




মাথুর
উন্মাদ, শস্যের লোভে জীবিকা পেরিয়ে তোমার গর্ভের কাছে শূন্য রেখে যাচ্ছি
নিপুণ দক্ষতায় খোসার মতো খুলে দেখো আরও, রেখে যাচ্ছি এই ক্লান্তিবাকল
তারপর মৃত্যুর ঠোঁটে লেগে থাকা মধু অধরে ছুঁইয়ে শেষে জীবনের অনিরপেক্ষ,
অসৎ জুয়ায় অবশ্য বাজি রাখছি মাধবী-শরীর অথবা উপার্জিত জ্যোৎস্নায় ছায়ার
উন্মুখ গতিবিধি—শুনছি বেশ্যাদের ফিসফাস্, কানাকানি ও উচ্চারিত অপশব্দে
যেভাবে ত্রস্ত নীরবতা দুলে উঠছে—তোমারই গভীর স্তনভার যেন—তোমারই
গভীর গর্ভে প্রোথিত দুর্বোধ্য ভ্রূণবীজ, উপনীত সকল ঋতুতে যা নিরালম্ব শূন্যে
নিয়ে যায়; পুরুষজন্মের কাছে ফিরে আসি, তোমার শাসন মেনে খণ্ডিত অথবা
কোন স্বাধীন সীমায় দেখি অমেয় বিচ্ছেদ জল হয়ে আছে, ফেলে আসা সকল
প্রদাহ যেন জল— তোমার ডানার তাপ ছুঁয়ে থাকি পলাতক প্রেমিকের মতো।
মরিয়ম
আদরে ছোপানো বৈশাখ মাস, তোমাকে লিখে রাখছি হলুদ চিঠির ভাঁজে,
সযত্ন খেয়ালে;— যদি পৃথিবীতে স্বর্গ নেমে আসে, অথবা বাংলা কবিতার
অক্লান্ত দশকগুলি হৃদয় থেকে হৃদয়ের ব্যবধান মুছে নেয়; অন্যথায় তার
সারল্য হারায়— তবে একুশ শতকের অপরাহ্ন ছুঁয়ে, গমিতমহিমা একটি
দিন, বাহ্যত উতলা যে মেয়েটিকে স্বস্তি দিতে তার নরম চিবুকে জলস্পর্শ
আঁকে— সে জানে রক্তের উদ্বৃত্ত লবণ সমুদ্রের কথা বলে, গর্ভে সাবলীল
বাড়ে বীজ অথচ, পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে তখন পল্লবিত অন্ধকার কেঁপে ওঠে,
নিজেদের খর্ব ছায়া ফেলে একনায়কেরা সে তমসার দিকে দ্রুত সরে যায়,
তুমিও স্বাস্থ্যহীন, আয়ুহীন এক ভ্রূণের প্রসববেদনায় স্থির হতে হতে ক্রমে
মাতৃত্বের অগাধ বিস্ময়ে চেয়ে দেখো;— গীর্জার প্রস্তরগায়ে জেগে আছে
ক্রুশবিদ্ধ যীশুর ম্যুরাল।