



'বড় বাড়ি' এসে মিনিবাসটি আচমকা ব্রেক কষে। রিয়াজুল একটা ঝাঁকি খায়, ঘুমন্ত লোকটা উঠে পড়েছে। তাকে দেখে রিয়াজুল পা নামিয়ে দেয়, স্যান্ডেল যথাস্থানে নেই-সরে গেছে। রিয়াজুল শরীরের উপরের অংশ ঠিক রেখে ডান পা দিয়ে স্যান্ডেল খুঁজতে থাকে। হঠাৎ সে পায়ের তলায় কাগজের প্যাকেটের মত কিছু একটা অনুভব করে এবং পা দিয়ে সে প্যাকেটটা কাছে নিয়ে আসে। আরে তাই তো, একটা কাগজের ঠোঙা, ভেতরে যেন কী আছে!! সামনের লোকটা হাই তুলছে, আবার বোধ হয় ঘুমাবে। ডান পায়ে আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে ঠোঙাটি উপরে তুলে হাতে নিয়ে আসে রিয়াজুল। সত্যিই লোকটা শুয়ে পড়েছে। ঠোঙাটির মুখ পিন দিয়ে আটকানো, একটু নাড়াচাড়া করতেই পিন খুলে যায় এবং একটা ফিতার মতো বেরিয়ে আসে। ফিতা ধরে টান দিলে হুক সহ অর্ধেকটা ঠোঙার বাইরে এসে পড়ে--রিয়াজুল 'থ'; একটি ব্রা, কেউ কিনেছিল, হয়তো পড়ে গেছে। সুড়ুৎ করে ব্রা'টি ঠোঙার ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে রিয়াজ। সামনের সিটগুলোর দিকে তাকায়, ওদের কারো নয়তো? বাস থামছে... জনা তিনেক উঠে পড়ে। একজন সরাসরি পেছনের দিকে আসতে থাকে, রিয়াজুল কী করবে মনস্থির করতে পারছে না।
সে প্যাকেটটি প্যান্টের ডান পকেটে চালান করে দেয়, তারপর ভদ্দরলোকের মতো বসে থাকে। আশ্চর্য! লোকটা এসে তার পাশেই বসলো, টের পায়নি তো? নাকি ব্রা'টি তার, - খুঁজতে এসেছে? এত শীতের ভেতরেও রিয়াজুলের কপালে ঘাম চিকচিক করে। বোর্ডবাজার থামলে রিয়াজুল টুক করে নেমে পড়ে। এখান থেকে হেঁটে বাসায় যেতে দশ-পনেরো মিনিট লাগবে। সে পেছনে তাকায় - না, কেউ আসছে না কিংবা তাকে ফলো-ও করছে না। পকেটে হাত দিয়ে রিয়াজ জিনিসটির অস্তিত্ব অনুভব করে - আছে। কিন্তু তার ভাবনা হয়; কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস তো নিতে নেই। টাকাপয়সা পেলে না হয় বাস কাউন্টার, মসজিদ, কিংবা ভিখারিকে দিয়ে দিত, কিন্তু তা তো নয়। এ জিনিস তো মসজিদেও দেওয়া যাবে না, সর্বনাশ!! উত্তেজনায়, শিহরণে তার শীত পালিয়ে যায়। রিয়াজুলের কাছে ব্যাপারটা আশ্চর্য ঠেকে; সবাই পায় টাকা-পয়সা, সোনা-দানা, আর সে কিনা পেল মেয়েদের বক্ষবন্ধনী! হঠাৎ তার পিঠে কে যেন হাত রাখে, চমকে উঠে রিয়াজুল। বিশ্রী দাঁত বের করে হাসছে টিক্কা।
'কি মিয়া এত ডাক পারতাছি তোমার কোন 'রা' নাই, কী চিন্তা করতাছ? এমনে চললে তো চাক্কার তলে যাইবাগা।'
'আরে না, কিছু ভাবতাছি না টিক্কা ভাই।'
'চা খাইবা নাকি এক কাপ?'
'এখন না টিক্কা ভাই, অনেক রাইত হইছে।'
'আরে মিয়া অত্তো যাই যাই করতাছ কেলা, গেলেই তো গেলা। দুই-চাইরটা নিউজ দাও না মিয়া, বোনাস হইবো তোমাগো?'
রিয়াজুল সতর্ক হয়ে যায়। বেটা তাদের ফ্যাক্টরির হাঁড়ির খবর জানতে চাচ্ছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে দক্ষ শ্রমিক বাগিয়ে নেবার ধান্দা। তার দোস্ত সেরাজ এই ফাঁদে পা দিয়ে ধরা খেয়েছে।
'কাইল মিটিং আছে, মিটিং এর পরে জানতে পারমু।'
'তাইলে কাইলক্যা আমারে একটু জানাইবা কইলাম মিয়া। নুরুজ্জামালের বাসাটা কোনহানে কইবার পারো?'
'মালেকের বাড়ি।'
'আরে না, অখন আর ওইখানে থাকে না।’
'তাইলে তো... কইতে পারি না।' দালাল টিক্কা চলে যায়। রিয়াজুল হাফ ছেড়ে বাঁচে।
বাসায় এসে রিয়াজুল দরজাটা বন্ধ করে দেয়। রফিক আসেনি, সম্ভবত সিনেমায় ঢুকেছে। তার বেতনাদি ভালো--কাটিং মাস্টারের সহকারী। সে ব্রেসিয়ারটি পকেট থেকে বের করে আলোর সামনে মেলে ধরে। গোলাপী রং, বুকের মাঝখানে জলপাই, বেগুনি রঙের ফুল। স্তনের জমিনে ছোট ছোট ছিদ্র; তার মানে নিগূঢ়ভাবে তাকিয়ে থাকলে স্তন দেখা যায়! রিয়াজুলের শরীর কাঁপতে থাকে। তার গলা শুকিয়ে আসে এবং শরীরের পরিবর্তন টের পেতে থাকে। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রিয়াজুল, ব্রা'টি তার বুকের উপরে স্থাপন করে। বদলে যায় রিয়াজ--সে কি তবে নারী? নিজেকে তার নারী ভাবতে ভালোই লাগে। এক ধরনের বিপরীত সুখানুভূতিতে ছেয়ে যায় রিয়াজের মন।
কারও কথা শোনা যাচ্ছে, এদিকেই আসছে। বালিশের তলায় সে ব্রা'টি লুকিয়ে ফেলে। দরজায় কড়া নাড়ছে রফিক। রিয়াজুল দরজা খুলে দেয়। রফিকের হাতে একটা পানের বোঁটায় চুন, সে আয়েশ করে পান চিবুচ্ছে আর গুনগুন করে গান গাইছে: '... মালা কার লাগিয়া গাঁথি....রে... মালা কার লাগিয়া গাঁথি...'
রাতের খাবারের পর রিয়াজুলের বিছানায় ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বৈঠক বসে। ব্রা'টি এখন হাতে হাতে ঘুরছে। সবাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিনিসটি দেখছে, তাদের চোখগুলো কেমন ঘোলাটে হয়ে যায়। রিয়াজুল, বজলু, ফোরকান, খোকনরা বিছানায় বসে শলাপরামর্শ করে – ব্রা’টি নিয়ে কী করা যায়? একেকজন একেক মতামত প্রদান করে: 'ভালোবাসা থাকলে হ্যারে দিয়া দেবা,' খোকনের মতামত এরকম। রিয়াজুল মাথা নেড়ে 'ভালোবাসা নেই' জানালে আরেকটি মতামত আসে: 'তালে জয়নালের মা'ক দিবার পারো।' বজলুর প্রস্তাবে সবাই রে-রে করে ওঠে; অসম্ভব, এটা জয়নালের মাকে দেওয়ার অর্থ পানিতে ফেলে দেওয়া। প্রস্তাবটি এক বাক্যে নাকচ হয়ে যায়। 'আমি একটা বুদ্ধি দিবার পারি তয় তোমরা হাসপা না, ওইটার মধ্যে প্যাডিং ভইরা ...,' ফোরকানের কথায় সবাই খ্যাক খ্যাক করে হেসে ওঠে।
বজলু: 'কলিগের মাঝত কাউরে খুঁজি নেন না ক্যানে?' উত্তম প্রস্তাব; সবাই রিয়াজুলকে বলে, তার যাকে ভালো লাগে তাকে যেন দিয়ে দেয়, অন্তত জিনিসটি কাজে লাগবে।
কিন্তু তারপরেই দুটো সম্পূরক প্রশ্ন এসে যায়, কাকে দেবে? তার সাইজ কত? সাইজের প্রসঙ্গে তারা বর্ডারের স্টিকার খুঁজতে থাকে; 'থার্টি সিক্স,' ফোরকান জানায়। সবাই এবার ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের সহকর্মী মেয়েদের সাইজ অনুধাবনে।
'তাজনাহার?'
'ওরে বাবা, হের সাইজ তো ষাইট এর কম না', ফোরকানের চোখে-মুখে আতঙ্ক ফুটে ওঠে, যেন ওই সাইজের দুটো স্তন এক্ষুনি তার মুখের উপর পড়ে মুখটা থেঁতলে দেবে।
'সোনালী?'
'নাহ, ও তো হুগনা, সাইজে মিলবে না।'
'সুইটি?'
'ধ্যাৎ, ছেমড়ির দেমাগ বেশি।'
রিয়াজুল খেয়াল করে ওরা তার প্রিয় মেয়েটির নাম বলতে ভুলে যাচ্ছে, 'রোকসানা?'
সবাই সমস্বরে হো-হো করে ওঠে, ঠিক বলেছে, রোকসানাকে দেয়া যায়। সে রিয়াজুলের ফ্লোরে ওভার-লক চালায়। মেয়েটা সুন্দরী কিন্তু ফ্লোর ইনচার্জের সাথে খুব ভাব।
'পেরেম করে নাকি?' প্রশ্নটি ওদের সবার মনে উঁকি মারে।
'মাল ঠিকই আছে, তয় হ্যারে দিতে পারবা?' ফোরকান রিয়াজুলকে প্রশ্ন করে। রিয়াজুলের মস্তিষ্ক এ মুহূর্তে শূন্য। মনে মনে সে রুকুকে পছন্দ করে কিন্তু সাহস করে তাকে উপহার দিতে পারবে কিনা নিশ্চিত নয়।
সকাল বেলা। রিয়াজুলের ফ্লোরে পুরোদমে কাজ চলছে। কাজের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ফ্লোর- ইনচার্জ শফিকউদ্দিনের গালাগালি। রিয়াজুল রোকসানার দিকে তাকাবার ফুসরত পায় না। যে কোনো সময় ছোট সাহেব, হাজী বরকতউল্লাহ, চলে আসতে পারে। সবাই ভয়ে তটস্থ। ফ্লোর ভিজিটের সময় বরকতউল্লাহ কোন কথা বলেন না, ভিজিট শেষ করে উনি চার তলায় উঠে যান। সেখানে তার গোডাউন-কাম-অফিস। পরের দিন সকালে দেখা যায় দু’তিন জনের ‘চাকরি নট’। সে কারণে সবাই তাকে যমের মতো ভয় করে।
এভাবে কতক্ষণ কেটে গেছে খেয়াল নেই রিয়াজুলের। হঠাৎ কপালের ঘাম মাটিতে ফেলতে গিয়ে সে লক্ষ করে - রোকসানা সিটে নেই।
পৌনে বারোটার দিকে রোকসানা চারতলা থেকে ফ্লোরে ফিরে আসে। ঢোকার সময় খেয়াল করে রিয়াজুল ছ্যামরাডা তার শূন্য আসনের দিকে বদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রোকসানার সাথে চোখাচোখি হলে রিয়াজুল লজ্জা পেয়ে কাজে মনোযোগ দেয়।
লাঞ্চের ঘন্টা পড়ে, রোকসানা উঠবে, বাসায় গিয়ে গোসল করবে আবার। হঠাৎ তাকিয়ে দেখে রিয়াজুল সরাসরি তার স্তনের দিকে তাকিয়ে আছে। চমকে উঠে রোকসানা! তার কেমন যেন অস্বস্তি লাগতে থাকে, জেনে ফেলেছে নাকি এই ছ্যামরাডা! চারতলায় ছোট সাহেবের অফিস রুমে যাবার ব্যাপারটা তো কেবল শফিক ভাই আর একাউন্টেন সাহেব জানে; নাকি সবাই জেনে ফেলেছে? সর্বনাশ! ঘামতে থাকে রোকসানা, দেহ থেকে গলে পড়তে থাকে অপবিত্রতা। তার গা কেমন গুলিয়ে ওঠে। না জানলেও ধীরে ধীরে জেনে যাবে, তারা যেমন শেফালী দিদিরটা জানতো। কতদিন সে চাপা দিয়ে রাখতে পারবে? রাজি না হলে তো চাকুরি হারিয়ে পথে বসতে হতো। রাজি হয়েছে বলে তার বেতন বেড়েছে তিনশো। কিন্তু শফিক ভাই তো বলেছিল মাসে এক-দু’দিন ছোট সাহেবকে খুশি করবার কথা। কিন্তু এখন তো সপ্তাহে দু’তিন বার করে যেতে হচ্ছে তার রুমে। দিলারা এসে তাকে ঠেলতে থাকে, 'কি রে যাবি না, লাঞ্চ বেরেক তো দেছে হেই কোন কালে।'
রোকসানা নিচে নেমে আসে। গেটের কাছে রিয়াজুল আর ফোরকান দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দুজনকে দেখে ফোরকান রিয়াজকে খোঁচা মারে। যেন কিছুই হয়নি - এমনিভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে রিয়াজুল। সবই খেয়াল করে রোকসানা। 'তোর আশিক দেহি খাড়াইয়া রইছে।’ দিলারার টিপ্পনীতে রোকসানা কোন মন্তব্য করে না, কিন্তু আড়চোখে তাকিয়ে দেখে ফোরকানকে নিয়ে রিয়াজুল তাদের পিছু পিছু আসছে।
একটানা তিন দিন রিয়াজুল উপহারটি দেয়ার জন্য রোকসানাকে অনুসরণ করে, কিন্তু অনেক দূর হেঁটে এসে সাহস হারিয়ে আবার ফিরে চলে গেছে। তাইতো ফোরকান, বজলুরা বিরক্ত হয়ে রিয়াজুলের সাথে আসা বাদ দিয়েছে। ওদিকে ব্রেসিয়ারটি দিনকে দিন হাতের স্পর্শে মলিন হয়ে যেতে থাকে।
আজ রিয়াজুল একাই দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে; তার হাতে একটি গোলাপ, কিছুটা নেতিয়ে পড়েছে। যা হয় হবে, সে রোকসানার সাথে আজ একটু কথা বলবেই; কারণ তার বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে।
মোড় পার হয়ে কিছুদূর এগিয়ে রুকু লক্ষ করে রিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গী দিলারাকে সে কিছুই বুঝতে দেয় না। তারা এগিয়ে যেতে থাকে। রোকসানা ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছে--ছোট সাহেবের ব্যাপারটা বলে দেবে নাকি দিলারার সামনে? ওদের কথা বলার সুযোগ দেয়া যাবে না। ওরা রিয়াজুলকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, যেন চেনেই না এমন ভাব। ফ্যাসফেসে গলায় রিয়াজুল ডাকে, 'রোকসানা, একটু হুনবা -তোমার লগে কতা আছে।’
রোকসানা থমকে দাঁড়ায়, তারপর ঘুরে যায়, 'আমার লগে আপনার কিয়ের কথা, কী কইবার চান? আপনি আমারে বহুৎ ডিসটাব করতাছেন কইলাম...মাইয়া লোকের পিছনে ঘুরেন ছরম নাইক্যা আপনার? আবার যদি কুন সম...'
জ্বলন্ত পাহাড় থেকে ছিটকে আসা লাভার মত আক্রমণ। রিয়াজ মোটেও প্রস্তুত ছিল না, তার জবান বন্ধ হয়ে যায়। সে বাজায় কি আর সারিন্দায় বাজে কি! কোথায় লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নখ দিয়ে মাটি খুঁড়বে, নয়তো লাজুক নয়নে চলে যাবে--আর এ কিনা চক্রব্যূহ আক্রমণ! ততক্ষণে রোকসানারা অনেক দূর চলে গেছে। রিয়াজুল পিছনে ফিরে তাকায়, আরেকটি ছেলের দল চলে আসছে। দেখেনি তো তার এই বেইজ্জত হওয়াটা? রিয়াজের প্রেমরস শুকিয়ে যায়, বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
পরের দিন সকাল বেলা মাথা নিচু করে মেশিনে বসে রিয়াজুল। রোকসানা তখনও ঢোকেনি। গতকালের অতিরিক্ত কলারগুলো নিয়ে সেলাই করতে থাকে। কাজের মাঝখানে একবার রুকুর দিকে তাকিয়েছিল, আজ তাকে দেখে ফিক করে হেসে দিয়েছে, নাকি সে ভুল দেখেছে? যা-ই হোক, সে আর এর মধ্যে নেই।
'লাঞ্চের সময় আপনারে শফিক সাব দেখা করবার কইছে।’ জোনাব আলী দারোয়ানের সংবাদে রিয়াজুল আধমরা। শফিক সাহেব দেখা করতে বলার অর্থ তার চাকরিটা মনে হয়... রিয়াজুল কাজে আর কোনো শক্তি খুঁজে পায় না।
লাঞ্চের ঘন্টা পড়ার সাথে সাথে রিয়াজুল চার তলায় উঠে যায়। তার পা কাঁপছে। বাম দিকের রুমে পোশাক-আশাকের বিভিন্ন নমুনা: সুতার গুটি, বোতাম, কার্টুন ইত্যাদি পড়ে আছে। তার মাঝেই একটা টেবিলের উপরে হাবিজাবি ছড়ানো। টেবিলের পাশের একটা চেয়ারে বসে নিবিষ্ট মনে ক্যালকুলেটর টিপছে শফিক সাব।
'ছার্, আমারে ডাকছেন?'
তাকে দেখে চোখ-মুখ খিঁচিয়ে যায় শফিকুদ্দিনের। 'হুমন্দির পোলা এখানে কাম করিবার আসিচ্চ, নাকি পিরিত করিবার।’ শফিকুদ্দীন চেয়ারে বসেই একটা লাথি কষায়, রিয়াজুল পেছনের সরে গিয়েছিল বলে খুব একটা লাগেনি। 'ফকিন্নির পুত, তোর চাকরি তো চলি যাইবো, আর মরবি ফাও ফাও।' সে উঠে দাঁড়ায়। রিয়াজুল কিছুই বলে না। লজ্জায় অপমানে কাঁপতে থাকে আর দু'হাত জোড় করে ক্ষমা ভিক্ষা করতে থাকে: 'ছার... ছার... আর অইবে না, আমারে এইবারের মতন...' শফিকুলের সম্ভবত দয়া হয়। সে কষে একটা থাপ্পড় মেরে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়: 'কালিকা থেইকে তুই সেকেন ফ্লোরে কাম করবি।’
ওই ঘটনার পর প্রায় দু'সপ্তাহ হতে চলল। রিয়াজুল এখন সেকেন্ড ফ্লোরে কাজ করে। রোকসানাকে সে এখন আর চেনেই না, দেখলেও এড়িয়ে যায়। ভাগ্যিস, তার এ ঘটনাটি কেউ জানতে পারেনি। ব্রা'টি এখনও তার তোষকের নিচে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে, গোলাপি রঙ কালচে আকার ধারণ করেছে।
ওভারটাইম শেষ করে রিয়াজুল সোজা চারতলায় উঠে যায়। কেচি গেট টানা, ভেতরে একজন দারোয়ান বসে আছে। তাকে দেখে ভাবে শফিক সাহেবের সাথে দেখা করতে এসেছে:
'শফিক সাব তো নাইক্যা।’
'একটু প্যাডিং দেবেন আমারে?'
'কেলে গা, কাইট্যা গেছে নাকি কুথাও?' দারোয়ান প্রশ্ন করে।
'না, না, তয় একটু বেশি কইরা দিয়েন।’
দারোয়ান উঠে গিয়ে বড় একটা কাগজের কার্টুনের ভেতর হাত ঢুকিয়ে এক খাবলা প্যাডিং ছিড়ে এনে রিয়াজুলকে দেয়। তুলার মত মোলায়েম এই 'প্যাডিং' জ্যাকেটের ভেতরে লাগানো হয়। পকেট ভরতি প্যাডিং নিয়ে রিয়াজুল সোজা বাসায়। তোষক উল্টে ঠোঙার ভেতর থেকে ব্রা' টি বের করে বিছানার উপরে ফেলে দেয়, তারপর স্তনের দু’খাপে ঠেসে ঠেসে প্যাডিং ভরতে থাকে।