




চোর
আমি সর্বদা সাবধানে ছিলাম।
রক্ষা করে রেখেছিলাম
আমার ধনসম্পদ,
আমার প্রিয়তম সম্পত্তি,
রং উঠে যাওয়া ফোটো,
শৌখিন পলকা চায়ের পেয়ালা,
ঠাকুমার আলমারি,
দিদিমার সাত লহরী হার।
রোজ রাত্রে
ভালো করে জানলা বন্ধ
করেছি,
দরজায় মেরেছি তালা।
বছর বছর ধরে
নিরাপত্তার বৃত্তের মধ্যস্থলে
চোখ বন্ধ করে
থেকেছি স্থির,
বিশ্বাসের আর আশার
আঁধার তৃপ্তিতে।
সেই সমস্ত সময় ধরেই
বাড়ির মধ্যে
ছিল একটা চোর।
সবাই জানত।
সব পড়শী, সমস্ত বন্ধু।
আমি ছাড়া সবাই জানত।
সুইমিং পুল
সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে
তুমি ভালোবাসো।
সমুদ্রকে দূর থেকে দ্যাখো শুধু,
চোখে ভালোলাগা নিয়ে।
সমুদ্রকে ভয় পাও তুমি?
ভয় তো আমিও পাই –
তবু ভালোবাসি।
নিরাপদ সাতাঁর-পুকুরও
মন্দ লাগে না।
তবে তাতে ভালোবাসা নেই।
তবুও তোমাকে ভালোবাসি।
না, না, তবু নয়।
সেই হেতু ভালোবাসি।
সুইমিং পুলে ভেসে ভেসে
তুমি শান্ত আকাশে
দ্যাখো শরতের মেঘ।
আর ঢেউ ঢেউ অশান্ত সাগরে
আমি পাই লবণের স্বাদ।
গভীর জলের মাছ
তিমি ও হাঙর দেখি আমি।
জীবাণুমুক্ত থাকো তুমি
অগভীর জলমগ্ন সুখে।
নিরাপত্তা আমার নয়।
আমার বিপদ নিয়ে খেলা,
বিমর্ষতা বিষাদ বেদনা।
তুমি আছো সমুদ্রের তীরে।
মাঝে মাঝে খুঁটি ছুঁয়ে যাই।