gmail...)


নিরুপম চক্রবর্তীর দুটি কবিতা

কবিতা তো প্রধানত শব্দ ও ছন্দের খেলা। সেই দুই খেলাতেই তুখোড় কবি নিরুপম চক্রবর্তী। এই দুটি কবিতার জন্য অশেষ ধন্যবাদ কবিকে।

তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী (জুলাই ২০১৯; trinanjan...@gmail...)


ফিনল্যান্ডঃ প্রথম কবিতাটিতে হ্রদের নীল জল, নীল আকাশে শাদা মেঘ, সূর্যাস্ত, জলজ গুল্ম, দাঁড়টানা নৌকার ছপছপ শব্দ এক অপূর্ব দৃশ্যকাব্য রচনা করে। এ সবের মধ্যেও এক নশ্বর জীবনের অবিনশ্বর রহস্যময়তা মুগ্ধ করে।

নাচঃ শৈশব কৈশোর যৌবনের ভালোলাগা ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী। সেসময়ে পারিপার্শ্বিক বিচার্য থাকে না হয়ত। কিন্তু এই সময়ে এই পরিণত বয়সে চারিদিকের ঘটনাবলী ভয় দেখায়। বিপন্ন বোধ করি আমরা ।

সুচরিতা (জুলাই ২০১৯; bisucharita@yahoo...)


দুটিই চমৎকার। শীতের দেশ ফিনল্যান্ডে সূর্যকে একটু ম্লান বিষন্ন, বিদায় দুঃখে ম্লান লেগেছে গোধূলী বেলায় কবির কাছে। কিন্তু নতূন সৃষ্টির আনন্দে কবি এবং সূর্য চিরউজ্জ্বল। নাচ কবিতায় ছেলেবেলার রোমাঞ্চকর স্মৃতি উদ্রিক্ত। কিরীটী রায়, ব্যোমকেশ, জয়ন্ত-মানিক এবং পরে পরাশর বর্মা, ফেলুদা, শবর, কাকাবাবু, চিরযুবক, হিরকখচিত উজ্জ্বলতায় অমর। জীবনে আলো আসুক।

কঙ্কন ভট্টাচার্য (জুলাই ২০১৯; kankan...@gmail...)


পল্লব বরন পাল-এর দুটি কবিতা

অসামান্য কবিতাদুটি নতুন করে ভাবতে শেখায়।

রঞ্জন চক্রবর্তী (জুলাই ২০১৯; Ranjan...@yahoo...)


শান্তনু সরকার-এর রম্যরচনা লা দোলচে ভিতা

ভালো লেগেছে। আজ অনলাইনে লা দলচে ভিতা আব্বার দেখলাম। রোমে গেলে ঐ প্রথম ফোয়ারাটি নিশ্চয় দেখব, অ্যার পকেট সামলে চলব।ঃ))

রঞ্জন রায় (জুলাই ২০১৯; ranjanr...@gmail...)


রাহুল মজুমদার-এর ভ্রমণ নিশ্চিন্তে চিন্তা ফু

বেড়ানো-কথা ঢের পড়েছি কিন্তু এ লেখা এক্কেবারে অন্যরকম। সঙ্গে মায়াবি স্কেচ। তবে শেষে বেড়ানোর সুলুক-সন্ধান দু-চার কথায় দিলে মন্দ হতো না।

অরূপরতন (জুলাই ২০১৯; arupratan...@gmail...)


এই লেখায় অর্জুন শেরপা আমাদের বন্ধু ছিলেন। ওনার সাথে আমরাও চিন্তা ফু গিয়েছি। জানিনা লেখক জানেন কিনা, অর্জুন মারা গিয়েছে আজ প্রায় চার বছর হোল। শুধু সেটা জানানোর জন্য লিখছি।

চিন্তাফু নিয়ে আমিও লিখেছি। খুঁজতে খুঁজতে হটাৎ এই লেখাটা পাই। দারুন সুন্দর লেখা। আমার ব্লগের লিঙ্ক নীচে দিলাম। সম্ভব হলে দেখবেন।
https://www.travelsandclicks.com/blog/chhintafu

রমিত সেনগুপ্ত (মার্চ ২০১৯; ramitsen...@gmail...)


মুরাদুল ইসলাম-এর গল্প ভ্যানিটাজ

It is great writing. But the ending is not satisfying.

Abdullah al Baki (জুলাই ২০১৯; abdullahalbaki...@gmail...)


দিবাকর ভট্টাচার্য-র গল্প অমর্ত্য

আবার দিবাকর ভট্টাচার্য। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে 'পরবাস'- এর উজ্জ্বলতার যে নক্ষত্র আমাকে বারবার বিহ্বলতায় ঝদ্ধ করেছেন। পাঠকের কল্পলোকের চারণভূমি বারংবার পথ ভুলেছে এই 'অমর্ত্য' গল্পে ও।

ও! জোনাথন সুইফট। না। ভুল। সমুদ্রঝড়ে ভেসে আসা এক পুরুষ এবং এক প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার এক নিঃশব্দ উন্মাদনা। 'চারপাশে নোনা জলের ঢেউয়ের মাঝে এক চিলতে জমি .....এতেই তাদের বসবাস। এভাবেই চলে এসেছে সেই নিস্তরঙ্গ জীবন।'

পুরুষদের সেই অসহায়, অচেতন পুরুষকে করুণা এবং উদ্ধার। এবার নারীরা। নারী করুণাময়ী, সেবাশুশ্রুষা তারাই পারে। আবার বাঁক নিলো গল্প। আমার মতন পাঠকের অসাধ্য এ লেখার আলোচনায় কলম ছোঁয়া। চিন্ময় গুহ-র মতো ব্যক্তিত্বের 'হে অনন্ত নক্ষত্রবীথি' যেখানে বলেন 'দিবাকর ভট্টাচার্যের ছোটগল্পগুলো না-চেনার অপরাধ আমাকে হেমন্তের রাত্রে তাড়া করে .........তাঁর লেখাগুলো কখনো আর্তনাদ, কখনো মন্ত্র.......রক্তমাংসের গভীর থেকে জেগে ওঠা ঘূর্ণি ..... জীবনমৃত্যুর গূঢ়তম দর্শন ।' বাকরুদ্ধ হই।

তো, নারীরা এলো এবং পরম মমতায় বাড়িয়ে দিল সেবার হাত। আক্ষরিক। চিন্তার স্বাধীনতার কাছে মানুষ সততই ভীষণরকম পরাধীন। সেদিনের সেই নারীরা তার মাঝে খুঁজে পেলো এক নতুন আকাশ, নতুন সমুদ্র, নতুন প্রাণ। আর? প্রায় সকলেরই সিক্তযূথীর গন্ধবেদনে বয়ে গেল এক তীব্র ভালবাসার লাভাস্রোত। কিন্তু না। ভালবাসার অক্ষমাংশ, দ্রাঘিমাংশ সব মেপে রাখা আছে। বাইরেরগুলো নিষিদ্ধ তাই পাপ, কিংবা পাপ তাই নিষিদ্ধ। এই গ্রহের স্নিগ্ধতা আর কদর্যতার মেলবন্ধনের রসজারিত সংস্কার, মানবমনের প্রভু। ভাবনার বুননে রঙিন চারণভূমিতে সেদিন পদ্মিনীরা পেয়েছিল শশক, চিত্রাণীরা পেয়েছিল মৃগ, শঙ্খিনীরা বৃষ.....।

নিরুত্তাপ, নিস্তরঙ্গ জীবনে এ-ই এক প্রবল ঢেউ। জগৎসংসার বলে নিষিদ্ধেই আনন্দ, বলে না বহু আনন্দই নিষিদ্ধ। নিয়মমতো জোয়ানমদ্দরা করলো সেটাই যুগযুগান্তর ধরে তারা যা করে এসেছে। সেই সন্ধ্যাতেই। আর সেই নারীরা? পরের দিন। 'আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী ব্যথার মাঝে ...' তাদের সূর্যোদয় এবং কালের নিয়মমতো ভেসে চলা। একজন। শুধু একজন অমোঘ বিশ্বাসে ছিল নৈঋতের উথাল ঢেউয়ে কোন এক মোম মোম আলোয় আবার ফিরে আসবে মথুরানগরপতি । বহু বসন্ত পর কী আশ্চর্য, হলো ও তাই। সেদিনের সেই যুবতী বধূ আজ বয়েসের ভারে জীর্ণ, নুয়ে পড়া বৃদ্ধা । অশক্ত শরীরে হাতের লাঠিতে ভর করে দীপ্তিময়ী তিমিরাভিসারিকা ওর কাছে এলো সমুদ্রতীরে। স্পর্শ করলো তাঁর কেশরাশি। হঠাৎ আলোর ঝলকানি। বহুকাল আগের সেই দিনটিতে ফিরে গেলেন সেই বৃদ্ধা আর এক উষ্ণ হাতের স্পর্শে। আমরা দেখলাম 'হয়নাকো জীবনের কোন রূপান্তর ।' এক চরমসত্যের মুখোমুখি পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেয় অপাপবিদ্ধ, ঈর্ষাহীন দুই অসমবয়সী নারী।

'.... এক অসুখে দুজন অন্ধ!
আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে
সমুদ্র তোর আমিষ গন্ধ ।'

আশিস ভট্টাচার্য (এপ্রিল ২০১৯; asish...@gmail...)


(আগের চিঠিপত্র)



(পরবাস-৭৫, ৩০ জুন ২০১৯)