• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ১০৪ | অক্টোবর ২০২৬ | গল্প
    Share  
  • আমেরিকায় অপু : প্রশস্তি পণ্ডিত

    ১: ভোরের আহ্বান

    “আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জরী…”

    অক্টোবরের হালকা শীতের ভোর আমেরিকায় এখন ভোর চারটে বাজে। প্রতিবারের মতো এবারেও অর্পণ উঠে পড়েছে ঠিক ভোর চারটেয় মহালয়া শুনবে বলে, গত ১৫ বছর ধরে এই নিয়মের কোন ব্যতিক্রম নেই যতই সে নিজের মাটি নিজের দেশ থেকে দূরে থাকুক।

    “হোয়াট ইস দিস নয়েস বাবা?” তার ছেলে রিক ঘুম জড়ানো চোখে এসে দাঁড়ায় দরজায়।

    অর্পণ মৃদু হেসে বলে, “আজ মহালয়া।”

    শব্দটা রিকের কাছে নতুন নয় তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে তার মনে এখন হাজার প্রশ্নের ভিড়—মহালয়া কী? দুর্গা কে?

    কেন এত ভোরে এই আবেগ?

    অর্পণ ধীরে ধীরে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসে।


    মহালয়া হলো পিতৃপক্ষের অবসানে মাতৃপক্ষের সূচনা, মানে দুর্গা মায়ের তার বাবা-মায়ের বাড়ি আসার প্রথম দিন। মহালয়া কথাটা শুরু হয় মহ ও আলয় থেকে মানে দেবীর শুভ আগমন হয় তার নিজের বাড়িতে, এই দিন থেকে শুরু হয় মাতৃবন্দনা। বলা হয়, মা দুর্গা অশুভ শক্তির নাশ করতে পৃথিবীতে আসেন। তাহলে শোন, তোকে পুরো স্টোরিটা বলি। আমাদের হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী এক মহা পরাক্রমশালী অসুর, নাম মহিষাসুর, তখন এই পৃথিবী, স্বর্গ--মানে যাকে তোরা হ্যাভেন বলিস এবং পাতাললোক--মানে হেল, সব জায়গায় সে তার পরাক্রমশালী প্রতাপ দেখিয়ে বেড়াচ্ছিল আর সবার উপর ভীষণ অত্যাচার করছিল। সবাই তখন মহিষাসুরের হাত থেকে বাঁচতে দেবতাদের শরণাপন্ন হন; এদিকে দেবতারাও মহা মুশকিলে পড়েছেন। তাঁরাও মহিষাসুরকে কিছুতেই বাগে আনতে পারছেন না; তখন সব দেবতারা মিলে যান ত্রিদেবের কাছে। ত্রিদেব হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। তাঁদের বলা যায় সুপিরিয়র দেবতা। তখন এই ত্রিদেব স্বয়ং মহামায়ার কাছে প্রার্থনা করেন। মহামায়া হল এই মাতৃরূপেরই অঙ্গ। তার কাছে সবাই প্রার্থনা করেন এই ভয়ংকর অবস্থা থেকে তাদেরকে বাঁচানোর জন্য এবং তখনই তাদের সমস্ত তেজ শক্তি একত্রিত করে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দেবী দুর্গা স্বর্গ মর্ত্য পাতাল এই তিন লোকে ১০ দিন ধরে ভয়ংকর লড়াই করে মহিষাসুরকে অবশেষে পরাস্ত করেন।

    “মহিষাসুর তো তুমি বললে যে ভীষণ বড় যোদ্ধা, মস্ত বীর, তাহলে মা দুর্গা কী করে তাকে পরাস্ত করলো?” রিক অবাক চোখে প্রশ্ন করে।

    _“সে যত বড়ই যোদ্ধা হোক না কেন, যত বড়ই বীর হোক না কেন, নারীশক্তির বিশালতা সে বুঝতে পারেনি তাই নারীশক্তিকে সে চিরকালই অবহেলা করেছে। সে ব্রহ্মার কাছে বর চেয়েছিল অমর হওয়ার। তখন ব্রহ্মা তাকে বর দিয়েছিলেন যে স্বর্গ মর্ত্য পাতাল, এই তিন লোকের কোন পুরুষ তাকে হত্যা করতে পারবে না আর সে এতটাই তখন নিজের অহংকারে মত্ত যে সে ভাবতেই পারেনি যে কোন নারী তাকে পরাস্ত করতে পারে!”

    “স্টিল, মহিষাসুর এত বড় যোদ্ধা তাহলে কী করে তাকে দেবী দুর্গা তাকে ডিফিট করলেন, দ্যাট মাস্ট বি ভেরি টাফ।”

    “তা তো বটেই, সেই কারণেই তো দশ দিন ধরে লড়াই হয়েছিল, তবে মা দুর্গার কি মাত্র দুটো হাত? মা দুর্গার দশ দশটা হাত আর সেই দশ হাতের এক হাতে তরোয়াল, তো এক হাতে ত্রিশূল, এক হাতে তীর ধনুক, এই সব দিয়ে মা দুর্গা সবশেষে মহিষাসুরকে পরাস্ত করেছিল। আর দশ হাতেই মা দুর্গা সবকিছু সামলায় তা নিজের বাবা-মা ছেলে মেয়ে সবকিছু।”

    রিকের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। “দশটা হাত? এটা কি সত্যি?”

    অর্পণ থেমে একটু ভেবে বলে, “সত্যি, যদি তুমি বুঝতে পারো—একজন মানুষও কখনও কখনও দশ হাতের কাজ করে। মা দুর্গা সেই শক্তির প্রতীক।”

    রিক মুগ্ধ হয়, কিন্তু তার মুগ্ধতা আর বাস্তবের মধ্যে দূরত্বটা সে বুঝতে পারে না। তার কাছে সবকিছুই সরল—যদি মা দুর্গা আসেন, তবে তিনি তাদের বাড়িতেও আসবেন।

    “ওয়াও, সো ফ্যাশিনেটিং!” সে বলে ওঠে!

    বাবা ছেলের কথা চলতে থাকে।।

    “হ্যাঁ আর এই কদিন আমরা মা দুর্গার ঘরে আসার আনন্দে মেতে থাকি। বাড়ির সবাই, আত্মীয়-বন্ধু সবাই মিলে আমরা হইহই করে এই কদিন কাটাই।”

    “কিন্তু এখানে তো সেরকম কিছুই হয় না। আমি স্কুলে যাব তুমি অফিস যাবে, অ্যাজ ইউজুয়াল রুটিন।”

    “রুটিন ঠিক, বাট আমরা যারা একবার দুর্গা পূজার ওই সাধ পেয়েছি তারা আজীবনেও পৃথিবীর যেখানেই থাকি এই কটা দিন এই যে একটা নস্টালজিয়া, এই যে একটা আনন্দ--এটা থেকে আমরা কোনদিন বেরোতে পারব না!”

    “ইট মাস্ট বি সুপার এক্সসাইটিং!”

    “তা তো বটেই বাট এবার তোর স্কুলের সময় হয়ে গেছে এখন আর নয়। চলো রেডি হও!”

    ২: প্রশ্নের আঘাত

    রিক স্কুল থেকে খুব মুখ গোমড়া করে বাড়ি ফিরেছে। ভালো করে টিফিনও করেনি। ওর মা, রিতা, খুব চিন্তিত। অনেকবার জিজ্ঞাসা করেও কোন উত্তর পায়নি। অর্পণ বাড়ি ফিরতেই রিতা প্রচণ্ড চিন্তিত মুখে জানালো যে রিক বাড়ি ফিরে সেই যে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, ভালো করে কিছু খায়ওনি, তার কোন কথার উত্তরও দেয়নি। এরকম আগে কখনো হয়নি। অর্পণ গিয়ে রিককে ডাকে। রিক খুব দুঃখী অভিমান ভরা মুখে দরজা খোলে। প্রথমেই সে অর্পণ এর কাছে অভিযোগ জানালো, “তুমি আমাকে সকালে যে কথাগুলো বললে ডাস দ্যাট ইভেন মেক সেন্স?”

    “কোন কথা?” অর্পণ জানতে চায়।

    “কেন বললে মা দুর্গা, তার দশ হাত…”

    “হ্যাঁ, বলেছি তো মা দুর্গার তো সত্যিই দশ হাত!”

    “বাট টুডে আমি লিয়াম আর এলি-কে এই কথাটা বললাম এন্ড দে জাস্ট মেড ফান অফ মি! দে ডিডন্ট বিলিভ মি এন্ড সেইড আই এম টকিং ননসেন্স। দ্যাট ওয়াস সো এম্বারাসিং!

    “অলসো আই টোল্ড দ্যাট মাই ফাদার সেইড দ্যাট হি উইল শো ইউ দেবী দুর্গা ইন আওয়ার হাউস এন্ড এক্সপ্লেইন এভরিথিং।”

    “হোয়াট! হোয়াই?” অর্পণ ছেলের কথা শুনে ঘাবড়ে যায়!

    “ইউ সেইড দেবী দুর্গা কামস ইন দিস ডেজ, দেন হোয়াই শি উইল নট কাম টু আওয়ার হাউস? আই অলরেডি টোল্ড মাই ফ্রেন্ডস দ্যাট ইউ ক্যান ব্রিং মা দুর্গা টু আওয়ার হাউস, তুমি পারবে তো বাবা দুর্গা মাকে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসতে?”

    প্রশ্নটা এত সহজ, অথচ অর্পণের ভেতরে যেন ঝড় তোলে। সে কিছু বলতে পারে না। রিকের চোখে যে সরল বিশ্বাস, তা অস্বীকার করার সাহস তার নেই।

    ৩: ভাঙনের স্মৃতি

    ছেলের ওই কথায় অর্পণ এক ধাক্কায় ফিরে গেল বহু বছর আগের তার ছোটবেলায়--সেই ধানক্ষেত, সেই কাশফুল, সেই তার ধুলোবালি-মাখা ছেলেবেলা, আর তারপরেই বাবার সেই কথাগুলো। চোখের জল মুছতে মুছতে বাবা বলছে, অনেক বড় হতে হবে তোকে, অপু। কোনদিন যদি পারিস মা দুর্গাকে নিজের বাড়ি নিয়ে এসে নিজের মত করে পুজো করিস। তার শৈশবের গ্রাম, কাশফুলের মাঠ, ধুলো-মাখা পথ, আর বড় বাড়ির নাটমন্দিরে প্রতিমা গড়ার দৃশ্য।

    ছোট্ট অপু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। প্রতিমার চোখ আঁকা হচ্ছে, দশ হাতে অস্ত্র বসছে—তার কাছে সবই এক রহস্যময় বিস্ময়।

    আর অবাক বিস্ময়ে সে প্রশ্ন করছে দুর্গা ঠাকুরের দশটা হাত কেন? ওই হাতে কী আছে? এই হাতে কী আছে?

    আর যিনি ঠাকুর করছেন তিনি তার প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন!

    এমন সময় বাড়ির কর্তা রতিকান্ত বাবু তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে নাটমন্দিরে এলেন। জানতে চাইলেন, কেমন কাজ এগোচ্ছে? ভট্টাচার্য মশাই তাঁর অভ্যস্ত হাতে তুলি টানতে টানতে বলছেন, “হয়ে যাবে আর বেশি বাকি নেই। তা আপনি কোথাও বেরোচ্ছেন নাকি?”

    “হ্যাঁ এই বাচ্চা দুটো পুজোর নতুন জামা কিনবে বলে যা বায়না ধরেছে। ভাবছি এবারে একেবারে কলকাতা থেকে ওদের জন্য জামা কিনে আনব।”

    সঙ্গে সঙ্গে সেই ছেলে দুটি লাফিয়ে উঠলো। “হ্যাঁ আমরা আমাদের স্কুলের সব বন্ধুদের বলে এসেছি আমাদের বাড়ির পুজো সবথেকে বড় পুজো, আমাদের কলকাতা থেকে জামা আনতে হবে আর সবথেকে ভালো মিষ্টি আনতে হবে।”

    অপুও তখন সরল বিশ্বাসে ওদের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে শুরু করল, “হ্যাঁ, আমাদের বাড়ির পুজো সবথেকে বড় পুজো!”

    সেই শুনে ছেলে দুটো হেসে লুটিয়ে বলতে শুরু করল, “তোর বাড়ির পুজো!? তোদের তো কাজ আর এই কদিনের মধ্যেই শেষ! তারপরেই তো আমাদের আসল আনন্দ শুরু হবে। তখন তো তোরা বাক্স গুছিয়ে তোদের বাড়ি চলে যাবি। সেখানে কি কোন পুজো হয় নাকি ছোট চণ্ডীমণ্ডপে? আবার বলে কিনা আমাদের বাড়ির পুজো!”

    দশ বছরের অপুর সরল মনে সেদিন একটা বিরাট ধাক্কা লেগেছিল। সে বুঝতেই পারেনি যে তার বাবা এত যত্ন করে যে মা দুর্গাকে সাজাচ্ছেন সেটা তাদের পুজো নয়, অন্য কারুর পুজো। ওদের যাবার দিন, অপুর বাবা, ভট্টাচার্য মশাই, নিজের অক্ষমতা ও চোখের জল লুকিয়ে অপুকে বলেছিলেন অনেক বড় হতে হবে তোকে অপু, অনেক বড়! যাতে তুইও একদিন মা দুর্গাকে নিজের বাড়ি আনতে পারিস, তাকে সাজিয়ে যাতে পুজো করতে পারিস।

    ৪: সিদ্ধান্ত

    ছেলের কথা শোনার পর থেকে অর্পণ যে সেই চুপ করে বসে আছে অন্ধকার ঘরে, আর কোন জগতে চলে গেছে তার খেয়াল নেই।

    রিতার ডাকে ঘোর কাটলো, “কি ব্যাপার অন্ধকারে এতক্ষণ ধরে বসে আছো! কী যে ছেলে বলে গেল তারপর থেকে তুমি চুপ করে বসে আছো? আর ছেলে ওদিকে নেচে যাচ্ছে, মা দুর্গা আসবে, মা দুর্গা আসবে, কী ব্যাপার বলো তো?”

    “জানো রিতা, রিক আমাকে অনেক দিনের পুরনো একটা ইচ্ছে, একটা স্বপ্ন, একটা সুপ্ত বাসনা মনে করিয়ে দিল।”

    “তাই নাকি? তা কী বললেন আমাদের রিক বাবু?”

    “আচ্ছা মহালয়া তো চলে এলো। হাতে তো আর মাত্র কদিন বাকি, এখনই সব ব্যবস্থা শুরু করতে হবে।”

    “কী বলছো কিছুই তো বুঝতে পারছি না!”

    “অনেক অনেক বছর আগে আমার বাবার চোখের জলের সামনে আমার সরলতা যখন একদিন ভেঙে গেছিল খানখান হয়ে তখনই আমি মনের মধ্যে এই আশা, এই বাসনাটা পুষেছিলাম। কিন্তু জীবনে ছুটতে ছুটতে সেটা পূরণ করার কথাই ভুলতে বসেছিলাম। রিক আমাকে সেটা আবার মনে করিয়ে দিল সেটা বাকি রয়ে গেছে। সেটা আমাকে করতেই হবে। আমি এবারে দুর্গা পুজো করবো।”

    “কী দুর্গা পুজো!? তুমি জানো দুর্গা পুজো করার কি ঝামেলা? কত কিছু করতে হয়।

    “ঝামেলা ঝুঁকি সবই আছে। সে তো আমরা যখন আমাদের দেশ ছেড়ে এখানে এসেছিলাম তখন কি আমাদের কোন ঝামেলা ঝুঁকি নিতে হয়নি? সেই তুলনায় আর কি এমন… একটু চেষ্টা করলে পারবো না? এত বছর ধরে বিদেশে আছি কিন্তু নিজের শিকড়ের বন্ধনকে কি ভোলা যায়? এখনো তো সময় আছে চেষ্টা করলে ঠিক পারবো। আমাকে এটা করতেই হবে--বাবাকে কথা দিয়েছিলাম আর রিক আমার হয়ে অলরেডি কথা দিয়ে দিয়ে এসছে তার বন্ধুদের। আমি… আমি… এদের কাউকেই আর হারতে দেব না!” আবেগে গলা বুজে আসে অর্পণের!

    তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। যেন সে শুধু নিজের জন্য নয়—তার বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন, আর তার ছেলের বিশ্বাস—সবকিছুর জন্য এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    “সত্যিই তুমি দুর্গা পুজো করবে! কিন্তু কী করে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। অফিসে তো তাহলে এখনি ছুটির অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে, না হলে এত কিছু জোগাড় করবো কী করে? কি জানি সেটাও স্যাংশন হবে কি না!”

    “হবে হবে। মা দুর্গা আসবেন যখন ঠিক করে ফেলেছেন, তখন তিনিই সব ঠিক করে দেবেন। চলো চলো লেগে পড়ি কাজে।”

    ৫: পুনর্নির্মাণ

    তারপর শুরু হয় এক অদ্ভুত যাত্রা। ছোট্ট ঘর, সীমিত সামর্থ্য, কিন্তু অগাধ ইচ্ছে। প্রতিমা আসে, সাজসজ্জা হয়, ধূপ-ধুনোর গন্ধে ভরে ওঠে বাড়ি। ঢাকের শব্দ হয়তো নেই, কিন্তু তার বদলে আছে হৃদয়ের স্পন্দন।

    রিক প্রতিটি মুহূর্তে প্রশ্ন করে—

    “এইটা কার বাহন?”

    “এই হাতে কী অস্ত্র?”

    অর্পণ ধৈর্য নিয়ে সব বোঝায়। তার চোখে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে তার নিজের ছোটবেলার প্রতিবিম্ব--সেইশিশু অপু—একই বিস্ময়, একই আলো। রিকের বন্ধুরাও আসে। তারা অবাক হয়ে দেখে—যে গল্পটা তারা হাসতে হাসতে উড়িয়ে দিয়েছিল, সেটাই এখানে কেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পুজো, অর্ণবের পরিবেষণায়, প্রতিবেশীদের উষ্ণ আন্তরিকতায়--কী যেন আনন্দের পুণ্য আবেশ!

    ৬: পরিণতি

    পূজোর শেষ দিনে, অর্পণ তার বাবার ছবির সামনে দাঁড়ায়, পাশে রিক। নীরবে প্রণাম করে সে মনে মনে বলে— “পারলাম বাবা। দেরি হলো, কিন্তু পারলাম। এবার এটা আমাদের পূজো—শুধু সাজানো নয়, নিজের করে মা দুর্গাকে পাওয়া, তার আরাধনা করা।” রিক কিছু বোঝে, কিছু বোঝে না। কিন্তু সে অনুভব করে—আজ তার বাবার চোখে যে আলো, তা অন্যরকম।

    বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও সেই দিন অর্পণ বুঝেছিল— শিকড় কখনও হারিয়ে যায় না। শুধু সময়ের অপেক্ষা করে, আবার মাটির কাছে ফিরে আসার জন্য।



    অলংকরণ (Artwork) : রাজর্ষি দেবনাথ
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  •   (?)
  • মন্তব্য পড়ুন / Read comments