• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৪ | অক্টোবর ২০২৬ | গল্প
    Share  
  • ডুমস্ক্রোলিং : যশোধরা রায়চৌধুরী

    আপনাদের বাপের বাড়িতে ওটা কী হয় বৌদি পোতি গুরুবার করে?

    কোনটা?

    ঐ যে ছিরামপুর যান হন্তদন্ত হয়ে রিশকা ডাকিয়ে? টিপিন গুচিয়ে? অতগুলো সেন্ডুচ আর বড় ফেলাস্কে চা?

    তুমিও তো গেছ মালতী একবার? যাওনি?

    গেচি তো। একবার কেন, দু চারবার তো গেলাম। বাবা কত লোক! কাগজের কাপে কাপে চা-কফি দেলাম। জোরে জোরে মন্তরপাঠ হচ্ছিল। শেষে খাবার। দইবড়া করালেন না একবার?

    হ্যাঁ। তাই তো।

    আপনার বাবার গুরুকরণ হয়েছিল বুঝি? আহা মেসোমশাই বড় ভাল নোক। তো, ওঁদের ওই যে কীসব পাঠ করে, বই দেকে, নামগান করেন বুঝি? আপনাদের গুরুভাই ওরা?

    তা একরকম গুরুভাই-ই বটে গো মালতী, গুরুর কেত্তনই করতে যাই।

    কোনখেনে আপনাদের আশ্রম?

    আশ্রম তো অনেক। একখানা আছে বীরভূমে। সেই শান্তিনিকেতন। রবি ঠাকুর।

    হি হি। আমাকে ঠকাচ্চেন। রবি ঠাকুর, দাড়ি আছে, ওটা তো ইশকুলে হয় বোশেখে। রবিপুজো।

    গুরুর থান কি আর একটা? অনেক আছে। আরেকটা আছে কলকাতায়। কলেজ স্ট্রিট কফি হাউজ।

    জন্মে দেকিনি বাপু গুরুভায়েরা নামগানের আসর কচ্চে আর তাতে চা কফি কাটলেট খাচ্চে। আপনাদের নেকাপড়া জানাদের সব কেমন আলাদারকমের।

    হে হে, মালতী, এখন আমার টিফিনটা গোছাও দেখি। দেরি হয়ে যাবে তো।

    আগামীকাল আবার আছে। শততম আসর। কবিতা পত্রিকা "জিরাফ"-এর কবিতাপাঠের আসর। জিরাফের আসল সম্পাদক আমার বাবা ছিলেন। ব্রেন হেমারেজের পর বাবা অনেক কিছুই ভুলে ভুলে যান। এখন কার্যনির্বাহী সম্পাদক অলোকেন্দু। অলোকেন্দু ঘোষ। একটা সরকারি স্কুলের শিক্ষক বলেই শুধু না, চারিদিকে অনেকগুলো চোখ, কান ওর খোলা থাকে। মূল কথা, বাচ্চা কবিদের ব্রিগেডকে ও সঙ্গে রেখেছে।

    শ্রীরামপুরে আমার বাবার বাড়ির নিচে যে লম্বাটে হলঘরটা আছে, সেখানে কুড়ি বাইশটা লাল চেয়ার পেতে, চারিদিক থেকে কবিদের ডেকে নিয়ে চলে। মেঝেতে সাদা ফরাস। চেয়ারগুলো সম্প্রতি কেনা। আগে সবাই ফরাসে বসতাম। এখন অনেকেরই হাঁটু অচল। মেঝেতে আসনপিঁড়ি হয়ে বসতে পারে না। পাশেই মালতীর ভাষায়, লাল পার্টির অফিস। সে প্রায় বন্ধ হবার জোগাড়, ওখান থেকেই চেয়ারগুলো বাবাকে দিয়ে বলিয়ে আনিয়ে রেখেছিলাম। একটার ওপর আরেকটা করে রাখা থাকে অন্য সময়ে। বৃহস্পতিবার করে করে বের হয়। মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার কবিতার আসর। কিন্তু তা নিয়েও বিস্তর ঘোটালা। মেজ ও ছোট কবিদের কে ডাক পাচ্ছে আর কে পাচ্ছে না, তা নিয়ে বেজায় ঝামেলা চলে। সবাই আজকাল আসতেও চায় না, বাড়িতে বসে বসবার ঘরে নিউজ দেখার টিভির থেকে যখন প্রোমোশন পেয়ে টিভি শোবার ঘরের দেওয়ালে বড় ফ্ল্যাটস্ক্রিনে যেই গেল, বিছানায় গড়িয়ে টিভি দেখা আরম্ভ হয়ে গেল যেই। এখন তো আরো ভাল। হাতের স্মার্টফোনে দেখে নিচ্ছে জমজমাট সিরিজ। ফলে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে, কষ্ট করে আরেকজনের বাড়ি গিয়ে কবিতা শোনা? কী বা প্রয়োজন? নিজের কবিতা পড়া থাকলে তবু হয়। বিখ্যাত কেউ এলে টেলে আলাপ করার ভিড় হয়। ফালতু অন্য লোকাল কবির কবিতা শোনা মানে একেবারেই সময়টাকে কালের গর্ভে বিসর্জন দেওয়া।

    মালতী ভেবেছে এইটে গুরুভাইদের নামগানের আসর। তা খুব মন্দ বলেনি। একেক কবি, কেমন উদাত্ত স্বরে চেঁচিয়ে ভাব দিয়ে পড়েন। প্রতিটা শ্বাসাঘাত, যতি, প্রতিটা লাইনের শেষ দু অক্ষরের অন্ত্যমিল, সব মিলিয়ে চমৎকার হয়। কেউ কেউ গলায় অদ্ভুত জোর দেন, কেউ বা সুর করে ওপরে নিচে খেলিয়ে দেন গলা। ভাল করে মানে বোঝা যায় না কোন শব্দের। কিন্তু সুরটা তো মন্দ হয় না... সব মিলিয়ে কীর্তন ভেবে নিতে ক্ষতি কি। অলোকেন্দুর কাগজ, বাবা ধড়লক্ষণের মতন সামনে থাকেন। ধরে ধরে ওরাই দোতলা থেকে নামায়। ধোপদুরস্ত কড়কড়ে ধুতি পাঞ্জাবি পরে নামতেন এই কিছুদিন আগেও। এখন হাফশার্ট আর ইস্তিরি করা বড় ঘেরের পাজামা। বাবার ঘিয়ে পাঞ্জাবি, সাদা পাজামা কেনা হয় বছরে দুবার, আমিই কিনি। একবার পয়লা বৈশাখে একবার ঐ পুজোয়।

    প্রায় প্রতি আসরে আসেন অন্তত একজন বাইরের অতিথি। মুখরোচক স্ন্যাক্সের বন্দোবস্তও আমিই করি। কাছাকাছি শ্বশুরবাড়ি হয়ে এই এক সুবিধে। আমার বর এসবে না থাকলেও, নিরুৎসাহ করেনি কখনো। আর একলা বাবার সংসারে তো এসব করার কেউ ছিল না। কাব্যবাসনা ছিল আমার, পুরনো বন্ধুরাও আছে ওই পাড়ায়... টান আছে তাই। আমি যাই, বড় দুটো ফ্লাস্কের একটাতে চিনি ছাড়া লিকার চা আর একটাতে দুধ চিনি দিয়ে কফি করে নিয়ে। কাগজের কাপ কিনে এক গাদা, বাবার ঘরেই রেখে দিয়ে আসি। বাইরে থেকে সিঙাড়া মিষ্টি আনা হতো আগে অনেক সময়েই, কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণে তাতেও অসুবিধে কারুর কারুর। মিষ্টি খাওয়া বারণ প্রায় সকলের। সুগার ফ্রি দিয়ে ছানার মিষ্টি করাই মাঝে মাঝে মালতীকে দিয়ে। নতুন রান্না শিখতে ওর বেশ মন আছে। ও দেখেছে বৃহস্পতিবার সক্কাল সক্কাল কেমন বসে পড়ি প্রস্তুতির কাজে। একটা সাজো সাজো ব্যাপার। আবহাওয়াটা তখন পুজো পুজো তো বটেই। এটা তো একরকমের পুজোই।

    পেটপুজোর ব্যবস্থায় থাকে পাশাপাশি কখনো ডিমসেদ্ধ করে চটকে লেবু নুন গোলমরিচ দিয়ে পাতলা করে পাউরুটির পেটে ভরে স্যান্ডুইচ। কখনো থাকে হালকা চাটুতে ভাজা আলুর টিকিয়া। ঘুগনি। বাড়িতে করা, তাই অসুখের ভয় নেই। সেক্ষেত্রে আমার মাথা থেকে রেসিপিগুলো বের হয়ে এসেছে বলে, সমস্ত ব্যাপারটা আমার আর আমার বরের টাকায় হয়েছে বলে, আলাদা করে প্রতিবার কেউ না কেউ আমাদের ধন্যবাদ দেন, প্রশংসায় ঢেকে দেন আনন্দে আমার চোখ চকচক করে।

    রিষড়া থেকে রিকশায় ওঠার সময়ে, অবরে সবরে খুব ভারী হয়ে গেলে ব্যাগ, মালতীকেও ডেকে নিই। বিশেষ করে যেদিন খাবারগুলো বানানো হয় বাড়িতে। চিঁড়ের পোলাও করলে ছোট ছোট কাগজের বাটি চামচও নিতে হয়। বেড়ে টেড়ে দিতে হয়। আমার তো সঙ্গের ডাইরিতে নিজের গত দেড়মাসে লেখা আড়াইটে কবিতাও থাকে, যা আমি পড়ব সেদিন। তাই, চা দেওয়া মিষ্টি বা জলখাবার বেড়ে দেওয়ার দিকে মন দেব কখন?

    মালতীরও এতে আপত্তি নেই। দিনের শেষে ও ওর খালি টাইমটা ওখানে কাটালে, আমার সুবিধে হয় শুধু না, খাবার যা বাঁচে ও বাড়িতে নিয়েও যায়। নিজেই তো সকাল থেকে খেটেখুটে বানিয়েছে।

    শততম আসর। এবারই প্রথম, অলোকেন্দু ঘোষ মাইক সিস্টেম কিনে নিয়েছে। এবার থেকে আর পাশের বাড়ির রিপেয়ার-এর ঠং ঠং বা পাড়ার কুকুরদের সমবেত সঙ্গীতের ওপর দিয়ে গলা তুলে কবিদের কবিতা পড়তে হবে না।

    বাইরের অতিথি, কলকাতার পৃথ্বীশদা এইবার এসেছেন। পৃথ্বীশ সেন গতবারের বঙ্গবিভূষণ পাওয়া কবি বলে কথা। নীলাম্বর চট্টোপাধ্যায় শ্রীরামপুরের সবচেয়ে বেশি অ্যাক্টিভ কবি, সেই কথাটথা বলে ব্যবস্থা করেছে। পৃথ্বীশদাকে আনা মানে, পরদিন ফেসবুকে জিরাফ পত্রিকার বিষয়ে একটি নাতিদীর্ঘ পোস্ট দেবেন। এতে পত্রিকার নাম ও মান দুই-ই বাড়বে। নাম-মানের মধ্যে দুটো অক্ষরের স্থানবদলাবদলি আছে। আসলে বস্তুত তো একই। নীলাম্বর অলোকেন্দুর এ অঞ্চলে একটা চাপা রেশারেশি আছে, এই দানে নীলাম্বর একটু এগিয়ে গেল কয়েক ঘর। হোম-এ গুটি কার ঢুকবে কেউ জানে না।

    হোম! আর হোম। আমি তো বিবাহিত। ওরা দুজনেই আমাকে একদা কামনা করেছিল। কলেজ লাইফে দুটোকেই আমি দু তালুতে নাচাতাম। আমার শরীরে মেদ ছিল না তখন। আজো নেই। ইস্যু নেই। ঝাড়াঝাপ্টা। লাল কালো সাদার কম্বিনেশনে একটা ডিজাইনার শাড়ি পরেছি আজ আমি। শততম অনুষ্ঠান বলে কথা। রিলে যেমন দেখিয়েছিল সোহিনী সরকারকে পরতে, তেমন একটা শাড়ি। সঙ্গে হুবহু সেই অ্যাক্সেসরি।

    এবার আমি যে কবিতাগুলো পড়েছি, মধ্যরাতে বুকে বালিশ দিয়ে লেখা। একটায় শরীর, অন্ধকামনা, স্তন একটু বেশি আছে। সবাই খুব প্রশংসা করল। অলোকেন্দু আমার কবিতা শুনে চোখে একটা মদির আর্দ্রতা এনে, একবার অপাঙ্গে নীলাম্বরের দিকে চাইল।

    কিন্তু আমার সমস্ত মনোযোগ এখন পৃথ্বীশদার দিকে। কিন্তু আমি হতাশ। উনি কিন্তু আমার কবিতা শুনে যত না আহা আহা করলেন, বেশি করলেন, আমার, থুড়ি, মালতীর তৈরি ঐ গন্ধলেবু ফ্লেভারের মোমো খেয়ে। যেন এক্কেবারে ফিদা হয়ে গেলেন। আমার বুকের মধ্যে থরথর করে একটা আশার পাখি কাঁপছিল। কলকাতার কোন বড় পত্রিকা এখনো আমার কবিতা ছাপেনি। পৃথ্বীশদার হাতে গুঁজে দেব বলে ফেয়ার কপি করে এনেছি। ওঁর হোয়াটস্যাপ নম্বরটা যদি পাই...

    পৃথ্বীশদা, শম্ভুদা, আর বাবার কলিগ প্রবুদ্ধবাবু সবাই মোমো নিয়ে পড়লেন। সেকেন্ড লট মোমো এবার বিলি হচ্ছে। আমার সঙ্গে সঙ্গে ছায়ার মত আছে মালতী। সেও ধোপদুরস্ত শাড়ি পরেছে। গোলাপি টু বাই টু ব্লাউজ, ম্যাচিং ধনেখালি। টু বাই টু আমরা আর আজকাল বানাই না, পরি না, সব ব্লাউজ ডিজাইনার ব্লাউজ। পৃথ্বীশদাদের কাছে অবশ্য মালতীর আলাদা কোন মূল্য নেই। কিন্তু মালতী নিজেকে বেশ হনু ভাবছে, খুব হাসছে আজ, কথাও বলছে সবার সঙ্গে টুকটাক।

    কলকাতা থেকে আসা আর এক বাচ্চা কবি, থুতনিতে সামান্য দাড়ির আভাস, পরনে সবজে রঙের কেতার পাঞ্জাবিতে কাক বক আঁকা, সে হঠাৎ মালতীর হাত থেকে মোমোর প্লেট তুলে নিতে নিতে বলল, আরে! আপনি পিংকি'স কিচেনের মা, তাই না?

    মালতী ফিক করে হেসে একটা নিষিদ্ধ গোপন ভ্রূভঙ্গি করল, আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমার দিকে ইশারা করে চুপ করালো ছেলেটাকে।

    আমি সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেছি। কী হচ্ছে ফুসুর ফুসুর গুজুর গুজুর আমাকে জানতেই হবে। দ্রুত যেতে গিয়ে কারুর হাতের চায়ের কাপ উল্টে ফেলল আমার দীর্ঘ অ আ ক খ লেখা আঁচল। লালের ওপর কালো দিয়ে নন্দলালের ছাপাইছবির ব্লক প্রিন্ট, ছোট খোকা বলে অ।

    কেমন খাচ্ছ, মরাল? মালতী, ওদিকে দেখো আর কার কী লাগবে।

    মরালগ্রীবা তুলে ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে নিজের স্মার্টফোন এগিয়ে দিল। "ওই উনি? ওর মেয়ের রিল আসে আমার ফিডে। পিংকি'স কিচেন।"

    সবার কবিতাপাঠ শেষ। টুকটাক হাসি আড্ডা চলছে। কেউ কারো দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না, হঠাৎ মরালের হাতে ধরা স্মার্টফোনে কর্কশ বিসদৃশ আওয়াজে বেজে উঠল একটা রিলের শব্দ।

    একী! এ তো আমার কিচেন! ওই ফলস মার্বেল, ওই সবুজে ব্রাউনে ছাপছোপ, শ্রীরামপুর স্যানিটারি প্যালেস থেকে আমার নিজের বেছে আনা টাইলস আমি চিনব না?

    মালতী মোমোর ময়দা বেলছে। মোমোর আকৃতি দিচ্ছে, আকার দিচ্ছে। মোমো স্টিমারে ঢোকাচ্ছে। উনুনে চাপাচ্ছে।

    সামনে, ফলস আইল্যাশ পরা, ওর মেয়ে, হ্যাঁ এটা ওর মেয়েই তো, মাঝে মাঝে মাকে সাহায্য করতে মেয়েকে ডেকে নিতে দেখেছি বটে, আমি লক্ষ করিনি, জানিও না ওর ভাল নাম, পুঁচকি বলেই ডাকি, সে, এ কী, এখানে তো তাকে চেনাই যাচ্ছে না, চোখে দীর্ঘপক্ষ্ম ফলস আই ল্যাশ, মুখে প্রচুর রং, দারুণ মেক আপ, ঠোঁটখানা পুরো আঁকা, পরনে পালাজো আর টাইট কামিজ, ঝিকমিকে, সে ক্যামেরার দিকে মুখ করে বলছে, ইউ আর ওয়াচিং পিংকিজ কিচেন, দিস ইজ মাই মাদার মালতী দাস মেকিং গন্ধরাজ মোমোজ।

    বিদ্যুৎচমকের মতন আমার মনে পড়ল, এবারে গন্ধরাজ মোমো বানানোর আইডিয়াটা আমার ছিল না। মালতীরই ছিল। শরীরভঙ্গিতে মিনতি মাখিয়ে ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মালতীই পরশু বলেছিল, আচ্ছা বৌদি, এবারে নতুন কিছু করবেন আপনাদের নামগানের আসরে? আপনিই কইলেন, এইবার আলাদা ইজ্জতের দিন। ইস্পেশাল মেনু না হলে হয়? আমি গন্ধরাজ মোমো শিখেচি।

    কোথায় শেখো এইসব, মালতী? আমি চা খেতে খেতে নিজের কবিতার খাতা পাশে সরিয়ে বুঁদ হয়ে আমাকে নিয়ে লেখা নীলাম্বরের একটা অসামান্য গদগদ ভাষণসমৃদ্ধ ফেসবুক পোস্ট পড়তে পড়তে বলেছিলাম।

    ক্যানো, ইউটিউবে যে দেয় কত?

    ও বাবা, তুমি দ্যাখো ওসব?

    ক্যানো, দেখব না কেন? ফিরি-তে পাই। আর আপনেদের এই ডাল ভাত মাছ আর ডিম পোস্ত ছ্যাঁচড়া বানাতে বানাতে তো বোরিং লাগে।

    ও বাবা! বোরিং শব্দটাও শিখে গেছ, মালতী?

    ক্যানো, শিখব না কেন? বৌদি এইবার পুজোয় আমি কিন্তু আপনার মতন ঐ অ আ ক খ লেখা শাড়ি চাই একখানা।

    আজ মরাল ঐ ভিডিও চালাতেই সমবেত কবিমণ্ডলীর দৃষ্টি গিয়ে পড়ল সেটার দিকে। ভিড় করে এল অলোকেন্দু, নীলাম্বর সব্বাই। অনেকগুলো মুণ্ডু ওই স্ক্রিনের দিকে ধাবিত হল। আর সবার চোখ চক চক করে উঠল। আরিব্বাস, মালতীদি, তোমার মেয়ের তো দেখছি দেড় লাখ ফলোয়ার। কেয়াবাৎ।

    পৃথিবীর সবকটা স্পটলাইট এখন মালতীর মুখে।



    অলংকরণ (Artwork) : কল্লোল রায়
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  •   (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments