




এক
এক পা এগিয়ে যাও, দেখবে সে-ও এসেছে পিছিয়ে
এক পা তোমার দিকে
যেতে হবে, সংসার সামাল দিয়ে, সব কিছু
গুছিয়ে গাছিয়ে পরিপাটি—তারপর যেতে চাও, যাও
যেতে হবে নিজের গরজে, সংকোচের পর্দা সরিয়ে
যেতে হবে, যেভাবে নদীর জল পাথর ডিঙিয়ে ধেয়ে যায়
এক পা এগিয়ে যাও, দেখবে সে-ও এসেছে পিছিয়ে
এক পা তোমার দিকে
দূরত্বকে ভাগ করে নিতে হবে, তাকে ও তোমাকে
দুই
এসো বললেই তক্ষুণি যাওয়া যায় নাকি
দরজা অব্দি চওড়া রাস্তা চাই, লাল মোরাম, দু' পাশে
ফুলের কেয়ারি, খোলা হাওয়া
নিকোনো উঠোন চাই, উঠোনের কোণে রক্তজবা গাছ
দাওয়ায় চাই রঙীন সুতোয় বোনা সুন্দর জাজিম
হাত বাড়িয়ে ডাকতে হয়, হাতে
কয়েকগাছা সোনালী কাঁকন থাকা চাই, পরণে চাই
তাঁতে বোনা লাল ডুরে শাড়ি
চোখে মুখে সোহাগের আভা
ঠোঁটে চাই হাসির ঝিলিক
এসো বললেই তক্ষুণি যাওয়া যায় নাকি
আমারও তো কিছু ইচ্ছে-অনিচ্ছে আছে
তিন
ভাবছিলাম একটা ঘর আঁকব, গেরস্তের ঘর
এঁকেও ফেললাম একদিন—ঘরে
চমৎকার সাদা দেওয়াল, সুন্দর দেওয়াল- ঘড়ি
সংলগ্ন বারান্দা আছে একটুকরো—বারান্দায়
বাহারি লতাপাতা, মেঝেয় পাতা সুদৃশ্য মাদুর
ঘর তো হলো—ঘরে 'তুমি' কোথায়?
ঘর তো কারও একার নয়, ঘর দু'জনের,
'আমাদের' ঘর
অথচ 'তুমি' নেই কোত্থাও—ঘরে
তোমার নাম-গন্ধ নেই
শেষমেশ ভেঙে গেল ঘর—এবার
অন্য কিছু আঁকার কথা ভাবছি আমি শুধু