




আমার মনের কোণে এক ভবঘুরে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে থাকে তা বুঝি আমার খামখেয়ালিপনার বহর দেখে। সেই ছন্নছাড়া জেগে উঠলে আর রক্ষে নেই। চলতি কথায় যাকে বলে ‘উঠল বাই তো কটক যাই’। আমার বেলায় এবার হল ‘এখুনিই ঘাটশিলা যাই’।
অনেক বারই ভেবেছি সবজে রোদে মাখামাখি ঘাটশিলার পাহাড়ি এলাকার ঝোপজঙ্গল দেখব, পলাশের চাষ দেখব কিন্তু বিচক্ষণ সাবধানীদের পাল্লায় পড়ে সব প্ল্যান বানচাল হচ্ছিল। সেই বহুকাল আগে মুখে মুখে শোনা চোর ডাকাতের হাতে ঘাটশিলায় সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা এঁদের মনে চিরকালীন একটা ভয় ঢূকিয়ে দিয়েছিল। যেমন থাকে মা ঠাকমার এটা করতে নেই, ওটা করলে মহাপাপের বিধিনিষেধ। কিন্তু নিয়ম যদি না ভাঙি বুঝব কেমন করে সে নিয়ম আজ আর চলে না। সীতা নিয়ম ভাঙার জন্য নয়, নিয়ম মেনেই ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিতে গিয়ে গণ্ডির বাইরে পা রেখে বিপর্যয় ডেকে এনেছিলেন। কিন্তু এর তো আর একটা দিকও আছে। তিনি বিবাহ সূত্রে দেখেছিলেন শ্রীরামকে-- একজন ধার্মিক রাজন, যিনি স্ত্রী বাদে আর সকলের প্রতি সত্যপালন করেন। আর সোনার লঙ্কাপুরী গিয়ে নতুন দেশ তো দেখলেনই, শক্তির মাদকতায় ভরা অথচ নারীসম্মতির সম্ভ্রমকারী এক অধিপতির মুখোমুখি হলেন। (রাবণ তো ইচ্ছা করলেই সীতার দখল নিতে পারতেন।) আর আজ আমরা মেয়েরা জেনে-বুঝেই নিষেধের চৌকাঠ ভেঙে গুঁড়োবার সাহস রাখি তাই না সত্যাসত্য নতুনের আলোয় যাচাই করে নিতে পারি!
ভাবছেন সামান্য ঘাটশিলা যাওয়া নিয়ে এত তত্ত্বকথা কেন? কারণ আমাকেও ঘাটশিলার সাথে জড়ানো পুরানো ভয় কাটাতে সপ্তাহব্যাপী লড়তে হয়েছিল।
আমার জানাশোনার মধ্যে কেউই ঘাটশিলা যাননি, কিন্তু জুড়ে দিচ্ছেন ‘না যাওয়াই ভালো।’ শেষে এক পরিচিতার খোঁজ মিলল যে গত গ্রীষ্মে গিয়েছিল, আতিথেয়তা পেয়েছিল, আমন্ত্রণ ছিল ‘বর্ষায় আসবেন’। --বলছি মুক্তধারা নেচার রিসর্টের ম্যানেজারবাবুর কথা।
যাইহোক নানান দোলাচালার মাঝে রুম বুক হল। সাথে সতর্কবাণীও রইল; তেমন বুঝলে খড়্গপুর ক্যাম্পাসে দু’দিন কাটিয়ে ফিরে আসা হবে। ঘরটি ছিল টানা লম্বা ব্যালকনি জোড়া। নীচে বয়ে যাওয়া এক অবিরাম জলধারা--যা নাকি বর্ষাতেই ভরে ওঠে। নির্ধারিত দিনে যাত্রা শুরু। পথের কথা আর বলব না, যেমন হয়,-- কোথাও আধা শহর, কোথাও শাল মহুলের জংগল।
কিছু ম্যাপে দেখা, কিছু খড়্গপুর এগ্রিকালচারের টুডু স্যারের (উনি ঘাটশিলা অঞ্চলের মানুষ) মুখে শোনা নাম মনে মনে আউড়াতে আউড়াতে চলেছি। ফুল ডুংরি, মহুল বুনা, রঙ্কিনী দেবীর থান, রাত মোহানা। সব যেতে পারিনি কারণ নেট সাবধান করেছিল বরষায় ট্রেকিং না করাই ভালো, তার ওপর সব সময় নিজেদের বয়সের সামর্থ্য মনে রাখছিলাম। তবে নীলচে ছাই রঙা আকাশের গায়ে আরও একটু গাঢ় শেডের যে পাহাড়ের সারি দেখতে দেখতে চলেছিলাম তাদের ভাবলাম ফুল ডুংরি। পরে জেনেছি ওটি শহরের মাঝে একটি টিলা যেখানে বিভূতিভূষণ প্রায়ই যেতেন। আসলে নামের মূর্চ্ছনায় যে মজেছিলাম ঠিক-বেঠিকের ধার ধারিনি।
প্রায় ঘণ্টা দুই যাওয়ার পর হাইওয়ে ছেড়ে মিনিট কুড়ি সবুজ রোদ মাখা আদিবাসী লোকালয় দিয়ে পথ। কখনও থামছি--এক ঝাঁক মুরগিছানা মার সাথে পথ পার হল। গোটা ছয়েক পাতি হাঁস প্যাঁকপ্যাঁকিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিতে তৈরি--ওদেরও তো পথ। কোথাও নিজেদের তাগিদেই ‘দেখ দেখ’ করে গাড়ি থামাচ্ছি বৃষ্টি ভেজা দাওয়ায় জড়াজড়ি করে শোওয়া ছাগলছানা দেখে।

অল্প সময়েই ‘মুক্তধারা নেচার রিসর্টের’ বড় লোহার গেটের কাছে গাড়ি থামল। খাতায় এন্ট্রির পর ঢুকলাম। ৪৫ একর পুকুর জঙ্গল ঘেরা রিসর্ট। একটি বিখ্যাত ইংরাজি প্রবাদপ্রতিম কথা ধার করে লিখছি ‘far from the madding crowd’-এ এসে গেলাম। আমার দু’দিনের আনন্দ সফর শুরু হল। চোখ বুজে যেন দেখলাম শহরের অটো, বাস, ফিরিয়ালার ডাক কার হংকিং সব উড়ে গেছে। ওয়াই ফাই, টিভি ছিল, তবে আগেই বলি রাখি সুইগি, জোম্যাটো নেই, তাই নেক্সট জেন-এর ভাল নাও লাগতে পারে।
একটু পিছিয়ে গিয়ে বলি, পৌঁছব পৌঁছব করছি, বেলা সাড়ে বারোটা কি একটা, লজ থেকে ফোন এল ‘কী? কত দূর? লাঞ্চ করবেন তো? যা খাবেন বানিয়ে দোব।’
সাদাসিধে চাহিদার মানুষ আমরা, তাও ছোট মেয়ের পছন্দমত ঝুরি আলু ভাজা, পোস্তবড়া গরম ভাতের লাঞ্চ সত্যিই জমে গেল। আমার মনে হয় সেই চলতি প্রবাদ বাক্যটাই এর পিছনে আছে।---রাঁধার পরে বাড়া, তার পরেতে খাওয়া, আবার রাঁধার--- পাট যে একেবারেই ছিল না। লজের ভিক্টর হাসিমুখে পরিবেশন করে খাওয়ার আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলে। তাছাড়া ঝুরি আলু ভাজা পোস্ত বড়া বানাতে আমি বড়ই বিমুখ তবে কেউ বানিয়ে দিলে সাপ্টে খাই।
খেয়েই বেরোলাম। জুলাই মাসের মাঝামাঝি, বৃষ্টি নামলে ‘সব ভণ্ডূল করল’ বলে তাকে তো দোষ দেওয়া যাবে না। বিভূতিভূষণের বাড়ি দেখব সেদিন। মন ওনাতে ভরপুর,--সবে ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ হৃদয় জিতেছে, ‘আরণ্যক’ শুরু করব করব ভাবছি। কিন্তু শহরের গোলকধাঁধায় সে বাড়ি পাওয়া গেল না। আমাদের বলতে হত ‘গৌরীকুঞ্জ’ সারকাস মাঠের পাশ দিয়ে যেতে হয়। পরদিন ঠিকই পেলাম। তবে সেদিন যা পেলাম তা হিসেবের বাইরে হলেও তাতে অচেনার চমক ও ধাক্কা দুই-ই ছিল। কন্যার বায়না টেনে নিয়ে গেল ছোট মফঃস্সুলে বাজারে। সবে স্কুল ছুটি হয়েছ, ছেলেমেয়েদের ভিড়, তবে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় সম্বন্ধে পড়ুয়ারা একেবারেই অন্ধকারে। নাম শুনে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে চলে গেল সবাই। এমনটা ভাবিনি; তাই ধারণা বড় হোঁচট খেল। সে যাহোক্, মনের হতাশা মনেই রইল। খাটো লাল ছাপা আদিবাসী মেয়েদের শাড়ি বেতের বোনা ঝুড়ি সওদা করে যার জিনিস সে তো খুশিই আমিও মহানন্দে রিসর্টে ফিরলাম। হিসেবের বাইরে সেদিন আরো কিছু ছিল। বিচক্ষণ সাবধানী যিনি তিনিও স্মৃতিচারণে ফিরে গিয়ে দেশি মুরগির ঝোল হবে কিনা জানতে চাইলেন। হবে না মানে? সন্ধ্যের মধ্যে কর্মচারীদের কেউ সাইকেলে গিয়ে শহর থেকে আনলে দেশি মুরগি। (আগেই বলেছি লজ একটু শহর ছেড়ে।) ঠিক রাত আটটায় এল ঘরে হটপটে হাতে গরম রুটি, হাল্কা স্বাদের মুরগির ঝোল (শুধু হলুদ নুন গোলমরিচ আদা কুচি দিয়ে—রেসিপি আমার স্বামীর।) সোফায়, খাটে যেখানে খুশি পা গুটিয়ে পা ছড়িয়ে খাওয়া আর অনতিদূরে ঠিক বারান্দার নীচে বয়ে যাওয়া ঝরনার অবিরাম ঝাঁ-ঝাঁ শব্দ। টিভি ছিল লাগানো কিন্তু আমার মন তাতে ছিল না।
রাতে খানিক ভয় আবার ঘিরে ধরল। কারণ ৪৫ একর নেচার রিসর্টে সে দুদিন আমরাই একা লজার। কিন্তু ম্যানেজারবাবু আশ্বস্ত করলেন বড় গেট সন্ধ্যের মধ্যে বন্ধ হয়। আমাদের বিল্ডিঙেও তালা পড়ে যাবে।
ভোর হল। অনেক শখ ব্যালকনিতে বসে ঝরনা শুনে চা খাব। কলকাতার বাড়িতে বারান্দার সুমুখে পথের দু’ধারে পার্ক করা গাড়ি সযত্নে ধোওয়ার ধুম। লড়ঝড়ে সাইকেলে বালতি, কালিঝুলি মাখা ঝাড়ন নিয়ে ধোওয়া পোঁছার মানুষই বেশি চোখে পড়ে। এমন সব এলোমেলো ভাবছি হঠাৎ বারান্দার উলটো দিকের জানলায় ঠক ঠক শব্দ! কে রে বাবা? দেখি কাঠঠোকরা মশায় পোকা ধরে খাচ্ছেন। মনে হল নক করে ঘুমও ভাঙাচ্ছেন আমাদের।

এখানে বাড়ির মতই সরঞ্জাম মামুলি ছিল। চা আর বিস্কিট। তাকে অনন্য করলে ওপর থেকে দেখা আছড়ে পড়া সাদা জলোচ্ছ্বাস আর পাথরে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকা শিকারি বক। খরস্রোতী নামে নদীর ওপর মানুষের সৃষ্ট এই ঝরনার উদ্দেশ্য খরার দিনের জন্য জল সঞ্চয়, এক সময় না কি ওই জলের হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ারে চাষও হোত। কিন্তু কেমন যেন ওই ঝরনা জঙ্গুলে চারপাশের সাথে এক হয়ে গেছে।
সকাল আটটায় জলখাবার—সে-ও মেড টু অর্ডার--লুচি তরকারি ব্রেড বাটার আধা ঘণ্টায় রেডি। টালি ছাওয়া ডাইনিং হল থাকলেও আমরা বসেছিলাম খোলা আকাশের নিচে, বৃষ্টি হলে তা সম্ভব ছিল না। মেঘমেদুর আকাশের পটে ছিল ঘন বন। দূরে সবুজ ছায়ার আভায় বুনো কাঁঠালের (নাকি চাষ হয়েছে?) গন্ধ আর মৌমাছিদের ভনভন; কাছে আদিবাসী মেয়েরা কাস্তে কোদাল আর সার-ভর্তি ট্রলি নিয়ে বাগানে ব্যস্ত।
ম্যানেজারবাবু এবার ঠিক পথ বুঝিয়ে দিতে ঝট করে ‘গৌরীকুঞ্জ’-এ পৌঁছে গেলাম। গৌরী বিভূতিভূষণবাবুর স্ত্রীর নাম। এক দরদী লেখকের স্মৃতি সান্নিধ্যে এলাম। তাঁর প্রিয় অপুর পথ ধরে গৌরীকুঞ্জে ঢুকলাম। দীপক রুদ্র বাবু সেখানে অপুর পাঠশালা নামে স্কুল চালান। বললেন ‘আজও এই বাড়ি হেরিটেজ হল না, আপনারা ভিজিটর খাতায় কিছু লিখে দিন।’ লিখলাম, ‘শীঘ্রই যেন এ বাড়ি হেরিটেজ আখ্যা পায় অনুরোধ রাখি।’
বিভূতিভূষণ বনে-জঙ্গলে ঘুরতেন, তাঁর সেই ঘোরার পোশাকের ছবি দেখলাম। আম খেতে ভালবাসতেন। তাঁর ভাইয়ের পোঁতা আম গাছ আজও আছে তবে পরিচর্যার দাবি রাখে। আরো নানান ছবির মাঝে ছিল ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমার সেই কাশবন থেকে অপু-দুর্গার ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ি দেখার ছবি—দেওয়াল চিত্র বলেই মনে হল। পরে জেনেছি সত্যিই ও ছবি দেওয়ালে স্থানীয় পটশিল্পীদের আঁকা। এঁদের বলা হয় পাটকাই শিল্পী। এঁরা রংও প্রাকৃতিক বস্তু থেকে বানান যেমন পাতা, ফুল লন্ঠনে জমা কালি, মাটি, পাথর। আরো অনেক ছবি ছিল। দেখি যদি কিছু পাঠাতে পারি, সব ছবির কথা তো লিখে শেষ করা যাবে না।


ভাগ্যিস ‘গৌরীকুঞ্জ’ আগে সেরে নিয়েছিলাম। আকাশে জমছিল মেঘের ভ্রুকুটি আর বুরুডি ড্যাম পৌঁছাতে সে কী গুম গুম শব্দ! যেন পাহাড়ের পিছন থেকে হাজার দানব এগিয়ে আসছে। বাইরে বিশেষ না থেকে সাদা হয়ে যাওয়া বৃষ্টির ছাট মেখে ঝুপড়ির চা বিস্কিট মেরেই দৌড়ে গাড়িতে উঠে রিসর্টে পৌঁছলাম। ওই একদিনই বৃষ্টি পেয়েছিলাম।
মনে ইচ্ছা ছিল পলাশের চারা নেব। সেখানেও ম্যানেজারবাবু ত্রাণকর্তা। ওঁর চেনা এক নার্সারিতে পাঠালেন। নিলাম কমলা পলাশ আর হলুদও, যা অপেক্ষাকৃত দুষ্প্রাপ্য। যা পেলাম না তা হল সাদা পলাশ। ওটা ঝাড়খণ্ড সরকার রাজ্যের বাইরে যেতে দেন না। গাছলোভী আমি আরও কিছু অন্য গাছও সঙ্গে নিলাম। ও হ্যাঁ, বুরুডি ড্যাম থেকে ফেরার পথে আদিবাসীদের দেওয়ালচিত্রও মোবাইলবন্দী করেছিলাম। তবে সুবর্ণরেখা হতাশ করলে। এই বর্ষাতেও আবর্জনায় আধা বুজে যাওয়া নদী কল্পনার সাথে মিলল না। তবু ব্রিজে দাঁড়িয়ে দেখলাম দূরে ডিঙি নিয়ে কেউ মাছ ধরায় ব্যস্ত। ছোট ছোট পাথরের খাঁজে নৌকো বাঁধা।

ফিরে যাব পরদিন, তাই ঝরনার টানে বারান্দার বেতের চেয়ারে বসে নিচ্ছিলাম ফাঁকে ফাঁকে। অন্ধকারে তাকে পুরোপুরি না দেখতে পেলেও জলোচ্ছাস তো কানে আসছিলই।
কন্যা সবে শিখছিল ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ—’ কী খেয়ালে সকালে দীঘির পাড় ধরে নারকেল সারি ঘেরা পথে সদ্য কেনা লাল শাড়ি পরে ওই গানে ওর জীবনের প্রথম খানিক সফল রিল তৈরি করলাম, তাও অনভ্যস্ত হাতে; যা একান্ত আমাদের নিজেদের পাওয়া। কেউ তো ছিল না, তাই এটা সম্ভব হয়েছিল।
জলখাবারের পরই বেরিয়ে পড়লাম। উপহার স্বরূপ গাড়িতে উঠল গাছপাকা কাঁঠাল, আর কলকাতায় বহু খুঁজে না-পাওয়া ছোট্ট লাল পুঁইয়ের চারা যা বাগানের এক কোণে পড়েছিল। এবার আর খড়্গপুরে ব্রেক জার্নি ছিল না। সোজা পাঁচ ঘণ্টার পথ কাবার করে একেবারে সল্ট লেক বাড়ির দোরগোড়ায়।
আবার আসার আমন্ত্রণ ছিল, ‘শীতে আসবেন, মরশুমি ফুল দেখতে হবে তো!’ (ম্যানেজার বাবু কাস্টমর টানতে জানেন নাকি এটা ওঁর স্বভাবগত আন্তরিকতা বুঝিনি), কিন্তু আমি জানি তখন ট্যুরিস্ট সীজন, অনেক মানুষের ভিড় যা থেকে পালাতে চেয়েছি। সবুজ রোদের আভাকে এমন একান্ত করে তখন তো আর পাব না। তাছাড়া সত্তর ওপারের মানুষ আমি, বার বার কি চৌকাঠ ডিঙোনো হবে?