




এটি একটি অবান্তর গল্প। কারণ এই গল্পের চরিত্রগুলি অবান্তর। তাদের কথাবার্তা অবান্তর। গল্পের শেষটাও অবান্তর। যাইহোক, গল্পে আসা যাক।
প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুমঙ্গলা যমজ পুত্রের জন্ম দিয়েই ইহলোক ত্যাগ করলেন। এদের ভিতর যে প্রথমে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলো তার নাম রাখা হলো প্রমোদ। আর যে পরে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল তার নাম ছিল প্রশান্ত। মাতৃহীন সন্তান বলে তারা প্রমথনাথের কাছে অনেক বেশি আদর আবদারে বড়ো হয়েছিলো।
কালের নিয়মে প্রমথনাথ একদিন পরিণত বয়সে দেহ রাখলেন। প্রশান্ত আর প্রমোদ তাদের বাবার শেষকৃত্য করে নিজের নিজের ঘরে চলে গেল। এরা দুজনেই অবিবাহিত ছিল। ঘরে গিয়ে তারা তাদের নিজস্ব জায়গায় এসে বসলো। তখন দিন শেষ হয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে।
এমন সময়ে প্রথম পুত্র অর্থাৎ প্রমোদের ঘরে নিঃশব্দে অযাচিতভাবে ঢুকেছিল একজন। প্রমোদ তখন ঘরে একা। সে এসে বসলো প্রমোদের ঠিক সামনেই। কিন্তু প্রমোদ যেন তাকে দেখতেই পেল না। সে যেমন নিশ্চুপে এসেছিল তেমন নিশ্চুপেই বেরিয়ে গেল প্রমোদের ঘর থেকে।
এইবার সে একইরকম ভাবে নিঃশব্দে ঢুকলো প্রশান্তের ঘরে। প্রশান্তও তখন ঘরে একা। সে এসে বসলো প্রশান্তের ঠিক সামনেই। প্রশান্ত আনমনে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়েছিল। এইভাবে প্রশান্ত একজনকে তার সামনে এসে বসতে দেখে, সরাসরি তাকালো তার মুখের দিকে। সেও কিন্তু প্রশান্তর চোখে চোখ রাখলো নীরবে। তারপর খুব নিচুস্বরে বললো— ‘আমি খানিক বাদেই চলে যাবো।’
প্রশান্ত নিরুত্তরে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। প্রশান্তর মুখের ভাবে মনে হলো যে সে ওকে থাকতেই বলছে। এর খানিকক্ষণ বাদে ও যখন চলে যাওয়ার জন্য উঠলো তখন প্রশান্ত ওর মুখের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে করে বললো— ‘যেও না।’ এইভাবে ও কতক্ষণ কতকাল বসেছিল প্রশান্তর কাছে কে জানে।
হঠাৎ একদিন ও প্রশান্তের ঘর থেকে বেরিয়ে (কি মনে করে কে জানে!) প্রমোদের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর ঢুকে পড়ল প্রমোদের ঘরে। সেই ঘরে ঢুকে ও দেখলো প্রমোদ এখন আর একা নেই। ঘরের ভিতরে কয়েক জন রয়েছে। আর কয়েক জন আসছে একে একে। প্রমোদ তাদের নিয়ে ব্যস্ত। ‘গৌরব তুমি এখানে এসো - তৃপ্তি তুমি এ পাশে দাঁড়াও - শোভা তুমি ওদিকে বসো - আনন্দ তুমি সামনে এসো...’ এইভাবে আরো কতজনকে সে ডাকতে লাগল আর কতজন যে এভাবে ওর ঘরে এসে জড়ো হলো তার হিসেব নেই। এইসবের মাঝে তাকে প্রমোদের চোখেই পড়লো না। তাই একটু বাদেই সে চুপচাপ ওই ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
বেরিয়ে এসে দাঁড়ালো আবার প্রশান্তর ঘরের সামনে। ওর মনে হলো প্রশান্ত ঘরে একাই আছে। ও একটু ইতস্তত করে প্রশান্তর ঘরে ঢুকলো। ঢুকেই বুঝলো ওর অনুমান সঠিক। প্রশান্ত ঘরে একা একা চুপচাপ বসে রয়েছে। মাথা নিচু করে। ওর খাটের উপর। ও প্রশান্তর ঘরে ঢুকে ঘরের এক কোণে এসে দাঁড়ালো। প্রশান্ত মাথা নিচু করে বসে ছিল বলে ওকে দেখতে পেল না।
ও নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে রইল। যেন পাথরের মূর্তির মতো। এইভাবে বেশ খানিকক্ষণ কেটে গেল। এইবার যখন ও চলে যাবে বলে ভাবছে ঠিক তখনই প্রশান্ত মুখ তুলে দেখতে পেল ওকে। আর ওকে দেখেই বলল ঠিক আগের মতোই বলল— ‘চলে গিয়েছিলে কেন? আর যেও না।’ ও ধীর পায়ে প্রশান্তর সামনে এল। প্রশান্ত আবার ওর চোখে চোখ রেখে বলল— ‘যেও না।’
এরপর থেকে ও প্রশান্তর ঘরে রয়ে গেল। বরাবরের মতো। প্রশান্তর ঘরে এরপর কেউ আসে নি। অর্থাৎ প্রশান্ত শুধু ওর সঙ্গেই রয়ে গেল। কিংবা ও রয়ে গেল একমাত্র প্রশান্তরই সঙ্গে। কারণ এইভাবে এর আগে কেউ ওকে ঠাঁই দেয় নি কোনোদিন। আর ওর ব্যাপারটা ছিল এইরকম যে কেউ যখন একা থাকতো তখন ও তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করত। কেউ ওকে ঠাঁই সহজে দিত না। যারা দিত তারাও খানিকবাদে চাইতো যে ও যেন তাড়াতাড়ি চলে যায়। কিন্তু প্রশান্ত ছিল এর ব্যতিক্রম। প্রশান্ত কখনো চায় নি যে ও চলে যাক। সেটা ও বুঝতে পেরেই রয়ে গিয়েছিল প্রশান্তর কাছে। ওর নাম ছিল বেদনা। (কি অবান্তর ব্যাপার! তাই না?)
এইভাবে বেদনা প্রশান্তর খুব কাছেই রয়ে গিয়েছিল বরাবর। এর মাঝে আরো দুজন এসেছিল প্রশান্তর ঘরে। এদের মধ্যে প্রথমে যে এল তার চেহারা অতি ভয়ঙ্কর। সে এসেই বেদনাকে দেখে অবাক হলো। বেদনা তার দিকে তাকিয়ে বললো— ‘কি ব্যাপার? তুমি?’ ওই ভয়ঙ্কর চেহারা যার সে বলল— ‘আমি ব্যাধি।’ বেদনা তার মুখের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে বললো— ‘তোমার কি এখানে আসার প্রয়োজন আছে?’ ব্যাধি অবাক হয়ে তাকালো বেদনার মুখের দিকে। বেদনা ব্যাধির চোখে চোখ রেখে খুব শীতলকন্ঠে তাকে জিজ্ঞেস করলো— ‘আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ তোমার আসার কি কোনো প্রয়োজন আছে?’ ব্যাধি বেদনার সেই গভীর দৃষ্টি সহ্য করতে পারলো না। তাই সে মাথা নিচু করে উত্তর দিলো— ‘আমি আসি।’ এরপর সেই ভয়ঙ্করজন যেমন নিঃশব্দে এসেছিল তেমন নিঃশব্দেই চলে গেল প্রশান্তর সামনে থেকে। (কি অবান্তর ঘটনা! তাই না)
এরপর এসেছিল আরো একজন। এর চেহারা অতটা ভয়ঙ্কর না হলেও খুব কঠোর তার মুখের গড়ন। সেও প্রশান্তর ঘরে এল নিশ্চুপে। আর বেদনাকে দেখে সে নিজে থেকেই বলল— ‘আমি জরা। আমাকে তো আসতে হবেই।’ বেদনা কোনো উত্তর না দিয়ে জরার মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকালো। ‘তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে তুমি চাইছো না যে আমি এখানে থাকি’ — বেদনার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল সে। বেদনা জরার চোখে চোখ রাখলো নিরুত্তরে। জরা বলল— ‘বেশ। আমি চললাম। কিন্তু তোমাকেও কিন্তু এবার এই লোকটিকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ বেদনা মুখ নামিয়ে খুব আস্তে করে যেন নিজেকেই বলল— ‘জানি।’ (কি অবান্তর চরিত্র! তাই না?)
এর কিছুদিন পরই প্রশান্তর ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো আরেকজন। এলো একেবারে নিঃশব্দে। মাঝরাতে। গভীর অন্ধকারে। বেদনা কিন্তু টের পেল এই আসাটা। বেদনা ইশারায় ওকে ঘরের বাইরে অপেক্ষা করতে বলল। তারপর প্রশান্তর মুখের কাছে মুখ এনে খুব আস্তে করে বলল— ‘এবার তো আমায় যেতে হবে।’ প্রশান্ত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো— ‘সেকি? কেন?’ বেদনা একইরকম আস্তে গলায় বলল— ‘আমার যে চলে যাওয়ার সময় এসে গেছে।’ প্রশান্ত বলল— ‘তা কি করে হয়?’ বেদনা কোনো উত্তর না দিয়ে প্রশান্তর মুখের দিকে তাকিয়ে ম্লান ভাবে হাসল।
প্রশান্ত সেই নিরুত্তরের সামনে নিজেকে বড়ো অসহায় বোধ করল। তখনই প্রশান্তর মনে হলো যে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এই বেদনা তার একান্ত সঙ্গী হয়ে আছে। এতকাল ধরে এতকিছুর মধ্যেও এই বেদনাকে সে কখনো চলে যেতে বলে নি। বরং দুহাতে আগলে রেখেছে তার নিজের ঘরটিতে। তাহলে সে এখন এইভাবে চলে যাচ্ছে কেন? এই কথাটা সে বেদনাকে জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল। বেদনার মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাকভাবে এই প্রশ্নটা করে প্রশান্ত তার চোখদুটি বন্ধ করল। তার বন্ধ চোখদুটির পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা উত্তপ্ত অশ্রুজল।
আর ঠিক সেইসময়ে বেদনারও মনে হচ্ছিল যে— ‘কেন চলে যাচ্ছো?’ — এই প্রশ্নটা যদি প্রশান্ত তাকে করে বসে তাহলে প্রশান্তকে সে কি উত্তর দেবে? কি করে উত্তর দেবে ? কারণ এর উত্তরটা জানলেও নিজের মুখে প্রশান্তকে জানানো বেদনার পক্ষে অসম্ভব। এই কথাগুলো যখন বেদনার মনে হচ্ছে সেইসময়ে সেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি নিঃশব্দে ঢুকে পড়লো প্রশান্তর ঘরে। এসে দাঁড়ালো প্রশান্তর সামনে। এসেই সে বেদনাকে দূরে চলে যেতে ইঙ্গিত করল।
বেদনা প্রশান্তর সামনে এসে ওর মাথায় আলতো করে হাত রাখলো। তারপরই মুখ নিচু করে সরে এল প্রশান্তর কাছ থেকে। বেদনা এইভাবে প্রশান্তর থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরই ওই ব্যক্তিটি প্রশান্তর মুখের সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রশান্ত চোখ বন্ধ করেই ছিল। তাই সে বুঝতে পারে নি যে বেদনা এইভাবে তার থেকে দূরে সরে গেছে, আর তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে অন্য আরেকজন।
এই অন্য আরেকজন ব্যক্তিটি যেন খুব সন্তর্পনে কিন্তু অতি যত্নে হাত রাখলো প্রশান্তর বন্ধ চোখদুটির উপর। প্রশান্ত চোখ দুটি আর খুলতে পারলো না। যেন এক গহন অন্ধকারে ডুবে গেল তার চেতনা। এরপরেই প্রশান্তর শরীর একবারে নিঃস্পন্দ এবং ক্রমশ শীতল হয়ে গেল। কারণ যে ব্যক্তিটি এইভাবে মাঝরাতে প্রশান্তর সামনে এসেছিল তার নাম মৃত্যু। (কি অবান্তর কথা! তাই না?)
বেদনা দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখলো। তারপর চলে গেল। বেদনা এতকাল ধরে প্রশান্তর সঙ্গে একান্তে থাকলেও প্রশান্তর শেষ সময়ে বেদনা তার থেকেও অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। মৃত্যু প্রশান্তকে তুলে নিলো বেদনাহীনভাবে।
বেদনা এরপর গেল প্রমোদের ঘরে। সেখানে গিয়ে দেখলো প্রমোদ ঘরে একা। সে নিজের মনে বলে যাচ্ছে— ‘গৌরব তুমি কোথায়? তৃপ্তি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন? শোভা তুমি কোথায় আছো? আনন্দ তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?...’ ঘরে কিন্তু এরা কেউ নেই। বেদনা ঘরে ঢুকতেই প্রমোদ বলে উঠলো— ‘কে এলে? শোভা? তৃপ্তি? না আনন্দ?’ বেদনা শান্তকন্ঠে বলল— ‘আমি ওদের কেউ নই। আমি বেদনা।’
প্রমোদ কাতরভাবে বলল— ‘বেদনা? কেন? আমার কাছে বেদনা আসছে কেন?’ বেদনা একই রকম শান্তস্বরে উত্তর দিলো— ‘কারণ এখন আমাকে যে তোমার কাছেই থাকতে হবে।’ প্রমোদ আরো আর্তভাবে বলল— ‘সে কি? কেন?’
বেদনা প্রমোদের কথার উত্তর দেওয়ার আগেই দেখা গেল অন্য কেউ ওই ঘরে ঢুকেই বলল— ‘আমাকেও এখন থেকে তোমার সঙ্গে থাকতে হবে।’ প্রমোদ উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল— ‘তুমি কে?’ হঠাৎ করে ঢোকা ব্যক্তিটি বলল— ‘আমি ব্যাধি।’ প্রমোদ দেখলো একটা ভয়ঙ্কর দেখতে ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে। প্রমোদ আতঙ্কিত হয়ে ব্যাধির দিকে তাকালো।
ঠিক তখনই আরো একজন নিঃশব্দে প্রবেশ করলো ওই ঘরে। আর সেই ঘরে প্রবেশ করেই সে প্রমোদের সামনে এসে বলল— ‘এখন থেকে আমিও থাকবো তোমার সঙ্গে।’ প্রমোদ দেখলো এই ব্যক্তির মুখটি অতি কঠোর। প্রমোদ তাকে সভয়ে জিজ্ঞেস করলো— ‘তুমি কে?’ কঠিন কন্ঠে উত্তর এলো— ‘আমি জরা।’
প্রমোদ যেন নিজের মনেই বলে উঠলো— ‘তাহলে শোভা, তৃপ্তি, গৌরব, আনন্দ ওরা সবাই কোথায় গেল? ওরাই তো ছিল এতকাল আমার পাশে। ওদের কাউকে আর দেখছি না কেন?’ জরা উত্তর দিলো— ‘ওদের কাউকে আর দেখতে পাবে না তুমি। ওরা সবাই চলে গেছে?’ প্রমোদ প্রায় আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করলো— ‘চলে গেছে? কেন? আমি তো ওদের কাউকেই চলে যেতে বলি নি।’
‘ওরা তোমার বলার অপেক্ষা করে না। ওদের তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময় এসে গেছে।’ —খুব শীতলকন্ঠে উত্তর দিয়েছিল জরা। ব্যাধি পাশ থেকে বলেছিল— ‘ওরা কখনো বরাবরের জন্য তোমার কাছে আসেনি।’ প্রমোদ কাতরভাবে বলল— ‘তাহলে? তাহলে কে থাকবে এখন আমার কাছে?’ ব্যাধি ও জরা উত্তর দিলো— ‘আমরা।’ বেদনা পিছন থেকে বলল— ‘আর আমিও।’
এইসময় দেখা গেল কেউ একজন প্রমোদের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জরা আর ব্যাধি তাকে দেখে বোধহয় চিনতে পারলো। ওরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলল— ‘আরে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন? এসো-এসো - ভিতরে এসো।’ প্রমোদ আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো— ‘ও আবার কে?’
বেদনা প্রমোদের খুব কাছে এসে উত্তর দিলো— ‘ওকে নিয়ে এখন ভেবো না। ও এখন আসবে না।’
প্রমোদ যেন একটু স্বস্তি পেয়ে বলল— ‘সত্যি?’ বেদনা বলল— ‘অবশ্যই। এখন এখানে আমাকে থাকতে হবে। এই জরা আর ব্যাধির পাশাপাশি। তোমার খুব কাছে কাছে। বেশ কিছুকাল।’
‘তার মানে?’ —জিজ্ঞেস করলো প্রমোদ।
ব্যাধি উত্তর দিলো— ‘তার মানে খুবই সহজ। এবার থেকে আমরা মানে আমি বেদনা আর এই দুজন ব্যাধি আর জরা তোমার খুব কাছেই থাকবো। তারপর আমিই ওকে ডেকে আনবো।’
প্রমোদ উৎকন্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো— ‘আবার কাকে ডেকে? কেন আনবে?’ কখন আনবে?’
জরা উত্তর দিলো— ‘তোমাকে অত ভাবতে হবে না। ওর যখন আসার সময় হবে তখন আমি ঠিক টের পাবো।’
প্রমোদ জিজ্ঞেস করলো— ‘কিন্তু কে ও? কেনই বা আসবে?’
বেদনা প্রমোদের চোখে চোখ রেখে খুব আস্তে করে বললো— ‘ও এক স্বেচ্ছাচারী। ও এখন তোমার ঘরে উঁকি মেরে চলে গেল। এরপর ওর যখন ইচ্ছে হবে তখনই ও আসবে এখানে। আমরা সবাই মিলে নিয়ে আসবো ওকে তোমার কাছে। ততক্ষণ আমরা তোমার কাছেই আছি।’
প্রমোদ বেদনার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল— ‘কিন্তু বলছো না কেন কে ও?’
বেদনা প্রমোদের মুখের খুব কাছে মুখ এনে বলল— ‘ওর নাম মরণ।’ (কি অবান্তর গল্প! তাই না?)