• Parabaas
    Parabaas : পরবাস : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • পরবাস | সংখ্যা ৮৪ | অক্টোবর ২০২১ | উপন্যাস
    Share
  • হারাধন টোটোওয়ালা (১৩) : সাবর্ণি চক্রবর্তী



    বিকেল শেষ হয়ে সন্ধে শুরু হতে যাচ্ছে, দিনের আলো প্রায় নিভে গিয়েছে, রাস্তাটাতেও খুব একটা লো নেই- একটু অন্ধকার অন্ধকার। কারণ ল্যাম্পপোস্ট গুলা একটা আর একতার থেকে বেশ দূরে দূরে বসানো, তার ওপর সব কটার আলো জ্বলছে না। বাল্ব কেটে গেছে বা চুরি হয়ে গেছে। যেগুলো জ্বলছে সেগুলোও কম ভোল্টেজের জন্যে মিট মিট করে আলো দিচ্ছে। এই আধা অন্ধকার রাস্তায় হারা সাবধানে তার তিন চাকার গাড়ি চালাচ্ছিল। রাস্তার জায়গায় জায়গায় গর্ত, একটু অসাবধান হলেই কোন একটা চাকা সেই গর্তে পড়বে আর জবরদস্ত চোট লাগবে ওর গাড়িতে। আজ বেবির ওখান থেকে বেরোতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অন্যান্য দিন ও এই সময়ের আগেই ফিরে আসে। আজ বেবি হারার সব কথা বার করে নিয়েছে- বাতাসি ওর বৌ, ওর ছোটবেলার এক্কাদোক্কা খেলার বন্ধু, লক্ষীমাসির মেয়েটা। সে সব বলতে গিয়েই না দেরি হয়ে গেল। আর দেরি হল বলেই তো বেবি ওরকম একটা অদ্ভুত ব্যবহার করল।

    দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর বেবির বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে ওরা দুজন আয়েস করছিল। প্রেম টেম করার ব্যাপারটা খাওয়ার আগেই সারা হয়ে গিয়েছে, এখন আর ওসবের তাগিদ নেই। দুপুরে যে খাবারটা এসেছিল তার সোয়াদটা বেশ ভাল ছিল, অনেকটা লক্ষীমাসির হাতের রান্নার মত। বেবির এখানে রান্না টান্না হয় না। খাবার আসে বাইরের থেকে, বড় সাইজের টিফিন কেরিয়ারে ভর্তি হয়ে। রাতের খাবারটা ওর খদ্দেরই আনায়। অসুবিধে কিছু নেই। কাছাকাছি এরকম অনেক দোকান আছে, তারা খাবারের জোগান দেয়।

    হারা আজ দুপুরে একটু বেশি খেয়ে ফেলেছিল। তারপর ওর চোখ জড়িয়ে আসছিল, ওর ইচ্ছে ছিল ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নেবে। কিন্তু বেবি ওকে ঘুমোতে দিলে তো? ও চিমটি কেটে, মাথার চুল টেনে হারাকে সমানে জাগিয়ে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত হারার ঘুমটা চটে গেল, বিরক্ত হয়ে হারা বিছানায় উঠে বসল। বলল, দুস্স শালি, তোর জন্যে একটু ঘুমোবারও উপায় নেই।


    বেবি হারার কথায় কোন গা করল না। এরকম গালাগাল দিয়ে কথার আদান প্রদান ওদের ভেতরে প্রায়ই হয়ে থাকে। ও হারার দিকে পাশ ফিরে কনুইএর ওপর ভর দিয়ে আধশোয়া হল। তারপর হঠাৎই হারাকে জিজ্ঞেস করল, এই, তোর বৌ-এর নাম কি রে?

    হারার চোখ থেকে ঘুমের ঘোরটা তখনো পুরো যায় নি। ও একটা হাই তুলে কিছু না ভেবেই বলে ফেলল, বাতাসি।

    বাতাসি? উত্তেজনায় বেবি বিছানাতে উঠে বসল। বলল, বাতাসি? লক্ষীমাসির মেয়ে? ওকেই বিয়ে করেছিস তুই?

    হারা তক্ষুণি একথার কোন জবাব দিল না। ওর চোখ থেকে ঘুম এখন পুরোপুরি ছুটে গিয়েছে। (…?) মুখ দিয়ে সত্যি কথাটা বেরিয়ে গেছে। কিন্তু কাজটা বোধহয় ঠিক হল না। বেবি লক্ষীমাসির ঘর চেনে। যদি ও জেনে যায় যে হারা আর বাতাসি সেখানেই থাকে - ও একথা জেনে যাবেই- আর যদি কোনদিন হঠাৎ সেখানে গিয়ে উদয় হয়? ওকে তো কিছু বিশ্বাস নেই! যদি ওর মাথায় ঢোকে যে পুরোন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাবে, তাহলে ও সেখানে চলে যেতে পারে। আর সেখানে গিয়ে ও যদি হারার সঙ্গে ওর সম্পর্কের কথাটা ফাঁস করে দেয় তাহলে হারা জোর ঝামেলায় পড়ে যাবে। ও কথাটা ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা করল। বলল, এতদিন হয়ে গেল তোর কাছে যাতায়াত করছি, তুই আমার বৌ-এর ব্যাপারে কোন কিছু জানতে চাস নি। আজ হঠাৎ এত কথা জানতে চাইছিস কেন?

    কিন্তু বেবি অত সহজে ব্যাপারটা ছেড়ে দেবার মেয়ে নয়। ও হারার গালের মাংস চিমটি কেটে টেনে ধরল। বলল, ওসব ফালতু কথা ছাড়। তোর বৌ বাতাসি নিশ্চয়ই লক্ষীমাসির মেয়ে। কি করে ওকে পটালি সব কথা বল, তা না হলে- হারার গালের টেনে ধরা মাংসে জোরে একটা মোচড় দিল বেবি।

    আ:, লাগে লাগে ছাড়্ ছাড়। হারা কথাগুলো বলল না, ওর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল।

    হারার গাল ছেড়ে দিল বেবি। বলল, শীগগীর সব কথা খুলে বল। আর না বললে- আবার বেবির দুটো আঙুল সাঁড়াশির মত হারার গালে চিমটি কেটে ধরল।

    হারা এক মুহূর্ত্ত চিন্তা করে নিল কোন মিথ্যে কথা বানিয়ে বলবে কিনা। কিন্তু তাতে অনেক অসুবিধে। একটা পুরো মিথ্যে গল্প এক্ষুনি মুখে মুখে বানিয়ে বলতে হবে, হারা তা পারবে না। সেরকম যদি করাও যায় তাহলে গল্পটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। যদি পরেও কোন এক সময় একটুও এদিক ওদিক বলে ফেলে তাহলেই বেবি ওর মিথ্যে কথা ধরে ফেলবে। ও যা ধরিবাজ মেয়ে। তার থেকে সত্যি কথা বলাই ভাল। বলছি, বলছি- হারা বলল। আর চমটি কাটিস না।

    হারার গাল ছেড়ে দিয়ে ওর সামনে বেবি গুছিয়ে বসলল। বলল, বল্ এবার।

    কিন্তু গল্পটা শুরু করতে হারার একটু সময় লাগছিল। ওর সঙ্গে বাতসির বিয়ে, সে একটা লম্বা কাহিনী। ওর মাথায় অনেক পুরনো কথা ঘুরছিল। অনেক পুরনো ঘটনা ওর মনে পড়ছিল। বেশি করে মনে আসছিল ওর মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটা। সেটা যদি না হত তাহলে হয়তো বাতাসির সঙ্গে ওর বিয়ে হওয়ার প্রশ্নই উঠত না। বেবির ধারণাটা ঠিক নয়, ও বাতাসিকে পটায় নি। সে চিন্তাই কখনো করে নি। ও বাতাসিকে দেখে আসছে একেবারে ছোট বয়েস থেকে- সেই রোগা শুঁটকে এক্কা দোক্কা খেলা মেয়েটা ওর চোখের সামনে বড় হয়েছে, চেহারায় সেই শুঁটকোই থেকে গেছে। ওকে হারার চোখে লাগবে কি জন্যে? আসলে ভাগ্য- হারার ভাগ্য। এই ভাগ্য যদি বদমায়েসির খেলা না খেলত তাহলে লক্ষীমাসি এদিক ওদিক খুঁজে একগাদা টাকা বরপণ দিয়ে বাতাসির জন্যে একটা বর ঠিক করে ফেলত। বাতাসি তাকে বিয়ে করে হারাদের তল্লাট ছেড়ে অন্য কোথাও বরের ঘর করতে চলে যেত। আর হারা ওর বিয়েতে বেশ একপেট খেয়ে আসত। ওকে রোজ রাতে ঐ রোগা কেল্টে মেয়েটার সঙ্গে এক বিছানায় শুতে হত না।

    হারার গল্প শুরু করতে দেরি দেখে বেবি অধৈর্য হয়ে উঠছিল। ওর চোখের দিকে নজর পড়তেই হারা সেটা বুঝতে পারল। আবার হয়তো বেবি একটা জোরালো চিমটি কাটবে। হারা বলতে শুরু করল। কিন্তু ও বলছিল ধীরে ধীরে, টুকরো টুকরো ঘটনাগুলো মনে করে করে পর পর সাজিয়ে নিচ্ছিল। তার কারণ সে সব বহু দিন আগেকার কথা। আট ন বছর তো হবেই। হারা তখন বহুকাল ইশকুল ছেড়ে দিয়েছে, এটা ওটা হাতের কাজ শেখার চেষ্টা করছে। প্রথমে গিয়েছিল মোটর মেকানিকের কাজ শিখতে। সাধন মিস্তিরির কাছে নয়, সদে পরিষ্কার বলে দিয়েছিল আনকোরা নতুন একেবারে কাজ না জানা কোন ছোকরাকে সে কাজে নেবে না। একজন মিস্তিরী ওকে নিল। শর্ত দিল ছ মাস, অর্থাৎ কাজ না শেখা পর্যন্ত হারা একপয়সাও মাইনে পাবে না। তার ওপর লোকটা হারার থেকে নিয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা। লোকটা হারাকে কাজ শিখবার সুযোগ দিয়েছিল, সে তো আর বিনে পয়সায় হয় না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, এর ওর কাছ থেকে ধার করে সুলোচনা টাকাটা জোগাড় করেছিল। কিন্তু লোকটা এমন শয়তান, দু তিন মাস পরেই হারাকে ছাড়িয়ে দিল- ঐ পাঁচ হাজার টাক বেমালুম জল গেল। তারপর থেকে হারা আরও অনেক হাতের কাজ শেখার চেষ্টা করছে। কাঠের কাজ, কল মিস্তিরির কাজ, ইলেকটিরি-র কাজ- কোনটাতেই সুবিধে হয় নি। ভাল করে কাজ শেখা হয়নি বলে কোন দোকানে বা ঠিকেদারের কাছে কাজ পায় নি- কোন কারখানায় কাজ পাওয়া তো দূরের কথা। মাঝে মাঝে কোন কোন বাড়ির থেকে ছোটখাট ঘরের কাজের জন্যে ডাক পেয়েছে- এই দরজাটা একটু হেলে গেছে, কব্জা খুলে ঠিক করে দাও- এ ঘরের মেঝের ওই কটা টাইল ঢিলে হয়ে গিয়ে খুলে বেরিয়ে আসছে, ওই জায়গাটায় নতুন টাইল বসিয়ে দাও। এ সব করে কুড়িয়ে বাড়িয়ে তখন মাসে শ পাঁচেকের মত রোজগার। তখনো হারা সাইকেল রিক্সা চালানো ধরে নি। তিন চাকার গাড়ির প্যাডেল চালানো আরও পরের কথা, তখন ওর সঙ্গে বাতাসির বিয়ে পাকাপোক্ত সারা হয়ে গিয়েছে।

    নিজের রোজগারের এই কটা টাকা হারা সুলোচনাকে দিত না। কি করে দেবে? বিড়ি, সিগারেট এসবের খরচা আছে। বাইরে ঘুরে ঘুরে কাজ, তাতে কি আর ঘড়ি ধরে খাওয়ার সময়ে ঘরে ফেরা সম্ভব? বাইরে খেতেই হত, আর তাতে যা খরচা, বাপ্স। এই তো ওদের ঘরের কাছে রাস্তার পাশে দর্মা আর টালি দিয়ে তৈরী খাবারের দোকান- মনতি বোউদির হোটেল। ওদের পাড়ার ছেলে বিশ্বনাথ আর তার বৌ মিনতি মিলে চালায়- সেখানে ঢুকে এক প্লেট ডিমভাত চেয়ে নাও, পুরো পঁচিশ টাকা দাম নেবে। সব্জী ভাত, তড়কা রুটি তারও এক এক প্লেটের দাম কুড়ি কুড়ি টাকা। তাছাড়া ইয়ার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মাঝে মাঝে একটু আধটু চোলাই টানা, তাসের আড্ডাতে বসা। এসব না করলে কি আর দোস্তদের কাছে ইজ্জৎ থাকে? এ সবের খরচা মেটাবার জন্যে মাসে হারার রোজগারের ঐ কটা টাকা তো একেবারে নস্যি।

    কিন্তু সুলোচনা কি আর সব বোঝে? দিনরাত হারার সঙ্গে খিটখিট করে, হারার পেছনে যে টাকা খরচা করেছে তার জন্যে শোক করে। ইশকুলে দিলাম, কোথায় লেখাপড়া শিখে একটা পাশ টাশ দেবে, সরকারি আপিসে অন্তত: একটা দপ্তরি পিয়নের কাজ করবে, না পোড়াকপালে ছেলে লেখাপড়া চুলোয় দিয়ে ঘরে এসে বসল। তারপর সুলোচনা বলতে থাকে এ কাজ, ও কাজ সে কাজের কথা, তাতে হারা কত কত টাকা নষ্ট করেছে তার কথা। তার সঙ্গে গাল পাড়ে হারার বাপকে, যে বাপ খালি ছেলের জন্ম দিয়েই খালাস হয়েছে, হারার কোন দায়িত্ব নেয় নি। বার বার শুনে শুনে ঐ বিলাপ আর গালাগালের কথাগুলো হারার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। সুলোচনা একবার তার দু:খের কথা শুরু করলে ও চোখ বুজে বলে দিতে পারত এর পর সুলোচনা ঠিক কি কি বলবে, কি বলে হারা আর তার বাপকে গাল দেবে। বেশির ভাগ সময় সুলোচনা রাতে খাবার সময় হারার ওপর নিজের ঝালটা ঝাড়ত। হারা নির্বিকার মুখে সে সব শুনতে শুনতেই খাবারটা খেত। কোন কোন দিন সুলোচনা বেশিক্ষণ ধরে গাল দিত। সে সব দিনে গাল শুনতে শুনতেই হারা রাতে ঘুমিয়ে পড়ত।

    সেদিনটা খুব গরম ছিল। গরম হওয়ারই কথা, কারণ তখন হয় বোশেখ মাসের শেষ, নয়তো জষ্টি মাসের শুরু। হারার ঠিক মনে নেই, এত বছর আগের কথা তো। আগের রাতে সমানে ঘেমেছে, ভাল ঘুম হয় নি। আজ হারা খুব সকালেই বেরিয়ে পড়েছে। চান করা তো দূরের কথা, দুটো মুড়ি চিবোবারও সময় পায় নি। ওদের ঘর থেকে একটু দূরে একটা বিরাট ফেলাট বাড়ি তৈরী হচ্ছে, সেখানে ও রাজমিস্তিরির জোগাড়ের কাজ জুটিয়েছে। দিনকার দিনের কাজ, তাতে আবার আজই প্রথম, যেতে দেরি হয়ে গেলে কাজটা হয়তো অন্য লোকে পেয়ে যাবে- সেজন্যে তাড়াতাড়ি করে বেরিয়েছে।

    কাজটা পেতে হারাকে অনেক তদ্বির করতে হয়েছে, বেশ কয়েকদিন পল্টুর বাড়ীতে চাকর খেটে দিতে হয়েছে। পল্টু মন্ডল ঠিকেদার। বাড়ি বানাতে মজুর খাটায়, রাজমিস্তিরির জোগান দেয়। বাড়িটা যেখানে হচ্ছে সেখানে খুব বড় একটা জলা জায়গা ছিল। সেটা বালি, মাটি এসব দিয়ে ভরাট করে নিয়েছে। সেখানকার চার পাশের লোকজন প্রথমে আপত্তি করেছিল। জলাজমি এভাবে ভরাট করার নাকি নিয়ম নেই। তা সে সব লোককে টাকা খাইয়ে, ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছে। এটাও বলতে হবে যে ওসব নিয়ম মানুষের কোন কাজে লাগে না। নিয়ম বদলে, জলাটা ভরাট করে বাড়িটা উঠছে বলেই না এতগুলো লোক কাজ পেয়েছে। কাঠবেকার যে হারা তারও তো একটা কাজের জোগাড় হয়েছে। অবশ্যি এসব বাড়ি মাঝে মাঝে বসে যায়, দেয়ালে বা গাঁথুনিতে ফাটলও দেখা দেয়। তা এরকম দু চারটে হতেই পারে। এসব ভেবে বসে থাকলে মানুষজনের আর কাজকর্ম করে খেতে হবে না। এ বাড়িটা তৈরী হচ্ছে বলেই না এতগুলো লোকের কাজের জোগাড় হয়েছে। হারা-ও আজ থেকে সেখানে কাজে লাগছে।

    কিন্তু কাজটা বড্ডো খাটুনির। বাড়ি তৈরীর সব জিনিষ মাথায় করে বয়ে পাকা রাজমিস্তিরিদের হাতে নিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসা। তার ওপর ঘুম থেকে ওঠবার পর পেটে-ও কিছু পড়ে নি। খুবই ক্লান্ত বোধ করছিল হারা। অন্যান্য সব মেয়ে পুরুষ জোগাড়েরা দিব্যি কাজ করে যাচ্ছে। ওদের একাজ করার অভ্যেস আছে, হারার তো নেই। ও খালি কাজে পিছিয়ে পড়ছিল, মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে দম নিচ্ছিল, মাথায় বিড়ে করে পাকিয়ে রাখা গামছাটা মাথার থেকে খুলে নিয়ে ওটা দিয়ে গায়ের ঘাম মুছে নিচ্ছিল।

    হারা যে কাজটা পেরে উঠছে না সেটা পল্টুর নজরে পড়েছিল। ও ঝানু ঠিকেদার, ওর চোখকে ফাঁকি দেওয়া কোন মজুরের পক্ষেই সম্ভব নয়। ও ঘন্টা কয়েক হারাকে কাজ করতে দিল। তারপর ওকে ডেকে ওর হাতে গুণে গুণে পাঁচটা দশ হাজার নোট দিল। বলল, তোর ছুটি করে দিলাম। তোকে আর কাজে আসতে হবে না।

    হারা আর কোন কথা না বলে চলে এসেছিল। জানত কহা বলে লাভ নেই। কথা বাড়ালে পল্টু হয়তো ওকে লাথি মেরে ভাগাত। পঞ্চাশ টাকা পাওয়া গিয়েছে এই যথেষ্ট। কোন টাকা না দিয়ে ভাগালেও কিছু করার থাকত না।

    নিজেদের ঘরেই ফিরে আসছিল হারা। যদি সেখানে দুটো মুড়ি পাওয়া যায় তবে তাই চিবিয়ে নেবে, তারপর আবার নতুন কাজের খোঁজে বেরোবে। কিন্তু দু পা হেঁটেই ও বুঝল কিছু না খেয়ে ও আর এক পা-ও এগোতে পারবে না। দারুণ খিদে পেটের ভেতর খোঁচা মারছে, মাথাটাও অল্প অল্প ঘুরছে। কিন্ত কাছাকাছি কোন খাওয়ার দোকান আছে কি? থাকা উচিৎ, এটা বেশ বড় রাস্তা, কোন একটা মোড়ের কাছে নিশ্চয়ই এরকম কোন দোকান পাওয়া যাবে।

    হারা যা ভেবেছিল তা ঠিক। আর একটু এগোতেই চোখে পড়ল, রাস্তার ধারেই একটা চালা দেওয়া চায়ের দোকান, সেখানে খাবারও বিক্রী হচ্ছে। দোকানের বাইরে রাস্তার ওপর কয়েকটা বেঞ্চি পাতা আছে, লোকজন সেখানে বসে খাচ্ছে। সকালের জলখাবার মুড়ি মাখা ঘুগনি পাওয়া যাচ্ছে। শালপাতার পেলেটে করে সেই খাবার দোকানের খালি গা হাফ প্যান্টুল পরা ছোকরা চাকরটা সব লোকের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। দোকানটায় বেশ ভীড়। বেঞ্চিগুলোতে জায়গা খালি নেই, বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছে। হারা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে গেল, দোকানের ছোকরাটাকে ডেকে বলল, এই যে ভাই, এদিকে, এক পেলেট মুড়ি ঘুগনি।

    হারা পর পর দু বার চেয়ে মুড়ি ঘুগনি খেয়ে ফেলল। তার সঙ্গে দু ভাঁড় চা। বেশ খরচা হয়ে গেল। মুড়ি ঘুগনি দু খেপের দাম তিরিশ টাকা, আর দু ভাঁড় চা দশ টাকা। পল্টুর দেয়া পঞ্চাশ টাকা নিয়ে ওর পকেটে ছিল ছিয়ানব্বই টাকা। এখন তা হয়ে গেল ছাপান্ন টাকা। তা হোক, খিদেটা গেছে। কিন্তু যে টাকাটা রইল তাতে তো আর একটা দিনও চলবে না। কাজ কিছু না কিছু জোটাতেই হবে। হারা হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিল। গৌরাকে নিয়ে ধরলে কেমন হয়? ও ইলেকটিরির কাজ ভাল শিখেছে, ও যদি হারাকে সঙ্গে করে কাজে নিয়ে যায়। বেশ কিছু রোজগার হতে পারে তাহলে। তবে ওকে গিয়ে বললেই যে ও হারাকে সাহায্য করবে এমন কোন কথা নেই। ও শালা মহা হারামি। কিন্তু ওকে বললে কাজ হলেও হতে পারে, না বললে তো কিছুই হবে না। এখনও বোধহয় ও কাজে বেরোয় নি। এক্ষুনি যদি লক্ষীমাসির বাড়ি যাওয়া যায় তাহলে ওকে পাওয়া যেতে পারে। নিজেদের ঘরের কাছাকাছি এসে পড়েছিল হারা। ঘুরে লক্ষীমাসির ঘরের দিকে জোর কদমে হাঁটা দিল।

    কিন্তু আজ হারার কপালটাই খারাপ। গৌরা এক্কেবারে সকালে বেরিয়ে গেছে। খবরটা দিল বাতাসি। লক্ষীমাসিও কাজে বেরিয়ে গেছে, বাড়িতে খালি বাতাসি-ই ছিল। ও সুযোগ পেলে একসঙ্গে অনেক কথা বলে, আজও অনেক খবর দিল। কোথায় একজায়গায় নতুন তৈরী বাড়িতে ইলেকটিরি লাইনে বসানো হচ্ছে। গৌরা রোজই সেখানে কাজে যাচ্ছে। সেখানে বড় মিস্তিরির অনেক সাকরেদ কাজ করছে, গৌরাও তাই। সক্কালবেলা নাস্তা করে বেরিয়ে যায়, দুপুরে খাওয়ার টিপিন সঙ্গে করে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। একটা পেলাস্টিকের বোতলে খাওয়ার জলও নিয়ে যায়। ফেরে একেবারে সন্ধেবেলায়, কোনদিন সাতটা, কোনদিন আটটা। মাঝে মাঝে রাত নটাও হিয়ে যায়। এই কাজটার থেকে গৌরা নাকি অনেক টাকা রোজগার করছে। কিন্তু ঠিক কত সেটা কাউকে বলে না। এমন কি নিজের মাকেও নয়-

    শুনতে শুনতে হারা অধৈর্য্য হয়ে পড়ছিল। ওর হিংসেও হচ্ছিল গৌরার ওপর। শালা কত কত টাকা কামাচ্ছে, আর হারার পকেটে আছে মোটে ছাপান্ন টাকা। বাতাসি একবাটি ক্ষীর আটারুটি দিয়ে খাচ্ছিল। খেতে খেতে গলগল করে সব বলে যাচ্ছিল। হারা শুনছিল আর মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে যাচ্ছিল। কারণ ক্ষীরটার থেকে ভুরভুর করে মিঠে গন্ধ আসছিল। তা তো হবেই, লক্ষীমাসির হাতের তৈরী ক্ষীর, তার থেকে এরকম জান কাড়ানো গন্ধ তো বেরোবেই। হারা জুলজুল করে মাঝেমাঝেই বাতাসির হাতের বাটির ক্ষীরের দিকে তাকাচ্ছিল। সেটা বাতাসির চোখে পড়েছিল। ও হারাকে জিজ্ঞেস করল, ক্ষীর খাবি?

    হারা কি আর তাত না বলে? চটপট ঘাড় কাৎ করে হ্যাঁ বলে দিল। দিলেই ও ক্ষীর খাবে।

    বাতাসির নিজের খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। ও উঠে খালি হওয়া খাওয়ার বাসন নিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। হারা সেদিকেই তাকিয়ে রইল, কতক্ষণে বাতাসি ওর জন্যে ক্ষীর নিয়ে ওখান থেকে বেরিয়ে আসে।

    মিনিট কয়েকের মধ্যেই বাতাসি আবার দেখা দিল, হাতে একটা চায়ের পেলেট। কিন্তু ওটা যখন ও হারার সামনে নামিয়ে রাখল হারা বড় নিরাশ হল। সেই সঙ্গে বাতাসির ওপর একটু রাগও হল। মেয়েটা কি পাজি। কতটুকু একটু ক্ষীর হারাকে দিয়েছে দ্যাখো। লক্ষীমাসিটা বাড়ি নেই- থাকলে হারার কপালে পুরো পেলেট ভরতি জুটত। হয়তো তার সঙ্গে আসত আরও কিছু খাবার দাবার। যাক্ যা পাওয়া যায় তাই লাভ। ওই ক্ষীর টুকুই চেটে পুটে খেয়ে ফেলল হারা।

    আরও খানিকক্ষণ বাতাসির সঙ্গে এটা ওটা বাজে কথা বলল হারা। সেটা এমন কিছু শক্ত ব্যাপার নয়। বাতাসিকে কোন একটা কথা ধরিয়ে দিতে পারলেই ও বাজে বক বকানি শুরু করে দেয়। আজও তাই হচ্ছিল, বাতাসির বেশির ভাগ কথাই হারা কানে নিচ্ছিল না। আসলে ওর ধান্দা ছিল এভাবে খানিকটা সময় এ বাড়িতে এসে থাকা, যাতে লক্ষীমাসি বাড়ি ফিরে এসে ওকে দেখতে পায়। ব্যস্, তাহলে আর কোন চিন্তা নেই। মাসি নিজে উপোষ করেও হারাকে খাওয়াবে। কিন্তু সেটা হতে দিল না বাতাসি। কিছুক্ষণ পরে হারাকে বলল, এবার তুই বাড়ি যা। আমার ঘুম পাচ্ছে, আমি একটু ঘুমোব।

    কাজেই হারাকে উঠে পড়তে হল। আর একটু বসলেই হয়তো লক্ষীমাসি এসে পড়ত- ঐ বদমাশ মেয়েটার জন্যে তা আর হল না। নিজেদের ঘরের দিকে যেতে যেতে হারা একবার ভাবল মা ঘরে আছে কিনা। মা ঘরে না থাকলে তো ভাত মিলবে না। মা ঘরে না থাকলে দরজায় তালা থাকবে- ও একবার পকেট চাপড়ে দেখে নিল চাবিটা ঠিক আছে কিনা। মা না থাকলেও ঘুরে ঢুকে অন্তত: একগাল গুড় মুড়ি খাওয়া যাবে। দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, একটু একটু খিদে পাচ্ছে আবার। ঘরে গিয়ে একটুখানি গড়িয়েও নেয়া যাবে। সকালে যেটুকু সময় ঐ জোগাড়ের কাজ করেছে তাতেই হারা বড্ড থকে গেছে।

    দরজায় তালা নেই, মানে মা ঘরে আছে। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল না, হারা ঠেলতে খুলে গেল। ঘরের জানলাটাও বন্ধ, ভেতরে আবছা অন্ধকার। মা একপাশে বিছানা পেতে শুয়ে আছে। বোধহয় শরীর খারাপ করেছে, সেজন্যে আজ কাজেও যায় নি।

    সুলোচনার অবস্থা যাই হোক হারা তা নিয়ে আর মাথা ঘামাল না। চটিজোড়া ছেড়ে রেখে ঘরে রাখা টিনের মগটা নিয়ে সোজা চলে গেল কলতলা। কলে এখন জল নেই, কলতলার বারোয়ারি চৌবাচ্চাটাতেও জল একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। হারা মগটা দিয়ে সেই জলই কাচিয়ে কাচিয়ে তুলল খানিকটা। জলের সঙ্গে অবশ্য চৌবাচ্চার নিচে জমে থাকা সবুজ শ্যাওলাও একটু একটু উঠে এল। সেই জন্যেই হারা হাতমুখ ধুয়ে নিল- রাস্তার ওপরের টিউকলটা বেশ একটু দূরে, এই রোদের মধ্যে আবার এখন কে যাবে ওখানে?

    ঘরে ফিরে এসে হারা জানলাটা খুলে দিল। দিনের এই সময়টায় অল্প একটু রোদ আসে ঘরে। সুলোচনা চোখ বন্ধ করে সটান শুয়ে আছে- মা-টা ঠিকই টের পেয়েছে যে হারা ফিরেছে, খালি নাটক করে ওকে না দেখার ভান করে শুয়ে আছে।

    হারা সুলোচনাকে ডেকে বলল, মা ভাত দাও।

    এবার সুলোচনা উঠে বসল। বিছানাটা গুটিয়ে সরিয়ে রাখল একপাশে। তারপর হারার দিকে তাকাল। ওর সারা মুখে বিরক্তি। বিরক্ত গলাতেই হারাকে বলল, তুই এখনি ফিরে এলি যে? তোর তো ফেরার কথা সেই সন্ধে করে।

    হারা ভেতরে ভেতরে রেগে যাচ্ছিল। মা ভাত দেবার নাম করছে না, খালি উল্টোপাল্টা কথা জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু ও রাগ দেখাল না। রাগারাগি করলে মা ভাত দিতে ঝামেলা করতে পারে। একটা মিথ্যে জবাব দিল, কাজটা আমাকে দিল না। ওদের কাজের জন্যে আরও অনেকে লোক ঠিক করা আছে। ওই শালা পল্টু আমাকে মিছিমিছি ঘুরিয়েছে।

    সুলোচনার চোখমুখের বিরক্তি এবার রাগের চেহারা নিচ্ছিল। হারা সেটা দেখেও না দেখার ভান করে। সুলোচনাকে শুনিয়ে শুনিয়ে আবার বলল, তাছাড়া ঐ কাজ আমার পোষাবে না। প্রচণ্ড খাটুনি। সে তুলনায় মজুরি কিছুই নেই।

    আজ যে পঞ্চাশ টাকা রোজগার করেছে সে কথা হারা বিলকুল চেপে গেল। তা বললে আর রক্ষে নেই। এক্ষুনি মা ঘ্যানঘ্যান শুরু করে দেবে সে টাকা নিয়ে নেওয়ার জন্যে।

    হারার কথায় সুলোচনার রাগ কিন্তু বোমার মত ফেটে পড়ল। ও দাঁড়িয়ে উঠে প্রায় মারমুখি হয়ে তেড়ে এল হারার দিকে। ছেলের ওপর চেঁচাল, তোর তো কোন কাজই পোষায় না। লেখাপড়া করলি না, কোন হাতের কাজ ভাল করে শিখলি না এখন পল্টুর পা চেটেও কিছু করতে পারলি না। একটা খোদার খাসি হয়েছিস, বাড়িতে একটা পয়সা ঠেকাস না, খালি বসে বসে মায়ের রোজগারের ভাত গিলিস? দূর হ, বেরো এ বাড়ি থেকে। রোজগার করবি না তো এ বাড়িতে তুই ভাত পাবি না। রাস্তায় বেরিয়ে গিয়ে ছাই খা।

    মায়ের বকুনি খাওয়া হারার যথেষ্ট অভ্যেস আছে, কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে গিয়ে ছাই খাওয়ার কথা শোনা ওর এই প্রথম। তার ওপর পেটে জ্বলছে খিদে। হারারও রাগ হয়ে গেল, ও পাল্টা চেঁচাল সুলোচনার ওপর, কেন, ভাত দিবি না কেন রে মাগি? খাওয়াতে পারবি না তো আমাকে জন্ম দিয়েছলি কেন? আর বড় যে রোজগারের কথা বলছিস, তুই তো পেয়ারের লোকের সঙ্গে বেবুশ্যেগিরি করে পয়সা রোজগার করেছিস, আমি তো আর তা পারব না। আর তোর সেই লোকও তো তোর মুখে লাথি মেরে চলে গেছে, আর তারপর থেকে তুই কপয়সা রোজগার করেছিস রে মাগি? ছাই খাবি তুই, আমি কেন খাব রে?

    রাগে সুলোচনার গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। ও টপ করে বেড়াল তাড়ানো লাঠিটা তুলে নিয়ে ওপরে তুলল- হারাকে ও আজ জবরদস্ত ঠ্যাঙাবে।

    কিন্তু হারার এখন বয়েস ষোল বছর পার হয়েছে, লম্বায় ও সুলোচনাকে ছাড়িয়ে গেছে, নাকের নিচে গোঁফের রেখা ঘন থেকে আরও ঘন হয়েছে, দুই বাহুর পেশী মজবুত আর শক্ত হয়েছে, বুকের ছাতি চওড়া হয়েছে। ও একহাত বাজিয়ে ধরে ফেলল সুলোচনার হাত, লাঠিটা ওর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে দিল। তারপর হাতের এক ধাক্কায় সুলোচনাকে মেঝেয় বসিয়ে দিল। বলল, বসে থাক্, ওখানে। আবার যদি মারতে আসিস তাহলে লাথি মেরে তোকে মেঝেয় ফেলে দেব- সাতদিন বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবি না।

    সুলোচনার ওঠবার কোন চেষ্টা করল না। ওভাবেই মেঝেতে বসে থেকে ফ্যালফ্যাল করে হারার দিকে তাকিয়ে রইল। আর বিড়বিড় করে বলতে লাগল, আমি বেবুশ্যে? আমি বেবুশ্যে? তুই আমার পেটে হওয়া ছেলে, তুই আমাকে বললি এ কথা?

    মায়ের ওপর হারার রাগ তখনো দেখা যায় নি। ও চেঁচিয়ে বলল, আমি তো ঠিক কথাই বলেছি রে মাগি। আর আমি একাই তোকে ও কথা বললাম নাকি? বিশ্বসুদ্ধ লোক তোকে আড়ালে বেবুশ্যে বলে, তুই তা জানিস না?

    হারা পায়ে চটিজোড়া লাগিয়ে ফেলল। মা-মাগিটা এখন ওকে ভাত দেবে না, সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। পেটের ভেতরকার খিদে আস্তে আস্তে আগুন হয়ে উঠছে। বাইরে গিয়ে ও এখন কিছু খেয়ে নেবে। এখনও তো ওর পকেটে ছাপান্ন টাকা আছে।

    রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে কিন্তু ওকে একটু থমকে দাঁড়াতে হল। কোথায় যাবে ভাত খেতে? কাছাকাছি কোথাও সেরকম জায়গা নেই। অন্তত: হারার তা জানা নেই। একটু দূরে অবশ্যি দু একটা দোকান আছে, কিন্তু সেগুলোতে ভাত, সব্জীর দাম কিরকম তা হারার জানা নেই। আরও খানিকটা গেলে একটা নতুন চওড়া বড় রাস্তা- সেটার একধারে একটা বাঁশের খুঁটির ওপরে ত্রিপলের চালা দেয়া একটা সস্তা খাবারের দোকান। একটা লোক আর তার বৌ মিলে দোকানটা চালায়। দোকানটার একটা খোঁটায় হেলান দিয়ে রাখা থাকে চার পাশে কাঠের ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো একটা লম্বা, সরু গোছের টিনের বোর্ড। সেটার ওপরে ডিম ভাত, সব্জী ভাত, তড়কা রুটি এসব লেখা আছে তা হারার নজরে এসেছে। অবশ্য দামগুলো হারা দেখে নি, দেখে থাকলেও তা ওর মনে থাকত কিনা সন্দেহ। তবে ওই দোকানের যা চেহারা, খাবারের দাম খুব বেশি হবে বলে মনে হয় না। অন্তত: ছাপান্ন টাকার একপেট খাওয়া তো হয়ে যাবেই।

    খেতে বসার বেঞ্চিতে জায়গা খালি ছিল। দেরি না করে হারা বসে গেল। দোকানের পুরুষমানুষটা পরিবেশন করে, ওর বৌটা রান্নাটা সবই করে, উনুনের কাছ ছেড়ে বিশেষ আসে না। বৌটা রান্নাটা করেছিল ভাল। অবশ্যি রান্নায় ঝালটা একটু বেশি দিয়েছিল, কিন্তু খেতে হয়েছিল ভাল। হারা একপেটের অনেকটা বেশিই খেয়ে ফেলল, দামটাও একটু বেশিই পড়ে গেল। রাস্তার পাশে ইঁট সুরকির পায়ে হাঁটার রাস্তা, সেখানে দোকানের চালার বাইরে একটা বড় বালতিতে হাত মুখ ধোয়ার জল রাখা রয়েছে। হাত মুখ ধুয়ে দোকানের ঐ লোকটাকে খাবারের দাম মিটিয়ে হারা যখন আবার নিজের ঘরের পথ ধরল তখন ওর পকেট একেবারে হালকা। কিন্তু হারা ভাবছিল অন্য কথা। দোকানের ঐ বৌটা অল্পবয়েসি, মুখটা দেখতে ভাল নয়, কিন্তু শরীরটা নজরকাড়া। সেজন্যে ফেরবার পথে প্রায় পুরো রাস্তাটা আসবার সময়ে ঐ নাদুসনুদুস চেহারার বৌটার ভাবনা ওর মাথায় চেপে বসে ছিল। হারা অবশ্য এই চিন্তাটাকে তাড়াতেও চেষ্টা করছিল। নিজেই নিজেকে বোঝাচ্ছিল- আরে বাবা, মেয়েছেলেটা তো অন্য একটা লোকের বৌ, ওকে তো হারা কোনদিন বিছানায় পাবে না। তবে আর মেয়েমানুষটার কথা ভেবে লাভ কি? কিন্তু তবুও বৌটার চেহারা বার বার ওর চোখের সামনে চলে আসছিল, মেয়েটার ভাবনা একটা চটচটে আঠার মত ওকে বিরক্ত করছিল।

    খানিক পরে কিন্তু ও নিজেই মেয়েটাকে বেমালুম ভুলে গেল। ও তখন নিজেদের ঘরের কাছাকাছি এসে পড়েছে- সেখানে একটা সাইকেল রিক্সার স্ট্যান্ড, এই দুপুরে এখন খুব একটা তাড়া নেই বলে পর পরে বেশ কয়েকটা খালি রিক্সা সেখানে দাঁড় করানো। পাশেই একটা বড় খিরীশ গাছের নিচে অনেকটা জায়গা জুড়ে সুন্দর ঠাণ্ডা ছায়া, সেখানে চার পাঁচজন রিক্সাওয়ালা গামছা পেতে বসে তাস খেলছিল। হারার চোখ সেখানে আটকে গেল। ও তাস খেলতে খুব পছন্দ করে, গোঁফ বেরোন ইস্তক তাস খেলার দিকে ওর খুব ঝোঁক হয়েছে। ও এ পাড়ার ছেলে, এই স্ট্যান্ডের রিক্সাওয়ালাদের সকলের সঙ্গেই ওর চেনা জানা আছে। ও খেলুড়িদের পাশে বসে গেল। এখন তো ওদের খেলা দেখা যাক, খানিক পরে ওরা নিজেরাই হারাকে খেলতে নিয়ে নেবে। কিন্তু ওরা টাকাপয়সার বাজি রেখে খেলছে, ওদের সঙ্গে খেলতে গেলে টাকা লাগবে। হারা পকেট থেকে টাকা বার করে গুণে নিল। একুশ টাকা রয়েছে। এতে যথেষ্ট হয়ে যাবে।

    খেলা যখন ভাঙল তখন বিকেল শেষ হবে হবে করছে। রিক্সাওয়ালারা সবাই উঠে পড়ল- বার ওরা ভাড়া পেতে শুরু করবে। কাজেই হারাও উঠল। রাস্তার উল্টোদিকে একটা ছোট্ট চালা দেওয়া চায়ের দোকান। এই স্ট্যান্ডের রিক্সাওয়ালারা সবাই সেখানে ভাঁড়ের চা খায়। হারা ওখানে ঢুকল। একটু চা খেয়ে তবে নিজের ঘরে যাবে। দোকানটায় ছোট বড়, দুরকম মানের ভাঁড়েই চা দেয়। চায়ে দুধ আর চিনি একটু বেশি দেয়, খেতে কিন্তু বেশ লাগে। দোকানে ঢুকতে ঢুকতে হারা হিসেব করে নিল ওর কাছে কত টাকা আছে। পাঁচ টাকা ও তাস খেলায় হেরেছে, কাজেই ওর কাছে এখন ষোল টাকার মত থাকার কথা। এই দোকানে ছোট ভাঁড় চায়ের দাম তিন টাকা, আর বড় ভাঁড় ছ টাকা। হারা বড় ভাঁড় চায়ের ফরমাস দিল। দোকানটা বিকেলবেলায় ডিমরোলও বানায়। কিন্তু একটা রোলের দাম বিশ টাকা। হারার কাছে ডিমরোল খাবার টাকা নেই।

    হারা যখন ওদের ঘরের দরজায় পৌঁছল তখন ওদের ঘরগুলোর বাড়িটার ভেতরে বেশ অন্ধকার হয়ে গেছে। ওদের ঘরটার সামনের গলিটায় আলো জ্বলে গিয়েছে। কম পাওয়ারের অনেক দিনের ময়লায় মোড়া বালব মিটমিট করে জ্বলছে, আলোও আবছা হয়ে বেরোচ্ছে। হারা ঘরের দরজা ঠেলল। দরজা খুলল না, ভেতর থেকে বন্ধ। ও দরজার কড়া নাড়ল- বেশ জোরে আওয়াজ করে।

    দরজা খুলল না। আবার কড়া নাড়ল হারা। এবার আরও জোরে।

    এবার দরজায় ঘা দিল হারা। সেই সঙ্গে ধাক্কা। দুমদুম করে জবরদস্ত শব্দ হল দরজায়।

    ভেতর থেকে ওদের ঘরের দরজা খোলার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। কিন্তু ওদের ঘরের উল্টোদিকের একটা ঘরের দরজা আওয়াজ করে খুলে গেল। আর খোলা দরজায় একজন স্ত্রীলোকের এই মহিলাকে দিদি বলে ডাকে। অতএব নারীটি হারার পড়শি মাসি। মহিলা হারাকে জিজ্ঞেস করল, কিরে হারা, কি হয়েছে? এই ভর সন্ধেবেলা ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিস কেন? তোর মা-কি তোকে ঠেঙিয়ে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে নাকি?

    না, না, তা নয়, তাড়াতাড়ি বলল হারা। মহিলার স্বভাব অতি গোলমালের, এক্ষুনি যদি মেয়েমানুষটাকে অন্য কিছু বুঝিয়ে না দেয়া হয় তাহলে কাল সকালের ভেতর এ সব ঘরের মেয়েছেলেদের মধ্যে চাউর হয়ে যাবে যে গতকাল সুলোচনা তার ছেলেকে ঠেঙিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছিল। আর বার করে দেওয়াই তো স্বাভাবিক। সোমও ছেলে, কোথায় কাজকর্ম করে দুপয়সা এনে মায়ের হাতে দিবি, তা না করে মায়ের ঘাড়ে চেপে বসে দিব্যি মায়ের ভাত মারছিস। ছি, ছি-

    আমি কাজে বেরিয়েছিলাম, হারা আবার বলল। কাজ শেষ করে এই ফিরছি। মেয়েছেলেটার জানা দরকার যে হারা কাজ করে, টাকাও রোজগার করে। তাহলে আর হারার নামে কেচ্ছা করবে না।

    তা দরজা ঠ্যাঙাচ্ছিস কেন?

    মা কিছুতেই দরজা খুলছে না- একথা বলতে গিয়ে হারার গলাটা একটু করুণ হয়ে গেল। ও তখন একটু চিন্তায় পড়ে গেছে। মা যদি ওকে ঘরে ঢুকতে না দেয় তাহলে ও রাতে থাকবে কোথায়?

    দ্যাখ্, ঘরের বাইরের দরজা বন্ধ রেখে হয়তো পেছনের দরজা দিয়ে কলঘরে গেছে- হারার পড়শি মাসি বলল। ফিরে এসেই তোকে দরজা খুলে দেবে।

    মেয়েমানুষটির হারার সম্বন্ধে কৌতূহল আর ছিল না। তার মাথা ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল, আর ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

    হারা কিন্তু তার পড়শি মাসির কথা শুনে মনে বেশ একটু ভরসা পেল। ব্যাপারটা নিশ্চয়ই তাই। একটু পরেই মা কলঘর থেকে ফিরে আসবে, তখন দরজায় খটখট শুনলে দরজা খুলে দেবে।

    আন্দাজ করে প্রায় পাঁচ-সাত-দশ মিনিট অপেক্ষা করল হারা। আন্দাজই করতে হল, কারণ হারার হাতে কোন ঘড়ি ছিল না। ওর অবশ্য একটা হাতঘড়ি কেনার শখ অনেকদিনের, কিন্তু কিনবে কি করে? টাকা কই? শালার রোজগারটা কিছুতেই জমছে না, কি যে করা যায় রজগার করার জন্যে? পার্টির ছেলেরা অবশ্য মাঝে মাঝেই ডাকে পার্টিতে ঢুকে পড়ার জন্যে। আজকাল তো অনেক বেকার ছেলেই পার্টিতে ঢুকে পড়েছে। তাতে কিছু না কিছু রোজগার তো আছে। আর এরকম বেকার তো প্রচুর, পড়াশোনা করে আর চাকরি বাকরি কজন পায়? ব্যাপারটা ফাঁকা পকেট নিয়ে ঘরে বসে থাকার চেয়ে তো ভাল।

    কিন্তু হারা এখন পর্যন্ত ও রাস্তায় হাঁটে নি। পার্টি পার্টিতে তো মাঝে মাঝে ঝামেলা মারদাঙ্গা হয়। হারা যদি ওসবের মধ্যে থাকে তাহলে ওর কপালে একটা জোরালো পিতাই জুটতে পারে। তেমন তেমন মার খেলে ও পটল ও তুলে ফেলতে পারে। হারা ভীতু মানুষ। এসব সাত পাঁচ ভেবে ও পার্টি ফার্টির ধারেকাছে যায় নি।

    হারা ঘরের দরজায় আবার আওয়াজ করল। মিনিট দশেক সময় পেরিয়ে গেছে, মা নিশ্চয়ই ঘরে ফিরে এসেছে। প্রথমে কড়া নাড়ার খটখট, তারপর দরজায় দুমদুম ধাক্কা। জন দুই ওখানকারই লোক ওদের দরজার সামনের গলি দিয়ে আসছিল, হারাকে অত জোরে জোরে দরজায় ঘা দিতে দেখে দেখানে দাঁড়িয়ে পড়ল। ওরা হারাদের একেবারে পাশের পড়শি নয়, কিন্তু ওদের ঘরেও হারাদের ঘরের কাছে। ওরা সবাই একজন আর একজনকে ভাল চেনে।

    কি হয়েছে রে হারা, এরকম করে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিস কেন? ওদের একজন হারাকে জিজ্ঞেস করল।

    এই দ্যাখো না বলাইকাকা, মা কিছুতেই দরজা খুলছে না- হারা জবাব দিল। কিন্তু জবাব দিতে গিয়ে একবার ঢোঁক গিলল। ও এখন বেশ ঘাবড়ে গেছে, কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।

    সুলোচনাদি কি অনেকক্ষণ ধরে দরজা খুলছে না? হারার সেই বলাইকাকা ওকে জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ- হারা ঘাড় নেড়ে বলল। ওর গলা মুখ এখন শুকিয়ে গেছে, ও বেশ একটু ভয়ও পেয়েছে। মায়ের আবার কি হল রে বাবা? দরজা খুলছে না কেন?

    হারার সেই বলাইকাকা আবার কথা বলল, তাহলে তো দরজা ভাঙার কথা ভাবতে হবে। তোর মা হঠাৎ অজ্ঞান টজ্ঞান হয়ে গেছে কিনা কে জানে। সেরকম কিছু যদি হয়ে থাকে তাহলে তো যত তাড়াতাড়ি হয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

    দরজা ভাঙা, হাসপাতাল- এসব কথা শুনে হারা আরও ভয় পেয়ে গেল। ওর তলপেট ভারি হয়ে গেল, জবরদস্ত পেচ্ছাপ পেয়ে গেল।

    কিন্তু বলাই-এর সঙ্গে যে অন্য লোকটি ছিল সে দরজা ভাঙায় আপত্তি করল। বলল, না, না আমরা এদের দরজা ভাঙব না। বাড়িওয়ালাকে ডাকতে হবে, দরজা ভাঙতে হলে সে ভাঙবে। আর একটা কাজ যদি করা যায়- যদি দরজাটা বাইরে থেকে কোনভাবে খোলা যায়- এই হারা, তুই পারবি দরজাটা কোনভাবে বাইরে থেকে খুলবে?

    দেখছি- হারা বলল। চেষ্টা করছি।

    দরজার ভেতরদিকে রয়েছে ওপরে একটা ছিটকিনি, আর মাঝামাঝি জায়গায় একটা ছোট লোহার হুড়কো। ছিটকিনিটা ভেতর থেকে লাগানো থাকলে দরজা বাইরে থেকে কিছুতেই খোলা যাবে না, দরজাটা ভাঙতেই হবে। ভেতর থেকে যদি খালি হুড়কোটা লাগানো থাকে তাহলে বাইরে থেকে চেষ্টা করে দরজাটা খোলা যেতেও পারে। দরজাটা হারাদের-ই ঘরের। অতএব এসব হারার খুব ভালই জানা আছে। ও প্রথমে দরজার একদিকের একটা পাল্লা ভেতরদিকে ঠেলে অন্য পাল্লাটা বাইরের দিকে টেনে দেখল। খুব অল্প হলেও একটুখানি ফাঁক হচ্ছে। তার মানে ভেতর থেকে ছিটকিনিটা লাগানো নেই। খালি হুড়কোটা খুলতে হবে।

    হারা একটা পাল্লা হাঁটু দিয়ে ঠেলে অন্যটার বাইরের দিকের কড়া ধরে টেনে ধরল। দরজা আরও একটু ফাঁক হল। সেই ফাঁকটায় কড়ে আঙুল ঢুকিয়ে হুড়কোটায় ওপরদিকে তুলে খুলে ফেলবার চেষ্টা করল হারা। কাজটা খুব সাবধানে করার দরকার। পাল্লার ওপর হাঁটুর চাল একটু ঢিলে হয়ে গেলে বা দরজার কড়ার ওপর টানটা ঠিক না থাকলে আর রক্ষে নেই, দুটো পাল্লা চেপে গিয়ে হারার আঙুলটাকে পিষে দেবে। কাজটা করতে হবে তাড়াতাড়ি, আর একেবারে ঠিকমতো।

    পেরে গেল হারা। যে পাল্লাটা হাঁটু দিয়ে ঠেলে রেখেছিল সেটা হঠাৎ ভেতর দিকে খুলে গেল। সে সঙ্গে হারা-ও ভেতর দিকে খানিকটা ছিটকে গেল। অন্য পাল্লাটা এক হাত দিয়ে টেনে ধরা না থাকলে ও বিচ্ছিরি ভাবে ঘরের ভেতরে পড়ে যেত। ও নিজেকে সামলে নিয়ে দাঁড়িয়ে উঠল, আর ঘরের দরজাটা ভাল করে খুলে দিল।


    ঘরের ভেতর অন্ধকার, সুলোচনা আলো জ্বালে নি। দরজা দিয়ে বাইরের আলো অল্প একটু ঢোকাতে ভেতরে খুব আবছা আলো। সেই আলোয় দরজা থেকেই হারা আর তার দুই পড়শি কাকা সুলোচনাকে দেখতে পেল। বিছানাটা গোটানো, ঘরের ওপাশে খালি মেঝেতে শুয়ে আছে সুলোচনা। অদ্ভুত ব্যাপার। এভাবে কেউ সন্ধেবেলায় ঘরে আলো না জ্বেলে মেঝেয় শুয়ে থাকে? হারার দুই পড়শি কাকা ঘরের দরজার চৌকাঠেই দাঁড়িয়ে ছিল। ভেতরে যাওয়ার কোন লক্ষণ দেখাচ্ছিল না। হারা-ই সাহস করে ভেতরে ঢুকল। ঢুকতেই একটা পচা দুর্গন্ধ ওর নাকে ঝাপটা মারল। দুর্গন্ধ আবার কোথা থেকে এল? ইঁদুর টিদুর কিছু মরে পচেছে নাকি? কিন্তু ও যখন দুপুরে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর থেকে বেরিয়েছিল তখনও তো এই গন্ধ ছিল না। এই সময়টুকুর মধ্যে ইঁদুর মরে পচে গেল? আর মা এই গন্ধটা টের পেল না কেন? হারা ভয় তো পেয়েই ছিল, এবার আরও জোরালো হয়ে ভয়টা ওকে চেপে ধরল, ওর সারা গা শিরশির করে উঠল। আলো, আলো আলো চাই। আলো না পেলে সাহস ফিরবে না। দরজার পাশেই দেয়ালের গায়ে আলোর সুইচ, দাঁতে দাঁত চেপে সেটা টিপে হারা আলো জ্বেলে ফেলল।





    অলংকরণ (Artwork) : অলংকরণঃ রাহুল মজুমদার
  • প্রচ্ছদ | পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | পর্ব ৪ | পর্ব ৫ | পর্ব ৬ | পর্ব ৭ | পর্ব ৮ | পর্ব ৯ | পর্ব ১০ | পর্ব ১১ | পর্ব ১২ | পর্ব ১৩ | পর্ব ১৪
  • এই লেখাটি পুরোনো ফরম্যাটে দেখুন
  • মন্তব্য জমা দিন / Make a comment
  • (?)